মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। ফলে দেশে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত চাহিদার যৌক্তিকতা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত অর্থবছরে দেশে অকটেন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। কিন্তু আতঙ্কে বেশি কেনাকাটার কারণে মার্চের প্রথম কয়েক দিনে দৈনিক চাহিদা ২ হাজার টনের বেশি হয়ে গেছে।
বিপিসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে ২৩ হাজার ৫৫ টন অকটেন মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ৯১৩ টন করে সরবরাহ করলে প্রায় ২৫ দিন চলবে। পাশাপাশি চলতি মাসেই দেশীয় উৎস থেকে আরও ২৫ হাজার টন অকটেন যোগ হওয়ার কথা রয়েছে এবং আমদানির জন্য আরও ২৫ হাজার টনের উৎস খোঁজা হচ্ছে। অতিরিক্ত মজুত যুক্ত হলে তা দিয়ে প্রায় ৪৪ দিন পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বিপিসি।
দেশে পেট্রলের দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন। তবে আতঙ্কের কারণে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ টনে পৌঁছেছে। বর্তমানে পেট্রলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৫১৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে।
তবে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং বেসরকারি শোধনাগারগুলো থেকে নিয়মিত পেট্রল উৎপাদন হচ্ছে, ফলে তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দেশে জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। গত অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনে চাহিদা বেড়ে প্রায় ২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে।
বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৮৬ টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৮ দিন চলবে। এ ছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিশ্চিত নয়, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সঞ্চয় বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মজুত আছে, কিন্তু যুদ্ধ কবে থামবে কেউ জানে না। তাই আমাদের হিসাব করে চলতে হবে।”
গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি বলছে, কয়েক দিন টানা অতিরিক্ত তেল বিক্রির কারণে স্টেশনগুলোতে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপচয় ও পাচার রোধে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। তবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুই আসনে ঘোষিত বিজয়ীদের প্রতি আদালতের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ জুন। নির্বাচনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আসনের ব্যালট পেপার ও সরঞ্জামাদি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগের শুনানি চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। ফলে দেশে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত চাহিদার যৌক্তিকতা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে দেশে অকটেন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। কিন্তু আতঙ্কে বেশি কেনাকাটার কারণে মার্চের প্রথম কয়েক দিনে দৈনিক চাহিদা ২ হাজার টনের বেশি হয়ে গেছে। বিপিসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে ২৩ হাজার ৫৫ টন অকটেন মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ৯১৩ টন করে সরবরাহ করলে প্রায় ২৫ দিন চলবে। পাশাপাশি চলতি মাসেই দেশীয় উৎস থেকে আরও ২৫ হাজার টন অকটেন যোগ হওয়ার কথা রয়েছে এবং আমদানির জন্য আরও ২৫ হাজার টনের উৎস খোঁজা হচ্ছে। অতিরিক্ত মজুত যুক্ত হলে তা দিয়ে প্রায় ৪৪ দিন পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বিপিসি। দেশে পেট্রলের দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন। তবে আতঙ্কের কারণে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ টনে পৌঁছেছে। বর্তমানে পেট্রলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৫১৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। তবে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং বেসরকারি শোধনাগারগুলো থেকে নিয়মিত পেট্রল উৎপাদন হচ্ছে, ফলে তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দেশে জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। গত অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনে চাহিদা বেড়ে প্রায় ২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৮৬ টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৮ দিন চলবে। এ ছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিশ্চিত নয়, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সঞ্চয় বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “মজুত আছে, কিন্তু যুদ্ধ কবে থামবে কেউ জানে না। তাই আমাদের হিসাব করে চলতে হবে।” গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি বলছে, কয়েক দিন টানা অতিরিক্ত তেল বিক্রির কারণে স্টেশনগুলোতে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপচয় ও পাচার রোধে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। তবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই।
আজ ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।” বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সম্মাননা প্রদান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনও দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে অ্যাকশন অ্যাইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথভাবে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে Bangladesh Bank-এর নির্দেশনায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে যথাযোগ্য মর্যাদায় নারী দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছরের বৈশ্বিক প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে “Give to Gain”—যার মূল লক্ষ্য নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জোরদার করা। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মহিলা অধিদফতর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা বাণীতে বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। National Press Club Bangladesh-এ আজ সকাল ১১টায় আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন Shama Obaid। এ বছর কৃতী নারী হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক Mamtaz Banu। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে সংগঠনটির বাকি অনুষ্ঠানসমূহ ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য ও অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। পরবর্তীতে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরে United Nations ১৯৭৫ সালে দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু বছর ধরে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। সমাজে নারীর অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছরই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।