১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রোববার রাজধানীতে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জোটের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়সহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যেও অলি আহমদকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন নম্বর ০০১ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ছাতা’।
প্রার্থী ঘোষণার পর অলি আহমদ বলেন, ১১ দলের নেতারা তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে তারা কখনো বেইমানি করবেন না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশনও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এর আগেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। গত এপ্রিলে জোট ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে সময়ও জোটের বৈঠকে শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও অলি আহমদসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার করা সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাঠে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল ১১ দলীয় জোট।
অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অংশ। ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই জোটের হয়ে অংশ নিয়েছিল এলডিপি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাজনীতি
View moreজামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রোববার রাজধানীতে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জোটের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়সহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যেও অলি আহমদকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন নম্বর ০০১ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ছাতা’। প্রার্থী ঘোষণার পর অলি আহমদ বলেন, ১১ দলের নেতারা তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে তারা কখনো বেইমানি করবেন না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশনও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এর আগেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। গত এপ্রিলে জোট ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে সময়ও জোটের বৈঠকে শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও অলি আহমদসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার করা সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাঠে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল ১১ দলীয় জোট। অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অংশ। ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই জোটের হয়ে অংশ নিয়েছিল এলডিপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। বিষয়টি সামনে আসায় ইরান-সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, অতিরিক্ত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সামরিক সম্পদ বণ্টন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পেন্টাগনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা সামরিক কমান্ডাররা প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিষয়টি বর্তমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কতটা বেড়েছে, সেটিও স্পষ্ট করে। এর আগেও ওয়াশিংটন পোস্টের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে রক্ষায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনকে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খাতের অর্থ পুনর্বিন্যাস করতেও হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সম্পদ ধরে রাখা এখন পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর পাশে দেশের মানুষও দাঁড়াবে।” আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ইস্যুতে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিল আনা হলেও শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের সম্পূর্ণ নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, “মাদককে নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়, সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। মাদক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।” তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন সদস্য দাবি করেছেন যে দেশের বড় একটি মাদক চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, জনস্বার্থে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদে কঠোর বিরোধিতা করা হবে। উন্নয়নের নামে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি নেত্রকোনার স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অর্থবছরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। সঞ্চালনা করেন জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক