সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্পেন

ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)
"আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে" মৃত্যুর আগে স্পেনপ্রবাসী আলিফ

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আরগানসুয়েলা এলাকার একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে কাজের অনুমতি পেয়েছিলেন আলিফ।    গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুনের ছেলে আলিফ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গত জুনে স্পেনে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন আগে তিনি ওয়ার্ক পারমিট পান। এরপর ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে নতুন করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।  রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল নিতে মাদ্রিদের পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে যান আলিফ। সেখানে থাকা একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  আগুনের সঙ্গে গ্যারেজের ভেতর ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে আলিফসহ তার দুই সহকর্মী আটকা পড়েন। মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন, “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।”    খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গ্যারেজে জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেল সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আলিফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  অগ্নিকাণ্ডে আহত আলিফের দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে শোক নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে একা রেখে বিমানে উঠে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে ফেলে ছুটিতে চলে গেলেন বাবা-মা, হতবাক সবাই

স্পেনের বার্সেলোনা-এল প্রাত বিমানবন্দরে ১০ বছরের ছেলেকে একা রেখে ছুটির গন্তব্যে যাওয়ার বিমানে উঠে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। শিশুটির পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ভিসা না থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। এরপর বাবা-মা একটি আত্মীয়কে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডেকে নিজেরা ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে উঠে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বিমানবন্দরের এয়ার অপারেশন্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পরিচয় দেওয়া লিলিয়ান নামে এক নারীর টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে। তার দাবি, ভ্রমণের সময় পরিবারের বড় ছেলের কাগজপত্রে সমস্যা ধরা পড়ে। ছেলেটির একটি স্প্যানিশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসাও ছিল না। ফলে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।    লিলিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা তখন তাকে টার্মিনালে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর তারা ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের কর্মীরা শিশুটিকে একা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশের খবর দেন।    পুলিশের কাছে শিশুটি জানায়, তার বাবা-মা ইতোমধ্যে বিমানে উঠে গেছেন এবং ছুটির উদ্দেশ্যে নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশ বাবা-মাকে শনাক্ত করে এবং তাদের বিমান থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের বেশ কয়েকটি লাগেজও বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের জাতীয় পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো ঘটনাটি মূলত বিমানবন্দরকর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে এর সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে পরিবারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
১৬ আগস্ট ২০২৬ সেউতার এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে আশ্রয়ের দাবিতে অভিবাসীদের বিক্ষোভের ছবি; সংগৃহীত
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। রোববার, ১৬ আগস্ট, এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠানোর দাবি জানান।   বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। সেখানে তারা ‘আমরা মরক্কোয় ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’—এ ধরনের স্লোগান দেন। অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের আশপাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।   সেউতায় সাম্প্রতিক বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের পরও প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পরবর্তী সময়ে মরক্কোয় ফিরে যান।   সেউতায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসী বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। কেউ সৈকতে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙিয়ে থাকছেন, আবার কেউ শহরের বাইরে অবস্থান করছেন। খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মরক্কোর তেতোয়ান থেকে আসা এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সাধারণভাবে সেউতায় থাকার বা মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেনের সেনাবাহিনীও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।   এরই মধ্যে ১৭ আগস্ট থেকে শতাধিক অভিবাসী আশ্রয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।   অন্যদিকে, নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঠেকাতে মরক্কো ও স্পেন উভয় দেশই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে আটক করেছে।   সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি এখন স্পেনের জন্য বড় মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসননীতি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে স্পেন সরকারকে।

Unknown আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ
বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ! লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে

উড়োজাহাজে চড়ার ভয় কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন যাওয়ার বিকল্প হতে পারে রেলপথ। লন্ডন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের বার্সেলোনা হয়ে ট্রেনেই পৌঁছানো যায় দক্ষিণ স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মালাগায়। তবে এই যাত্রায় সময় লাগবে বেশি এবং পথে অন্তত এক রাত থাকার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে ক্লেয়ার নামের এক নারীর এমন একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত উড়োজাহাজ ছাড়াই ট্রেনে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, সময় ও খরচের হিসাব দিয়েছেন।   যাত্রার প্রথম ধাপ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে প্যারিস। ইউরোস্টারের সরাসরি ট্রেনে লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। ইউরোস্টারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক কম দামের টিকিট পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের দিন ও চাহিদার ওপর ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।   প্যারিসে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের গার দু নর্দ স্টেশন থেকে গার দ্য লিওঁ স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই বার্সেলোনাগামী দ্রুতগতির ট্রেন ছাড়ে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, প্যারিস থেকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বার্সেলোনা সান্তস স্টেশনে পৌঁছায়।   চাইলে একই দিনে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্যারিস হয়ে বার্সেলোনায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে প্যারিসে ট্রেন পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা প্যারিসে এক রাত থেকে পরদিন বার্সেলোনার পথে রওনা দিতে পারেন।   বার্সেলোনায় পৌঁছে সান্তস স্টেশনের আশপাশে রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হোটেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। মৌসুম, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর এটি কম বা বেশি হতে পারে।   সময় হাতে থাকলে বার্সেলোনায় এক রাতের বদলে দুই রাত অবস্থান করেও যাত্রা সাজানো যায়। এতে মালাগায় যাওয়ার আগে শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। একই রেলপথের আশপাশে ফিগেরেস ও জিরোনার মতো শহরও রয়েছে, ফলে পুরো যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে ইউরোপ ঘুরে দেখার অংশ হিসেবেও সাজানো সম্ভব।   বার্সেলোনা থেকে মালাগায় সরাসরি দ্রুতগতির ট্রেন রয়েছে। এই অংশের যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেনের সময়সূচি দিন ও সেবাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট রেল অপারেটরের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা প্রয়োজন।   ক্লেয়ারের উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট এবং পথে এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তার হিসাবে লন্ডন থেকে প্যারিসের টিকিট প্রায় ৪৯ পাউন্ড, প্যারিস থেকে বার্সেলোনা প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং বার্সেলোনা থেকে মালাগার টিকিট প্রায় ৫৮ পাউন্ড ধরে হিসাব করা হয়েছে।   তবে ২৬৫ পাউন্ডকে এই ভ্রমণের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রেলের টিকিটের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে কত আগে বুকিং করা হচ্ছে, কোন দিনে ভ্রমণ করা হচ্ছে, আসনের চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানির ভাড়ার ওপর। হোটেলের খরচও একইভাবে পরিবর্তনশীল।   উড়োজাহাজের তুলনায় এই যাত্রায় সময় অনেক বেশি লাগলেও এর একটি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াতের বদলে লন্ডন, প্যারিস ও বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মালাগায় পৌঁছানো যায়। ফলে যাদের হাতে সময় আছে এবং যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য লন্ডন থেকে মালাগার এই রেলপথ হতে পারে আকাশপথের একটি ব্যতিক্রমী বিকল্প।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, প্যারাট্রুপার হিসেবে গড়লেন ইতিহাস

স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনর তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের রানি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।    প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল প্যারাশুট প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের জুনে মুরসিয়ার আলকান্তারিয়া বিমানঘাঁটির মেন্দেজ পারাদা মিলিটারি প্যারাশুট স্কুলে বেসিক প্যারাশুট কোর্স শেষ করেন লিওনর। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একাধিক প্যারাশুট জাম্প করেন। এর মধ্যে রাতের জাম্পও ছিল। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ‘কাজাদোর পারাকাইদিস্তা’ বা প্যারাশুট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যের ব্যাজ পান।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে মুরসিয়ার সান হাভিয়েরের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করেন লিওনর। সেখানে বিমান চালনার প্রশিক্ষণও নেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রথমবার এককভাবে একটি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়ান।    ২০২৬ সালের জুনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাবার সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটেও অংশ নেন তিনি। স্পেনের রাজপরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় লিওনরকে তিন বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সামরিক দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচিত করা হয়েছে।    তবে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও লিওনরের প্রস্তুতি এখানেই শেষ হচ্ছে না। স্পেনের রাজপরিবার জানিয়েছে, সামরিক ক্যারিয়ারের পর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস থ্রি ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করবেন। চার বছরের এই ডিগ্রিতে রাজনীতি, আইন, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে।    ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনরের। ২০২৭ সালের জুলাইয়ে তিনি স্পেনের সেনাবাহিনী ও এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে নেভাল এনসাইন হিসেবে কমিশন পাওয়ার কথা রয়েছে।    লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণকে স্পেনের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সিংহাসনে বসলে প্রায় দেড়শ বছর পর স্পেনে আবার একজন নারী শাসক হিসেবে রাজত্ব করবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার সীমান্ত সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে গত ৩১ জুলাই স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির অধীনে মুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। ইতালির এই আকস্মিক পদক্ষেপে সামুদ্রিক ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার বন্ধ করার পাশাপাশি স্থল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।   ইতালির এই কড়া পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্পেন। স্প্যানিশ সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক’। মাদ্রিদ অবিলম্বে ইতালীয় সরকারকে এই হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের অন্যান্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো সমান চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি, আগামী রোববার (৯ আগস্ট)-এর মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক প্রত্যাহার না করলে স্প্যানিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা বা ‘কাউন্টারমেসার্স’ গ্রহণের কড়া হুমকি দিয়েছে স্পেন। তবে সম্ভাব্য এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে মাদ্রিদ এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে একে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে একটি ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে সেউটা সংকটের পরপরই তিনি অন্যান্য ইইউ নেতাদের সঙ্গে মিলে ভিসা-মুক্ত সেনজেন অঞ্চল থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন, যদিও আইনগতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্পেনের দাবি, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ফায়দা লুটতেই ইতালির সরকার এ ধরনের দূরত্ব ও নিষ্ফল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ভাবাবেগ, সাধারণ জ্ঞান এবং পারস্পরিক সদিচ্ছারই জয় হবে।   উল্লেখ্য, অভিবাসী অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেউটায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন এবং এই সংকটে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও ঐক্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল
স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল: কেন হঠাৎ সিউতার পথে হাজারো মানুষের ছুটে চলা?

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতা আবারও ইউরোপের অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে, রাবারের টিউব ব্যবহার করে এবং স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঢলে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিউতা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত। ফলে সেখানে পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিশ্বাস বহু বছর ধরেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে এবারের ঢল অতীতের অনেক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। মরক্কোর অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা আগেই ছিল।    কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মানবপাচারকারী চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালায় যে, সিউতায় পৌঁছাতে পারলে স্পেন আর দ্রুত কাউকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। এই তথ্যের সত্যতা না থাকলেও হাজারো মানুষ সেই প্রচারণায় বিশ্বাস করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন। স্পেনের একটি আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব আরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিবাসী মনে করেন, সীমান্ত অতিক্রম করতে পারলেই তারা ইউরোপে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাস্তবে স্পেন সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যেক অভিবাসীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অনেককেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করা হবে। একই সঙ্গে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।    সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েই যাবে। সিউতার সাম্প্রতিক সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, ইউরোপের অভিবাসন সমস্যা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত
সেউতা সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিত করল ইতালি

উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে।   তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।   ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
সেউতা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে ফিরে যাচ্ছেন অভিবাসীদের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের সেউতায় প্রাণ গেল ৫৭ অভিবাসীর, সীমান্ত পেরোনো হাজারো মানুষ ফিরতে শুরু করেছে

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানান, স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই ফিরে গেছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীমান্ত অতিক্রম করা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোতে ফিরে যান। তবে সেউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাসের দাবি, গত দুই দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন।   স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানান, সেউতার সীমান্ত এলাকায় ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তের স্প্যানিশ অংশে এসব মরদেহ পাওয়া গেলেও মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ঢেউ প্রতিরোধক বাঁধ ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে পানিতে ডুবে এবং পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান।   নতুন করে কেউ যাতে সেউতায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালায়। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। অন্যদিকে স্পেন সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে সামরিক যান মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করে। রয়টার্সের প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকায় দেখতে পান, শত শত মানুষ মরক্কোর দিক থেকে স্পেনের সীমান্তের দিকে তাকিয়ে থাকলেও নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে আর এগোতে পারছিলেন না। অনেককে সীমান্ত ফটক ও বেড়ার পাশ দিয়ে আবার মরক্কোতে ফিরে যেতে দেখা যায়।   ফিরে যাওয়া কয়েকজন অভিবাসী জানান, সেউতায় পৌঁছেও তারা খাবার বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাঞ্জিয়ার থেকে আসা এক তরুণ রয়টার্সকে বলেন, কেন সীমান্ত পেরিয়েছিলেন, সেটাই এখন বুঝতে পারছেন না। তিনি জানান, সঙ্গে টাকা থাকলেও দীর্ঘ সময় কিছু খেতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লারাচে শহরের ২০ বছর বয়সী এক তরুণ জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সাঁতার কেটে তিনি সেউতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেখানে খাবারের সংকট এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে।   ঘটনার পর শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এ ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মরক্কোর সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সেউতা ও মেলিলা স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত এই দুই শহরেই অবস্থিত। বিভিন্ন সময় অভিবাসীরা এখান দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলেও এবারের অনুপ্রবেশের পরিমাণ সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে।   এ ঘটনার জেরে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কিছু সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দেয়, যদিও স্পেন দাবি করেছে, এ পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   অভিবাসীদের ঢলের কারণ নিয়েও বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ সাম্প্রতিক স্প্যানিশ আদালতের একটি রায়কে এ ঘটনার পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই রায় নিয়ে বিভ্রান্তি ও গুজবও অভিবাসীদের উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্র এবং মরক্কোর অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও এ সংকটের পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ, সীমান্তে জরুরি সেনা মোতায়েন

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই আইনি সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।   অপ্রত্যাশিত এই অভিবাসী স্রোতের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে দেশের ওপর একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সকল অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে।   স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এই অভিবাসীদের সংখ্যা সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা ছোট এই শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে।   তবে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর এরই মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই গণ-অভিবাসন সংকট পুরো ইউরোপজুড়েই তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   মাদ্রিদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপব্যবহার করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাদ্রিদ তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।   বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের নিবিড় সহযোগিতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
২৫ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে নজিরবিহীন অনুপ্রবেশে প্রাণ গেল অন্তত ৩৪ জনের, ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করা ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক এই সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে।   স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করে। পরে তাদের প্রায় অর্ধেক স্বেচ্ছায় অথবা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরক্কোতে ফিরে গেছে। সীমান্তে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে।   এই নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের সময় সীমান্তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের মৃত্যু ডুবে যাওয়া এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।   স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে সীমান্তে জড়ো হতে উৎসাহিত করেছে। তিনি দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন।   সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা বহু বছর ধরে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসন রুট। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ উন্নত জীবনের আশায় মরক্কো হয়ে এসব সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক এই সংকট ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনের ছিটমহল সিউটাতে আকস্মিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের সিউটা সীমান্তে হাজার হাজার অভিবাসীর ভিড়, মর্মান্তিক মৃত্যু বেড়ে ৩৪

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় ছিটমহল সিউটাতে আকস্মিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করায় সেখানে তীব্র মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো কর্তৃপক্ষও ক্রসিং গেটে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করেছে।   হঠাৎ এই বিপুল জনস্রোতের মাঝে পড়ে এবং সাগর সাঁতরে বা স্থলপথে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টার সময় কমপক্ষে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, শুধু জুলাই মাসেই সমুদ্রে ডুবে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই সীমান্ত এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৯ জন অভিবাসী।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতিমধ্যে সিউটা সফর করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সিউটাতে একটি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্দরেও কূটনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। স্পেনের বর্তমান অভিবাসী পরিস্থিতি নিয়ে ইতালির কিছু নেতার কড়া মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সিউটার পরিস্থিতিকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করেছেন। অভিবাসীদের ঢল রুখতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মরক্কোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তাবাস্সুম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মরক্কো থেকে স্পেনের সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে স্পেনে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশের চেষ্টা, নামানো হলো সেনাবাহিনী

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় হাজারো অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয় স্পেন সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত সিউতা ভৌগোলিকভাবে মরক্কোর সঙ্গে যুক্ত হলেও এটি স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তের অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত সিউতা। অভিবাসন সংকটের কারণে অঞ্চলটি প্রায়ই স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।   স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। কেউ সাঁতরে সমুদ্রপথে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ সীমান্তের বেড়া ও গেট অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করেন। এতে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং পরিস্থিতিকে "সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল" বলে বর্ণনা করেন সিউতায় দায়িত্বরত স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি।   খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী ভাসমান টিউব ও অন্যান্য ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সিউতার উপকূলে পৌঁছাচ্ছেন, আর অন্যরা সীমান্তের প্রবেশপথ ভেঙে শহরের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন।   স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত নয়জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে অনেকেই সীমান্তসংলগ্ন মরক্কোর কাস্তিয়েখোস (ফনিদেক) এলাকায় ফিরে গেলেও নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সিউতার অনেক দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সেনা সদস্য, নৌযান এবং ডুবুরি ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকার সিউতা সফরেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আইনগত সুযোগ নেই।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উপপ্রেস সচিব আনা কেলি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তবে স্পেন সরকার এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।   এর আগে ২০২১ সালেও প্রায় ১০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ঘটনাটি সেই সংকটের স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এবং ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
লিয়ানের ভিডিওর জবাবে গাজার শিশু ও ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে আবেগঘন বার্তা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজার একটি ভবনের দেয়ালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ম্যুরাল এঁকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ফিলিস্তিনি কিশোরী লিয়ান আল-কাওকা। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বয়ং সানচেজ ভিডিওবার্তায় লিয়ান, গাজার শিশু এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতি ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।    ভিডিওতে লিয়ান বলেন, এটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়; বরং গাজার মানুষের পক্ষ থেকে স্পেনের জনগণ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক অবস্থানের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বার্তা স্পেনের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং গাজার মানুষের অনুভূতি তুলে ধরবে।    এর জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পেদ্রো সানচেজ লিয়ান এবং ম্যুরাল তৈরিতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এত কষ্ট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তারা স্পেনের প্রতি ভালোবাসার যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা স্পেনের মানুষের জন্য গভীরভাবে স্পর্শকাতর।   গাজার শিশু ও তাদের পরিবারের উদ্দেশে সানচেজ বলেন, “স্পেনের পুরো সমাজ তোমাদের কথা শুনছে, তোমাদের দেখছে, তোমাদের কথা ভাবছে এবং তোমাদের ভুলে যায়নি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই গাজার শিশুরা ভয়মুক্ত পরিবেশে আবার স্কুলে ছবি আঁকতে পারবে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।    স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে লিয়ান আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী তার নাম ধরে ভিডিওবার্তার জবাব দিয়েছেন। ভাষা আলাদা হলেও মানবিক অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই উল্লেখ করে তিনি স্পেনের জনগণ, প্রধানমন্ত্রী এবং ম্যুরাল তৈরিতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।    গাজা যুদ্ধ নিয়ে শুরু থেকেই ইউরোপের অন্যতম উচ্চকণ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত পেদ্রো সানচেজ। তিনি বারবার যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্পেন নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা গাজা ইস্যুতে দেশটির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামাল দিতে নতুন পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। ছবি: সংগৃহীত
'আর একজন পর্যটকও নয়’! পর্যটকের চাপে অতিষ্ঠ ইউরোপের জনপ্রিয় শহর

অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমাতে স্পেনের জনপ্রিয় শহর বার্সেলোনা নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। শহর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা, আবাসন ব্যবস্থা এবং নগর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ জাহাজে আসা পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন কর বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পর্যটনপ্রবণ এলাকায় চাপ কমানোর উদ্যোগ।   বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বার্সেলোনায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন। শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত, খাবার ও সংস্কৃতির আকর্ষণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, রাস্তায় ভিড়, শব্দদূষণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।   বিশেষ করে ক্রুজ পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ের জন্য হাজার হাজার পর্যটক শহরে প্রবেশ করলেও তারা একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় তৈরি করেন। ফলে অবকাঠামো ও স্থানীয় পরিষেবার ওপর চাপ পড়ে।   বার্সেলোনা এর আগেও পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়া বাসার সংখ্যা সীমিত করা, পর্যটন কর ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং কিছু এলাকায় পর্যটকের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া, জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বড় ধরনের অভিযান চলছে। পরিস্থিতিকে উভয় দেশই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছে।    ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোর্দোর উপকণ্ঠ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিরন্দ অঞ্চল থেকেই প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সে প্রায় দুই লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।    দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় দেড় হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।    অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করায় দেশটির সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।    শনিবার মাদ্রিদের কাছে সেনিসিয়েন্তোস এলাকার অগ্নিনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো কঠিন লড়াই বাকি রয়েছে।    মাদ্রিদ অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দাবানল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকেও অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন, প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।   এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়কে মার্কিন ও ইসরায়েল বিরোধীদের উৎসব বলল ইরান

বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের ঐতিহাসিক ট্রফি জয়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরোধীদের জন্য এক বিশাল আনন্দ-উৎসব হিসেবে মন্তব্য করে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তেহরানের বার্তা অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফুটবল দলের এই অসাধারণ সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেসব মানুষের মনে ব্যাপক উদ্দীপনা জুগিয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের যেকোনো ধরনের অন্যায় ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার।   সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের নেওয়া স্পষ্ট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে তাদের প্রতি এক অভূতপূর্ব ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার সামরিক হামলা ও গণহত্যার তীব্র বিরোধিতা করা এবং ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ নীতির প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করায় বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনের সুনাম ও সমর্থন বহুলাংশে বেড়ে যায়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইরনা-এর বরাত দিয়ে দেশটির শীর্ষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের অসামান্য মানসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের অধিকারের পক্ষে স্পেনের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাবই প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দৃঢ়তা এই জাতির রক্তে প্রবাহিত।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্প্যানিশ সরকারের এই ফিলিস্তিনপন্থী নীতি ও মার্কিন আগ্রাসনের বিপক্ষে দাঁড়ানোর সাহসী পদক্ষেপ ফুটবল মাঠেও বাড়তি আবেগ সৃষ্টি করেছে। ফলে স্পেনের এই বিশ্বজয় এখন আর শুধু তাদের একক কোনো অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে আগ্রাসনবিরোধী কোটি কোটি মানুষের এক যৌথ বিজয় হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।   ইরান সরকারের পক্ষ থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে যে, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর এই বার্তা খেলাধুলার মাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়া উচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে স্পেনের মতো স্বাধীনচেতা দেশগুলোর ভূমিকা বিশ্বশান্তির পথকে আরও সুগম করবে বলেও মনে করে তারা।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে এক বছর আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিল একটি মার্কিন পরিবার। নতুন দেশে কাটানো এক বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বলছে, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না, তবে জীবনের মান ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্পেনে বসবাস শুরু করেন ওই দম্পতি। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগে তারা কখনোই স্পেনে থাকেননি। তবু কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।   এক বছর পর নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা জানান, স্পেনে জীবনযাত্রার গতি তুলনামূলক ধীর এবং পরিবারকেন্দ্রিক। কাজের বাইরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং অবসর উপভোগ করার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিবর্তনের ফলে মানসিক চাপ কমেছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।   দম্পতির দুই সন্তানও নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। নতুন স্কুলে বন্ধু তৈরি করা এবং স্প্যানিশ ভাষা শেখার মাধ্যমে তারা নতুন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করেছে বলে পরিবারটি জানায়।   তবে সবকিছু যে সহজ ছিল, তা নয়। তারা বলেন, স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ না হওয়ায় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে শুরুতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এছাড়া গাড়িনির্ভর না হয়ে নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাড়ি নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন বাড়িতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকায় সেটিকে তারা নিজেদের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এ ছাড়া নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা মনে করেন, জীবনের গতি কমিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু এই পরিবারই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মচাপ এবং উন্নত কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের প্রবণতা কিছু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বাড়ছে। বিশেষ করে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশের কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন
শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।   দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।   ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।   দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা।   অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প, টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জয় বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনালের আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই আসরের মাধ্যমে বিশ্ব দেখেছে যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ।    নিউইয়র্কে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করেছে।    রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন।    এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করেছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আসরটি।    ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ম্যাচটিকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।    তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি সমর্থন জানাননি। ফলে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, কার হাতে তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে শুধুই মাঠের লড়াইয়ের ফলাফলে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০