নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী
নিউইয়র্ক সিটি সরকার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো বেশ কয়েকজন হাইতিয়ান কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান নাগরিকদের এই সুরক্ষা বাতিলের পথ পরিষ্কার হওয়ায় কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতি আর বহাল না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নগর সরকার নিজ উদ্যোগে এসব কর্মীকে ছাঁটাই করতে চায়নি। ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই কর্মীদের কাজের অনুমতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে যাদের বৈধভাবে কাজ করার অন্য কোনো অনুমতি নেই, তাদের চাকরি থেকে আলাদা করতে হয়েছে।
সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাইতিয়ান কর্মীদের চাকরির বৈধতা পর্যালোচনা করা হয়। শুক্রবার নগর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত কর্মীর সংখ্যা ‘এক ডজনের বেশি’ থেকে ‘কয়েক ডজন’ বলা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নগরীর হাসপাতাল ব্যবস্থায় কাজ করতেন।
মেয়র মামদানি সোমবার জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য টিপিএস পুনর্বহাল অথবা বিকল্প হিসেবে ডিফার্ড এনফোর্সড ডিপারচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিএস পুনর্বহাল কিংবা এ ধরনের বিকল্প সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে।
টিপিএস এমন একটি সাময়িক অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হাইতির নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল।
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতির টিপিএস বাতিলের পথে থাকা আইনি বাধা কার্যত দূর হয়ে যায়। এরপর আগস্টের শুরুতে ফেডারেল আদালতও আগের সেই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই বলে নিশ্চিত করে। ফলে হাইতিয়ান টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
নিউইয়র্ক শহরের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইতিয়ান অভিবাসীরা নগরীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টিপিএস বাতিলের ফলে শুধু সরকারি কর্মী নয়, বেসরকারি খাতের বহু কর্মীরও চাকরি ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মামদানি জানিয়েছেন, চাকরি হারানো কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নগর সরকার আইনি পরামর্শ, নতুন ধরনের কাজের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে টিপিএস পুনর্বহাল না হলে এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
টিপিএস বাতিলের প্রভাব নিউইয়র্কের বাইরেও ব্যাপক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলেছেন। এখন টিপিএস বাতিলের কারণে তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মেয়র মামদানির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগর সরকার একদিকে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে টিপিএস পুনর্বহালের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অধিকার, কর্মসংস্থান এবং ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সড়কে চলাচলকারী গাড়ির ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরা এখন শুধু গাড়ির নম্বরফলক পড়ছে না; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে গাড়ির ধরন, মডেল, রং, আঁচড়, ডেন্ট, এমনকি বাম্পারের স্টিকারের মতো দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত ও সংরক্ষণ করতে পারছে। এসিএলইউ বলছে, ফ্লক সেফটির তৈরি এই ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটিতে প্রায় ৮০ হাজার ক্যামেরা রয়েছে, যা ৪৯টি অঙ্গরাজ্যের ৫ হাজারের বেশি এলাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ক্যামেরা প্রতি মাসে ২ হাজার কোটিরও বেশি গাড়ি শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ করে বলে ফ্লক সেফটির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য ও এসিএলইউর সাম্প্রতিক প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়ির ছবি ধারণ করে। এরপর ছবির নম্বরফলক শনাক্ত করার পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে কোনো গাড়ির নম্বরফলক জানা না থাকলেও তার রং, মডেল, ধরন, দৃশ্যমান ক্ষতি বা বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে সেটিকে পরবর্তী সময়ে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসিএলইউর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই ক্যামেরা শুধু অপরাধে সন্দেহভাজন গাড়িকে নজরদারি করে না। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের গাড়ির তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি কোনো অপরাধ না করেও তার গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভান্ডার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই তথ্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে ভাগাভাগি করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের একটি ক্যামেরা ব্যবস্থা বৃহত্তর জাতীয় নজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে বলে এসিএলইউ আশঙ্কা করছে। সংগঠনটি এই ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ব্যাপক গণনজরদারির অবকাঠামো হিসেবে দেখছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রযুক্তিটির ইতিবাচক দিকও তুলে ধরছে। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সশস্ত্র ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, গাড়ি চুরি ও মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্তে সহায়তা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, অপরাধ দমনের জন্য তৈরি প্রযুক্তি যদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের তথ্যও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা কোথায় থাকবে? এই বিতর্ক ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও পৌঁছেছে। চলতি বছরে নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও ভাগাভাগি করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রায় একশটি প্রস্তাব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উত্থাপিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি শহর আবার ফ্লক সেফটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল বা প্রযুক্তির ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করছে। এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত নজরদারি এবং তথ্য অন্য সংস্থার হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কোনো ব্যক্তির গাড়ি কোথায় কোথায় চলাচল করেছে, সেই তথ্য দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে পরে অনুসন্ধান করা হলে তা ব্যক্তির চলাচলের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে পারে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে থাকা অযৌক্তিক তল্লাশি ও নজরদারি থেকে সুরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও আদালতে বিতর্ক চলছে। তবে “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি গাড়ির সব তথ্য সরাসরি জাতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উন্মুক্ত” এমন দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কোন সংস্থা তথ্য দেখতে পারবে, কতদিন তথ্য রাখা হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার চুক্তি, স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইন এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়মের ওপর নির্ভর করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন মূল বিতর্ক শুধু অপরাধ দমনে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিকের গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, সেই তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কে তা ব্যবহার করতে পারবে এই প্রশ্নই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন ফি, ভারতীয় কর্মীদের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে
মাত্র ২৪ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া ৫৭০ গ্রাম ওজনের এক অপরিণত শিশুর ছোট্ট হাত চিকিৎসকের আঙুল আঁকড়ে ধরার একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নবজাতকের এই অপ্রত্যাশিত স্পর্শকে ঘিরে ব্যাপক আবেগ তৈরি হয়েছে। শিশুটির জন্মের সময় ওজন ছিল মাত্র ৫৭০ গ্রাম, যা প্রায় ১ দশমিক ২৫ পাউন্ড। নবজাতককে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছিল নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ)। সেখানে একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালে স্টেরাইল কাপড়ের নিচ থেকে হঠাৎ তার ছোট্ট হাত বেরিয়ে আসে। এরপর শিশুটি চিকিৎসকের আঙুল ধরে ফেলে। ছবিতে দেখা যায়, আকারে অত্যন্ত ছোট হলেও শিশুটির হাতটি শক্তভাবে চিকিৎসকের আঙুল স্পর্শ করছে। ঘটনাটি উপস্থিত চিকিৎসকদেরও নাড়া দেয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ২৪ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া শিশুকে অত্যন্ত অপরিণত বা এক্সট্রিমলি প্রিটার্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় জন্ম নেওয়া নবজাতকদের অনেকেরই শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সংক্রমণ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সপ্তাহের আগে জন্ম নেওয়া শিশুরা এক্সট্রিমলি প্রিটার্ম শ্রেণির মধ্যে পড়ে এবং তাদের জন্য উচ্চমাত্রার নবজাতক নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে। ২৪ সপ্তাহে ভ্রূণের হাতের নড়াচড়া ও স্পর্শ-সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে থাকে। তবে এত কম গর্ভকাল এবং কম ওজন নিয়ে জন্মের পর শিশুর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ফলাফল একেকজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি তাই অনেকের কাছে শুধু একটি চিকিৎসা মুহূর্ত নয়, বরং অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় জন্ম নেওয়া একটি শিশুর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ছোট্ট হাতটি চিকিৎসকের আঙুল ছুঁয়ে দেওয়ার সেই মুহূর্তে যেন ফুটে উঠেছে নবজাতক, পরিবার এবং চিকিৎসকদের দীর্ঘ লড়াইয়ের এক মানবিক প্রতিচ্ছবি।
পেনসিলভানিয়া দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে ৭০ বয়সী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার
গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে আইসিইর হাতে স্ত্রী আটক, দেশের জন্য লড়েছি! এটাই কি তার প্রতিদান?’ মার্কিন সেনার ক্ষোভ
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?
নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মানচিত্রে দ্রুত শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন বাংলাদেশিরা। এক দশকে শহরটিতে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর ফলে নিউইয়র্কের সপ্তম বৃহত্তম অভিবাসী জনগোষ্ঠীতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশিরা। শুধু তাই নয়, ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশিরাই এখন শহরের সবচেয়ে বড় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠী। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি প্ল্যানিংয়ের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউ ইয়র্কার্স ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। শহরের অভিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে এটিই নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ বিস্তৃত সরকারি প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭৯৩। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬ হাজার। অর্থাৎ এক দশকে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে তালিকায় নবম অবস্থান থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও দেশভিত্তিক বিস্তারিত জনসংখ্যার হিসাব মূলত ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে এবং সংশ্লিষ্ট সেনসাস তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই ১ লাখ ১০ হাজার ৭৯৩ জনকে ২০২৬ সালের সরাসরি জনসংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের আরও সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরো। সেই হিসাবে ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে মোট বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ লাখ ৮ হাজার। ফলে শহরের সামগ্রিক অভিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো নিউইয়র্কের জনমিতি, অর্থনীতি ও কর্মশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশিদের উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে। সিটি প্ল্যানিংয়ের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা যেখানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০, সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার ২০০। নিউইয়র্ক সিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে শহরে আসা নতুন অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বড় উৎস দেশ। নতুনভাবে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্রেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে আসা ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বড় অংশই পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশিদের বসবাসের প্রধান কেন্দ্র কুইন্স হলেও কমিউনিটির বিস্তার এখন নিউইয়র্কের অন্যান্য বরোতেও দৃশ্যমান। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, এলমহার্স্ট ও ব্রায়ারউডসহ কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি ব্রঙ্কসেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিটি প্ল্যানিংয়ের ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের হিসাবে ব্রঙ্কসে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫০০, যা ওই বরোর পঞ্চম বৃহত্তম বিদেশে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশি কমিউনিটির বৃদ্ধির আরেকটি দিক হলো নতুন প্রজন্ম। নিউইয়র্ক সিটির বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিদের হিসাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে ১ লাখ ১০ হাজারের হিসাবটি নিউইয়র্কে বসবাসকারী পুরো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নয়। দ্বিতীয় ও পরবর্তী প্রজন্ম যোগ করলে কমিউনিটির প্রকৃত আকার আরও বড়। জাতীয় পর্যায়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে এই জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ৫৬৯ শতাংশ। ওই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন অভিবাসী এবং প্রায় ৭৫ হাজার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া। তবে পিউর এই হিসাব শুধু যারা নিজেদের এককভাবে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর হিসাব পদ্ধতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক সরকারি প্রতিবেদন বলছে, শহরের অভিবাসী মানচিত্রের পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশিদের বৃদ্ধি এখন স্পষ্ট। এক দশকে ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর তালিকায় সপ্তম অবস্থানে উঠে আসা এবং দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছানো নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিরই প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ