সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সিটে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে শিশুর অস্বীকৃতির জেরে বাতিল হয় যাত্রীবাহী ফ্লাইট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৬:৩২
শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধায় কানাডায় পুরো ফ্লাইট বাতিল
শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধায় কানাডায় পুরো ফ্লাইট বাতিল

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে টরন্টোগামী একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ছোট একটি শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট বাঁধাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পুরো ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে পোর্টার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে।

 

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টরন্টোর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ঘটে। পোর্টার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় কর্মীরা দেখতে পান, একটি ছোট শিশু নিজের আসনে বসে নেই এবং সিটবেল্টও বাঁধেনি।

 

এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটিকে নিরাপদভাবে আসনে বসানো ও সিটবেল্ট বাঁধানোর জন্য তার অভিভাবক এবং কেবিন ক্রুরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শিশুটি আসনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে সিটবেল্ট বাঁধতে রাজি হচ্ছিল না। 

 

পরিস্থিতিতে বিমানটি আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওই শিশু, তার অভিভাবক এবং তাদের লাগেজ বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের নামানো এবং লাগেজ সরানোর প্রক্রিয়ায় এতটাই সময় চলে যায় যে বিমানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর উড্ডয়ন করতে পারেনি।

 

ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে রাত সাড়ে ১২টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল। শিশুটিকে নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ফ্লাইটটি সেই সময়সীমা অতিক্রম করে। ফলে বিমানে থাকা অন্য সব যাত্রীকেও শেষ পর্যন্ত বিমান থেকে নামতে হয় এবং ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।

 

পোর্টার এয়ারলাইনস ঘটনাটির জন্য অন্যান্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পরদিনের একটি ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হয়।

 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক যাত্রী মনে করছেন, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি হলেও একটি শিশুকে সিটবেল্ট পরাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অন্য যাত্রীদেরও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে উড্ডয়ন করা সম্ভব নয় এ কারণেই পরিস্থিতি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি ছাড়তে পারেনি।

 

এ ঘটনায় পোর্টার এয়ারলাইনস শিশুটির বয়স বা পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ফলে শিশুটির ঠিক কী কারণে সিটে বসতে বা সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অ্যাডলফ হিটলারের পাশে তার ভাতিজি অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবাল, প্রায় ১৯৩০ সালের ছবি
ভাতিজিকে নিজ হাতে খু ন করেছিলেন হিটলার, ছিল প্রেমের গুঞ্জন - নতুন তথ্যে বদলাচ্ছে ইতিহাস

অ্যাডলফ হিটলার নিজ হাতেই তার ভাতিজি অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালকে খু ন করেছিলেন—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে নতুন কিছু ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে। এতদিন গেলির মৃ ত্যুকে আত্মহ ত্যা হিসেবে ধরা হলেও, নতুন নথি ঘিরে সেই পুরোনো ধারণা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে হিটলার ও গেলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন প্রচলিত রয়েছে।   ১৯৩১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মিউনিখে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে ২৩ বছর বয়সী গেলিকে গু লিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে হিটলারের নিজের পিস্তলও পাওয়া হয়েছিল। সে সময় তার মৃ ত্যুকে আত্মহ ত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল হিটলারের দাবি—ঘটনার সময় তিনি মিউনিখে ছিলেন না, বরং নুরেমবার্গে অবস্থান করছিলেন।   তবে জার্মান ইতিহাসবিদ হারাল্ড স্যান্ডনার দাবি করেছেন, হিটলারের এই আলিবাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার মতো প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। তার গবেষণায় পাওয়া সরকারি নথিতে গেলির দেহ ১৯ সেপ্টেম্বর নয়, বরং ১৮ সেপ্টেম্বরই হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া গিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।   স্যান্ডনারের যুক্তি, যদি দেহটি ১৮ সেপ্টেম্বরই পাওয়া গিয়ে থাকে, তাহলে গেলির মৃ ত্যুও তার আগেই ঘটে থাকতে পারে। তার মতে, মৃ ত্যুর সময় ১৮ সেপ্টেম্বরের ভোররাত, এমনকি তার আগের রাতও হতে পারে। আর সেই সময় হিটলার মিউনিখেই ছিলেন বলে দাবি করছেন তিনি।   গেলির মৃ ত্যুকে ঘিরে আরও কিছু বিষয় দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ তৈরি করেছে। তার দেহের পাশে হিটলারের পিস্তল পাওয়া গিয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে হিটলার ও গেলির মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উঠে এসেছে। এসব কারণেই ঘটনাটি আত্মহ ত্যা নাকি অন্য কোনো কিছুর ফল—এ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে।   হিটলার ও গেলির সম্পর্ক নিয়েও বহু বছর ধরে নানা গুঞ্জন ছিল। গেলি ছিলেন হিটলারের সৎবোনের মেয়ে। তাদের মধ্যে অনৈতিক বা যৌ ন সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এসব গুঞ্জন অতিরঞ্জিতও হতে পারে।   স্যান্ডনারের তত্ত্ব সত্য হলে, গেলিই হতে পারেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে হিটলার নিজ হাতে খু ন করেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ করা সম্ভব। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।   ইতিহাসবিদ গাই ওয়াল্টার্স এই নতুন তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নথিতে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের তারিখের যে পার্থক্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটি সাধারণ কোনো নথিগত বা লিখনভুলের কারণেও হয়ে থাকতে পারে। ইতিহাসবিদ হাইকে বি. গোরটেমাকারও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।   ওয়াল্টার্স হিটলার ও গেলির মধ্যে সত্যিই যৌ ন সম্পর্ক ছিল কি না, সেই দাবিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন। তার মতে, তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম।   ফলে প্রায় এক শতাব্দী পরও গেলি রাউবালের মৃ ত্যু ঘিরে রহস্য পুরোপুরি কাটেনি। নতুন নথি পুরোনো ঘটনাটিকে আবার আলোচনায় আনলেও, হিটলারই তাকে নিজ হাতে খু ন করেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো সর্বসম্মত মত গড়ে ওঠেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৫:৫৮
উত্তর গাজায় নিজেদের ড্রোন বিধ্বস্ত ও বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় নিজেদের ড্রোনের বিস্ফোরণেই নিহত দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা

লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের হামলার মুখে সৌদির তেলবন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা

১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা

মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলনকে পুতিনের জন্য অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বড় ‘সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রুবিও। পুতিন যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তাঁর প্রথম সফর এবং ২০১৯ সালের পর কোনো জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে সশরীরে প্রথম উপস্থিতি।   আমন্ত্রণের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক এই উদ্যোগকে রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সমন্বয়ের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পেসকভ আবারও স্পষ্ট করেন, মস্কো কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি সমাধান চায়। দৃশ্যত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।   সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে মস্কো গিয়েছিলেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি ইস্যু ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ওপর জোর দিচ্ছেন। যদিও গত সপ্তাহেই তিনি রুশ জ্বালানি ক্রেতা ও পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।   ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ভুল জায়গায় চাপ প্রয়োগ করছেন; আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার মূল দায়িত্ব রাশিয়ার। তদুপরি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণেই মূলত জ্বালানির বাজার অস্থির হয়েছে।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনিভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাখলেও মিয়ামি সফরে পুতিনের গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’র সদস্য নয়।   উল্টো ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ও দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ পরিষদে সদস্য দেশগুলোকে এটি থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা থাকায় সংস্থাটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতিও চলছে।   তবে পুতিনকে জি-টোয়েন্টিতে আমন্ত্রণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে, তাদের এভাবে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা বিশ্বজুড়ে ভুল বার্তা দেবে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের অন্যতম মিত্র পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার দিকে আনার বদলে তাদের আক্রমণাত্মক নীতি অব্যাহত রাখতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৮:৩০
ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু

জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা

জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা

তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য

তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।   বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।   দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা।   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের মধ্যে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৩:৩৪
দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ

সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ নিহত

স্পেনের লানজারোতে যাওয়ার পথে সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসতে থাকা একটি অভিবাসীবাহী নৌকা। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীবাহী নৌকায় নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

ফ্রান্সের গ্র্যাভলিন থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিবাসীরা

একদিনেই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি প্রায় ৮০০ অভিবাসীর, ২০২৬ সালে নতুন রেকর্ড

0 Comments