দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন— একটি নির্দিষ্ট রুটিন, সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখা এবং ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার অভ্যাসই হলো ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো ঘুমের জন্য নানা ধরনের শর্টকাট বা কৌশল বা 'ট্রেন্ড' ছড়িয়ে পড়েছে।
এসব টিপসের কোনটি আসলেই কার্যকর আর কোনটি শুধুই গুজব, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা বেশ কঠিন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব ট্রেন্ডের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক হেলথ সিস্টেমের স্লিপ সার্ভিসের পরিচালক ডেভিড ওয়ার্কেনটিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন চারটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভালো ঘুমের জন্য নিজের কিছু কার্যকরী পরামর্শও দিয়েছেন।
ওয়ার্কেনটিন বলেন, "ঘুমের বিষয়টি মূলত ধারাবাহিকতা, মানুষের শারীরিক বায়োলজি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রেন্ডিং কোনো কৌশলের চেয়ে মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলাই সবসময় বেশি কার্যকর।"
মুখে টেপ লাগানো
গত কয়েক বছর ধরে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর একটি চল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। দাবি করা হয়, এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়, নাক ডাকা কমে এবং ঘুমের মান বাড়ে।
তবে ডেভিড ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তিনি বলেন, এর ফলে শ্বাসরোধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যারা স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন বা সিপিএপি (CPAP) মেশিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এছাড়া রাতে যাদের অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বমির বমি ভাব থাকে, তাদের জন্যও মুখে টেপ লাগানো বিপজ্জনক। ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
এর বদলে তিনি সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ মিনিট সকালের প্রাকৃতিক আলো গায়ে মাখানো ঘুমের যেকোনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে।
ঘুমানোর আগে চর্বিযুক্ত খাবার
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন, ঘুমানোর ঠিক আগে নির্দিষ্ট কিছু চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, যা ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
তবে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়ার্কেনটিন। তিনি জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এর পরিবর্তে তিনি ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার একটি রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দেন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা স্ট্রেচিং বা কম উত্তেজনার টিভি অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। ঘুমানোর পরিবেশ অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা হওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে ঘুমানোর আগে যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।
প্রাকৃতিক মেলাটোনিন বা মকটেল
সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি বিশেষ পানীয় বা ‘মকটেল’ ভাইরাল হয়েছে, যা খেলে চমৎকার ঘুম হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। টার্ট চেরি জুস, ম্যাগনেসিয়াম পাউডার এবং প্রিবায়োটিক সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটার মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়।
ওয়ার্কেনটিন এই পানীয়ের বিষয়ে ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত চিনি থাকা যাবে না এবং মেলাটোনিন হিসেবে চেরি জুসের পরিমাণও বেশি হওয়া উচিত নয়।
এটি অনিদ্রার স্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত দূরপাল্লার ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ কাটাতে এটি কাজে লাগতে পারে। যেকোনো নতুন উপাদান গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
ওয়ার্কেনটিন জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুম প্রয়োজন, তা তার জেনেটিক্স বা শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ৬ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। তাই জোর করে আট ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে— এমন চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত।
কফি পান করে ছোট ঘুম বা 'ন্যাপুচিনো'
এটি শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও অনেকেই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বা 'ন্যাপ' নেওয়ার ঠিক আগে এক কাপ কফি পান করছেন। ক্যাফেইন শরীরে কাজ শুরু করতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়, তাই ঘুম ভাঙার পরপরই শরীর সতেজ অনুভূত হয়। একে বলা হচ্ছে 'ন্যাপুচিনো'।
ওয়ার্কেনটিন বলেন, কৌশলগতভাবে এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হলেও, নিয়মিত ভালো ঘুমের বিকল্প এটি হতে পারে না। যদি এটি করতেই হয়, তবে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া রাতে ঘুমানোর অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা কফি জাতীয় পানীয় পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ওয়ার্কেনটিনের আরেকটি কার্যকর পরামর্শ হলো— বিছানায় শুয়ে যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া উচিত। অন্য কোনো কাজ করে তারপর আবার বিছানায় ফেরা উচিত, যাতে আমাদের মস্তিষ্ক বিছানাকে 'জেগে থাকার জায়গা' হিসেবে ভুল না করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অস্টিন শুধু সঙ্গীত বা সংস্কৃতির জন্যই নয়, বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও সুপরিচিত। শহরটির খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে গুয়েরোস টাকো বার (Güero's Taco Bar), মিস্টার ন্যাচারাল (Mr. Natural) এবং কামিনো রিয়াল (Camino Real)। কয়েক দশক ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই তিন রেস্তোরাঁ আজও অস্টিনের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যান শহরটির ঐতিহাসিক টেক্স-মেক্স রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ১৯০৫ সালের ভবনে গড়ে ওঠা গুয়েরোস টাকো বার অস্টিনের জনপ্রিয় সাউথ কংগ্রেস (SoCo) এলাকায় অবস্থিত গুয়েরোস টাকো বার শুধু খাবারের জন্য নয়, ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। ১৯০৫ সালে এটি প্রথমে পশুখাদ্য ও বীজের দোকান হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরে এটি মুদির দোকান ও ফিড স্টোর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৬ সালে রবার্ট আরউইন ও ক্যাথি লিপিনকট একটি ছোট টাকেরিয়া হিসেবে গুয়েরোস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সালে তারা ঐতিহাসিক ভবনটিতে রেস্তোরাঁটি স্থানান্তর করেন। বর্তমানে এখানকার টেক্স-মেক্স ও মেক্সিকান খাবার, পুরোনো ধাঁচের ক্যান্টিনা, উন্মুক্ত বাগান এবং ঐতিহাসিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। নিরামিষ মেক্সিকান খাবারের ব্যতিক্রমী ঠিকানা অস্টিনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মেক্সিকান রেস্তোরাঁগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত মিস্টার ন্যাচারাল। ১৯৮৮ সালে মেক্সিকোর মনতেরে শহর থেকে আসা জেসুস ও লুইসা মেনদোজা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রচলিত মেক্সিকান খাবারের নিরামিষ সংস্করণ পরিবেশন করা হয়। গরুর মাংস ছাড়া ফাহিতা, মাংসবিহীন বার্গার, শূকরের মাংস ছাড়া তামালে, মাছ ছাড়া সেভিচে এবং প্রাণিজ উপাদান ছাড়া চোরিজো এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। রেস্তোরাঁটির সঙ্গে রয়েছে বেকারি, জুস বার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ভেষজ পণ্যের দোকান। সব খাবার নিজস্ব রান্নাঘরেই প্রস্তুত করা হয়। ২০০৮ সালে ছোট ব্যবসায় বিশেষ অবদানের জন্য মার্কিন স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মেনদোজা পরিবারকে সম্মাননা দেয়। হলিউড অভিনেতা ইথান হক এবং নির্মাতা রিচার্ড লিংকলেটারেরও এটি প্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর একটি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় কামিনো রিয়াল ১৯৯২ সালে লুসিয়ানো হেনরিকেজ প্রতিষ্ঠা করেন কামিনো রিয়াল। উত্তর-পশ্চিম অস্টিনের এই পারিবারিক রেস্তোরাঁ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বল্প মূল্যে বৈচিত্র্যময় টেক্স-মেক্স খাবার পরিবেশন করে আসছে। রেস্তোরাঁটির মেনুতে রয়েছে ১৭ ধরনের সকালের নাশতা, বিভিন্ন ধরনের ব্রেকফাস্ট টাকো, চিংড়ির সাতটি বিশেষ পদ এবং জনপ্রিয় ফাহিতা। তুলনামূলক কম দামে বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য এটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। প্রতিষ্ঠাতা লুসিয়ানো হেনরিকেজ পরে মধ্য টেক্সাসের আরও কয়েকটি এলাকায় শাখা চালু করলেও মূল অস্টিন শাখার জনপ্রিয়তার সমান সাড়া অন্য কোথাও পাননি। অস্টিনের খাদ্য ঐতিহ্যের অংশ খাদ্যবিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া অস্টিনে নতুন নতুন রেস্তোরাঁ চালু হলেও গুয়েরোস, মিস্টার ন্যাচারাল এবং কামিনো রিয়ালের মতো পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো শহরের খাদ্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শুধু খাবারের স্বাদ নয়, প্রতিটি রেস্তোরাঁই নিজেদের ইতিহাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণেই কয়েক দশক পরও এগুলো অস্টিনের সবচেয়ে পরিচিত টেক্স-মেক্স গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন— একটি নির্দিষ্ট রুটিন, সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখা এবং ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার অভ্যাসই হলো ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো ঘুমের জন্য নানা ধরনের শর্টকাট বা কৌশল বা 'ট্রেন্ড' ছড়িয়ে পড়েছে। এসব টিপসের কোনটি আসলেই কার্যকর আর কোনটি শুধুই গুজব, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা বেশ কঠিন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব ট্রেন্ডের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক হেলথ সিস্টেমের স্লিপ সার্ভিসের পরিচালক ডেভিড ওয়ার্কেনটিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন চারটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভালো ঘুমের জন্য নিজের কিছু কার্যকরী পরামর্শও দিয়েছেন। ওয়ার্কেনটিন বলেন, "ঘুমের বিষয়টি মূলত ধারাবাহিকতা, মানুষের শারীরিক বায়োলজি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রেন্ডিং কোনো কৌশলের চেয়ে মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলাই সবসময় বেশি কার্যকর।" মুখে টেপ লাগানো গত কয়েক বছর ধরে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর একটি চল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। দাবি করা হয়, এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়, নাক ডাকা কমে এবং ঘুমের মান বাড়ে। তবে ডেভিড ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তিনি বলেন, এর ফলে শ্বাসরোধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যারা স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন বা সিপিএপি (CPAP) মেশিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া রাতে যাদের অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বমির বমি ভাব থাকে, তাদের জন্যও মুখে টেপ লাগানো বিপজ্জনক। ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর বদলে তিনি সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ মিনিট সকালের প্রাকৃতিক আলো গায়ে মাখানো ঘুমের যেকোনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। ঘুমানোর আগে চর্বিযুক্ত খাবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন, ঘুমানোর ঠিক আগে নির্দিষ্ট কিছু চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, যা ভালো ঘুমে সাহায্য করে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়ার্কেনটিন। তিনি জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এর পরিবর্তে তিনি ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার একটি রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দেন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা স্ট্রেচিং বা কম উত্তেজনার টিভি অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। ঘুমানোর পরিবেশ অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা হওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে ঘুমানোর আগে যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। প্রাকৃতিক মেলাটোনিন বা মকটেল সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি বিশেষ পানীয় বা ‘মকটেল’ ভাইরাল হয়েছে, যা খেলে চমৎকার ঘুম হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। টার্ট চেরি জুস, ম্যাগনেসিয়াম পাউডার এবং প্রিবায়োটিক সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটার মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ওয়ার্কেনটিন এই পানীয়ের বিষয়ে ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত চিনি থাকা যাবে না এবং মেলাটোনিন হিসেবে চেরি জুসের পরিমাণও বেশি হওয়া উচিত নয়। এটি অনিদ্রার স্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত দূরপাল্লার ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ কাটাতে এটি কাজে লাগতে পারে। যেকোনো নতুন উপাদান গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। ওয়ার্কেনটিন জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুম প্রয়োজন, তা তার জেনেটিক্স বা শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ৬ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। তাই জোর করে আট ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে— এমন চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। কফি পান করে ছোট ঘুম বা 'ন্যাপুচিনো' এটি শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও অনেকেই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বা 'ন্যাপ' নেওয়ার ঠিক আগে এক কাপ কফি পান করছেন। ক্যাফেইন শরীরে কাজ শুরু করতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়, তাই ঘুম ভাঙার পরপরই শরীর সতেজ অনুভূত হয়। একে বলা হচ্ছে 'ন্যাপুচিনো'। ওয়ার্কেনটিন বলেন, কৌশলগতভাবে এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হলেও, নিয়মিত ভালো ঘুমের বিকল্প এটি হতে পারে না। যদি এটি করতেই হয়, তবে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া রাতে ঘুমানোর অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা কফি জাতীয় পানীয় পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ওয়ার্কেনটিনের আরেকটি কার্যকর পরামর্শ হলো— বিছানায় শুয়ে যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া উচিত। অন্য কোনো কাজ করে তারপর আবার বিছানায় ফেরা উচিত, যাতে আমাদের মস্তিষ্ক বিছানাকে 'জেগে থাকার জায়গা' হিসেবে ভুল না করে।
প্রতিদিন ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি চুল পড়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে কেবল প্রসাধনী নয়, বরং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত প্রোটিন ও শাক-সবজি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং গঠন সুন্দর থাকে। চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাপসিকাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের সজীবতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সালাদ বা বিভিন্ন খাবারে নিয়মিত ক্যাপসিকাম রাখলে চুল পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ডিম প্রোটিন ও বায়োটিনের অন্যতম প্রধান উৎস, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। অনেকে চুলে ডিমের প্যাক ব্যবহার করলেও চিকিৎসকরা এটি খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মিত ডিম খেলে ভেতর থেকে চুলের পুষ্টি নিশ্চিত হয় এবং চুল শক্ত হয়। সামুদ্রিক ও দেশি মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি-এর ভাণ্ডার। মাছের এসব উপাদান চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং অকালে চুল ঝরে যাওয়া রোধ করে। এছাড়া মাছে থাকা ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম চুলের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হলো মসুর ডাল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে বিশেষভাবে কাজ করে। এছাড়া মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সুস্থ ও ঘন চুল পেতে ডায়েটে এসব খাবার নিয়মিত রাখা প্রয়োজন।