আমেরিকা

আইসিই গুলিকাণ্ডের সাক্ষীদের আইনজীবীকে ঘিরে সাবেক কর্মীর অভিযোগ, বাড়ছে আইনি বিতর্ক ও প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৬:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ভিত্তিক একজন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বল্দেরাস-ইবারা। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ভিত্তিক একজন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বল্দেরাস-ইবারা। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের গুলিতে নিহত নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে ঘিরে চলমান আলোচিত ঘটনার মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তার সহকর্মীদের আইনজীবীকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ। নিহতের সঙ্গে থাকা এবং বর্তমানে অভিবাসন হেফাজতে থাকা দুই ব্যক্তির আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে তারই সাবেক এক কর্মী পেশাগত আচরণ ও মামলার পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সময়ে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোও আবার আলোচনায় এসেছে।

 


ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুলাই। সেদিন ভোরে হিউস্টনের ম্যাগনোলিয়া পার্ক এলাকায় আইসিই এজেন্টরা লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইসিইর দাবি, আরাউহো নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে এজেন্ট গুলি চালান, যাতে তিনি নিহত হন। তবে নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ঘটনাটির সরকারি বর্ণনার সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এজন্য তারা স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।

 


এই ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি—ড্যানিয়েল তিরাদো পান্তোজা এবং ভিক্টর হুগো সালগাদো আরাউহো—আইসিই হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারা। তিনি শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছিলেন।

 


এদিকে বালদেরাস-ইবারার সাবেক প্যারালিগ্যাল টিনামারি হার্নান্দেজ গণমাধ্যমকে বলেন, তার অভিজ্ঞতায় অনেক ক্লায়েন্ট নিজেদের নামে জমা দেওয়া অভিবাসন আবেদন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। শুনানির আগে আবেদনপত্র দেখালে অনেকে বিস্মিত হতেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া জটিল পরিস্থিতিতে আইনজীবী অনেক সময় নিজে সামনে না এসে দায়িত্ব কর্মীদের ওপর ছেড়ে দিতেন বলেও অভিযোগ করেন হার্নান্দেজ। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আইনজীবী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

 


হার্নান্দেজ আরও জানান, বর্তমানে যেহেতু বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, তাই তিনি আশঙ্কা করছেন ভবিষ্যতে যদি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আইন পেশায় নিষেধাজ্ঞা আসে, তাহলে আইসিই হেফাজতে থাকা তার বর্তমান মক্কেলদের মামলাও জটিলতায় পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কেবল অভিযোগ বা অভিযুক্ত হওয়া মানেই কোনো আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল হয় না; আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন পেশা চালিয়ে যেতে পারেন।

 


অন্যদিকে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর পর হিউস্টনে বিক্ষোভ, শোকসভা এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়াসহ একাধিক স্থানীয় নেতা বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তের সব তথ্য জনসম্মুখে আনা উচিত, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং জনমনে আস্থা ফিরে আসে।

 

আইসিই গুলিকাণ্ডের তদন্ত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে উভয় বিষয়েই এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আইসিইর গুলিকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তদন্ত ও আদালতের রায়ের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
অনশনরত ব্যক্তি। ছবি:সংগৃহীত
‘থ্রি ইডিয়টস’-এর বাস্তব অনুপ্রেরণা সোনম ওয়াংচুকের অনশন: শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

ভারতের প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি বলিউডের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’–এর ‘ফুনসুখ ওয়াংডু’ চরিত্রের বাস্তব অনুপ্রেরণা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু করা অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অনশন ১৭ দিনে পৌঁছানোর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, ভারতের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায়, বিশেষ করে জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (এনইইটি)-এ প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির ঘটনা লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।   চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের প্রায় সাড়ে ৮ কেজি ওজন কমেছে, শরীরে পেশির ক্ষয় শুরু হয়েছে এবং তিনি তীব্র দুর্বলতায় ভুগছেন। তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনশন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   ওয়াংচুকের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে ওয়াংচুক যোগ দেন। সংগঠনটির দাবি, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ভারতের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতার দাবির প্রতীক। সংগঠনটি ইতোমধ্যে এক দিনের গণঅনশনের ঘোষণা দিয়েছে এবং সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে।   ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আদালত এ বিষয়ে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের কাছে জবাবও চেয়েছে।   আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একের পর এক এগিয়ে আসছেন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা। ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে ‘চতুর রামালিঙ্গম’ চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা ওমি বৈদ্য সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় বলেন, “আমি বাস্তবের ফুনসুখ ওয়াংডুকে হারাতে চাই না।” তিনি সাধারণ মানুষকে ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।   এছাড়া প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমান, শাবানা আজমি, অভিনেতা অভয় দেওল, নাসিরউদ্দিন শাহ, সোনি রাজদান, স্বরা ভাস্করসহ বহু শিল্পী সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মতভেদ থাকলেও একজন সমাজ সংস্কারকের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে রাখা উচিত নয়।   সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ তিন দশক ধরে লাদাখে শিক্ষা সংস্কার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত লাদাখ শিক্ষার্থী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন (সেকমল) আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি শিক্ষা মডেল। তিনি র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। যদিও অনেকেই তাঁকে ‘ফুনসুখ ওয়াংডু’ বলে ডাকেন, ওয়াংচুক নিজেই একাধিকবার বলেছেন, তিনি চলচ্চিত্রের চরিত্র নন; তিনি একজন বাস্তব মানুষ, যিনি শিক্ষা ও সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৭:২
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ভিত্তিক একজন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বল্দেরাস-ইবারা। ছবি:সংগৃহীত

আইসিই গুলিকাণ্ডের সাক্ষীদের আইনজীবীকে ঘিরে সাবেক কর্মীর অভিযোগ, বাড়ছে আইনি বিতর্ক ও প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সাশ্রয়ী: গবেষণা

অতি তাপমাত্রায় ট্রাফিকের অবস্থা। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ১০ কোটির বেশি মানুষ ঝুঁকিতে

এফবিআই
এফবিআইয়ে বড় নিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্যও সুযোগ

সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার ও সহিংস অপরাধ দমনে নতুন জনবল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সহিংস অপরাধ মোকাবিলায় নতুন জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম জাতীয় পর্যায়ের হলেও এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় পর্যায়ে। ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ তদন্ত, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে তারা।   সংস্থাটির ভাষ্য, এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নতুন সদস্য প্রয়োজন। তাই আগ্রহীদের এফবিআইয়ের বিভিন্ন পদে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আবেদনকারীদের অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে এবং পদভেদে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া FBIJobs.gov-এ প্রকাশ করা হয়েছে।   এফবিআইয়ের এই নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সফলভাবে দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে। ফলে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে এফবিআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় কাজ করার সুযোগও তাদের জন্য উন্মুক্ত।   এফবিআই বলছে, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতার মানুষের অংশগ্রহণই তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৪:৪০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, তবুও প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান? ক্রেতাদের জন্য সেরা কিছু শহর

ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর যৌন সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

Meta Ceo : Mark Zuckerberg

এআই দিয়ে চিকিৎসা ও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা কর্মীদের ছাঁটাইয়ের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা

বার্কলের তরুণী ,ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
১৮ বছরেই আয়ারল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড সাঁতরে ইতিহাসের পথে বার্কলের তরুণী

মাত্র ১৮ বছর বয়সে আয়ারল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২১.৪ মাইল (প্রায় ৩৪.৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ, বিশ্বের অন্যতম কঠিন সমুদ্রপথ ‘নর্থ চ্যানেল’ সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলের বাসিন্দা মায়া মেরহিগে। ৮ জুলাই তিনি ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে এই একক ও সহায়তাবিহীন সাঁতার সম্পন্ন করেন।   মায়ার এই সাফল্য তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সাতটি উন্মুক্ত সমুদ্রপথ নিয়ে গঠিত ‘ওশানস সেভেন’ চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার লক্ষ্যের আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে গেছে। নর্থ চ্যানেল ছিল তার সফলভাবে শেষ করা পঞ্চম ‘ওশানস সেভেন’ সাঁতার।   সুইম অ্যাক্রস আমেরিকার এক মুখপাত্র জানান, নর্থ চ্যানেল তার প্রবল স্রোত, অত্যন্ত ঠান্ডা পানি, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং বিষাক্ত ‘লায়ন্স মেইন’ জেলিফিশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মায়া ১৩.৪ থেকে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটেন। পথে একাধিক জেলিফিশের হুলের শিকার হওয়া, একটি সিল মাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা, কাঁধের তীব্র ব্যথা, ক্লান্তি এবং শেষ অংশের কঠিন স্রোত, সবকিছুই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে।   আগামী আগস্টে তিনি মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালি সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন। সেই মিশন সফল হলে ‘ওশানস সেভেন’ সম্পন্ন করার পথে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন।   মায়া মেরহিগে তার প্রতিটি সাঁতার উৎসর্গ করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা পরিবার, বন্ধু এবং রোগীদের প্রতি। একই সঙ্গে তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সুইম অ্যাক্রস আমেরিকা’র জন্য ক্যানসার গবেষণায় অর্থ সংগ্রহেও কাজ করছেন।   মায়া বলেন, “আমি যখনই পানিতে নামি, তখন এমন মানুষদের কথা মনে রাখি, যাদের সংগ্রাম আমার চেয়েও অনেক কঠিন। আমার সাঁতারের ক্যাপে যাদের নাম লেখা আছে, তাদের জন্য, আশার খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এবং উন্নত চিকিৎসা উদ্ভাবনে সহায়ক গবেষণার জন্যই আমি সাঁতার কাটি।”   ‘ওশানস সেভেন’কে উন্মুক্ত সমুদ্রে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত সাতটি দুরূহ সমুদ্রপথ একক ও সহায়তাবিহীনভাবে সম্পন্ন করতে হয় এই চ্যালেঞ্জে। নর্থ চ্যানেলকে এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পথগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ঠান্ডা পানি, প্রবল স্রোত এবং জেলিফিশের উপস্থিতি সাঁতারুদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৩:১৩
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মার্কিনিদের জীবনে আসছে সময়ের খেলায় নতুন মোড়, বদলে যেতে পারে ঘড়ির নিয়ম

ক্লোভারডেলে পার্ক ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ক্লোভারডেলে পার্কের সামনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মায়ের চোখের সামনে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

৩ বছরের শিশুর সামনেই বাবাকে গুলি করলো আইসিই, জানা গেল তিনি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন না

0 Comments