আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন এই ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমাজের অপ্রত্যাশিত কিছু ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, মিয়ামি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ মোট ১১টি মার্কিন শহরে এবারের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠা এই শহরগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রকম এক উন্মাদনা। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের কাছে এবারের বিশ্বকাপটি যেন শুধুই একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম (DatingAdvice.com)-এর দেশব্যাপী পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের অবিবাহিত বা সিঙ্গেল মানুষদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই জানিয়েছেন যে, তারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে ডেটে গেছেন বা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক ডেটিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি থাকা শহরগুলোর তালিকায় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। শুধু একটি শহরই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো আয়োজক শহরের সামগ্রিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া আয়োজক শহরগুলোর ৬৮ শতাংশ সিঙ্গেল মানুষের দাবি, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ডেটিং জীবনে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নতি এসেছে।
ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক দেশ স্পেনে বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইসলাম। সাম্প্রতিক এক জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক) সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটিতে বসবাসরত মুসলিম জনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্পেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তনকে একটি বড় রূপান্তর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের এই ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক (অনূর্ধ্ব ৫০ শতাংশ) অংশই এখন দেশটির স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ স্পেনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাকিরা পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট প্রমাণ করে যে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অস্থায়ী অভিবাসী বা বহিরাগত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা স্পেনের মূলধারার সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে স্থায়ীভাবে মিশে গেছে। বর্তমানে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়া, আন্দালুসিয়া এবং রাজধানী মাদ্রিদে মুসলিমদের বসতি ও ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে এই সম্প্রদায় দেশটির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যাগত এই রূপান্তর, সুনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি এবং নতুন প্রজন্মের দ্রুত বিকাশের ফলে স্পেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই শক্তিশালী উপস্থিতি আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।
অর্থপাচার ও হামাসকে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ায় স্পেনের পর্যটন দ্বীপ ইবিজায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মার্কিন ধনকুবের পরিবারের উত্তরাধিকারী জেমস "ফার্গি" কক্স চেম্বার্স জুনিয়র। বর্তমানে তিনি ইবিজার একটি কারাগারে রয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়ে স্পেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। স্পেনের বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ পুলিশের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তি ফার্গি চেম্বার্স। ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও এফবিআই চেম্বার্সের বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং হামাসকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং চেম্বার্স বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চেম্বার্স মার্কিন গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান কক্স এন্টারপ্রাইজেস প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে আলোচনায় ছিলেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর বিভিন্ন ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও কর্মসূচিতে অর্থায়ন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর চেম্বার্সের সমর্থকেরা ইবিজা কারাগারের বাইরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তার সমালোচকেরা গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এখন স্পেনের আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনা করবে। আদালত অনুমোদন দিলে চেম্বার্সকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে বেশ হতাশাজনকভাবে মিশন শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ফেভারিট দল স্পেন। তবে মাঠের সেই চরম হতাশার মধ্যেও গ্যালারিতে স্পেনের জার্সি গায়ে আলো ছড়িয়ে এবং নিজের অনন্য ফ্যাশন দিয়ে বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের নজর কেড়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের নতুন প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া। আজ রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে গ্যালারিতে বসে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ভালোবাসা প্রকাশ করতে ইনেস একটি বিশেষ বিশ্বকাপ আউটফিট বেছে নিয়েছিলেন। বিশ্বখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার উদীয়মান ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া হলেন স্পেনের সেভিল শহরের একজন ২১ বছর বয়সী অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল। সম্প্রতি তিনি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তাকে স্পেনের জাতীয় দলের ঐতিহাসিক লাল রঙের জার্সি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইনেসের পরা সেই জার্সির পেছনে তার প্রেমিক লামিন ইয়ামালের অফিশিয়াল ‘১৯ নম্বর’ এবং নাম লেখা ছিল। এই ছবির ক্যাপশনে তিনি বেশ কিছু হার্ট এবং প্রার্থনা করার ইমোজি যুক্ত করে ইয়ামাল ও স্পেনের প্রতি তার গভীর সমর্থন প্রকাশ করেন। চলমান বিশ্বকাপে স্পেনের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় ইয়ামালের ফর্ম এবং ফিটনেস নিয়ে দলের ভেতরে বেশ কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার কারণে ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি ১০০ ভাগ ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন না এবং ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় ইনেস গার্সিয়াকে গ্যালারিতে বসে হাত মাথায় দিয়ে আফসোস করতে দেখা যায় এবং ম্যাচ শেষে তিনি মাঠে গিয়ে হতাশ ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রদান করেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর আজ ২১ জুন আটলান্টা স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমেছে স্পেন। ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো স্পেনের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত খেলে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথম হাফের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত স্পেন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, যার বাকি দুটি গোল করেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। গ্যালারিতে বসে প্রেমিকের এই অনবদ্য গোল উদযাপন করতে দেখা গেছে ইনেস গার্সিয়াকে। লামিন ইয়ামাল এবং ইনেস গার্সিয়ার এই মিষ্টি রোমান্স গত কয়েক মাস ধরে পুরো স্পেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পর অফিশিয়াল সেলিব্রেশন ডিনারে তারা দুজনে প্রথমবার হাত ধরে সবার সামনে হাজির হয়ে নিজেদের সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনেসকে তার পাশে ছায়ার মতো অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। ফুটবল ভক্তরা আশা করছেন, প্রেমিকার এমন সরব উপস্থিতি ও ভালোবাসা ইয়ামালকে ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দুই বছরের তদন্ত শেষে তহবিল তছরুপ, প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো শনিবার দেওয়া এক আদালত আদেশে বেগোনা গোমেজকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাকে মাসে দুইবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে জুরির মাধ্যমে তার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। বেগোনা গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উগ্র ডানপন্থিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা ‘মানোস লিম্পিয়াস’ (ক্লিন হ্যান্ডস) নামের একটি সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূচনা হয় বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বারবার এই মামলাকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার পরিবারকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালতের আদেশের পর ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, বেগোনা গোমেজ গত দুই বছর ধরে বিচারিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতার অংশ। ২০১৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসেন পেদ্রো সানচেজ। তবে বর্তমানে তার পরিবার এবং সাবেক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সানচেজের ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক পরিবহনমন্ত্রী হোসে লুইস আবালোসের বিরুদ্ধেও সরকারি চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তিনি সাম্প্রতিক শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
ইউরোপের অন্যতম অভিজাত ও সুরক্ষিত আবাসিক এলাকা স্পেনের লা জাগালেতা। মারবেলার কাছাকাছি পাহাড়ঘেরা এই এলাকায় বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তবে এখানকার একটি বিশাল প্রাসাদকে ঘিরে বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহলে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এটি কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গোপন ভিলা? স্থানীয়ভাবে অনেকে প্রাসাদটিকে ‘শাতো পুতিন’ নামে চেনেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পত্তিটির সঙ্গে পুতিনের নাম জড়িয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার মালিকানার কোনো প্রত্যক্ষ ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রাসাদটি আয়তন ও বিলাসিতার দিক থেকে এলাকাটির অন্যতম আলোচিত স্থাপনা। প্রায় সাড়ে চার একর জমির ওপর নির্মিত এই এস্টেট থেকে ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী এবং পরিষ্কার দিনে উত্তর আফ্রিকার উপকূল পর্যন্ত দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটিতে একাধিক সুইমিং পুল, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, ব্যায়ামাগার, হেলিপ্যাড এবং বহু গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ভবনের নিচে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ অংশ ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাড়িটির বিলাসবহুল বৈশিষ্ট্য যতটা আলোচনায় এসেছে, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মালিকানার রহস্য। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্পত্তিটি রুশ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এর ফলে প্রকৃত মালিক কে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে ইউরোপীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা সম্পত্তিটি নিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন। রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনও একসময় বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিল। তবে তাদের অনুসন্ধানেও ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি মালিকানার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গোপন সম্পদ নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহের কারণে এমন সম্পত্তিগুলোকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু গুঞ্জন ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। কোনো সম্পত্তির সঙ্গে কারও নাম জড়ালেই সেটি তার মালিকানাধীন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ কারণেই স্পেনের এই রহস্যময় পাহাড়চূড়ার প্রাসাদ এখনো কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। বিলাসিতা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার কারণে এটি ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত এস্টেটগুলোর একটি হলেও, এটি সত্যিই ভ্লাদিমির পুতিনের ‘গোপন ভিলা’ কি না—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।
স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর মামলায় প্রকাশ্য আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন বিচারক। একই সাথে আদালত সানচেজের স্ত্রীর দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার পাসপোর্ট অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে। আদালতের এই নতুন ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে স্পেনের বর্তমান বামপন্থী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরণের হুমকির মুখে ফেলেছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা গভীর ও নিবিড় তদন্তের পর ৫৫ বছর বয়সী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো, ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যাপক দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরণের অপরাধ ও অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। স্পেনের সুপরিচিত ডানপন্থী দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা 'ম্যানোস লিম্পিয়াস' (ক্লিন হ্যান্ডস) নামের একটি সুসংগঠিত ট্রেড ইউনিয়নের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই মূলত এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। শনিবার প্রকাশিত আদালতের এক বিশেষ আদেশে মামলার প্রধান বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো নির্দেশ দিয়েছেন যে, বেগোনা গোমেজকে অবিলম্বে তার পাসপোর্ট রাষ্ট্রীয় হেফাজতে সমর্পণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তিনি স্পেনের বাইরে যেতে পারবেন না। এর পাশাপাশি তাকে প্রতি মাসে অন্তত দুই বার সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট তারিখে জুরির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। can অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই পুরো মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কুৎসিত অপপ্রচার হিসেবে বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ইউরোপের অন্যতম স্পষ্টবাদী এই বামপন্থী নেতা তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তার পরিবারকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হেনস্থা করার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সানচেজ স্পেনের বিচার বিভাগের কিছু সদস্যের নিরপেক্ষতা ও সততা নিয়েও প্রকাশ্য জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দল সোশ্যালিস্ট পার্টি আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছে, বেগোনা গোমেজ গত দুই বছর ধরে চরম বিচার বিভাগীয় ও কুৎসিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। আজকের এই আইনি সিদ্ধান্ত মূলত সেই পরিকল্পিত নিপীড়নমূলক প্রক্রিয়ারই আরও একটি নতুন ও নোংরা ধাপ মাত্র। দুর্নীতির এই মামলাটি মূলত সানচেজের রাজনৈতিক জীবনকে জর্জরিত করা ধারাবাহিক তদন্তগুলোর মধ্যে অন্যতম, যিনি ২০১৮ সালে স্পেনের রক্ষণশীল পিপলস পার্টির দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের নিজের পরিবার এবং তার পূর্ববর্তী শীর্ষ রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে চলা বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের দুর্নীতির তদন্ত এখন স্পেনের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য বড় ধরণের হুমকি সৃষ্টি করছে। যদিও সানচেজের নাম সরাসরি কোনো মামলায় আসেনি, তবে তার ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর এবং সাবেক পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারি চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে স্পেনের সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী জোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ায় সরকার আরও বিপাকে পড়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে স্মরণীয় সূচনা করেছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা আর কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখায়। দলটির এই সাফল্যের প্রধান নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাচজুড়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ইউরোপের দলটি। আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও স্পেনের শট অন টার্গেট ছিল মাত্র একটি। প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেন চাপ বাড়ায়। ফেরান তোরেস গোলের একটি দারুণ সুযোগ পেলেও তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া। বিরতির আগে তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে। এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ইয়ামালের। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। তবে ইয়ামালকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল অর্জন করে কেপ ভার্দে। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার এই উদীয়মান ফুটবলার। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ইয়ামাল ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকবেন এবং দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ব্যবহার করা হবে। শুধু ইয়ামালই নন, স্পেন শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিকো উইলিয়ামসের সুস্থতাও। তিনিও ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় দুই তারকাকে পাওয়া স্পেনের জন্য ইতিবাচক খবর। সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে স্পেন কোচকে। বিশেষ করে মিডফিল্ড বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড স্পেনেরই। তিনি বলেন, তাদের দলে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার রয়েছে, পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকায় একাদশ নির্বাচনই কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একজনকে খেলাতে গেলে আরেকজন ভালো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখতে হয়, যা কোচ হিসেবে তার জন্য সুখকর সমস্যার মতো। তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না স্পেন কোচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। দলের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। তাই শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নিজেদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়েও বেশ সতর্ক স্পেন কোচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার এই দলটিকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না তিনি। দে লা ফুয়েন্তের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। তাই র্যাঙ্কিং কিংবা কাগজে-কলমের হিসাব দিয়ে কোনো ম্যাচ বিচার করার সুযোগ নেই। তিনি কেপ ভার্দেকে একটি সুসংগঠিত ও দ্রুতগতির দল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে। স্পেন কোচের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ দল হতে পারে কেপ ভার্দে। সে কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর সেই অভিযানের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের মাঠে নামার বিষয়টি স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।
স্পেন সফরের শেষ দিনে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই এক অর্থে অভিবাসী,” এবং মানব পরিবার হিসেবে শরণার্থীদের আরও মানবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। শুক্রবার স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টেনেরিফে পৌঁছে একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে স্থাপিত অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে যান পোপ লিও। সেখানে তিনি শত শত অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। পোপ বলেন, আজকের বিদেশি ব্যক্তি আগামী দিনে আমাদেরই প্রতিবেশী ও সহযাত্রী হতে পারেন। তাই অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া জরুরি। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। পোপ তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসীরা শুধু সীমান্ত পার হন না, বরং অনেক সময় নতুন দেশে এসে “নীরব বিপর্যয়ের” মুখে পড়েন। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে তারা আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি নিয়েও পরোক্ষ সমালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই নীতিকে কঠোর ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতামূলক বলে সমালোচনা করেছে। পোপ লিও বলেন, মানব বিবেক এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ কখনোই সমুদ্রে প্রাণহানির ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তার মতে, প্রতিটি প্রাণহানি মানবতার ব্যর্থতা। এ সময় তিনি মানবপাচারকারী ও দালালদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের “ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নাইজেরিয়ার বুসো দিয়ুফ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার খোঁজে যাত্রা সহজ ছিল না এবং অনেকেই ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সমাজের কাছে ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণের দাবি জানান, যাতে অভিবাসীদের শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোপ লিওর এই সফর ও বক্তব্য ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ নিয়ে আসছে দেশটির সরকার। ‘নিয়মিতকরণ প্রকল্প ২০২৬’-এর আওতায় যোগ্য অভিবাসীদের আইনিভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভেতরে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অভিবাসীরা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসীরা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে। বৈধতা পাওয়ার পর অভিবাসীরা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম-এর আওতায় সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা সাধারণ নাগরিকদের মতোই কার্যকর হবে। এ ছাড়া বৈধতার পর শেঙেন এলাকাভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ মিলবে। তবে এই অনুমতি কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থাকবে। এটি মূলত একটি জাতীয় পারমিট, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না। অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে তার ব্যয় স্পেন বহন করবে না। একইভাবে অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন অনুযায়ী আলাদা আবেদন করতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানি দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটির সরকার লেবাননের ওপর এই আক্রমণকে ‘মানবতার বিবেকের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ইরানে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পুনরায় তেহরানে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া তেহরানের দূতাবাসটি দ্রুতই তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা সম্ভাব্য সব জায়গা থেকে যুক্ত হতে চাই, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীও অন্যতম।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্পেন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতিমধ্যে ওমান, কাতার এবং লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পেনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে। যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান। উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মৃত্যুদণ্ড আইনের কঠোর সমালোচনা করে একে 'বর্ণবাদের পথে আরও এক ধাপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এই আইন বিচারব্যবস্থাকে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে সানচেজ সরাসরি এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আইনটি কেবলমাত্র অ-ইহুদি বা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, একই অপরাধের জন্য ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলাদা শাস্তির বিধান কোনোভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না। তিনি একে "অপ্রতিসম ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "একই অপরাধ কিন্তু ভিন্ন শাস্তি—এটি বিচার নয়। এটি বর্ণবাদের (Apartheid) দিকে আরও একটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। বিশ্ববাসী এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে পারে না।" আন্তর্জাতিক মহলে সানচেজের এই মন্তব্য বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেখানে সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, অথচ একই ধরণের অপরাধে ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। স্পেনের এই অবস্থানকে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে। রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।