কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলস এলাকায় তারকা কিম কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।
রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খবর আসে, ওই সম্পত্তিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঢুকে পড়েছেন এবং পরে সেখান থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। সম্পত্তিটির নিরাপত্তাকর্মী সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর সম্পত্তি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে একটি গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত গাড়িটি কার্দাশিয়ানের একজন কর্মীর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির মালিকানা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশি সূত্রের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি কার্দাশিয়ানের এক কর্মীর।
ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং সম্পত্তি থেকে ঠিক কী কী নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
কার্দাশিয়ান বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না। সম্পত্তিটি সংস্কারের কাজ চলায় তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে ছিলেন না। ফলে ঘটনার সময় বাড়িতে কার্দাশিয়ান বা তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস জানিয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীর নজরে সন্দেহজনক তৎপরতা আসার পর দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে।এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন সম্পত্তিতে সন্দেহভাজনের প্রবেশ, গাড়ি ব্যবহারের ঘটনা এবং সম্ভাব্য চুরির বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
হিডেন হিলস লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার একটি সুরক্ষিত ও অভিজাত আবাসিক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। সেখানে তারকা ও ধনী ব্যক্তিদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ফলে কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে বিশেষ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এটি কিম কার্দাশিয়ানের জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে প্যারিসে অবস্থানের সময় তিনি সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন। তবে এবারের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মালিকানাধীন একটি সংস্কারাধীন সম্পত্তিতে ঘটেছে এবং সে সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কাছে আন্তর্জাতিক ড্রাইভ এলাকার একটি মহাসড়কের পাশ থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুজন পথচারী আন্তর্জাতিক ড্রাইভ ও কন্টিনেন্টাল গেটওয়ের সংযোগস্থলের কাছে হাঁটার সময় দেহাবশেষ দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। খবর পাওয়ার পর শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। দেহাবশেষের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন দেহাবশেষটি কত পুরোনো, এটি কার এবং কীভাবে ওই স্থানে এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা পরীক্ষকের গাড়ি থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে অপরাধ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় ও চিকিৎসা পরীক্ষকের দপ্তর দেহাবশেষ পরীক্ষা করে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির নম্বরফলকের পাশাপাশি রং, স্টিকার ও আঁচড়ও নজরদারিতে আসছে।
নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ও এল-১ ভিসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু নিয়োগকর্তাকে একই কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও অতিরিক্ত কয়েক হাজার ডলার ফি দিতে হবে। এতদিন এই অতিরিক্ত ফি মূলত নতুন নিয়োগ, নিয়োগকর্তা পরিবর্তনসহ নির্দিষ্ট ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। নতুন পরিবর্তনের ফলে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য নিয়োগকর্তাদের প্রতিটি এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪ হাজার ডলার এবং এল-১এ বা এল-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হবে। এই ফি সাধারণ আবেদন ফি বা অন্যান্য সরকারি ফি থেকে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের নথিতেও নির্দিষ্ট এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনের জন্য এই অতিরিক্ত ফি কাঠামোর উল্লেখ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পরিবর্তন প্রত্যেক এইচ-১বি বা এল-১ কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। মূলত বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দিষ্ট একটি শ্রেণি এই নিয়মের আওতায় পড়বে। সাধারণভাবে ৫০ বা তার বেশি কর্মী থাকা এবং প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকের বেশি কর্মী এইচ-১বি, এল-১এ বা এল-১বি অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে। নতুন নিয়মটি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তাদেরও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সময় বাড়তি আর্থিক দায় বিবেচনায় নিতে হবে। ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় পেশাজীবী এইচ-১বি ও এল-১ ব্যবস্থার আওতায় কাজ করেন। ফলে বড় ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই কর্মীর ভিসা নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই অর্থ সরাসরি কর্মীর কাছ থেকে নেওয়া হবে এমনটি নয়। অতিরিক্ত ফি দেওয়ার দায়িত্ব মূলত যোগ্য নিয়োগকর্তার। অর্থাৎ কোনো ভারতীয় কর্মী নিজে সরাসরি ৪ হাজার বা ৪ হাজার ৫০০ ডলার সরকারি ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় পড়বেন না। তবে নিয়োগকর্তার খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিয়োগনীতি, কর্মী ধরে রাখা, নতুন কর্মী নিয়োগ কিংবা ভিসা স্পনসরশিপের সিদ্ধান্তে পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়তে পারে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল। কারণ একই কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সময়ও অতিরিক্ত ফি দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক এইচ-১বি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হতে পারে। ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেক ভারতীয় এইচ-১বি কর্মী বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন ফি তাদের ব্যক্তিগত ভিসা-প্রক্রিয়ার সরাসরি ফি না হলেও, নিয়োগকর্তার ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। এতে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও স্পনসর করার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিদেশি কর্মীর ভিসা নবায়নেই ৪ হাজার বা ৪ হাজার ৫০০ ডলার যুক্ত হয়েছে। নিয়মটি নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মীসংখ্যা, এইচ-১বি/এল-১ কর্মীর অনুপাত এবং আবেদনের ধরন অনুযায়ী ফি প্রযোজ্য কি না তা যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃষ্টিতে এই অতিরিক্ত ফি মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও জীবমিতিক প্রবেশ-প্রস্থান ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অতীতে নির্দিষ্ট এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে এই ফি চালু করা হয়েছিল। নতুন পরিবর্তনে এর প্রয়োগের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় প্রযুক্তি ও অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সরাসরি নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং এটি তাদের নিয়োগকর্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করছে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মটি কার্যকর হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করার সময় এই অতিরিক্ত ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। আগামী দিনে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় কীভাবে সামলায় তার ওপর। কেউ যদি স্পনসরশিপ কমিয়ে দেয়, নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগে সতর্ক হয় বা কর্মীদের অন্য দেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু কোম্পানির খরচেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে
মাত্র ২৪ সপ্তাহে জন্ম, ওজন ৫৭০ গ্রাম; ক্ষুদে হাতেই ফুটে উঠল বেঁচে থাকার আশা
পেনসিলভানিয়া দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে ৭০ বয়সী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার
সান দিয়েগোতে গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউয়ে হাজির হওয়ার পর এক মার্কিন সেনা সদস্যের স্ত্রীকে আইসিই আটক করার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেনা সদস্য অভিযোগ করেছেন, বৈধভাবে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে ‘প্রতারিত’ বোধ করিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের নাগরিক চানিদাফন সোপিম্পা তার গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত ইন্টারভিউ দিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসে গেলে আইসিই এজেন্টরা তাকে আটক করে। তিনি মার্কিন মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত স্টাফ সার্জেন্ট স্যামুয়েল শাস্টিনের স্ত্রী। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য, সোপিম্পা অতীতে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি বৈধভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। স্যামুয়েল শাস্টিন বলেন, দুই দশক ধরে দেশের সেবা করার পর এমন আচরণে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন। তার ভাষায়, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করার পরও পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া কঠিন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পেয়ে যান না। যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ বা অন্য অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ঘটনা একক নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত ভেটেরানদের একাধিক স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যকে গ্রিন কার্ড বা অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে হাজির হওয়ার সময় আইসিই আটক করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্তত ৫০ জনের বেশি সেনা সদস্যের স্বামী-স্ত্রী বা বাবা-মাকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারও করা হয়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, অতীতে সামরিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া চলাকালে এমন ধরনের আটক তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। তাদের মতে, সামরিক পরিবারের জন্য থাকা বিশেষ সুবিধা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, সামরিক পরিবারের সদস্য হলেও কেউ অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পান না এবং প্রতিটি মামলা বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হয়। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, সামরিক পরিবারের সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। সামরিক সদস্যদের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ