বিলিয়নেয়ারের ১১০ বছর পর বিশ্ব পেল প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের উত্থান ঘটত তেল, ইস্পাত কিংবা রেলপথের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত থেকে। বিংশ শতকের শুরুতে তেল ব্যবসার মাধ্যমে জন ডি. রকফেলার হয়েছিলেন বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার। সেই ঘটনার ১১০ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক এবং প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যের রেকর্ড উত্থানের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ইলন মাস্কের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মূল্যও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মাস্ককে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ প্রায় ৩৮ গুণ বেড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসে এত দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির নজির খুব কমই রয়েছে। ২০২০ সালের পর টেসলার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একই সময়ে স্পেসএক্স বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে এবং একের পর এক বড় প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ইলন মাস্ক প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে বসেন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসকে পেছনে ফেলেছিলেন। এরপর টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে কয়েকবার তার অবস্থান পরিবর্তিত হলেও শেষ পর্যন্ত আবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন।
বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার জন ডি. রকফেলারের গল্পও অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একজন সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তেল ব্যবসায় প্রবেশ করে গড়ে তোলেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল। ১৯১৬ সালে তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা সে সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে ছিল অভাবনীয় ঘটনা। শেয়ারবাজারে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ব্যাপক উত্থান তাকে ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নেয়ারে পরিণত করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রকফেলারের যুগ ছিল জ্বালানি খাতের আধিপত্যের যুগ। অন্যদিকে মাস্কের উত্থান প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির প্রতীক। এই দুই ব্যক্তির সাফল্যের মধ্যে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও উভয়েই নিজ নিজ যুগের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার মাধ্যমে ইলন মাস্ক শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ডই গড়েননি, বরং দেখিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সম্পদ কাঠামোতে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
তবে মাস্কের এই রেকর্ড নতুন বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই এটিকে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের আবির্ভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের এক মাকে মেক্সিকোতে জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে সেই নির্বাসন প্রক্রিয়ার কারণকেই এখন ‘অবৈধ ভ্রমণ’ আখ্যা দিয়ে তার ড্যাকা (DACA) বা বৈধভাবে থাকার অনুমতি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেসিকা ট্রেভিনো নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে চলতি সপ্তাহে তার আইনজীবীর মাধ্যমে একজন ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপ কামনা করে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ টেক্সাসের একটি হোম ডিপোর পার্কিং লট থেকে জেসিকা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল এজেন্টরা। সে সময় তাদের দুই মেয়েও সাথে ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের মেক্সিকোর মাতামোরোসে নির্বাসিত করা হয়। অথচ তাদের তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং বর্তমানে মার্কিন ভূখণ্ডে আত্মীয়দের কাছে অবস্থান করছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জেসিকা ২০ বছর বয়সে 'ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস' বা ড্যাকা কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের পরিচ্ছন্ন অপরাধমূলক রেকর্ড বজায় রাখতে হয় এবং তারা সাধারণত বিনা অনুমতিতে দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারেন না। জেসিকার আইনজীবীর মতে, তার এই বৈধ স্ট্যাটাস ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অনুমোদিত ছিল। গত সপ্তাহে মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জেসিকাকে একটি নোটিশ পাঠায়, যেখানে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ তার ‘অবৈধভাবে দেশের বাইরে ভ্রমণ’-এর কারণ দেখিয়ে ড্যাকা স্ট্যাটাস বাতিলের কথা বলা হয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ঠিক একই দিনে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তাকে মেক্সিকোতে নির্বাসিত করেছিল। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের সময় জেসিকার স্বামী অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করছিলেন এবং গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একটি আনমার্কড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যানের সাথে তাদের গাড়ির ধাক্কা লাগার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, জেসিকা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেসিকা জানিয়েছেন, তিনি ডিটেনশন সেন্টারে কোনো ফর্মে স্বাক্ষর করেননি এবং তিনি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে চাননি। জেসিকার আইনজীবী ডেভিড রোজাস ব্রাউনসভিলের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা আবেদনে এই নির্বাসনকে বেআইনি ঘোষণার পাশাপাশি জেসিকাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার ড্যাকা স্ট্যাটাস পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আগামী মাসে জেসিকার সন্তানদের স্কুল শুরু হতে যাচ্ছে, আর সেই মুহূর্তে একজন মায়ের কাছে নিজের সন্তানদের পাশে থাকার চেয়ে বড় আর কোনো চাওয়া নেই বলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে জানান। ইমিগ্রেশন রাইটস নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফরোয়ার্ড ডট আস (FWD.us)-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে জানান, বর্তমান প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে ড্যাকা কর্মসূচি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে সুবিধাভোগীদের একে একে টার্গেট করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অযৌক্তিক আইনি কারণ দাঁড় করিয়ে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে চিরতরে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে।
নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা
নিউইয়র্কে চার শিশুকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা মা ও নানির, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই চাকরি হারালেন ৫০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী
জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৮ বছর বয়সি মার্কিন সেনা অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাদকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কবাসী। শুক্রবার কুইন্সের ওজোন পার্কে অবস্থিত ক্যালভারি অ্যাসেম্বলি অব গড চার্চে এই তরুণী সেনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার, সহকর্মী, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে শত শত সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। গির্জার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বীরের পূর্ণ মর্যাদায় এবং নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) বিশেষ প্রোটোকলে তাকে লং আইল্যান্ড ন্যাশনাল সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়। শোকাহত পরিজন ও সহকর্মীরা তাকে একজন নিঃস্বার্থ, সাহসী ও দারুণ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন, অ্যাঞ্জেল র্যাম্পারসাদ তাদের মধ্যে অন্যতম। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস এবং নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানীসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে সকলেই এই বীর সেনার অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ভিয়েতনামের যুদ্ধফেরত প্রবীণ সেনানীরাও তাকে সম্মান জানাতে এদিন উপস্থিত ছিলেন, যারা তার এই আত্মত্যাগকে যেকোনো প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা র্যাম্পারসাদ তার চাচার অনুপ্রেরণায় মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি মূলত জার্মানিভিত্তিক প্রথম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে নিযুক্ত ছিলেন। এর আগে তিনি হাওয়াইয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও রেডিওর কাজ পরিচালনা করেছিলেন। দেশপ্রেম ও সাহসিকতার জন্য তার এই অকাল প্রয়াণ স্থানীয় কমিউনিটি ও পুরো দেশের সামরিক পরিমণ্ডলে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক
নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’
কস্ককোর ৩ ডলারের ‘ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে’ এখন ক্রেতাদের নতুন পছন্দ
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের বহুচর্চিত কর বিবরণী (ট্যাক্স রিটার্ন) জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। নিজ থেকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে তিনি চার বছরের বিস্তারিত আয়কর নথি উন্মুক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউসাম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসাম যৌথভাবে বছরে আনুমানিক ১৭ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার উপার্জন করেছেন। একই সময়ে তারা প্রতি বছর রাজ্য ও ফেডারেল সরকারকে গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার আয়কর প্রদান করেছেন। গভর্নরের দপ্তর থেকে ৭০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি সাংবাদিকদের দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো কপি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, গভর্নর হিসেবে নিউসামের বার্ষিক সরকারি বেতন প্রায় দুই লাখ ডলার, যা তাদের মোট আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাদের আয়ের প্রধান উৎস অন্ধ ট্রাস্টে (ব্লাইন্ড ট্রাস্ট) রাখা ওয়াইনরি, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা ব্যবসা। তবে কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা থেকে কত লাভ বা ক্ষতি হয়েছে তা আয়কর ফাইলে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, তার স্ত্রী জেনিফারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ বছর লোকসানে ছিল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এই দম্পতি প্রতি বছর ৪০ থেকে ৬৫ হাজার ডলার দাতব্য সংস্থায় দান করেছেন। গভর্নর নিউসামের এই কর বিবরণী প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে, কারণ সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী একটি ফেডারেল তদন্তের আওতায় এসেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। তবে নিউসাম এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হতে পারেন বলে চর্চায় থাকা এই নেতা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই মার্কিন বিচার বিভাগকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০০৪ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতার কথা বলে আসা নিউসামের এই আয়কর নথি প্রকাশ মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমানযাত্রার বড় ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন প্রজন্মের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ