অভিবাসী শিকড়েই গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস
২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে দারুণ সূচনা করেছে মার্কিন পুরুষ ফুটবল দল। উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অন্য একটি কারণেও আলোচনায় রয়েছে দলটি। সেটি হলো খেলোয়াড়দের বহুজাতিক ও অভিবাসী পটভূমি।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। ছয়জন খেলোয়াড়ের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। আফ্রিকা, ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকাসহ অন্তত আটটি দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এই ফুটবলারদের।
এই বৈচিত্র্যময় পটভূমি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে এবং নাগরিকত্ব ও সীমান্ত নীতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের জীবনকাহিনি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
দলের অন্যতম আলোচিত তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন এর অন্যতম উদাহরণ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বালোগুনের জন্ম ২০০১ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। তার মা ছিলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক এবং লন্ডনে বসবাস করতেন। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে ফেরার চেষ্টা করলেও বিমান সংস্থার বিধিনিষেধের কারণে তিনি যাত্রা করতে পারেননি। ফলে বালোগুনের জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে সেই নাগরিকত্বই তাকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বালোগুনের গল্প বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সেই উদ্যোগ এখনো কার্যকর হয়নি।
শুধু বালোগুনই নন, মার্কিন দলের আরও অনেক খেলোয়াড়ের পারিবারিক ইতিহাস অভিবাসনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
উইঙ্গার টিম ওয়েহর বাবা জর্জ ওয়েহ আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। তার মা জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত। টিম ওয়েহ যুক্তরাষ্ট্র, লাইবেরিয়া, ফ্রান্স ও জ্যামাইকা, চার দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন।
হাজি রাইটের বাবা ঘানার এবং মা লাইবেরিয়ার নাগরিক। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে খেলছেন। অন্যদিকে রিকার্ডো পেপির জন্ম টেক্সাসে হলেও তার বাবা-মা মেক্সিকান। একইভাবে ক্রিস্টিয়ান রোলদানও মেক্সিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
মার্কিন দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের পারিবারিক শিকড় ক্রোয়েশিয়ায়। তার দাদা ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। সেই সূত্রে পুলিসিচ ক্রোয়েশিয়ার পাসপোর্টও পেয়েছিলেন, যা অল্প বয়সে জার্মানিতে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করতে সহায়তা করে।
ওয়েস্টন ম্যাককেনির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার শৈশব কেটেছে জার্মানিতে। বিমান বাহিনীতে কর্মরত বাবার দায়িত্ব পালনের কারণে পরিবারের সঙ্গে তিনি ইউরোপে থাকতেন এবং সেখানেই ফুটবল শেখার সুযোগ পান।
বর্তমান দলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের সংখ্যাও কম নয়।
সেরজিনো ডেস্টের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। তার বাবা সুরিনামি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং মা ডাচ। অ্যান্টনি রবিনসনের জন্ম ইংল্যান্ডে। মালিক টিলম্যানের জন্ম জার্মানিতে। জিও রেইনা এবং সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের জন্মও ইংল্যান্ডে, কারণ তাদের বাবারা সে সময় সেখানে পেশাদার ফুটবল খেলতেন।
অন্যদিকে আলেহান্দ্রো জেন্দেখাসের জন্ম মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেজে। মাত্র কয়েক মাস বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন তিনি। পরে দুই দেশের নাগরিকত্বই ধরে রাখেন।
বিশ্বকাপে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অনেক জাতীয় দলই এখন অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে তাদের জন্ম হয়নি।
মরক্কোর ২৬ সদস্যের দলে ১৯ জন খেলোয়াড় বিদেশে জন্ম নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ফ্রান্স বা স্পেনে বড় হয়েছেন। একইভাবে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, কুরাসাও, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কঙ্গো এবং কাতারের জাতীয় দলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বায়ন, অভিবাসন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ আধুনিক ফুটবলের চিত্র বদলে দিয়েছে। অনেক খেলোয়াড় এখন জন্মভূমি নয়, বরং পারিবারিক শিকড় বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় দল বেছে নিচ্ছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির প্রভাব এবারের বিশ্বকাপেও দেখা গেছে। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। ইরাক দলের কয়েকজন সদস্যকেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে ইরান জাতীয় দলও তাদের বিশ্বকাপ কার্যক্রমের একটি অংশ মেক্সিকোতে পরিচালনা করছে।
এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের গল্প শুধু ফুটবলের গল্প নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের অভিবাসন, পরিচয় এবং নাগরিকত্বের পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
খেলাধুলা
View moreগাজার অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য এক লাখ পাউন্ডের বেশি অনুদান সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার সমান। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার যেসব শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইংল্যান্ডের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা ২৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি জানান। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছে ক্রীড়াবিদদের সংগঠন নুজুম স্পোর্টস। সংগ্রহ করা অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় কাজ করা মানবিক সংস্থা চিলড্রেন নট নাম্বার্সের মাধ্যমে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। হামজা তাঁর পোস্টে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া, অনুদান দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেন নুজুম স্পোর্টসের সদস্যদের। তাঁর পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে গত রোববার এই তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করা হয়। সেখানে হামজার সঙ্গে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি দাতব্য নিলামেরও আয়োজন করা হয়েছিল। ক্রীড়াবিদদের ব্যবহৃত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলা হয়। হামজার নিজের এফএ কাপ জয়ের সময়ের লেস্টার সিটির জার্সি বিক্রি হয় ৭ হাজার পাউন্ডে। তাঁর কমিউনিটি শিল্ড জয়ের পদক বিক্রি হয় ৩ হাজার পাউন্ডে। অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি ও নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হামজার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গাজার এমন শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা, যাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে গাজার চিকিৎসাব্যবস্থা মারাত্মক চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ বা আহত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গাজার বাইরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়াই বেঁচে থাকার অন্যতম সম্ভাবনা বলে মনে করেন হামজা। এই তহবিলের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য শিশুদের অন্য স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করা হবে। তবে কতজন শিশুকে এই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। হামজা তাঁর বার্তায় গাজার মানুষের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তাকে ছোট উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এখনো অনেক কিছু করা প্রয়োজন। একটি উদ্যোগ যত ছোটই হোক, তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলা হামজা ফুটবল মাঠের বাইরেও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহায়তাকারীরা অংশ নেন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিচিতিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর একটি উদাহরণ হিসেবেও উদ্যোগটি সামনে এসেছে। পোস্টের শেষাংশে হামজা ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগের অবসান কামনা করেন। সংকটে থাকা মানুষের শক্তি ও ধৈর্য কামনা করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য স্থায়ী শান্তির প্রার্থনাও করেন তিনি। গাজার শিশুদের জন্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসাসহায়তার একটি তহবিল তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরও সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন হামজা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ছোট উদ্যোগও সংকটে থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
চীনে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দলকে ২৭-০ গোলে হারিয়েছে বেনিন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুজৌতে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এই বড় জয় পায় আফ্রিকার দেশটির স্কুল দল। ম্যাচটি ছিল ৮০ মিনিটের। বেনিনের জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো চারটি করে গোল করেন। ইজুদিন বুকারি করেন তিনটি। ভারতের খেলোয়াড়দের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়ায়। টুর্নামেন্টে এটি বেনিনের দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। ফলে দুই ম্যাচে ৩৪ গোল করেছে বেনিন, বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি। ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর শেষ ষোলোতে তাদের জায়গাও নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার সূচিতে বেনিনের প্রতিপক্ষের নাম ‘ইন্ডিয়া আইএসএসও ২’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এটি ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দল। ফলটিকে ভারতের মূল জাতীয় ফুটবল দল কিংবা জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক স্কুল ক্রীড়া ফেডারেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চীনের সুজৌতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের স্কুল ফুটবল দল এতে অংশ নিয়েছে।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বসংক্রান্ত একটি বাতিল হওয়া পরিকল্পনার নথি চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সেই আবেদনের বিরোধিতা করে ফিফা অভিযোগ করেছে, উয়েফা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছে। উয়েফা এ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর কিছু বাণিজ্যিক স্বত্ব ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো এবং তাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ থাকত। আপত্তির মুখে জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাদ দেওয়া হয়। উয়েফা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিতে এসব তথ্য ব্যবহার করতে চায় সংস্থাটি। উয়েফার অভিযোগ, পরিকল্পনাটি ফিফার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সীমিত পরিসরে তৈরি করা হয়েছিল এবং স্বত্বের মূল্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ফিফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতে জমা দেওয়া জবাবে সংস্থাটি বলেছে, পরিকল্পনা কার্যকর করতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। প্রকল্পটির মূল্যায়ন নিয়ে উয়েফার হিসাবও ভুল বলে দাবি করেছে ফিফা। ফিফার আরও অভিযোগ, ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্য ছিল বলে উয়েফা ভিত্তিহীন ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি সংস্থাটির। এগুলো আদালতে দেওয়া ফিফার বক্তব্য; উয়েফার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ, ফাইনালের পথে কঠিন পরীক্ষা