ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানাল জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অংশ হচ্ছে না; বরং জাতীয় সংসদে একটি ‘শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে তাঁর সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক চাঞ্চল্যকর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
ডা. তাহের জানান, দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মূলত দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক বা কৌশলগত কোনো মতবিরোধ তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার যদি যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে এবং সংসদে তার প্রতিবাদ জানাতে দ্বিধা করবে না।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি সাক্ষাৎকে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমীরের পাশে ছিলেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
সংসদে বিএনপি ও জামায়াতের এই নতুন ‘সরকার-বিরোধী দল’ সম্পর্ক বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি এবং না পেয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক। যুবদলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আদর্শ ও সংহতি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, সম্প্রতি বাইশারী বাজারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষির কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন এই দুই নেতা। গত শুক্রবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই কেন্দ্রীয় যুবদল তদন্ত সাপেক্ষে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দল কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হলো যে— জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানাল জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অংশ হচ্ছে না; বরং জাতীয় সংসদে একটি ‘শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে তাঁর সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক চাঞ্চল্যকর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। ডা. তাহের জানান, দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মূলত দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক বা কৌশলগত কোনো মতবিরোধ তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার যদি যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে এবং সংসদে তার প্রতিবাদ জানাতে দ্বিধা করবে না।” উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি সাক্ষাৎকে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমীরের পাশে ছিলেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। সংসদে বিএনপি ও জামায়াতের এই নতুন ‘সরকার-বিরোধী দল’ সম্পর্ক বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন ও আধুনিক চর্চার সূচনা করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া ১১-দলীয় জোট এবার ঘোষণা করেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো ক্যাবিনেট গঠনের। আজ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানান, একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রে শুধু ক্ষমতাসীন দলই দেশ চালায় না, বরং যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে তাদেরও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হয়। শিশির মনির বলেন, নির্বাচনে দুই প্রধান জোটের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র ২.১৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই আমরা এই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করছি। এটি মূলত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ল’ মিনিস্ট্রি, ফাইন্যান্স, ফরেন অ্যাফেয়ার্স কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর বিপরীতে আমাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের ভালো কাজকে আমরা যেমন সাধুবাদ জানাব, তেমনি আইন লঙ্ঘন বা স্বেচ্ছাচারিতার ক্ষেত্রে সংসদে এবং সংসদের বাইরে কঠোর ও তাত্ত্বিক সমালোচনা নিয়ে হাজির হব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচনের বৈধতা এবং যে জুলাই সনদের অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি নতুন সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক কাজ বা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর না করে, তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হবে। গুম-খুন বিরোধী অধ্যাদেশ কিংবা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় পৃথকীকরণের মতো বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া মানে নিজেদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা। এর আগে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করে বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই টিম একটি ‘ওয়াচডগ’ বা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এত সুসংগঠিতভাবে সরকারকে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিল। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন সরকারকে দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।