দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়ানো বা পরকীয়া বর্তমান সময়ে এক জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর ফলে সুন্দর সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও বিয়ের পর পরকীয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের এই পথে পা বাড়ানোর পেছনে সাধারণত আবেগীয় ও মানসিক কারণগুলোই বেশি কাজ করে।
লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের পরকীয়ায় জড়ানোর পেছনে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো:
অতীতের স্মৃতি: অনেক নারী পরিবারের চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেন। এমন ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রথম প্রেম বা অতীত সম্পর্ক ভুলতে পারেন না এবং সুযোগ পেলেই প্রাক্তন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকে পড়েন।
মানসিক একাকীত্ব: দাম্পত্য জীবনে স্বামী যদি স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় না দেন বা তাদের মধ্যে অর্থবহ কোনো কথা না হয়, তবে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব বাসা বাঁধে। এই শূন্যতা পূরণের জন্য তিনি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।
একঘেয়েমি ও অবহেলা: সম্পর্কের শুরুর দিকের আকর্ষণ হারিয়ে গেলে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভালোবাসা ও মনোযোগ না পেলে নারীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্য কেউ সামান্য মনোযোগ দিলেই তারা সেদিকে প্রভাবিত হন।
চাহিদার অপূর্ণতা: মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদাও দাম্পত্যের একটি বড় অংশ। সঙ্গী যদি স্ত্রীর এই প্রয়োজনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নারীরা অনেক সময় বাইরে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন।
প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা: স্বামী যদি আগে পরকীয়া করেন বা স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা ও অসম্মান করেন, তবে অনেক নারী এর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিতে চান যে অবহেলিত হওয়া কতটা কষ্টের।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়ানো বা পরকীয়া বর্তমান সময়ে এক জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর ফলে সুন্দর সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও বিয়ের পর পরকীয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের এই পথে পা বাড়ানোর পেছনে সাধারণত আবেগীয় ও মানসিক কারণগুলোই বেশি কাজ করে। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের পরকীয়ায় জড়ানোর পেছনে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো: অতীতের স্মৃতি: অনেক নারী পরিবারের চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেন। এমন ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রথম প্রেম বা অতীত সম্পর্ক ভুলতে পারেন না এবং সুযোগ পেলেই প্রাক্তন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকে পড়েন। মানসিক একাকীত্ব: দাম্পত্য জীবনে স্বামী যদি স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় না দেন বা তাদের মধ্যে অর্থবহ কোনো কথা না হয়, তবে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব বাসা বাঁধে। এই শূন্যতা পূরণের জন্য তিনি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। একঘেয়েমি ও অবহেলা: সম্পর্কের শুরুর দিকের আকর্ষণ হারিয়ে গেলে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভালোবাসা ও মনোযোগ না পেলে নারীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্য কেউ সামান্য মনোযোগ দিলেই তারা সেদিকে প্রভাবিত হন। চাহিদার অপূর্ণতা: মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদাও দাম্পত্যের একটি বড় অংশ। সঙ্গী যদি স্ত্রীর এই প্রয়োজনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নারীরা অনেক সময় বাইরে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা: স্বামী যদি আগে পরকীয়া করেন বা স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা ও অসম্মান করেন, তবে অনেক নারী এর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিতে চান যে অবহেলিত হওয়া কতটা কষ্টের।
পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। পোশাকের দোকান থেকে জুতার শোরুম— সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে কেনাকাটার এই বিপুল আনন্দ যেন অগোছালো পরিকল্পনার কারণে ভোগান্তিতে রূপ না নেয়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। অগোছালো শপিং যেমন পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি করে, তেমনি নষ্ট করে মূল্যবান সময়। তাই ঈদের কেনাকাটা সহজ, সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক করতে বের হওয়ার আগেই কিছু বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে সবচাইতে জরুরি হলো একটি নিখুঁত বাজেট ও তালিকা তৈরি করা। কার জন্য কী কিনবেন তা আগেভাগেই লিখে ফেললে মার্কেটে গিয়ে অযথা বিভ্রান্ত হতে হবে না। সম্ভব হলে বিভিন্ন দোকানের দাম যাচাই করে এবং অনলাইনে পণ্যটির বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে বের হওয়া ভালো। এতে সাশ্রয়ী দামে সেরা মানের জিনিসটি পাওয়া সহজ হয়। এছাড়া ভিড় এড়াতে সকাল সকাল মার্কেটে যাওয়া এবং ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘ সময় হাঁটার প্রয়োজনে হিল বা নতুন জুতা না পরে আরামদায়ক ফ্ল্যাট স্যান্ডেল এবং হালকা সুতি পোশাক বেছে নেওয়া উচিত। নিরাপত্তার বিষয়েও এই সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি। উৎসবের বাজারে পকেটমার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নগদ টাকা এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে রাখা এবং কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের চেষ্টা করা ভালো। যারা জ্যাম আর ভিড় এড়াতে অনলাইনে কেনাকাটা করতে চান, তাদের অন্তত ১০-১৫ দিন আগেই অর্ডার সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে সময়মতো ডেলিভারি পাওয়া নিশ্চিত হয়। একটু সচেতনতা আর সুশৃঙ্খল পরিকল্পনাই পারে আপনার ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে।
একটা সময় মনে করা হতো বয়স বাড়লেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। তবে বর্তমান সময়ে দেখা যায় কম বয়সেও এই সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। হঠাৎ জয়েন্টে ব্যথা, হাঁটুর বা পায়ের আঙ্গুলে ফোলা বা অজানা শক্ত হয়ে যাওয়া এসব উপসর্গের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা। শরীর যখন প্রাকৃতিকভাবে ইউরিক অ্যাসিড নির্গত করতে ব্যর্থ হয়, তখন তা জয়েন্টে ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা দেয় জ্বালা ও প্রদাহ। ডা. শিবরাম বলেন, ইউরিক অ্যাসিড শুধু জয়েন্টের সমস্যা নয়। যদি সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে কিডনিতে ক্ষতি এবং চলাফেরার সমস্যা তৈরি হতে পারে। সে কারণে খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় সেগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়: ১. রেড মিট রেড মিটের তালিকায় গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের মাংস। এতে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এসব সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় এবং জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ২. অর্গান মিট অর্গান মিটে পিউরিনের মাত্রা এখানে অনেক বেশি। উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের রোগীরা ছোট পরিমাণ হলেও এড়িয়ে চলা উচিত। অর্গান মিটের তালিকায় আছে যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্ক। ৩. কিছু সামুদ্রিক খাবার উচ্চ-পিউরিন সামুদ্রিক খাবারগুলো গাঁটের ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। সেক্ষেত্রে সালমন বা কোড মাছ নিরাপদ বিকল্প। রেড মিটের তালিকায় গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের মাংস। এতে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এসব সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় এবং জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত ৪. প্রসেসড ও জাঙ্ক ফুড প্যাকেটজাত খাবার, ফ্রাইড ফুড, ফাস্ট ফুড এসব সরাসরি পিউরিন না থাকলেও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটায়। ৫. অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার বিয়ার ও অন্যান্য অ্যালকোহল শরীরের ইউরিক অ্যাসিড বের করতে বাধা দেয়। তাই জটিলতা এড়াতে এসব থেকে বিরত থাকাই ভালো। ৬. অতিরিক্ত ডাল ও কিছু ফসল ডাল-শাক শাকসবজি স্বাস্থ্যকর হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে এসব না খাওয়াই ভালো। এতে করে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে জয়েন্ট পেইন হতে পারে তাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ফ্রুক্টোজ সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়। তাই সোডা ও মিষ্টি পানীয় সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। ছবি: সংগৃহীত ৭. চিনি জাতীয় পানীয় ও সোডা ফ্রুক্টোজ সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়। তাই সোডা ও মিষ্টি পানীয় সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। ৮. উচ্চ চর্বির ডেইরি পণ্য পুরো ফ্যাটের দুধ, ক্রীম, চিজ এসব প্রদাহ বাড়াতে পারে। লো-ফ্যাট বিকল্প নিরাপদ। ইউরিক অ্যাসিডের কারণে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরীক্ষা এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে। আর এতে করে জয়েন্ট পেইন থেকে মুক্তি মেলে। সমইয়স আবেশি জটিল হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস