ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলটির মিডিয়া সেল থেকে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী — অর্থ
সালাহউদ্দিন আহমদ — স্বরাষ্ট্র
ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) — পররাষ্ট্র
মো. আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য
ইকবাল হাসান মাহমুদ — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ
আব্দুল আওয়াল মিন্টু — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ — ধর্ম বিষয়ক
মিজানুর রহমান মিনু — ভূমি
নিতাই রায় চৌধুরী — সংস্কৃতি
খন্দকার আব্দুল মোকতাদির — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট
এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন—
আরিফুল হক চৌধুরী — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
জহির উদ্দিন স্বপন — তথ্য ও সম্প্রচার
আফরোজা খানম রিতা — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি — পানি সম্পদ
আসাদুল হাবিব বুলু — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
মো. আসাদুজ্জামান — আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক
জাকারিয়া তাহের — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত
দীপেন দেওয়ান — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক
আ ন ম এহসানুল হক মিলন — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
ফকির মাহবুব আনাম স্বপন — ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
শেখ রবিউল আলম — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন—
এম রশিদুল জামান মিল্লাত — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
মো. শরিফুল আলম — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট
শ্যামা ওবায়েদ — পররাষ্ট্র
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল — ভূমি
ফরহাদ হোসেন আজাদ — পানি সম্পদ
আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া
মীর হেলাল উদ্দীন — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক
হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন
মো. আব্দুল বারী — জনপ্রশাসন
মীর শাহে আলম — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি — অর্থ; পরিকল্পনা
ইশরাক হোসেন — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
ফারজানা শারমিন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ
শেখ ফরিদুল ইসলাম — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মো. নুরুল হক নুর — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ
ইয়াসের খান চৌধুরী — তথ্য ও সম্প্রচার
এম ইকবাল হোসেইন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
এম এ মুহিত — স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত
ববি হাজ্জাজ — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম — সংস্কৃতি
নতুন সরকার শিগগিরই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
এক দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে ও তার মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরে আসা এক বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের এই অভিষেককে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সরব উপস্থিতি। শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নতুন সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই সমর্থনকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে বিএনপি সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিয়েছেন; আইনি ও সাংবিধানিক অস্পষ্টতার কারণ দেখিয়ে তারা 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ'-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে তাদের প্রধান শরিক ও প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। অন্তর্বর্তী সরকারের সফল বিদায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বিশ্বনেতাদের এই উপস্থিতি নতুন সরকারের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক মাইলফলক। এখন সবার চোখ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারের দিকে—যারা এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল চারটার পর মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল–এর নেতারা উল্লেখযোগ্য। শেখ হাসিনা–এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। শপথ নেওয়া ২৫ জন সদস্য হলেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রুমিন ফারহানা! সংসদে এবার আওয়ামী লীগ নেই, এটাকে কীভাবে দেখেন – সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, "এবার দেশের ৩০ শতাংশ মানুষের রিপ্রেজেন্টেশন (প্রতিনিধিত্ব) থাকবে না, এটা মাথায় রেখেই আমাদের সংসদে বসতে হবে"। এসময় তিনি আরও বলেন যে আগে সংসদে বিএনপি ছিল না, এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নেই। উল্লেখ্য, আজ শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন রুমিন ফারহানা, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তিনি।