জাতীয়

পত্রিকা: এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
পত্রিকা । ছবি: সংগৃহীত
পত্রিকা । ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- 


যুগান্তর:

এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
২০২০ সালে অন্তত ৬০ দিনের তেল মজুত সক্ষমতা তৈরির সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমানে দেশের মজুত ক্ষমতা মাত্র ৩০–৩৫ দিনের, যার মধ্যে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১০–১১ দিনের।
 
আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের মজুত সক্ষমতা অনেক কম। ভারতে তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৭৪ দিনের, ভিয়েতনামে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে প্রায় ২৫০ দিনের সমপরিমাণ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান মজুত আসলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং এটি কেবল স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য রাখা মজুত।
 
বিশেষজ্ঞরা আরও অভিযোগ করেছেন, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো মজুত অবকাঠামো বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রেখে সুদ অর্জনের দিকেই বেশি আগ্রহী। এ পরিস্থিতিকে অদক্ষ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

 

প্রথম আলো:

এক বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ভুক্তভোগী নারী ও তাদের পরিবারের ভিড় থেকেই বোঝা যায় বিচারপ্রার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা কতটা গভীর।
 
আদালতের কক্ষের ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেকেই বারান্দায় অপেক্ষা করেন। মামলার শুনানির সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের বেদনাদায়ক বর্ণনাও শোনা যায়।
 
এসব আদালতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়ার আশায় হাজির হন। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও মানসিক চাপ তাঁদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
 
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছরে নারী নির্যাতনের মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ধর্ষণের অভিযোগ।
 
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করা ধর্ষণের অভিযোগের ১১ হাজারের বেশি মামলার তদন্তে প্রায় ৪৪ শতাংশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
বণিক বার্তা:

পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়তে শুরু করেছে।
 
সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন পেট্রোলিয়াম ডিলাররা।
 
যদিও পাকিস্তান সরকার বলছে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে জ্বালানি কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন।
 
খাইবার পাখতুনখোয়া পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যান্ড কটেজ কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য সচিব নাজিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
 
এর ফলে অনেক এলাকার পাম্প ইতোমধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
 
মানবজমিন:

জ্বালানি তেল নিয়ে ‘তেলেসমাতি’। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও।
 
এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় বাড়তি জ্বালানি মজুতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
 
সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আমদানির পাইপলাইনে তেল রয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
 
তবে অনেকেই এই আহ্বান উপেক্ষা করে বাড়তি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।
 
সংকটের সুযোগে পাম্প মালিকরা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এমনকি পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।


নিউ এইজ:

Women's affairs reforms still on paper-অর্থাৎ নারী বিষয়ক সংস্কারের কথা এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
 
খবরে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বেশিরভাগই এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে।
 
২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন মোট ৪৩৩টি সুপারিশ জমা দেয়। এসব সুপারিশের মধ্যে নারীদের সমান সম্পত্তির অধিকার, একটি ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নারী বিষয়ক কমিশন গঠনের প্রস্তাব ছিল।
 
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার জানিয়েছে, তারা কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
 
আজকের পত্রিকা:

শুল্ক কমানোর সুফল নেই এলপি গ্যাসের দামে।
 
খবরে বলা হয়েছে, সরকার এলপি গ্যাসের আমদানি শুল্ক কমালেও বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তা প্রায় ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
এর ফলে প্রতি কেজি গ্যাসে ভোক্তাদের অন্তত ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দেশের দৈনিক প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা প্ল্যান্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, সীমিত সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অপেক্ষার সময় বাড়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতে, আমদানিকারকেরা প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। সরকারি ইনভয়েস ও বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণও পাওয়া গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করছে।
 
দ্য ডেইলি স্টার:

Family Card pilot to cover 40,000 households-অর্থাৎ পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড।
 
সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী চার মাসে ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
 
আগামী ১০ মার্চ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
 
এই কর্মসূচির জন্য সংশোধিত বাজেটের ব্লক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে এবং বাকি অর্থ উপকারভোগী নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
 
প্রথম ধাপে ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারের ৫০ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ কাজে ৫৬০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। জুনের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ৪০ হাজার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
 
নয়া দিগন্ত:

সংসদে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।
 
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
 
ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কারণ এবারের সংসদের অধিকাংশ সদস্যই নতুন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সংসদে নিজেদের সক্ষমতা ও উপস্থিতি তুলে ধরতে চান।
 
সংসদে সম্ভাব্য তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিভিন্ন দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সব দলই নিজেদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে।
 
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই বোঝা যাবে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি সংসদের আলোচনায় কতটা প্রতিফলিত হয়।
 
দেশ রূপান্তর:

দুবাই থেকে পুঁজি সরানোর পথ খুঁজছেন এশিয়ার ধনী ব্যক্তিরা।
 
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে দুবাইয়ে বসবাসকারী অনেক এশীয় ধনী ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
 
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় দুই উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন। তারা স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে কিছু অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।
 
প্রথমে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও পরে তাদের একজন বিকল্প পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে সক্ষম হন।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে যে সুনাম ছিল, তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
 
কালের কণ্ঠ:

হামলার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে।
 
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জঙ্গিবিমান ও ড্রোনের তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
 
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিলে জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজর রাখছে।
 
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

জাতীয়

View more
সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত | ছবি: সংগৃহীত
সেচ সুবিধা দিতে এবার ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত

ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতেই মূলত রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে।   দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   জ্বালানি সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট কম।   প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে আনার অঙ্গীকার করেন প্রতিমন্ত্রী।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবন থেকেই লোডশেডিং শুরু করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১৪,৯৪২ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাম টিকা আমদানি হয়নি: প্রধানমন্ত্রীর দাবি

ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও হরমুজে জাহাজ চলাচলে সহায়তা দেবে ইরান

ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে দূতাবাসের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খাতিবজাদেহ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর শাহাদাত বরণে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তা এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনে ইরান সরকার সহযোগিতা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসনের ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দূতাবাস সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের খণ্ডিত বা বিকৃত প্রচারের বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিপন্থী। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের অবস্থান পরিষ্কার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলার জয়যাত্রা

কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের অনুমতি পাচ্ছে না বাংলাদেশি জাহাজ?

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণের হিসাব দিলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।   প্রশ্নে সংসদ সদস্য দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ, তা পরিশোধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চান।   জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।   তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) নিয়মিতভাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে। প্রতি অর্থবছরে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি পূর্বাভাস তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়সূচি মেনে পুরো অর্থবছর জুড়ে ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি

আবার ও বদলে যেমন হচ্ছে পুলিশের পোশাক

মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

0 Comments