‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ
ইমরান খানকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে বসবাসকারী দুই ভাই সাম্প্রতিক একাধিক সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবন্দিত্ব, তাঁর স্বাস্থ্য, পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং পরে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়।
কাসিমের ভাষায়, তাঁদের আশঙ্কা হলো, কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘ভেতরেই মেরে ফেলতে’ চাইতে পারে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও অভিযোগ, যার স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান খান ও তাঁর দল মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেও তিনি ১৪ বছরের সাজা পেয়েছেন।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন তিনি। পরে এ নিয়ে চিকিৎসা ও চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর বোন উজমা খান আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর করার কথা রয়েছে।
ইমরানের ছেলেরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাবার পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তাঁদের দাবি, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এবং এর পেছনে আরও গুরুতর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে।
তবে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমরানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কারাবাসের পর প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাৎ-পর্বে ৯০০টির বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। সরকার আরও বলেছে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তাঁর এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল।
সরকারের দাবি, ইমরানকে সাত কক্ষের একটি আলাদা প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, স্যানিটেশন ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে বাড়িতে রান্না করা খাবার, টেলিভিশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।
এদিকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গভীর হতাশায় আছেন কাসিম ও সুলাইমান। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন, মার্চের ঈদের সময় সর্বশেষ বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। সেই ফোনালাপও ছিল সীমিত সময়ের। দুই ভাইয়ের দাবি, তাঁরা এখন বাবার দৈনন্দিন অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছেন না।
ইমরান খান ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিসা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মা জেমিমাও ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ইমরানের পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুই ভাইয়ের বক্তব্যের পর ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ চলাকালে তাঁদের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে স্কাই স্পোর্টসের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও আলোচিত করে তোলে।
আগস্টের ওই টেস্টের প্রথম দিনে স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া কাসিম ও সুলাইমানের প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের কথা ছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রচার ঠেকানোর চেষ্টা করে এবং পাকিস্তান দল মাঠে না ফেরার হুমকি দিয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও মাঠে ফিরে আসে।
পরে কাসিম ও সুলাইমান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকারে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়নি। তাঁরা কেবল তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য ও মানবিক অবস্থার কথা বলেছেন।
ইমরান খানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকেও সমর্থনের আওয়াজ এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ইমরানের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত, যাতে যেকোনো মানুষের প্রাপ্য ন্যূনতম মর্যাদা নিশ্চিত হয়। সাবেক ক্রিকেটারদের একটি দলও তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছে।
ইমরানের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও দুই ভাইয়ের উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই বছরের নভেম্বরে রাজনৈতিক সমাবেশের সময় তাঁর ওপর হামলাও হয়, যাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
সুলাইমানের মতে, রাজনীতিতে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতিই তাঁদের পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর ভাষায়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বাবার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে শুরু করেন।
তবে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত এক গভীর শূন্যতা। তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, বাবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। নিজেদের জীবন, কাজ, ভবিষ্যৎ কিংবা পড়া বই নিয়ে বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার সেই সুযোগটুকুই তাঁরা ফিরে পেতে চান।
শৈশবের স্মৃতিতে ইমরান খান তাঁদের কাছে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা ক্রিকেট কিংবদন্তি নন, তিনি একজন বাবা। পাকিস্তানের পাহাড়ে বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, টেনিস ও ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা দাদির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
কাসিম ও সুলাইমানের আশঙ্কা, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাঁরা বাবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কাসিমের ভাষায়, বড় হয়ে তাঁরা কেমন মানুষ হয়েছেন, সেটি তাঁদের বাবার জানা খুব প্রয়োজন ছিল।
এই পরিস্থিতিতে বাবাকে দেখতে প্রয়োজনে পাকিস্তানে যাওয়ার কথাও ভাবছেন দুই ভাই। কিন্তু তাঁরা জানেন, সেখানে গেলে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুলাইমানের ভয়, তাঁদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন কারাগারে থাকা বাবার ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি না করে।
ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা ও কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য, কারাবন্দিত্বের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
সবকিছুর পরও কাসিম ও সুলাইমানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক নয়। তাঁরা শুধু তাঁদের বাবাকে একবার সামনে থেকে দেখতে চান। তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, সেটিই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস, আল জাজিরা, এবিসি নিউজ, রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা। ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে। বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে। চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে। ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর। সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট
মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ
‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের
বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের ২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে মারা যাওয়া আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এমন অনেক অধূমপায়ীও ছিলেন, যারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও ভূখণ্ডে পরোক্ষ ধূমপানের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করতে গবেষণাটি করা হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের পাবমেড ডাটাবেস এবং জনসংখ্যা জরিপের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৬ লাখ ৬০ হাজার অকালমৃত্যু ঘটেছে। একই সঙ্গে এটি অকাল পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন রোগের কারণ হয়েছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে সৃষ্ট ইসকেমিক হার্ট ডিজিজও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আনুমানিক ৫২ লাখ শিশুর শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়েছে। গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধূমপায়ীর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা একই সময়ে দুটি উৎস থেকে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। এর একটি হলো তামাকজাত পণ্য পোড়ার ফলে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া, যাকে সাইডস্ট্রিম স্মোক বলা হয়। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর বুক থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাইডস্ট্রিম স্মোক বা তামাকজাত পণ্য পোড়ার সরাসরি ধোঁয়াই সাধারণত অধূমপায়ীদের নেওয়া বাতাসের অধিকাংশ অংশজুড়ে থাকে। এই ধোঁয়া ফিল্টার করা থাকে না। ফলে এতে ধূমপায়ী নিজে যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার চেয়েও বেশি ঘনত্বের বিষাক্ত ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ধূমপান না করেও আশপাশে থাকা মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা অপরিবর্তিতই রয়েছে। অর্থাৎ ধূমপানের হার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা একইভাবে কমেনি। নারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের এই বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে খুব কমই স্বীকার বা আলোকপাত করা হয়। নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য জনপরিসর এবং বাসাবাড়িতে আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাটি। গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অকালমৃত্যু, শিশুদের শ্বাসনালির সংক্রমণ এবং নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
ছাদে কয়েক দিন ধরে শব্দ, ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী
সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর
দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চিওল, যিনি গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে ‘পিটার প্যান বাবা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন, মারা গেছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২৭ বছর ধরে তিনি একাই তার ছেলের দেখাশোনা করছিলেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল, তিনি মারা গেলে কে তার সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং কোথায় সে নিরাপদে থাকতে পারবে। গত বছর চূড়ান্ত পর্যায়ের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পরও নিজের চিকিৎসার চেয়ে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন জিওন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও কল্যাণকেন্দ্র খুঁজতে থাকেন, যেখানে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে নিরাপদে থাকতে পারবে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ছেলের জন্য জায়গা খুঁজে পাননি। পরে নিজের গল্প প্রকাশ্যে তুলে ধরলে বিষয়টি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তার সংগ্রামের কথা উঠে আসে। দেশজুড়ে সহায়তা ও সমর্থন পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তার ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হয়। নিজের এই দীর্ঘ সংগ্রাম নিয়ে তিনি একটি বইও লেখেন। গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও ভালো আবাসন ও যত্নের ব্যবস্থা প্রয়োজন, এই বার্তাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগই তাকে মানুষের কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তোলে। তার গল্প দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর প্রতিবন্ধী সন্তানদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও পরিবারের ওপর থাকা চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। জিওনের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মৃত্যুর পর আলাদা কোনো শোকসভা বা মরদেহ দর্শনের আয়োজন রাখা হয়নি।
‘ঘরের কাজ করানোর জন্যই তারা বিয়ে করে’, ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ ইতালীয় নারীর
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো