শৈলেন কুমার দাশ
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এক নান্দনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে অভিনব ফুটবলের নয়ন মুগ্ধকর চিত্রকর্ম তৈরি হয় সবুজের গালিচায়। আর এই জাদুতে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে ছড়িয়ে যায় আনন্দ উল্লাসের এক নবীণ শিহরণ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রিয় জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রতিটি মেসে দ্যূতি ছড়িয়েছে তাঁর পায়ের নিপূণ যাদু! হয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপ আসরের শৈল্পিক উদ্দীপক কোটি মানুষের প্রাণে। ফাইনাল মেসটিও অসাধারণ উপভোগ্য হবে এই বিষ্ময়কর জাদুকরের পায়ের অবিশ্বাস্য জাদুতে, সেই আশায় ছিল বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ। কিন্তু সেই আশা ও সবুজের বুকে প্রতি মুহূর্তে নয়ন মুগ্ধকর আলপনা দেখা থেকে বঞ্চিত হল বিশ্ববাসী! এর পেছনে লুকায়িত কারণ হলো স্বয়ং ফিফার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এর নগ্ন রেফারিং।
মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনাকে আটকাতে হবে! স্পেনকে জেতাতে হবে! তা নাহলে উচ্চবর্ণের ইউরোপিয়ানদের মান থাকবে না! তাই এই জঘন্য কুৎসিত খেলায় মেথে উঠেছিল গোপনে ফিফা! তাই তারা মাঠে পাঠালো আর্জেন্টিনার চিরশত্রু স্লোভেনিয়ান এই চরম শঠ রেফারিকে। এ পর্যন্ত সে আর্জেন্টিনার যতটি খেলা পরিচালনা করেছে তার একটিতেও সে আর্জেন্টিনাকে জিততে দেয়নি। আপনাদের মনে আছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের সাথে আর্জেন্টিনার মেসটির কথা? সেই মেসেও এই ভিনচিচ ছিল রেফারি। যে মেসে সে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারাতে আনখোরা সৌদিআরবকে নগ্ন সাহায্য করেছিল এই অভিশপ্ত রেফারি।
এই রেফারি ভিনচিচের ব্যক্তিগত জীবনও পরিচ্ছন্ন নয়। ২০২০ সালের মে মাসে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি কেবিনে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ তাকে আটক করেছিল। মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং পতিতাবৃত্তি আয়োজনের অভিযোগে সে ছিল সন্দেহভাজনের তালিকায়। আর ফিফা এসব জানার পরও এই পাপিষ্ঠ রেফারিকে বিশ্বকাপের মত আসরে তাকে মেস পরিচালনার দায়িত্ব দেয়? তাহলে বুঝতে হবে ফিফার মত জগৎনন্দিত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আজ কোন নিম্নতর মাত্রায় পৌঁছেছে!
বিষয়টি এমন ছিল যে মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনা কে আটকাতে হবে! মেসিকে কোন পজিশন ও রিওয়ার্ড দেয়া যাবে না! মেসি যখন 'গোল্ডেন বুট' দখলের সীমানায় তখনই আরেক মেস পাতানোর কুৎসিত পরিকল্পনা করে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড তৃতীয় স্হান নির্ধারণী মেসে। জগৎ দেখেছে কি হাস্যকরভাবে গোলের বন্য বয়ে গেল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসে! মূল বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সের এমবাপের গোলের সংখ্যা যদি ১০ বা ১০এর অধিক হয়ে যায় তাহলে মেসি আর ''গোল্ডেন বুট' পাবে না। তাই ব্রিটিশরা তাকে মনখোলে গোল দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। হায়রে নোংরামি! ব্রিটিশ নোংরামি আবার দেখলো গোটা বিশ্ববাসী!
ব্রিটিশ ফুটবল দলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলায় বহুল প্রচলিত সেই বিখ্যাত প্রবাদটি। "অপরের জন্য কুৎসিত খাল খনন করলে, নিজেকেই সেই খালে পড়ে হাবুডুবু খেতে হয়।" গোটা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ভারতবর্ষে ১৯০ বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়ণের ফল তো এখন গোটা ব্রিটেন ভোগ করছে। ব্রিটিশ সমাজে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? এসব কিন্তু চরম নিপীড়ণ ও নির্যাতনের ফল! আর আজকের এই ফুটবলের সুন্দর বিশ্ব আসরকে কুৎসিত ব্রিটিশ চিন্তায় কালিমাক্ত করার ফলও কিন্তু ব্রিটিশ ফুটবলে কলংকিত অধ্যায় রচনা করবে। লিপিবদ্ধ হবে ঘৃণ্য ও অতি নিম্নমানের ইতিহাস যারা এক সময় গোটা পৃথিবীকে ফুটবল শিখিয়েছে সেই ব্রিটিশদের জন্য। একটু গভীরভাবে সজ্জন ব্রিটিশদের বিষয়টি অনুধাবনের জন্য অনুরোধ করছি।
প্রিয় মেসি হয়তো তোমার জীবনের শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল এটি! তবে তোমার এই বিদায় আসরটি এমন নগ্ন দুরবৃত্তায়নে সাজাবে ফিফা তা সত্যিই আমরা ভাবতে পারিনি! ফিফা এতটা নগ্ন ও অসৎ হবে আমাদের ভাবনার সপ্ত আকাশেও ছিল না। আজ প্রশ্ন শুধু চারিদিকে আর্জেন্টিনা কেন তাদের চিরসুন্দর নান্দনিক ফুটবল খেলতে পারেনি? না তাঁদেরকে তাঁদের চিরচেনা খেলা না খেলতে বাধ্য করেছে ফিফা বা বিশ্বকাপের জন্য অসুস্হ লালায়িত স্পেন?
বাতাসে এ গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ অনেক ফুটবলার যারা স্পেনের ক্লাবে খেলে তাঁদের পরিবার পরিজন বসবাস করছে স্পেনে। স্পেনের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনাকে বলা হয়েছে তাঁরা যদি ফাইনাল মেসে খারাপ খেলে না হারে তাহলে তাঁদের পরিবারকে জিম্মি করা হবে! এ যদি সত্যি হয় তাহলে এরচেয়ে জঘন্য নিম্নমানের কাজ কি হতে পারে? সেজন্যই নাকি মেসিসহ আর্জেন্টিনার কোন প্লেয়ার ভাল খেলেনি! স্বয়ং মেসিকেও নাকি লাল কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চাটুকার রেফারি ভিনচিচের। খুব ভাল ফর্মে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হঠাৎ তোলে নেয়া এবং রোমেরো এর ইনজুরি এবং তোলে নেয়া নাকি স্পেনিসদের কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ!
অপ্রতিরোধ্য এনজো ফার্নান্দেজ যখন গোটা মাঠে একাই প্রতিরোধ ব্যূহ রচনা করছিল তখনই রেফারি মহাঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয় অথচ ফার্নান্দেজ স্পেনিস ঐ প্লেয়ারের গায়ে স্পর্শই করেনি। সে নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দৌঁড়ে এসে ফার্নান্দেজ এর গায়ে পড়ে এবং মাটিতে গড়াগড়ি করে অভিনয় করতে থাকে। ফার্নান্দেজ এবং মেসি বার বার VAR এ বিষয়টি নিরীক্ষণের জন্য পাঠানোর অনুরোধ জানালেও পক্ষপাত রোগাক্রান্ত রেফারি কোন কর্ণপাত করেনি। মানসিক অসুস্হ এই রেফারির মিশনই ছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করা। তারপরও যখন স্পেনের ক্লিব প্লেয়াররা গোল দিতে পারেনি, তখন নাকি আর্জেন্টিনাই প্লেয়ারদের বাধ্য করা হয় ভুল পাসে স্পেনিস প্লেয়ারদের পায়ে বল তোলে দেয়ার জন্য! এই ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালে জঘন্য ফিফা ও স্পেনের কুৎসিত ও অতি ঘৃণ্য ভূমিকা। এসব জঘন্য ও অতি নিম্নমানের আচরণ দেখে সব সুশীল জনেরা বলছেন "এই আসর আয়োজনের দরকার কি? যাকে পছন্দ হয় তাকে কাপ দিয়ে দিলেই হয়?"
সুতরাং প্রিয় পাঠক, কেন আর্জেন্টিনা তাঁদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারেনি এখন হয়তো অনুধাবন করতে পারছেন? কেন ফিরতে পারেনি তাদের চিরচেনা ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মে? আর পারবেইবা কিভাবে, সবই যে পূর্ব কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ! আরও বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সবকিছুই দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে যাবে। রেফারি ভিনচিচ আর্জেন্টিনাকে ৫টি হলুদ কার্ড এবং ২টি লাল কার্ড দিয়েছে (১টি খেলা শেষে)! এর পর কি করে একটি দল তার স্বাভাবিক খেলা খেলে? রেফারি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে লাল কার্ডটি দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য।
প্রথম থেকেই তার রেফারিং এর নমুনায় বুঝা গেছে সে যেন আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে মাঠে নেমেছে। তার আচরণ দেখে আমি প্রথমেই মনে মনে ভাবছিলাম ফুটবলের নান্দনিক সৌন্দর্য্যে সাজানো একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল মেস দেখা থেকে বঞ্চিত হবে আজ গোটা বিশ্ববাসী! আর সত্যি সত্যি তাই হল। অনেকেই এই রেফারির একচোখা আচরণ দেখে বলেছেন সে হয়তো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়েছে স্পেনের নিকট থেকে বা স্বয়ং ফিফা তাকে আর্জেন্টিনাকে যেনতেনভাবে হারানোর মিশন দিয়েই মাঠে নামিয়েছে।
পরে দ্বিতীয়টি ভাবনাটিই সত্য বলে ধরে নিয়েছে বিশ্ববাসীর মন। কারণ ফিফা যখন 'গোল্ডেন বলটি' গোটা এই বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবলের অপার নান্দনিক সৌন্দর্য্যে যিনি সাজিয়েছেন সেই মেসিকে না দিয়ে স্পেনের আনখোরা মিডফিল্ডার রুদ্রিকে দিয়েছে, যে কিনা গোটা আসর জুড়ে একটিও গোল করেনি। তার খেলার মধ্যে গায়ের জোরে দৌঁড়ানো ছাড়া ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মের কোন ছোঁয়া নেই! এসব বুঝা ফিফার আমলাতান্ত্রিক ও নির্দিষ্ট অঞ্চলকেন্দ্রিক মানসিকতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের অন্ধ পরিসরের অনেক দূরে।
সত্যি বিশ্বব্যাপী সর্বক্ষেত্রে আজ সুশীল, সুন্দর ও নিরপেক্ষ চিন্তার খরা চলছে। ভাবছিলাম ফুটবল আসরটি এ থেকে দূরে? কিন্তু আজ ফাইনাল মেসের খেলা পরিচালনা দেখে আমার সেই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হল। এই মানসিকতার পরিবর্তন ও নিরপেক্ষ সরল সৌন্দর্য্যের আবরণে সজ্জিত না হলে একদিন হয়তো এই আসরে অনেক দেশই ঘৃণা আর তিরস্কারের সাথে পা রাখবে না। বা পাশাপাশি জন্ম নিতে পারে ফুটবল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরপেক্ষ ফুটবল বিচার ও বিচক্ষণতা শৈলী মহাদেশীয়, আন্তঃমহাদেশীয়, এমনকি বৈশ্বিক ফুটবল সংস্হার। যারা ফুটবলের কালো অধ্যায় দূর করে নিরপেক্ষ ফুটবল শৈলী ও রেফারিং এর অলংকারে সাজাবে বিশ্ব ফুটবল আসরকে!
কোনকিছুই অসম্ভব নয়! সময় তার নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্হান আপন অলংকারে সাজাতে নিজেই সব পুরানো কালো অধ্যায় পরিহার করে জ্যোতিস্নাত হয় নবীন আলোর ধারায়। মনে হয় এখন সময় এসেছে ফিফার অত্যচার, অনিয়মের একচ্ছত্র ঘৃণ্য আধিপত্য থেকে বিশ্ব ফুটবলকে মুক্তি দিতে। ফিফার এই বিমাতা সুলভ আচরণের বার বারই বলি হয় আর্জেন্টিনার মত অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয় সাড়িতে থাকা দেশগুলো।
দু'দলের খেলায় একদল তো হারবেই। এটাই তো ফুটবলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যে! কিন্তু এই ঘৃণ্য অনিয়ম আর পক্ষপাতিত্ব কেন? যা সত্যি আজ ফিফার মেস পরিচালনার আচরণ নিয়ে গোটা বিশ্ববাসীর মনে নানাবিধ মলিন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে?
এ রকম ফাইনাল খেলায় কোন টিমকে লাল কার্ড দেয়া মানে ঐ টিমকে হারানোর জন্য দেয়া! লাল কার্ড দেয়া হয় কখন? যখন কোন খেলোয়ার মারাত্মক কোন ফাউল করে? রেফারির যুক্তি হয়তো এক্ষেত্রে আর্জেন্টাই মিড ফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দু'টি হলুদ কার্ডের জন্য লাল কার্ড পেয়েছেন। আসলেই কি ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন? এরচেয়ে তো স্পেনিসরা মারাত্মক দু'টি ফাউল করেছিল মেসির উপর। সেখানে তো লাল কার্ড দেয়া দূরের কথা হলুদ কার্ডও দেয়নি কানা রেফারি! এটি খুবই পরিস্কার যে রেফারিকে মাঠে পাঠানো হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার মিশন দিয়ে। যা সত্যি ফিফার জন্য কলংক, ফুটবলের জন্য কলংক এবং বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কলংক।
আরো একটু বিস্তারিত বললে আর্জেন্টিনাকে হারানোর বিষয়টি যে রেফারি/ফিফার পূর্ব পরিকল্পিত তা বুঝা যাবে! এই মেসে রেফারি আর্জেন্টিনার ফাউল ধরেছে ২৪টি আর স্পেনের ২১টি (মূলতঃ স্পেনের ফাউল ছিল আরো বেশি ২৯টির মত)। কিন্তু রেফারি স্পেনকে একটিও হলুদ কার্ড দেয়নি অথচ আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে ৫টি হলুদ কার্ড ও ২টি লাল কার্ড (খেলা শেষ হওয়ার পর ১)? মেসিকে দু'বার স্পেনিসরা মারাত্মক ফাউল করেছে কিন্তু রেফারি কোন হলুদ কার্ড দেয়নি! অথচ যে গ্ৰাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত মিড ফিল্ডারকে লাল কার্ড দিল, মেসিকেও মারাত্মকভাবে ফাউলের জন্য স্পেনিসদের অন্ততঃ একটা লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। কানা, একচোখা রেফারি এ ক্ষেত্রে হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেয়নি।
স্পেনিসরা মেসিকে এমন মারাত্মকভাবে ট্যাকল করার বডি লেংগুয়েজ প্রদর্শন বা অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ করেছে ফলে মেসি বল ধরতেই পারেননি। অর্থাৎ বল ধরতে গেলেই মেসির উপর অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। রেফারির পক্ষ থেকে এ অবস্হা উত্তরণের কোন প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি। মেসির মত বিশ্বের প্রথম সারির ফুটবলারদের গায়ে স্পর্শ করলেই ফাউল এমনকি হলুদ কার্ড দেয়া হয় সাধারণতঃ যাতে মেসিরা ফুটবলে শৈল্পিক নৈপূণ্য প্রদর্শন করতে পারে। কিন্তু এই ফাইনাল মেসে রেফারির আচরণ যা সত্যি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মারাত্মকভাবে ফুটবলের এবং বিশ্বকাপের সৌন্দর্য্যকে ধুলুণ্ঠিত করেছে। আবারও বলছি এর ফলে এমন অবস্হা সৃষ্টি হতে পারে আগামীতে, অনেক দেশই হয়তো কলংকিত এই বিশ্বকাপ আসরে পা বাড়াবে না!
বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবল শিল্পের অসাধারণ নৈপূণ্য দিয়ে দেদীপ্যমান আলোর ধারায় প্রথম থেকে শেষ অবধি যিনি দু'হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মেসি। শিল্পীর নিপূণ তুলির নিখুঁত রং ছড়ানোর মতই করেছেন ৮টি নান্দনিক গোল! আর ৪টি শৈল্পিক এসিস্ট! যা দেখলে সময় যেন থমকে যায় ক্ষণকালের জন্য! চক্ষু যেন স্হির হয়ে যায় বাতাসে ভেসে ভেসে বলের গোলের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অতিক্রমের সময়ের অপার সৌন্দর্য্যে! আর সার্থক এক শিল্পীর রং জড়ানো নান্দনিক তুলির আঁচরের মত বার বার সাজিয়ে দিয়েছে সতীর্থদের খেলার আসর! যা বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীদের নয়নকোণে স্হান করে নিয়েছে ম্যাজিকের মত!
এর পরও যখন মেসিকে 'গোল্ডেন বল' না দিয়ে অন্য কাউকে দেয়া হয় 'গোল্ডেন বল' তখন ফিফার দুরভিসন্ধি আর বুঝতে কি বাকি থাকে? তাতে কি এটি বুঝতে সহজ হয়না যে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পরাজিত করার মিশন ছিল স্বয়ং ফিফার? ছি ছি ও ধিক্কার এই একচোখা, কানা ও অনিরপেক্ষ ফিফাকে। ফুটবলের অমিয় সুন্দর, নান্দনিক শিল্পের উৎকর্ষ বিধানে নিরপেক্ষ বিচারবোধের উজ্জল আবিরে সজ্জিত হতে পারলে এই ফিফা টিকে থাকুক, তা না হলে থেমে যাক এ পথ, জন্ম নিক এক সম্পূর্ণ সুন্দর, সুশীল ও নিরপেক্ষ এক আগামী বিশ্ব ফুটবল সংস্হার!
পরিশেষে প্রিয় মেসিকে বলবো এই একটি ম্যাচ কখনোই তোমার মত একজন ফুটবল কিংবদন্তির পরিচয় বদলে দিতে পারে না! বদলে দিতে পারে না বিশ্ব ফুটবল আসরের নান্দনিক এক জাদুকরের পায়ের জাদুতে সাজানো এক শিল্পের রংগিন দিগন্তরেখা! অসীম সৃষ্টি ও স্মৃতিময় ফুটবলের বর্নাঢ্য পথরেখা! এক জীবনে সবকিছু পাওয়া যায় না ভেবে শান্তনা খুঁজবেন মনে। আর মাপ করে দিবেন তাদেরকে যারা আপনার পরাজয়ের এমন কলোষিত পথরেখা সাজিয়েছে ঘৃণ্য পরিকল্পনায়! তারপরও আপনি সবাইকে ছাপিয়ে ফুটবল গগনে এক বিষ্ময়কর উজ্জল নক্ষত্র, এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার, কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে।
আজ হয়তো তোমার চোখে কষ্টের জল; হতে পারতো আনন্দের অশ্রু! হয়নি কেন তাই ছিল আজকের আলোচনার উপজীব্য বিষয়! কিন্তু ফুটবলকে তুমি যা দিয়েছো, এই অঙ্গনে দু'হাতে যে রং ছড়িয়েছো তা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। তোমার দু'পায়ের অকল্পনিয় জাদু, তোমার জয়োদীপ্ত লড়াই, তোমার বিনম্র বিনয়, সতীর্থদের প্রবল মনোবলে সাজিয়ে দেয়ার শক্তি .... এসবই তোমাকে অমর করে রাখবে বিশ্বময় শুধু ফুটবল আসর নয়; মানুষের প্রাণের আসরে! তোমার নাম প্রজন্মের পর প্রজন্মে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগে উচ্চারিত হবে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে!
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।