পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ একটি লেখা পড়তে ও ছোট একটি বাক্য লিখতে হিমশিম খাওয়ায় ক্লাসরুমেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। হিউস্টনের হুইটলি হাইস্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তার প্রকাশ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন উইলিয়ামস। স্কুলের স্টাফ ডিরেক্টরিতে তাকে ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ও ফক্স ২৬ হিউস্টন তার বক্তব্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই লেখার ভিত্তিতে একটি ছোট বাক্য সম্পন্ন করার কাজ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাটি ব্যাখ্যাও করেন এবং কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন।
কিন্তু এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান উইলিয়ামস। তার দাবি, এমন শিক্ষার্থীও তার ক্লাসে রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে কিংবা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিচলিত হন যে পরে লাঞ্চের সময় একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং উত্তর দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার পরও তারা কয়েকটি শব্দ বসিয়ে একটি বাক্য সম্পন্ন করতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের এমন মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তবে উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা তার নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি হুইটলি হাইস্কুলের সব দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পড়া ও লেখার সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। কতজন শিক্ষার্থী ওই কাজটি করতে পারেনি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক অগ্রগতি করেছে। শক্তিশালী পাঠদান, উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য।
একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা প্রয়োজন। শিক্ষক ও স্কুলের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হিউস্টন আইএসডি।
হুইটলি হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্কুলটির সামগ্রিক রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যর্থতার পর্যায়ের রেটিং পাওয়া স্কুলটি পরে বি রেটিংয়ে উন্নীত হয়েছে। যদিও স্টেট অব টেক্সাস অ্যাসেসমেন্টস অব অ্যাকাডেমিক রেডিনেস বা স্টার পরীক্ষার ফলাফলে এখনও দুর্বলতার জায়গা রয়েছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উইলিয়ামসের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি জানান, তার ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে, তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং টেক্সাসে একাধিক টিচিং সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন।
একটি ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো টেক্সাস বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লিটারেসি, শেখার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ একটি লেখা পড়তে ও ছোট একটি বাক্য লিখতে হিমশিম খাওয়ায় ক্লাসরুমেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। হিউস্টনের হুইটলি হাইস্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তার প্রকাশ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন উইলিয়ামস। স্কুলের স্টাফ ডিরেক্টরিতে তাকে ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ও ফক্স ২৬ হিউস্টন তার বক্তব্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই লেখার ভিত্তিতে একটি ছোট বাক্য সম্পন্ন করার কাজ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাটি ব্যাখ্যাও করেন এবং কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান উইলিয়ামস। তার দাবি, এমন শিক্ষার্থীও তার ক্লাসে রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে কিংবা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিচলিত হন যে পরে লাঞ্চের সময় একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং উত্তর দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার পরও তারা কয়েকটি শব্দ বসিয়ে একটি বাক্য সম্পন্ন করতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের এমন মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা তার নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি হুইটলি হাইস্কুলের সব দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পড়া ও লেখার সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। কতজন শিক্ষার্থী ওই কাজটি করতে পারেনি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক অগ্রগতি করেছে। শক্তিশালী পাঠদান, উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা প্রয়োজন। শিক্ষক ও স্কুলের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হিউস্টন আইএসডি। হুইটলি হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্কুলটির সামগ্রিক রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যর্থতার পর্যায়ের রেটিং পাওয়া স্কুলটি পরে বি রেটিংয়ে উন্নীত হয়েছে। যদিও স্টেট অব টেক্সাস অ্যাসেসমেন্টস অব অ্যাকাডেমিক রেডিনেস বা স্টার পরীক্ষার ফলাফলে এখনও দুর্বলতার জায়গা রয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উইলিয়ামসের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি জানান, তার ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে, তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং টেক্সাসে একাধিক টিচিং সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন। একটি ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো টেক্সাস বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লিটারেসি, শেখার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে। লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল। নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
অরল্যান্ডোর কাছে মহাসড়কের পাশে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির নম্বরফলকের পাশাপাশি রং, স্টিকার ও আঁচড়ও নজরদারিতে আসছে।
নিউইয়র্ক সিটি সরকার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো বেশ কয়েকজন হাইতিয়ান কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান নাগরিকদের এই সুরক্ষা বাতিলের পথ পরিষ্কার হওয়ায় কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতি আর বহাল না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নগর সরকার নিজ উদ্যোগে এসব কর্মীকে ছাঁটাই করতে চায়নি। ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই কর্মীদের কাজের অনুমতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে যাদের বৈধভাবে কাজ করার অন্য কোনো অনুমতি নেই, তাদের চাকরি থেকে আলাদা করতে হয়েছে। সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাইতিয়ান কর্মীদের চাকরির বৈধতা পর্যালোচনা করা হয়। শুক্রবার নগর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত কর্মীর সংখ্যা ‘এক ডজনের বেশি’ থেকে ‘কয়েক ডজন’ বলা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নগরীর হাসপাতাল ব্যবস্থায় কাজ করতেন। মেয়র মামদানি সোমবার জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য টিপিএস পুনর্বহাল অথবা বিকল্প হিসেবে ডিফার্ড এনফোর্সড ডিপারচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিএস পুনর্বহাল কিংবা এ ধরনের বিকল্প সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে। টিপিএস এমন একটি সাময়িক অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হাইতির নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতির টিপিএস বাতিলের পথে থাকা আইনি বাধা কার্যত দূর হয়ে যায়। এরপর আগস্টের শুরুতে ফেডারেল আদালতও আগের সেই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই বলে নিশ্চিত করে। ফলে হাইতিয়ান টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়। নিউইয়র্ক শহরের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইতিয়ান অভিবাসীরা নগরীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টিপিএস বাতিলের ফলে শুধু সরকারি কর্মী নয়, বেসরকারি খাতের বহু কর্মীরও চাকরি ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মামদানি জানিয়েছেন, চাকরি হারানো কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নগর সরকার আইনি পরামর্শ, নতুন ধরনের কাজের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে টিপিএস পুনর্বহাল না হলে এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। টিপিএস বাতিলের প্রভাব নিউইয়র্কের বাইরেও ব্যাপক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলেছেন। এখন টিপিএস বাতিলের কারণে তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেয়র মামদানির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগর সরকার একদিকে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে টিপিএস পুনর্বহালের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অধিকার, কর্মসংস্থান এবং ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন ফি, ভারতীয় কর্মীদের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে