মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ২৬ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা নিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দীর্ঘ সময় পরেও সেই লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে এবং পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা—দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি হবে না।
তিনি বলেন, জনগণ চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা ভীতি ছাড়াই চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন এবং গণভোটে বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ২৬ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা নিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দীর্ঘ সময় পরেও সেই লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে এবং পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা—দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি হবে না। তিনি বলেন, জনগণ চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা ভীতি ছাড়াই চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন। বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন এবং গণভোটে বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা হয়, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকেও দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির, যিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাও। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণভোটের কিছু অংশ বাস্তবায়িত হলেও বাকি অংশ এখনো উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে ঘিরেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে বর্তমান ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। সরকারের ইতিবাচক কাজকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত এ নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন এবং তার দল সে জন্য অপেক্ষা করছে। গত নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করেননি এবং ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যানও করেননি। তবে নির্বাচন নিয়ে টিআইবি ও সুজন-এর মতো সংগঠনের প্রতিবেদন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়ভাবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমালোচনা থাকবেই এবং রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই নিয়োগ দেবে। তিনি বলেন, “এটা এমন নয় যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।” বুধবার রাতে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাদেরকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দলীয় সরকার হলে কিছুটা দলীয় লোক থাকবেই—এটা স্বাভাবিক বিষয়। সমালোচনা হতে পারে, তবে এ নিয়ে তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাদের অতীত রেকর্ড খারাপ নয়, বরং ভালো। নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই যোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না বলেও জানান। এদিকে, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনো ঠিক হয়নি, তবে তার মতে, খুব শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের কার্যক্রম এক হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যদিও ধীরগতিতে। সরকার গঠনে সময় লাগায় দলের অনেক নেতা এখন সরকারে ব্যস্ত, ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার ও দল—দুটিই আলাদা সত্তা হিসেবে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।