দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন এই উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে। পাইলট পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে এই ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে আরও নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে। একটি কার্ডের আওতায় সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে আবেদন করলেই সবাই এই সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারের নির্ধারিত কিছু শর্ত রয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে অথবা পেনশন পেলে তারা এই সুবিধা পাবেন না। এছাড়া পরিবারের নামে গাড়ি, এসি বা বিলাসবহুল সম্পদ থাকলেও এই কার্ডের আওতায় আসা যাবে না।
একইভাবে পাঁচ লাখ টাকা বা তার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে কিংবা পরিবারের নামে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। নারীপ্রধান পরিবার যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকে, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড নিলে আগের সুবিধাটি বাতিল হয়ে যাবে।
সরকার জানিয়েছে, উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক যাচাই করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
ভাতার অর্থ সরাসরি সরকার থেকে সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পুলিশে চার হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদ সৃজনের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে চার হাজার এসআই (গ্রেড-১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃজনের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হবে। সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (ভবন নম্বর-৮, কক্ষ নম্বর-২০৮, তৃতীয় তলা) সভাটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি সামনে আনেন সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। ওই বৈঠক শেষে তিনি জানান, পুলিশের সব স্তরেই জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আপাতত ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চারটি আন্তর্জাতিক রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে আরও দুটি রুটে ১০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে আপাতত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। এছাড়া দুবাই ও আবুধাবি রুটেও ১০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস। শুধু রোববারই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস-এর বেশ কয়েকটি ফ্লাইট। ক্রমাগত ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, ওমরাহ যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং দেশের রাজনৈতিক প্রস্তুতির নানা দিক। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- ‘তেল-গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে জাহাজ’ — আজকের পত্রিকা খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা জ্বালানিবাহী ১০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সাতটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বাকি তিনটির একটি আজ সোমবার এবং দুটি আগামী বুধবার ও শনিবার বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব জাহাজে মোট সাড়ে চার লাখ টন এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেল রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যুদ্ধ শুরুর আগেই রওনা হয়েছিল। ফলে সেগুলো কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে। বন্দর সূত্র জানায়, ১০টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তিনটিতে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এই আটটি জাহাজে মোট সাড়ে তিন লাখ টন এলএনজি ও এলপিজি রয়েছে। বাকি দুটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল রয়েছে। 'পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদন' — কালের কণ্ঠ খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সরকার তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় সাময়িক চাপ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রল উৎপাদন করা হয়। পরে আমদানি করা অকটেন বুস্টারের সঙ্গে মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশের পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন। ‘TECH-FACILITATED VIOLENCE: Women survivors forced to navigate a flawed system’ — দ্য ডেইলি স্টার খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে এবং অনেক ভুক্তভোগী ত্রুটিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার কারণে ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিবেদনে বাগেরহাটের এক নারী উদ্যোক্তার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি দর্জির দোকান পরিচালনা করতেন। এক ব্যক্তি গোপনে তার ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঘটনা বাড়লেও পর্যাপ্ত সাইবার আদালত ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‘ENERGY AUSTERITY: Univs, English schools to go on Eid holiday today’ — নিউ এইজ খবরে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়ামসহ সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও এই সময়ে বন্ধ থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৯ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। 'স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াত, নজর ১২ সিটিতে' — প্রথম আলো খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে দেখছে। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এ জন্য দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ পহেলা মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়ে বাড়তি নজর রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি’— সমকাল খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে দেখা হয় দুই বাংলাদেশি মুতামির (ওমরাহ পালনকারী) সঙ্গে। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার। দুজনেরই দেশে ফেরার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি। এখন তাদের হাতে টাকা নেই, দেশে ফেরার টিকিটও নেই। থাকা-খাওয়া নিয়েও সংকটে পড়েছেন। নতুন করে টিকিট কাটতে এজেন্সি মালিক ৫০–৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে সাহায্য পেতে তারা হজ মিশনে যান এবং মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে হজ কর্মকর্তা ট্রাভেল এজেন্সি মালিক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং দরিদ্র মুতামিরদের কিছু টাকা ভর্তুকি দিতে অনুরোধ করেন। মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন। অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়েছে এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছে। ‘পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান’ — নয়াদিগন্ত খবরে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের নবম দিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে তেহরান। ‘এভিয়েশন-শ্রম বাজার, যুদ্ধের জেরে বিপর্যস্ত’ — মানবজমিন খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছে শ্রমবাজার। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকেরা। ‘চার বছরে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের’ — বণিক বার্তা খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর ফলে বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এই মুনাফার একটি বড় অংশ এসেছে সুদ আয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে। অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।