বিশেষ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির নম্বরফলকের পাশাপাশি রং, স্টিকার ও আঁচড়ও নজরদারিতে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ির চলাচল ও নম্বরফলক নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে গোপনীয়তার উদ্বেগ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ির চলাচল ও নম্বরফলক নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে গোপনীয়তার উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কে চলাচলকারী গাড়ির ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরা এখন শুধু গাড়ির নম্বরফলক পড়ছে না; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে গাড়ির ধরন, মডেল, রং, আঁচড়, ডেন্ট, এমনকি বাম্পারের স্টিকারের মতো দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত ও সংরক্ষণ করতে পারছে।

 

এসিএলইউ বলছে, ফ্লক সেফটির তৈরি এই ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটিতে প্রায় ৮০ হাজার ক্যামেরা রয়েছে, যা ৪৯টি অঙ্গরাজ্যের ৫ হাজারের বেশি এলাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ক্যামেরা প্রতি মাসে ২ হাজার কোটিরও বেশি গাড়ি শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ করে বলে ফ্লক সেফটির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য ও এসিএলইউর সাম্প্রতিক প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

এই প্রযুক্তি মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়ির ছবি ধারণ করে। এরপর ছবির নম্বরফলক শনাক্ত করার পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে কোনো গাড়ির নম্বরফলক জানা না থাকলেও তার রং, মডেল, ধরন, দৃশ্যমান ক্ষতি বা বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে সেটিকে পরবর্তী সময়ে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

এসিএলইউর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই ক্যামেরা শুধু অপরাধে সন্দেহভাজন গাড়িকে নজরদারি করে না। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের গাড়ির তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি কোনো অপরাধ না করেও তার গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভান্ডার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এই তথ্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে ভাগাভাগি করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের একটি ক্যামেরা ব্যবস্থা বৃহত্তর জাতীয় নজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে বলে এসিএলইউ আশঙ্কা করছে। সংগঠনটি এই ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ব্যাপক গণনজরদারির অবকাঠামো হিসেবে দেখছে।

 

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রযুক্তিটির ইতিবাচক দিকও তুলে ধরছে। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সশস্ত্র ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, গাড়ি চুরি ও মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্তে সহায়তা পাওয়া গেছে।

 

অন্যদিকে গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, অপরাধ দমনের জন্য তৈরি প্রযুক্তি যদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের তথ্যও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা কোথায় থাকবে?

 

এই বিতর্ক ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও পৌঁছেছে। চলতি বছরে নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও ভাগাভাগি করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রায় একশটি প্রস্তাব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উত্থাপিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

কয়েকটি শহর আবার ফ্লক সেফটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল বা প্রযুক্তির ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করছে। এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত নজরদারি এবং তথ্য অন্য সংস্থার হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। 

 

এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কোনো ব্যক্তির গাড়ি কোথায় কোথায় চলাচল করেছে, সেই তথ্য দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে পরে অনুসন্ধান করা হলে তা ব্যক্তির চলাচলের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে পারে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে থাকা অযৌক্তিক তল্লাশি ও নজরদারি থেকে সুরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও আদালতে বিতর্ক চলছে।

 

তবে “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি গাড়ির সব তথ্য সরাসরি জাতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উন্মুক্ত” এমন দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কোন সংস্থা তথ্য দেখতে পারবে, কতদিন তথ্য রাখা হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার চুক্তি, স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইন এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

 

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন মূল বিতর্ক শুধু অপরাধ দমনে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিকের গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, সেই তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কে তা ব্যবহার করতে পারবে এই প্রশ্নই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের সম্পত্তির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলস এলাকায় তারকা কিম কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।   রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খবর আসে, ওই সম্পত্তিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঢুকে পড়েছেন এবং পরে সেখান থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। সম্পত্তিটির নিরাপত্তাকর্মী সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর সম্পত্তি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে একটি গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত গাড়িটি কার্দাশিয়ানের একজন কর্মীর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির মালিকানা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশি সূত্রের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি কার্দাশিয়ানের এক কর্মীর। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং সম্পত্তি থেকে ঠিক কী কী নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।   কার্দাশিয়ান বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না। সম্পত্তিটি সংস্কারের কাজ চলায় তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে ছিলেন না। ফলে ঘটনার সময় বাড়িতে কার্দাশিয়ান বা তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস জানিয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীর নজরে সন্দেহজনক তৎপরতা আসার পর দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।   এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে।এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন সম্পত্তিতে সন্দেহভাজনের প্রবেশ, গাড়ি ব্যবহারের ঘটনা এবং সম্ভাব্য চুরির বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   হিডেন হিলস লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার একটি সুরক্ষিত ও অভিজাত আবাসিক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। সেখানে তারকা ও ধনী ব্যক্তিদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ফলে কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে বিশেষ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   এটি কিম কার্দাশিয়ানের জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে প্যারিসে অবস্থানের সময় তিনি সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন। তবে এবারের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মালিকানাধীন একটি সংস্কারাধীন সম্পত্তিতে ঘটেছে এবং সে সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৮:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ির চলাচল ও নম্বরফলক নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে গোপনীয়তার উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির নম্বরফলকের পাশাপাশি রং, স্টিকার ও আঁচড়ও নজরদারিতে আসছে।

টিপিএস বাতিলের পর নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি হারিয়েছেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার জন্য এইচ-১বি ও এল-১ মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও যথাক্রমে ৪,০০০ ও ৪,৫০০ ডলারের অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।

এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন ফি, ভারতীয় কর্মীদের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণের দৃশ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমান ২০২৬ সালের মহড়ার ঘোষণাটি ১৭–২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে

উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহে বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার দুই দেশের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার কয়েক দিনের মধ্যেই মিত্র দুই দেশের এই মহড়ার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে পরিচিত এই যৌথ মহড়া আগামী ১৭ আগস্ট শুরু হয়ে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিন চলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের মহড়ার আকার আগের বছরগুলোর সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবেন। মার্কিন বাহিনীর অংশগ্রহণকারী সেনার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মুখপাত্র জ্যাং দো-ইয়ং সাংবাদিকদের বলেন, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুই মিত্র দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। মহড়ায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি বিভিন্ন সামরিক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   মার্কিন সামরিক মুখপাত্র রায়ান ডোনাল্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা মহড়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি তৈরিতে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারবে।   এবারের মহড়ায় প্রচলিত স্থল, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের নতুন ঝুঁকিগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, বৈদ্যুতিন আক্রমণ, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সাইবার হামলা সামরিক সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। ফলে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশের বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা যাচাইও মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পিয়ংইয়ং সাধারণত এসব মহড়াকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যা দেয়। বিপরীতে ওয়াশিংটন ও সিউল বলে আসছে, তাদের যৌথ মহড়া প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখতেই এগুলো আয়োজন করা হয়।   এবারের মহড়ার সময় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণের কার্যক্রম শুরু করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া—দুই ঘটনা একই সময়ে সামনে আসায় কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতার ক্রমাগত উন্নয়ন এবং দেশটির সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও কার্যকর করতে চাইছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকিও রয়েছে। অতীতে বড় ধরনের মার্কিন-দক্ষিণ কোরীয় মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য সামরিক প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফলে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া মহড়ার সময়ে পিয়ংইয়ং নতুন কোনো অস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।   যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এবারের মহড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাস্তবসম্মত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাহিনীর সমন্বয় পরীক্ষা করা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু বিপুলসংখ্যক সেনা ও প্রচলিত অস্ত্রের সক্ষমতা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সব মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১১ দিনের উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে। দুই মিত্র দেশ এটিকে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি হিসেবে দেখালেও পিয়ংইয়ং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর আগামী দিনগুলোর উত্তেজনার মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৩:৫৭
হাসপাতালে ডাক্তার ও শিশুর দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

মাত্র ২৪ সপ্তাহে জন্ম, ওজন ৫৭০ গ্রাম; ক্ষুদে হাতেই ফুটে উঠল বেঁচে থাকার আশা

ঘটনা স্থল।ছবি:সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়া দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে ৭০ বয়সী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার

মার্কিন সেনা ও তার স্ত্রী।ছবি:সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে আইসিইর হাতে স্ত্রী আটক, দেশের জন্য লড়েছি! এটাই কি তার প্রতিদান?’ মার্কিন সেনার ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?

মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড?   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।   তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি।   মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন।   অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২০:৪৭
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব

রফিকুল ইসলাম! জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে পরাজিত এক সংগ্রামী এক প্রিন্সিপাল! ছবি: সংগৃহীত

এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ

0 Comments