আমেরিকা

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:২৩
২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত
২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য এই অর্থে সব খরচ সামলে নিয়মিত সঞ্চয় করা কঠিন হতে পারে। বাসাভাড়া, ট্যাক্স, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চাইল্ড কেয়ার ও যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কিছু এলাকায় চার সদস্যের পরিবারের শুধু মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য এই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন মাত্র কর্মজীবী হলে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫৮ ডলার আয় প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে। ফুলটাইম কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।

 

একই পরিবারের দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে ম্যানহাটনে প্রত্যেকের ঘণ্টায় প্রায় ৪০.৬১ ডলার আয় প্রয়োজন। দুজনের সম্মিলিত বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ডলারের পারিবারিক আয় অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের আগেই মৌলিক ব্যয় মেটাতে চাপে পড়ে যেতে পারে।

 

বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন কর্মজীবী হলে ঘণ্টায় প্রায় ৫২.৮৪ ডলার আয় প্রয়োজন। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় আয় ঘণ্টায় প্রায় ৩৭.৬১ ডলার, অর্থাৎ পরিবারের সম্মিলিত আয় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।

 

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এমআইটির লিভিং ওয়েজ হিসাব কোনো বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বাজেট নয়। খাবার, বাসস্থান, পরিবহন, চিকিৎসা, চাইল্ড কেয়ার, ট্যাক্সসহ পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত আয় দরকার, তার একটি আনুমানিক হিসাব এটি। ফলে বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট, বড় অঙ্কের সঞ্চয়, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এই হিসাবের মূল লক্ষ্য নয়।

 

বছরে ১ লাখ ডলার বেতন মানে মাসে গ্রস ইনকাম প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। কিন্তু এই পুরো অর্থ পরিবারের হাতে আসে না। ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের আবার আলাদা সিটি ইনকাম ট্যাক্সও রয়েছে। এর সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার পেরোল ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয়। পরিবারের ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তান, বিভিন্ন ডিডাকশন ও ক্রেডিটের কারণে প্রত্যেকের প্রকৃত টেক হোম পে আলাদা হয়।

 

নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব ইনকাম ট্যাক্স ব্যবস্থাও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সের হার আয়ের স্তর ও ফাইলিং স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রায় ৩ শতাংশের কিছু বেশি থেকে ৩.৮৭৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

 

এরপর আসে হাউজিং। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারের জন্য বার্ষিক হাউজিং ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার ৮৭৭ ডলার ধরা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ডলার। কেবল বাসস্থানের খরচই ১ লাখ ডলার গ্রস আয়ের বড় একটি অংশ নিয়ে নিতে পারে।

 

সন্তান ছোট হলে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি চাইল্ড কেয়ার। দুই অভিভাবকই কাজ করেন এমন দুই সন্তানের পরিবারের জন্য ম্যানহাটনে এমআইটির হিসাবে বার্ষিক চাইল্ড কেয়ার ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার। এর সঙ্গে বছরে খাবারের জন্য প্রায় ২০ হাজার ৮০০ ডলার, চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ডলার এবং পরিবহনে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ডলারের হিসাব রয়েছে।

 

এই কারণেই একই ১ লাখ ডলার বেতনের আর্থিক মূল্য পরিবারভেদে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সন্তানহীন একজন সিঙ্গেল ব্যক্তির জন্য যে আয় তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে একই অর্থ যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবার পরিবারের দুজন আয় করছেন কি না, চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না, কোথায় বাসা নেওয়া হয়েছে এবং চাকরির মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা কভার হচ্ছে, তার ওপর মাসিক বাজেট ব্যাপকভাবে বদলে যায়।

 

এমনকি নিউইয়র্কের মধ্যেও পার্থক্য বড়। ম্যানহাটন ও কুইন্সের জীবনযাত্রার ব্যয় এক নয়, আবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরের অনেক কাউন্টিতে একই পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় আরও কম হতে পারে। ফলে শুধু বার্ষিক বেতন দিয়ে একজন পরিবার কতটা স্বচ্ছল, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

 

বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে আরও কিছু আলাদা আর্থিক অগ্রাধিকার থাকতে পারে। দেশে পরিবারকে অর্থ পাঠানো, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট জমানো কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন দায়িত্ব বহনের কারণে মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এসব ব্যয় পরিবারভেদে আলাদা এবং সব বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

 

সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় কম নয়, কিন্তু চার সদস্যের পরিবারের জন্য এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আয়ের নিশ্চিন্ত জীবন হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। ২০২৬ সালের লিভিং ওয়েজ হিসাব বলছে, কুইন্স বা ম্যানহাটনের মতো এলাকায় দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই পরিস্থিতিভেদে ১ লাখ ডলারের উল্লেখযোগ্য বেশি পারিবারিক আয় প্রয়োজন হতে পারে।

 

তাই নিউইয়র্কে ১ লাখ ডলার বেতনের আসল হিসাব শুধু পেচেকের অঙ্কে নয়। পরিবারে কয়জন সদস্য, কয়জন আয় করেন, কোথায় থাকেন, সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না এবং হাউজিং ও হেলথ কেয়ারে কত খরচ হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত সঞ্চয় থাকবে কি না সেটি নির্ধারণ করে মূলত এসব বিষয়ই।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ফ্রি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি, স্কিল কোনোটিই নেই? যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি চাকরির ট্রেনিং, সাথে মিলবে ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন কিংবা নতুন স্কিল শিখে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান এমন মানুষের জন্য ২০২৬ সালেও বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-সমর্থিত ফ্রি জব ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা চালু রয়েছে। এসব সুযোগের কিছুতে যোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসীরাও অংশ নিতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সবাই ফ্রি ট্রেনিং ও ১,৮০০ ডলার পাবেন” এমন দাবি সঠিক নয়। প্রোগ্রামভেদে বয়স, আয়, বসবাসের এলাকা ও ইমিগ্রেশন বা ওয়ার্ক অথরাইজেশনসহ আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্টেটেই সরকারি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম রয়েছে। চাকরি খোঁজা, রেজুমে তৈরি, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শনাক্ত করা এবং ট্রেনিংয়ের খরচ মেটানোর সম্ভাব্য সহায়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে।   দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এসব সেন্টারে চাকরিপ্রার্থীরা বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পান। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি খোঁজার সহায়তা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, স্কিল যাচাই, জব সার্চ ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ এবং স্থানীয় ট্রেনিংয়ের তথ্য।   ওয়ার্কফোর্স ইনোভেশন অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট বা ডব্লিউআইওএ ব্যবস্থার অধীনেও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব আবেদনকারী একই ধরনের অর্থায়ন বা ট্রেনিং পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ট্রেনিংয়ের খরচ দেওয়া হবে এবং একজন আবেদনকারী যোগ্য কি না, সেটি স্থানীয় ওয়ার্কফোর্স সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   তরুণদের জন্য বড় সুযোগগুলোর একটি জব কর্পস। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এই ফেডারেল প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে ক্যারিয়ার ট্রেনিং ও শিক্ষা নিতে পারেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ১২০টির বেশি জব কর্পস ক্যাম্পাস রয়েছে এবং ১০টি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ইন্ডাস্ট্রির শতাধিক ট্রেনিং এরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   জব কর্পসের সাধারণ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়স এবং নিম্ন আয়ের শর্ত। পাশাপাশি নাগরিকত্ব, বৈধ রেসিডেন্সি বা অনুমোদিত অন্য স্ট্যাটাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। কিছু ওয়ার্ক অথরাইজড ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ডসহ অন্যান্য শর্তও যাচাই করা হয়। ফলে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জব কর্পসে ভর্তি হওয়া যায় না।   যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্পসের ট্রেনিং সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রোগ্রামটিতে ফ্রি হাউজিং, খাবার, মৌলিক চিকিৎসাসেবা এবং লিভিং অ্যালাউয়েন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না থেকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   অভিবাসী তরুণদের জন্য বোস্টনে আলাদা একটি পেইড সুযোগও রয়েছে। নো ওয়ার্কার লেফট বিহাইন্ডের ২০২৬ ইমিগ্র্যান্ট ইয়ুথ ক্যারিয়ার রেডিনেস বা লার্ন অ্যান্ড আর্ন প্রোগ্রাম ৭ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছয় সপ্তাহের হাইব্রিড ট্রেনিং হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।   এই প্রোগ্রামে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা অংশ নিতে হয় এবং সফলভাবে শেষ করলে সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়া যেতে পারে। ক্যারিয়ার রেডিনেস, এআই ও ডিজিটাল স্কিল, রেজুমে তৈরি, মক ইন্টারভিউ, মেন্টরশিপ এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এর অন্তর্ভুক্ত।   তবে ১,৮০০ ডলারের সুযোগটি দেশব্যাপী কোনো ফেডারেল বোনাস নয়। এটি বোস্টনের নির্দিষ্ট একটি প্রোগ্রামের স্টাইপেন্ড। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং বোস্টনের বাসিন্দা হতে হবে। প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে অভিবাসী তরুণ, ইংলিশ লার্নার এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাধার মুখে থাকা তরুণদের জন্য তৈরি।   নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য রয়েছে অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের কর্মসংস্থান কর্মসূচি। এর প্রফেশনাল পাথওয়েজ ফর হাই স্কিলড ইমিগ্র্যান্টস প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা নতুন আমেরিকানদের এমপ্লয়মেন্ট কোচিং, স্কিল ট্রেনিং এবং জব প্লেসমেন্টে সহায়তা করা হয়।   নিউইয়র্ক সিটিতে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্যও প্রফেশনাল পাথওয়েজের সেবা রয়েছে। অতীতে প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি এবং নির্ধারিত আয়সীমার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।   নিউইয়র্কের অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের আরেক উদ্যোগ নিউ আমেরিকানস ক্যান কোড। এতে অভিবাসীদের বেসিক কম্পিউটার ব্যবহারের মতো ডিজিটাল লিটারেসি থেকে শুরু করে উন্নত সফটওয়্যার কোডিং ট্রেনিংয়ের সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও জাতীয়তার কারণে এসব প্রোগ্রামে আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের বয়স, আয়, বাসস্থান, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। নতুন ইমিগ্র্যান্ট হলেই যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না, তেমনি সব প্রোগ্রামে গ্রিন কার্ড থাকা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   চাকরি বা ট্রেনিং খুঁজতে প্রথমে নিজের এলাকার আমেরিকান জব সেন্টারে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে কাছাকাছি সেন্টার ও ট্রেনিং খুঁজে পাওয়া যায়। ইউএসএগভও নিজ নিজ স্টেটের লেবার ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারি ট্রেনিং রিসোর্স ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হলো হেল্পলাইন নম্বর। আমেরিকান জব সেন্টার ও চাকরি-ট্রেনিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ক্যারিয়ারওয়ানস্টপ বর্তমানে ১-৮৭৭-৮৭২-৫৬২৭ নম্বরটি উল্লেখ করছে।   সরকারি বা সরকার-সমর্থিত ফ্রি ট্রেনিংয়ের নামে অর্থ চাওয়া হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে “সব ইমিগ্র্যান্ট ১,৮০০ ডলার পাবেন” বা “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই নিশ্চিত ফ্রি ট্রেনিং” ধরনের প্রচারণায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা প্রোগ্রামের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই নিরাপদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:৬
মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবির জন্য হিজাব খুলতে বাধ্য হওয়া হেলানা বোয়ে। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ হিজাব খুলতে বাধ্য করায় আড়াই লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন মুসলিম নারী

এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে তিন ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

এসেক্সের সৈকতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, সর্বশেষ প্রাণ হারাল ৭ বছরের মুসাও

২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

স্মার্টফোনে মগ্ন একদল শিশু ও কিশোর-কিশোরী।ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প সুবিধার দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল।   তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।   চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।   এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।   পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে।   স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে।   ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।   পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী

তুরস্কের ইস্তানবুলে আয়োজিত গ্রেট প্যালেস্টাইন র‍্যালি'তে ফিলিস্তিনের কুফিয়া বা স্কার্ফ গলায় জড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। ছবি:সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা সমগ্র মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব: প্রেসিডেন্ট এরদোগান

পারমাণবিক শক্তিচালিত নিমিৎজ-শ্রেণির সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২)-কে সমুদ্রে। ছবি:সংগৃহীত

সাগরে দীর্ঘ ২৫০ দিনের বন্দিদশা: তীব্র মানসিক অবসাদে রণতরীতে একের পর এক মার্কিন সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর লোগো সম্বলিত একটি কোলাজ ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করলো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির মাটিতে কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নিয়ম সব বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—তিনি বৈধ ভিসাধারী, স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা অনিবন্ধিত অভিবাসী যাই হোন না কেন।   প্রথমেই জাতীয়তা যাচাই   কোনো বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের প্রথমে তার জাতীয়তা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির দেশের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাধ্যতামূলক কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তি’ তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।   যদি সংশ্লিষ্ট দেশ ওই তালিকায় না থাকে, তাহলে আটক ব্যক্তিকে জানাতে হবে যে তিনি চাইলে নিজের দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করতে পারেন। তবে তিনি অনুরোধ না করলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক নয়।   অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির দেশ যদি বাধ্যতামূলক বিজ্ঞপ্তির তালিকায় থাকে, তাহলে তার অনুমতি নেওয়ার অপেক্ষা না করেই নিকটস্থ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বিদেশি নাগরিককেও জানাতে হবে যে তার দেশের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।   প্রতিটি পদক্ষেপের রেকর্ড রাখতে হবে   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের পুরো প্রক্রিয়ার লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।   এর মধ্যে আটক ব্যক্তিকে কী তথ্য জানানো হয়েছে, তিনি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন কি না, দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কখন এবং কীভাবে জানানো হয়েছে—এসব তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে।   কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার কল্যাণ, চিকিৎসা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন।   তবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির হয়ে আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন না।   অভিবাসনগত অবস্থায় ছাড় নেই   পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থাকে আলাদা কোনো মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় না।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছেন নাকি তার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান অনিয়মিত—এটি কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তির মৌলিক নিয়ম পরিবর্তন করে না।   এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটক বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। একই ধরনের কনস্যুলার অধিকার বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:৫২
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কয়েকটি দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডাসহ ৫ অঙ্গরাজ্যে কবরস্থান থেকে স্বজনদের গয়না-স্মারক চুরি, চক্রের ৩ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কমান্ডারদের মধ্যকার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার শহরের অফিসিয়াল সিল, যা ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় সম্পত্তি কর কমানোর প্রস্তাব পাস হলে ক্লিয়ারওয়াটারে বিলুপ্ত হতে পারে প্রায় ১৪০ চাকরি

0 Comments