বিদেশে জন্ম নেওয়া শত শত মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলে জোরালো উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শত শত ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের এক নজিরবিহীন ও জোরালো প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বর্তমানে প্রায় ৩৮৪ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, নাগরিকত্ব অর্জনের পথে যেকোনো ধরনের অসততা বা তথ্য গোপনকে তারা কঠোরভাবে দমন করবে। যদিও এই পদক্ষেপ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তবে প্রশাসন একে "আইনের শাসন" রক্ষার একটি অংশ হিসেবেই দাবি করছে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তথ্য জালিয়াতি করেছেন। বিশেষ করে যারা নাগরিকত্ব আবেদনের সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড গোপন করেছেন, জাল কাগজপত্র দাখিল করেছেন কিংবা কেবল গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া বৈবাহিক সম্পর্ক (Marriage Fraud) দেখিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই ৩৮৪ জন নাগরিক কেবল "প্রথম তরঙ্গের" অংশ; ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশ একে "হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগ" হিসেবে বর্ণনা করলেও সরকারি মুখপাত্ররা বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় বরং প্রচলিত ফেডারেল আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, চাইলেই প্রশাসন একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না। এর জন্য ফেডারেল আদালতে প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা দায়ের করতে হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। বিচারক যদি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তবেই তা বাতিল করার আদেশ দেওয়া সম্ভব। নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিকে তখন তার পূর্ববর্তী অভিবাসন স্ট্যাটাসে ফিরে যেতে হয়, যা তাকে সরাসরি নির্বাসনের (Deportation) ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ অভিযান বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, কারণ এর আগে বছরে গড়ে মাত্র গুটি কয়েক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দেখা যেত।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই তাদের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও গণ-নির্বাসন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি ভোটারদের কাছে একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের গণ-মামলার প্রস্তুতি বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া লাখো মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকান সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যারা কোনো তথ্য গোপন না করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের ভয়ের কারণ নেই, তবে নথিপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট দেওয়া শুরু হচ্ছে এই সপ্তাহে। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর অবসর, স্বামী বা স্ত্রীর বেনিফিট এবং স্বজনের মৃত্যুর পর প্রাপ্য বেনিফিটের সেই গ্রহীতারা পেমেন্ট পাবেন, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। সর্বোচ্চ সুবিধার ক্ষেত্রে মাসে ৫,১৮১ ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। তবে ৫,১৮১ ডলার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ অবসর সুবিধা পেতে হলে কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দিতে হয়েছে এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেনিফিট নেওয়া পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ৭০ বছর বয়সে অবসর বেনিফিট শুরু করলে সর্বোচ্চ মাসিক পরিমাণ ৫,১৮১ ডলার হতে পারে। যারা ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সে বেনিফিট শুরু করেন, তাদের সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে বেনিফিট নেওয়া শুরু করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ ২,৯৬৯ ডলার। বাস্তবে অধিকাংশ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই সর্বোচ্চ অঙ্কের চেয়ে কম সোশ্যাল সিকিউরিটি পান। সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট একসঙ্গে সবাই পাবেন না। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বুধবার, ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা তৃতীয় বুধবার এবং ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা চতুর্থ বুধবার পেমেন্ট পান। সে হিসাবে ৯ সেপ্টেম্বরের পর চলতি মাসের পরবর্তী পেমেন্টের তারিখ ১৬ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। তবে ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়া ব্যক্তি এবং কিছু সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই গ্রহীতার ক্ষেত্রে আলাদা পেমেন্ট সূচি প্রযোজ্য হতে পারে। এদিকে, ২০২৭ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটির জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা নিয়েও নজর রয়েছে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা। আগামী বছরের কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত তিন মাসের তথ্যের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় মাসের তথ্য। বর্তমান বিভিন্ন পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের কোলা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত হার এখনো নির্ধারিত হয়নি।
১৬ বছরের কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে ৯০ দিনের কারাদণ্ড শেষে মুক্ত সাবেক মার্কিন মেয়র
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার
মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ
দিনের শুরুতে পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন, আর বিশেষ দিনে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুটের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের অ্যাশলিন মার্সিয়ারের জীবন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের গল্প। ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সক্রিয় কর্মকর্তা এই তরুণী এবার মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ২৫ বছর বয়সী অ্যাশলিন মার্সিয়ার শুধু মিস ম্যাসাচুসেটস ২০২৬-এর বিজয়ীই নন, তিনি এই রাজ্যের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা যিনি মিস ম্যাসাচুসেটসের মুকুট জিতেছেন। ২০ জুন ওরচেস্টারের হ্যানোভার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তিনি ২২ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই খেতাব অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি হিসেবে মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। ৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় মিস আমেরিয়ার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজন মিস আমেরিয়া প্রতিযোগিতার ১০৫তম বছর উদযাপন করেছে। ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও পুয়ের্তো রিকোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। অ্যাশলিনের গল্পের বিশেষত্ব তার পেশায়। তিনি নিয়মিত ওয়েস্টবরো শহরের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি প্রতিযোগিতামূলক সৌন্দর্য আয়োজন থেকে এক বছর বিরতি নিয়ে পুলিশ একাডেমিতে ভর্তি হন। তার বাবা কেভিন মার্সিয়েরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অক্সফোর্ড পুলিশ বিভাগের করপোরাল। বাবার পথ অনুসরণ করেই পুলিশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাশলিন। পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার মনে প্রশ্ন ছিল, একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী হওয়া সম্ভব হবে কি না। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে অ্যাশলিন বলেন, অন্যরা কী ভাববে, সেই চিন্তায় তিনি একসময় দ্বিধায় ছিলেন। পরে নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে একসঙ্গে দুই ভিন্ন পরিচয় ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়। তার মতে, একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে কেমন হওয়া উচিত, তার কোনো নির্দিষ্ট ছক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোট বাহিনীর তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ হলেও, পেশাগত পরিচয়ের জন্য নারীদের একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা ব্যক্তিত্বে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি। অ্যাশলিনের বক্তব্য, একজন নারী একই সঙ্গে একাধিক স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারেন। তার নিজের জীবনেও সেটিই তিনি দেখাতে চান। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি মিস আমেরিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণীদের তিনি বোঝাতে চান, জীবনের একটি লক্ষ্য বেছে নিয়ে অন্য স্বপ্নগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগও। অ্যাশলিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মের নাম ‘নিকস কারেজ: ওয়ান স্মাইল গোস আ মাইল’। তার ছোট ভাই নিকোলাসের নামে এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। নিকোলাস দুইবার শিশুদের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ইতিবাচকতা, আশা ও সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরাও অ্যাশলিনের এই যাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিস ম্যাসাচুসেটস হওয়ার খবর জানানোর পর থেকেই ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরা তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে শুরু করে তহবিল সংগ্রহের কাজে সহায়তা এবং শুভকামনার বার্তা পাঠানো, বিভিন্নভাবে তারা তার পাশে ছিলেন। শুধু নিজের সহকর্মীরাই নন, দেশজুড়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন অ্যাশলিন। তার দাবি, হাজারো নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেক তরুণীও তার গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অ্যাশলিন মনে করেন, পুলিশিং ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতা প্রয়োজন। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে মঞ্চেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব আর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে অ্যাশলিন বলেন, পুলিশের শিফটের জন্য প্রস্তুত হতে তার মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। চুল পেছনে বেঁধে সামান্য সাজগোজ করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু মিস আমেরিয়ার মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে তার অনেক বেশি সময় লাগে। অ্যাশলিনের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধবিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। মিস ম্যাসাচুসেটসের দায়িত্ব পালনের সময়ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। অর্থাৎ মুকুট পাওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় থেকে সরে দাঁড়াননি অ্যাশলিন। বরং দুই পরিচয়ের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। মিস আমেরিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত তার মাথায় উঠুক বা না উঠুক, অ্যাশলিনের কাছে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তার লক্ষ্য, নিজের গল্পের মাধ্যমে তরুণীদের দেখানো যে একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াও সম্ভব। অ্যাশলিনের ভাষায়, তাকে অনেকবার বলা হয়েছে একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেটিতেই মনোযোগ দিতে। কিন্তু তার বিশ্বাস, স্বপ্ন যদি একাধিক হয়, তাহলে সেগুলো একসঙ্গেও অনুসরণ করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের সেই আত্মবিশ্বাস দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় বার্তা। সূত্র: ফক্স নিউজ
বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনায় অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
আমেরিকার ভিসা পেতে কত টাকা লাগে? আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে জলাতঙ্ক নিয়ে সতর্কতা, বাড়ছে সংক্রমিত প্রাণীর সংখ্যা