দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পর আজ এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হাঙ্গেরির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। আজ রোববার হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব—বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বুদাপেস্টের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ ভোট প্রদানের হার ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবার দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়তে পারে।
নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ (Fidesz) এবং তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমান বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির মধ্যে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ম্যাগিয়ারের দল অরবানের দলের চেয়ে প্রায় ৭-৯ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী ম্যাগিয়ার নিজেকে একজন উদারপন্থী ও ইউরোপ-পন্থি নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের দুর্নীতি দমন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?
১. ইইউ ও ইউক্রেন যুদ্ধ: অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইইউ-র অধিকাংশ দেশ যখন কিয়েভকে সমর্থন দিচ্ছে, তখন অরবান রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। ম্যাগিয়ার জয়ী হলে হাঙ্গেরি পুনরায় ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. রুশ সংযোগ: নির্বাচনের ঠিক আগে অরবানের সরকারের বিরুদ্ধে মস্কোর সাথে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে অরবান একে ‘শান্তি বনাম যুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করছেন, যেখানে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষার একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেছেন।
৩. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: অরবানের অন্যতম বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুদাপেস্ট সফর করে অরবানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অরবানের পতন হলে ইউরোপে উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতির বড় একটি স্তম্ভ ভেঙে যেতে পারে।
ভোট দিতে আসা এক তরুণ ভোটার মিহালি বাসি বলেন, "আমরা দেশে পরিবর্তন চাই। বর্তমান সরকারের আমলে জনজীবনে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন ব্যালট বাক্সে।" অন্যদিকে অরবানের সমর্থকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও হাঙ্গেরির স্বকীয়তা বজায় রাখতে অরবানের কোনো বিকল্প নেই।
তবে অরবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরির বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিদেজ সরকারের তৈরি করা বিশেষ নির্বাচনী সীমানার কারণে ম্যাগিয়ারের দলকে অন্তত ৫-৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করতে হবে।
আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসা শুরু হবে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ী কে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এটি কি অরবানের ‘ইলিবেরাল ডেমোক্রেসি’ বা অনুদার গণতন্ত্রের জয় হবে, নাকি পিটার ম্যাগিয়ারের হাত ধরে হাঙ্গেরি নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই। টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টার এই আলোচনার পর রোববার দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে।' তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা না এলেও, আলোচনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে। আলোচনার পর ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এগোতে চেয়েছি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা তৈরি করতে পারেনি।” অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে ইরান, ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।” তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের কারিগরি দল এখনো প্রস্তাব ও খসড়া বিনিময় করছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকেই চুক্তি হওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথে ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে। আলোচনায় প্রধান যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করুক। তবে ইরান এটিকে তাদের অধিকার বলে মনে করে এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর। ইরান এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং একে ‘চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে চায়। যুদ্ধ আপাতত বন্ধ থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগারগুলো দ্রুত সচল করতে কাজ করছে ইরান। দেশটির লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যে মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বিন-গভির আবারও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) কড়া পুলিশি পাহারায় তার এই সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'উস্কানিমূলক' এবং 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে। আল-আকসা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এক ভিডিও বার্তায় বিন-গভির বলেন, "আজ নিজেকে এখানে মালিক (কর্তা) বলে মনে হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, এই স্থানে ইহুদিদের প্রার্থনা ও যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। দশক পুরোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা (স্ট্যাটাস কু) অনুযায়ী, জর্ডানের তদারকিতে থাকা আল-আকসা প্রাঙ্গণে অমুসলিমরা কেবল পর্যটক হিসেবে প্রবেশ করতে পারেন, কিন্তু সেখানে তাদের প্রার্থনা করার কোনো অধিকার নেই। বিন-গভিরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরের সময় মন্ত্রী সেখানে প্রার্থনাও করেছেন, যা দীর্ঘদিনের বিদ্যমান নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিন-গভিরের এই পদক্ষেপ পবিত্র স্থলের অবমাননা এবং এটি একটি অগ্রহণযোগ্য উস্কানি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট করবে। উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের কাছে এটি 'টেম্পল মাউন্ট' নামে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিন-গভিরের এ ধরনের সফরের পর বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অতীতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, আল-আকসার স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে তার সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
হরমজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘসূত্রতা সহসাই কাটছে না। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ মালিক এবং বিমাকারীরা এখনও এই রুটে চলাচলের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালিস্ট লালে আকোনার জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভরসা করে খালি জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। বর্তমানে প্রায় ৪০০ তেলের ট্যাঙ্কার উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে, বিপরীতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে মাত্র ১০০টি জাহাজ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ এই জলপথ খুলে দিলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বের ৩০ শতাংশ সারের সরবরাহ এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলের উৎপাদনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ মজুত করার জায়গা নেই। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।