কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলছেন লামিন ইয়ামাল, নিশ্চিত করলেন স্পেন কোচ
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার এই উদীয়মান ফুটবলার।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ইয়ামাল ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকবেন এবং দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ব্যবহার করা হবে।
শুধু ইয়ামালই নন, স্পেন শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিকো উইলিয়ামসের সুস্থতাও। তিনিও ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় দুই তারকাকে পাওয়া স্পেনের জন্য ইতিবাচক খবর।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে স্পেন কোচকে। বিশেষ করে মিডফিল্ড বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড স্পেনেরই।
তিনি বলেন, তাদের দলে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার রয়েছে, পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকায় একাদশ নির্বাচনই কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একজনকে খেলাতে গেলে আরেকজন ভালো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখতে হয়, যা কোচ হিসেবে তার জন্য সুখকর সমস্যার মতো।
তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না স্পেন কোচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। দলের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। তাই শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নিজেদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়েও বেশ সতর্ক স্পেন কোচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার এই দলটিকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না তিনি।
দে লা ফুয়েন্তের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। তাই র্যাঙ্কিং কিংবা কাগজে-কলমের হিসাব দিয়ে কোনো ম্যাচ বিচার করার সুযোগ নেই। তিনি কেপ ভার্দেকে একটি সুসংগঠিত ও দ্রুতগতির দল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে।
স্পেন কোচের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ দল হতে পারে কেপ ভার্দে। সে কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর সেই অভিযানের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের মাঠে নামার বিষয়টি স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
খেলাধুলা
View moreমাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা শুরু করেছিলেন সানা আরিফ। সেই শুরু থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৪১ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের একজন হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সানা। কুয়েতে জন্ম নেওয়া সানা আরিফের বেড়ে ওঠা লাহোরে। ২০০৭ সালে তিনি আবার কুয়েতে ফিরে যান। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সাঁতার না জানার কারণে এতদিন এটি তার জন্য একটি বড় বাধা ছিল। ২০২১ সালে তিনি সাঁতার শেখা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সাঁতারের পাশাপাশি সাইকেল চালানো ও দৌড়ের প্রশিক্ষণও নিতে শুরু করেন। সাঁতার শেখার মাত্র দুই বছর পর তুরস্কে নিজের প্রথম আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সানা। ওই প্রতিযোগিতায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। এরপর তিনি আরও তিনটি আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। কুয়েতে প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড গরমও সানার অনুশীলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেও তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছেন। অনেক দিন ভোর ৪টার মধ্যেই অনুশীলন শুরু করতেন তিনি, যাতে দিনের অতিরিক্ত গরমের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারেন। ২০২৬ সালে পাকিস্তানের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাঁতার, সাইকেল চালানো ও দৌড়—তিনটি খেলাকে একসঙ্গে মিলিয়ে যে প্রতিযোগিতা হয়, সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রতিযোগী তিনটি বিভাগের কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে দ্রুত হলেও তিনটি বিভাগ মিলিয়ে সানা পাকিস্তানের দলে জায়গা করে নেন। এশিয়ান গেমসের জন্য পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলে সানার সঙ্গে রয়েছেন আনিশা, মোহিদ সাদিক লোনে এবং মুহাম্মদ মুস্তাগিস নূর। নারীদের ব্যক্তিগত ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০ সেপ্টেম্বর জাপানের গামাগোরি সিটি ত্রিদলীয় ক্রীড়া ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের এই প্রতিযোগিতায় ৭৫০ মিটার সাঁতার, ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ৫ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে সানাকে। তিনি নিজেও জানেন, জাপানের প্রতিযোগিতা তার জন্য সহজ হবে না। তবে নিজের জায়গা করে নেওয়াটাই তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক বন্ধুকে সানা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিল। পরে ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যুক্ত হওয়ার পর আবারও বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ তৈরি হয় তার সামনে। মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা থেকে শুরু করে ৪১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব—সানার এই যাত্রা তার খেলাধুলায় নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে উঠেছে। এবার জাপানের মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। সূত্র: গালফ নিউজ
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত
শোয়েব মালিকের একান্ত ইচ্ছা, ছেলে ইঝান বড় হয়ে কোরআনের হাফেজ হবে
স্পেনে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব কিনছেন মেসি!’ এলদেনসেতে মালিকানা চুক্তি
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছিল কোনো বিলাসবহুল বোর্ডরুমে নয়, একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনে। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সেই ন্যাপকিনেই লিখেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ। তখন আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় ট্রায়াল দিতে আসা মেসিকে নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হওয়ায় মেসির বাবা হোর্হে মেসি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমনকি ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনার কর্মকর্তারা বার্সেলোনার একটি টেনিস ক্লাবে বৈঠকে বসেন। সেখানে রেক্সাচের সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের ট্রান্সফার উপদেষ্টা জোসেপ মিংগেয়া এবং আর্জেন্টাইন এজেন্ট হোরাসিও গাগিওলি, যিনি মেসিকে বার্সেলোনার নজরে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কাছে কোনো কাগজ না থাকায় রেক্সাচ ওয়েটারের কাছ থেকে একটি ন্যাপকিন নিয়ে তাতেই মেসিকে চুক্তিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি লিখে দেন। ন্যাপকিনটিতে রেক্সাচ, মিংগেয়া ও গাগিওলি স্বাক্ষর করেন। এতে মেসিকে নির্ধারিত শর্তে বার্সেলোনায় সই করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় এবং মেসির বার্সেলোনা অধ্যায়ের শুরু। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব দলে যোগ দেওয়া মেসি পরে বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন তিনি। জেতেন ১০টি লা লিগা ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ব্যক্তিগতভাবে আটবার ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন মেসি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ন্যাপকিনটি নিরাপদে অ্যান্ডোরার একটি ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। ২০২৪ সালে এটি নিলামে তোলে ব্রিটিশ নিলাম প্রতিষ্ঠান বোনহামস। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ পাউন্ড। শেষ পর্যন্ত ন্যাপকিনটি ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান। ন্যাপকিনটি ফ্রেমে বাঁধানো ও সংরক্ষিত অবস্থায় নিলামে তোলা হয়েছিল। একটি সাধারণ ন্যাপকিনে লেখা সেই প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় মেসির জীবন এবং বার্সেলোনার ইতিহাস। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে ওঠা সেই ছোট্ট কাগজ এখন প্রায় ১০ লাখ ডলারের সংগ্রহযোগ্য নিদর্শন।
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, শেষ হলো নীল-সাদা জার্সির পথচলা
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি। ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি। সূত্র: ডেইলি মেইল
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে
শুধু সন্তানরাই ছিলেন অতিথি, একান্ত সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারলেন রোনালদো-জর্জিনা