লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটির সরকার লেবাননের ওপর এই আক্রমণকে ‘মানবতার বিবেকের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ইরানে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পুনরায় তেহরানে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া তেহরানের দূতাবাসটি দ্রুতই তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা সম্ভাব্য সব জায়গা থেকে যুক্ত হতে চাই, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীও অন্যতম।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্পেন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতিমধ্যে ওমান, কাতার এবং লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পেনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে। যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান। উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মৃত্যুদণ্ড আইনের কঠোর সমালোচনা করে একে 'বর্ণবাদের পথে আরও এক ধাপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এই আইন বিচারব্যবস্থাকে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে সানচেজ সরাসরি এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আইনটি কেবলমাত্র অ-ইহুদি বা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, একই অপরাধের জন্য ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলাদা শাস্তির বিধান কোনোভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না। তিনি একে "অপ্রতিসম ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "একই অপরাধ কিন্তু ভিন্ন শাস্তি—এটি বিচার নয়। এটি বর্ণবাদের (Apartheid) দিকে আরও একটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। বিশ্ববাসী এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে পারে না।" আন্তর্জাতিক মহলে সানচেজের এই মন্তব্য বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেখানে সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, অথচ একই ধরণের অপরাধে ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। স্পেনের এই অবস্থানকে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে। রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আগামী ২৭ মার্চ ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি স্পেন এবং আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। ইউরো ২০২৪ জয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা ২০২৪ জয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই 'ফিনালিসিমা' ম্যাচটি ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। উয়েফা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং আয়োজকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের মাটিতে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির লড়াই আয়োজন করতে না পারা উয়েফা এবং আয়োজক দেশ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত হতাশাজনক। সময় এবং পরিস্থিতির প্রতিকূলতার কারণেই এই ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ম্যাচটি পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করা হলেও দুই দলের ঠাসা সূচি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে কোনো ঐক্যমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা না করেই আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচটি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ফুটবল প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন লিওনেল মেসি এবং উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের লড়াই দেখার জন্য, যা এখন কেবল অপেক্ষাতেই সীমাবদ্ধ রইল।
ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার বিরোধিতা ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা চরম আকার ধারণ করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রিদ। গত সেপ্টেম্বরেই স্পেন তাদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে তলব করেছিল। গাজায় আগ্রাসনের কারণে ইসরাইলগামী অস্ত্রবাহী বিমান ও জাহাজকে স্পেনের আকাশসীমা ও বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার স্পেনের এই নীতিকে ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছিলেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্পেনের সরকারি গেজেটে রাষ্ট্রদূতের পদ অবসানের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল আবিবে তাদের দূতাবাস আপাতত একজন ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’ বা অস্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হলে দুই দেশের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে গত মে মাসে ইসরাইল তাদের রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে স্পেনেও ইসরাইলি দূতাবাস একজন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মার্চের শুরুতে গিডিয়ন সার স্পেনকে যুদ্ধের বিরোধিতা করায় ‘স্বৈরাচারীদের পক্ষ নেওয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।
লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবার এই তালিকায় যোগ দিলেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান হবে একটি ‘ভয়াবহ ভুল’। বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির মুখে বৈরুতের জন্য ৯ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রিদ। আলবারেস স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা জরুরি। একইসাথে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল অভিমুখে রকেট হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন আলবারেস। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান বিরোধী অভিযানে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি দিয়েছিলেন, তারপরও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ইরান ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এই সংঘাতকে একটি ‘অসাধারণ ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের কোনো আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সানচেজ বলেন, "প্রকৃত মিত্রের পরিচয় হলো বন্ধু যখন সঠিক পথে থাকে তখন তাকে সাহায্য করা, আর যখন সে ভুল পথে হাঁটে তখন সেই ভুলটি ধরিয়ে দেওয়া।" আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই ধরণের সামরিক অভিযান বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে, স্পেনের এই অবস্থানের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের মোরন এবং রোটাফোর সামরিক ঘাঁটি ইরান অভিমুখে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ায় তিনি স্পেনের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। ইরানি জনগণের নিজস্ব ভাগ্য নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে মেৎস বলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি’ তৈরি হবে।
স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো বলেছেন, স্পেন কোনোভাবেই কারও দাস হবে না। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হুমকি বরদাশত করা হবে না এবং দেশের মূল্যবোধ রক্ষা করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনায় স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পেনের স্থিতিশীল নীতি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হবে না যা স্পেনের স্বার্থ ও মূল্যবোধের বিরোধী বা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার সরকারের অবস্থান যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্পেনের জনগণ এই ভয়াবহ "বিপর্যয়ের" বিপক্ষে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ সতর্ক করে বলেন, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ বিশ্বকে আরও বেশি নিরাপত্তাহীন করে তুলেছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোনোভাবেই একটি উন্নত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করবে না। বর্তমান সংকটকে "মানবতার মহাবিপর্যয়ের সূচনা" হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে সরকারগুলোর "রাশিয়ান রুলেট" খেলা উচিত নয়। এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে সানচেজ তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়েছেন, স্পেনের মাটি থেকে এমন কোনো অভিযান তিনি সমর্থন করবেন না যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। নরওয়ে, সুইডেন ও পাকিস্তানের পর এবার কড়া ভাষায় এই সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে স্পেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং একটি অনিশ্চিত ও প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমন ও সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ইরানি সরকার ও রিভোল্যুশনারি গার্ডের কর্মকাণ্ডও প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, অবিলম্বে উত্তেজনা কমিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা জরুরি। সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews