সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত।   এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন।   অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে।   আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহায়তার তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন
অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি)।   গত শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।   ‘রিসিশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ বাতিলের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব দিতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কংগ্রেস যে অর্থ অনুমোদন করেছে, তা নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।   রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া বাতিলের যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে দেয়, যেন তিনি একাই ঠিক করতে পারেন কোন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে।   এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।   এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এ ছাড়া বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু শরণার্থী ও অভিবাসীর ক্ষেত্রে আটক এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদারের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করা বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।   ফলে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিষয়টি সামনে থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।   ওই সপ্তাহের অভিযানে আটক হয়েছেন ১৩ হাজার ৬২৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জনকে আবাসনবিধি, ৩ হাজার ৫৩১ জনকে সীমান্ত নিরাপত্তাবিধি এবং ৩ হাজার ৫০৪ জনকে শ্রমবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।   অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ১৯৭ জনকে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কাজে সহায়তার অভিযোগে আটক হয়েছেন ২২ জন।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ভ্রমণ নথির জন্য ১৮ হাজার ৫৪৯ জনকে তাঁদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৮১৫ জনের ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।   সৌদি আরবে এমন অভিযান নিয়মিত চলছে। এর আগের সপ্তাহে, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, ১২ হাজার ৬৩৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তার আগের সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হয় ১২ হাজার ৫৭ জনকে।    সর্বশেষ ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দেশভিত্তিক পরিচয় সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা জানা যায়নি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ

অভিবাসী পরিচয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ সংগঠক তাহমিদ চৌধুরী। কমিউনিটির ক্ষমতায়ন, তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবামূলক কাজে উজ্জীবিত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মানজনক ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জমকালো এক আয়োজনে তাহমিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি সাভিত। মঞ্চে সে সময় ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার উইনি ব্রিংকসের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।   ম্যাকম্ব কাউন্টি ও মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক অধিকার এবং তরুণদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ।   এমন বড় স্বীকৃতির মুহূর্তেও তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাহমিদ চৌধুরী। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার একার কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে তার শিক্ষক, মেন্টর, সহযোগী সংগঠক এবং নিরলস স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত শ্রম ও ভালোবাসা।   তরুণদের সাথে নিয়েই আগামী দিনে জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা সুমন কবিরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাকে অনুপ্রাণিত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
অপরাধে দণ্ডিত নন এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানায় ডেইলি ওয়্যার। ছবি: সংগৃহীত
অপরাধের রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধের নির্দেশ আইসিই কর্মকর্তাদের

অপরাধে দণ্ডিত নন বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ডেইলি ওয়্যার ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরদিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার বন্ধ হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।    পরিচয় প্রকাশ না করা আইসিই কর্মকর্তাদের বরাতে ডেইলি ওয়্যার জানায়, সাময়িকভাবে শুধু ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও ফৌজদারি রেকর্ড না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো না। অভিযানের সময় মূল লক্ষ্য ছাড়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও বন্ধ থাকার কথা ছিল।    প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ডেইলি ওয়্যার জানিয়েছিল, মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি তারা। এরপর ফক্স নিউজকে প্রশাসন জানায়, মাঠপর্যায়ে গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এটি আনুষ্ঠানিক নীতিবদল নয়; বিষয়টি স্পষ্ট করে আইসিই দপ্তরগুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।    ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আইসিই এখনো গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছাড়া সেখানে পাওয়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    এখানে ‘অপরাধের রেকর্ড নেই’ বলতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা অভিযোগ না থাকার কথা বোঝানো হচ্ছে। এতে কারও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান বা ডিপোর্টেশনের আদেশ বদলে যায় না। ডেইলি ওয়্যারের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবরণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও বর্তমান সরকারি অবস্থান হলো, আইসিইর গ্রেপ্তারনীতি বদলায়নি।   প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, অপরাধের রেকর্ড বা মুলতবি ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য “ফলস” বা মিথ্যা। বিভাগটি বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউই গ্রেপ্তারের আওতার বাইরে নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিইর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিইর কিছু মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে অপরাধী ও গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং ভুল যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পরে আইসিইর মাঠ কার্যালয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে জানানো হয়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং অপরাধের অতিরিক্ত রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাজেট আইনের কারণে আগামী অক্টোবর থেকে স্ন্যাপ ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার নিয়ম, যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি SNAP এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি Medicaid-এর নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বাজেট আইনের আওতায় নেওয়া কয়েকটি পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে SNAP পরিচালনার ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক দায়িত্ব এবং কিছু বৈধ অভিবাসীর Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মে পরিবর্তন। অন্যদিকে Medicaid-এর নতুন কাজ বা সামাজিক অংশগ্রহণের শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও কোনো কোনো রাজ্য চাইলে এর আগেও তা চালু করতে পারবে।   এসব পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের সরাসরি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। তবে যোগ্যতা যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যগুলোর অর্থায়নের দায়িত্বে পরিবর্তন আসায় সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।   SNAP পরিচালনার ব্যয়ে রাজ্যের দায়িত্ব বাড়ছে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে।   মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও পুষ্টি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার কার্যকর করার জন্য কৃষি বিভাগ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।   SNAP-এর প্রশাসনিক ব্যয়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের আবেদন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের খরচ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং কিছু জালিয়াতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় সহায়তা কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন নিজে থেকে SNAP সুবিধার অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। বরং কর্মসূচিটি পরিচালনার খরচ কে কতটা বহন করবে, সেই কাঠামোতে পরিবর্তন হচ্ছে। রাজ্যগুলো বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   পরবর্তী সময়ে SNAP সুবিধার খরচেও রাজ্যের অংশ আসতে পারে SNAP-এর ক্ষেত্রে আরও একটি পরিবর্তন ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব রাজ্যে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার নির্দিষ্ট ফেডারেল সীমার ওপরে থাকবে, সেসব রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে SNAP সুবিধার অর্থের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে।   এটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। এতদিন SNAP-এর সুবিধা দেওয়ার অর্থ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করে আসছিল। তবে এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। তাই চলতি বছরের অক্টোবরের পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ব্যয় ভাগাভাগির নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।   কিছু অভিবাসীর Medicaid সুবিধায় পরিবর্তন ১ অক্টোবর থেকে Medicaid ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি CHIP-এর ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণ Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়ন সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নির্দিষ্ট নাগরিকদের জন্য অব্যাহত থাকবে।   এর বাইরে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্দিষ্ট ধরনের প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো কিছু শ্রেণির জন্য ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ Medicaid সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়ন আর সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, যদি তারা অন্য কোনো যোগ্য শ্রেণির মধ্যে না পড়েন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য Medicaid-এর বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। পাশাপাশি কোনো কোনো রাজ্য নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফেডারেল বিধানের আওতায় বিশেষ সুযোগও থাকতে পারে।   রাজ্যগুলোকে তাই ১ অক্টোবরের আগে সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত সুবিধাভোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এ বিষয়ে বর্তমান সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও উল্লেখ করা হয়েছে।   Medicaid পেতে কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমের নতুন শর্ত Medicaid-এর আরেকটি বড় পরিবর্তন ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা। নির্দিষ্ট শ্রেণির ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী, গর্ভবতী নন এবং মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   এই শর্ত পূরণ করা যাবে চাকরি, নির্দিষ্ট কর্মসূচি, কমিউনিটি সার্ভিস বা অনুমোদিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট আয় অর্জনের মাধ্যমেও শর্ত পূরণ করতে পারবেন। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র জানিয়েছে, এই নতুন শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো রাজ্য চাইলে তার আগেও এটি কার্যকর করতে পারবে।   তবে এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব, প্রতিবন্ধিতা, সাবেক পালক পরিচর্যা ব্যবস্থায় থাকা এবং কিছু বিশেষ পরিস্থিতির মানুষ ছাড় পেতে পারেন।   সরকারের যুক্তি ও সমালোচকদের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো।   CMS প্রশাসক মেহমেত ওজ বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের উদ্বেগ হলো, নতুন রিপোর্টিং ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়মের কারণে প্রকৃতপক্ষে যোগ্য কিছু মানুষও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারাতে পারেন।   খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফিডিং আমেরিকাও SNAP-এ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন নিয়মের প্রকৃত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যগুলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। একই ফেডারেল নিয়ম বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিকভাবে ভিন্নভাবে কার্যকর হতে পারে।   কখন কোন পরিবর্তন ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামার বিধান কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে নির্দিষ্ট বৈধ অভিবাসী শ্রেণির জন্য পূর্ণ Medicaid ও CHIP সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নতুন সীমাবদ্ধতাও কার্যকর হবে।   এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট Medicaid সুবিধাভোগীর জন্য মাসে ৮০ ঘণ্টার কাজ বা অনুমোদিত সামাজিক কার্যক্রমের শর্ত কার্যকর করার কথা। রাজ্যগুলো চাইলে এর আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। আর SNAP সুবিধার ব্যয় ভাগাভাগির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর নতুন আর্থিক দায়িত্ব ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কার্যকর হওয়ার কথা।   ফলে অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সুবিধাভোগীদের যোগ্যতার ওপর নয়, রাজ্যগুলোর বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার পরিচালনার ওপরও পড়তে পারে।   সূত্র: মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA), মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র (CMS), Newsweek

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আয়োজিত জব ফেয়ার বা নিয়োগ মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য ৭ চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন

নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, হোম হেলথ এইড, খুচরা বিক্রি ও গ্রাহকসেবা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং দাপ্তরিক কাজের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যায়। তবে এসব চাকরি নিশ্চিত নয় এবং পদভেদে কাজের অনুমতি, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণ করতে হয়।   নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাজ একটি সম্ভাব্য প্রবেশপর্যায়ের পেশা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিবন্ধনের আগে ৮ ঘণ্টার প্রি-অ্যাসাইনমেন্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আরও ১৬ ঘণ্টার অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।   হোম কেয়ার খাতেও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ করতে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। পার্সোনাল কেয়ার এইডের জন্যও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বয়স্ক, অসুস্থ বা দৈনন্দিন কাজে সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের বাড়িতে গিয়ে এসব কর্মী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।   দোকান, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুচরা বিক্রি এবং গ্রাহকসেবার কাজেও চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না। এসব পদের যোগ্যতা সাধারণত নিয়োগকর্তা নির্ধারণ করেন। বাংলাভাষী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এমন কিছু কর্মক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই।   নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মূলধনী পরিকল্পনার আকার প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রেললাইন, স্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ থাকলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত থাকে।   ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজেও ডিগ্রির বদলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ড্রাইভার শিক্ষা কোর্স, যাত্রী সহায়তা ও হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ড্রাগ টেস্টসহ আরও কিছু যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না করলে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্যাক্সি বা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়া যায় না।   রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও হোটেলেও রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন প্রবেশপর্যায়ের পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। তবে টিপস পাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মজুরি হিসাবের আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসেবা খাতে কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সনদের প্রয়োজনীয়তাও থাকতে পারে।   অফিস সহকারী, দাপ্তরিক কাজ এবং কিছু সরকারি চাকরিও ডিগ্রিবিহীন প্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির ৫৫-এ কর্মসূচিকেও নতুন অভিবাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।   নিউইয়র্ক সিটির জবস্ এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চাকরি মেলা ও নিয়োগ আয়োজনও করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে কোনো চাকরি মেলা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সরকারি তথ্য থেকে সময়, স্থান, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   চাকরি খোঁজার সময় প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ বড় অঙ্কের টাকা চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা সরকারি চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও একাধিক খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগ্যতার ওপর। তাই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম দেখে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের গ্র্যাভলিন থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিবাসীরা
একদিনেই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি প্রায় ৮০০ অভিবাসীর, ২০২৬ সালে নতুন রেকর্ড

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে ৭৮১ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। বুধবারের এই সংখ্যা চলতি ২০২৬ সালে একদিনে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর মোট সংখ্যা এখন ১৮ হাজার ৫৬৫ জন।   তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৫ সালের একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন ৩২ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ চলতি বছর এখন পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় অভিবাসী আগমনের সংখ্যা ৪২ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায়ও এ বছরের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।   বুধবার মোট ১০টি নৌকায় করে অভিবাসীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকায় গড়ে প্রায় ৭৮ জন করে ছিলেন। এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যে।   বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। এর আগে টানা দুই দিনে দুটি অভিবাসীবাহী নৌকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কেন্ট উপকূলে পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে ডোভারের স্যামফায়ার হো এলাকায় একটি নৌকা পৌঁছানোর পর ২১ জনকে আটক করা হয়।   এর একদিন আগে ফোকস্টোন উপকূলে একটি ছোট নৌকা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই তীরে পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল এমন প্রথম ঘটনা। নৌকাগুলোকে আটকাতে না পারার ঘটনাকে শাবানা মাহমুদ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   তবে দেশটির শিক্ষা সচিব লুসি পাওয়েল বলেন, সব নৌকা সব সময় আটকানো সম্ভব নয়। বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। এ কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে ছোট নৌকায় অভিবাসী পারাপারের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।   পাওয়েল বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশের পাশাপাশি ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ছোট নৌকায় পারাপার ঠেকাতে নিয়মিত কাজ চলছে। পরে তিনি জানান, তার বক্তব্যের একটি অংশ প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে সরকার প্রতিদিন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে রাতারাতি এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে নিয়মিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে আইসিইর গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। ৩৬ বছর বয়সী মারিও ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজ করে উপার্জনের অর্থ তিনি গুয়াতেমালায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   মারিওর স্ত্রী মাসাদোনিয়া জানিয়েছেন, স্বামী প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু গত রোববার সকালে তার নিয়মিত ফোনটি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সন্তানদের জানান, কেন তাদের বাবা ফোন করছেন না, তা তিনি জানেন না। পরে তারা জানতে পারেন, মারিও গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্ত্রী বলেন, মারিও সন্তানদের নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিওর ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করছিলেন এবং উপার্জনের অর্থ নিয়মিত পরিবারকে পাঠাতেন। এখন তার মরদেহ গুয়াতেমালায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে পরিবার।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় আইসিই এজেন্টরা মারিওর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, চালক সেখান থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেনড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। ফেডারেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তকারীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ প্রধান জোসেফ ট্রিগ মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ করেন। গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিকে গুয়াতেমালার নাগরিক মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করেছেন গুয়াতেমালার শিকাগো কনসাল জেনারেল রোজারিও ওভান্দো। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিও গুয়াতেমালার সান মার্কোস শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন।   এদিকে ঘটনার পর গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। তবে আইসিইর থামানোর চেষ্টা এবং পরবর্তী দুর্ঘটনার মধ্যে আইনগত দায় বা চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মারিওর স্ত্রী এখন স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গুয়াতেমালায় নিয়ে গিয়ে স্বজনদের কাছে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিল বা স্মরণসভা আয়োজনের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সূত্র: ফক্স ১৭, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে পিকআপের পেছনে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উদ্ধার করে সীমান্তরক্ষীরা
পিকআপের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে ছিলেন চার অভিবাসী, মার্কিন নাগরিকসহ আ টক করল সীমান্তরক্ষী

টেক্সাসের ঈগল পাস এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উ দ্ধার করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। ট্যাংকটি এমনভাবে বন্ধ ছিল যে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষীরা।   সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা একটি গ্রামীণ মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় ২০০৭ সালের একটি ফোর্ড পিকআপ ট্রাক থামান। তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকের পেছনে থাকা ছোট একটি বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর চারজনকে আ টকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা। চারজনকে বের করে আনতে এজেন্টরা পাওয়ার টুল ব্যবহার করে ট্যাংকটি কেটে খোলেন। এরপর তাদের সেখান থেকে উ দ্ধার করা হয়। সীমান্তরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য উভালডে সাউথ স্টেশনে নেওয়া হয়। পিকআপটির চালক ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অ ভি যোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রে প্তার ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল। ডেল রিও সেক্টরের প্রধান বর্ডার পেট্রোল এজেন্ট অ্যান্থনি গুড বলেন, পাচারকারীরা যাদের মানবপণ্য হিসেবে দেখে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না। কোনো বের হওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া সীমিত জায়গার ওই ট্যাংকের ভেতর মানুষকে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি আরও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারত। তবে উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তির পরিচয় বা তাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর অভিযান
আইসিইর অভিযানের ভয়ে ২৯ স্কুলে ১,৭০০ শিক্ষার্থী কমেছে, জানালেন শিক্ষকরা

মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে।   গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়।   সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম।   শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না।   মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ।   অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।   এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি।   অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে।   সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না।   Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।   গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়।   সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে।   মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন।   এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে।   কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন।   এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়।   মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়।   ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত।   আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা
‘অপহৃত মনে হচ্ছে’, আফ্রিকার দেশে পাঠিয়ে আইনি অনিশ্চয়তায় লাতিন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার দেশে বহিষ্কারের পর আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী। তাদের কয়েকজনের দাবি, গন্তব্য দেশ সম্পর্কে তাদের আগে জানানো হয়নি এবং সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাদের হাতে ছিল না। এ অবস্থাকে একজন অভিবাসী বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ বছর বয়সী ইয়াসমানি মোরেনো দে আরমাস প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। মিয়ামিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি তিনি একটি মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছিলেন। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই গত মে মাসে তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাকে লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্র থেকে বিমানে তোলা হয়।   মোরেনোর ভাষ্য, বিমানে ওঠার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার মতো আরও কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকেও একইভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে।   এই ধরনের বহিষ্কারকে ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো অভিবাসীকে তার নিজ দেশের পরিবর্তে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো, যার সঙ্গে তার নাগরিকত্ব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এ ধরনের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে।   আফ্রিকার দেশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ছাড়াও লাইবেরিয়া, ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশকে তৃতীয় দেশের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানো এবং অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো আরেক কিউবান অভিবাসী অ্যারিস্টিদেস ফার্নান্দেজ গার্সিয়া জানান, তাদের কাছে সেখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বা কাগজপত্র নেই। তার দাবি, তারা দেশটির বাইরে যেতে পারছেন না। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস বলেছে, মোরেনো ও এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলা অন্য অভিবাসীদের একটি নিরাপদ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সরকার আইন অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে অভিবাসীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।   এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেয়, কোনো অভিবাসীকে তার সঙ্গে সম্পর্কহীন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত ডিএইচএসের দ্রুত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।   আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে তা না জানিয়ে তাকে আপত্তি জানানোর সুযোগ না দিলে সেই ব্যক্তির নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার আইনি অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের রায়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।   তৃতীয় দেশে বহিষ্কার নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশ সম্পর্কে আগাম নোটিশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি অবস্থান—এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে পড়তে পারে প্রভাব
মেডিকেইড-ফুড স্ট্যাম্প নিলেই গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের নতুন নিয়ম কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে।   শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেক্সিকো সীমান্তের কাছে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ৩১ অভিবাসীকে আটক করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। ঘটনাটি ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওকোটিলো এলাকায়। ট্রাকটিতে গাদাগাদি করে ওই অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।   মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এন প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি থেকে ৩১ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। চালক তাদের ওকোটিলো এলাকায় রেখে মেক্সিকোর দিকে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ওই চালককে আটক করে।   ট্রাকটিকে একটি পরিবর্তিত ইউটিলিটি ট্রাক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মানব পাচারের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আটক ৩১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাস্থল ওকোটিলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে, মেক্সিকো সীমান্তের কাছের একটি দুর্গম মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত। অঞ্চলটি প্রচণ্ড গরম ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। আগের বছরগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এলাকায় সীমান্ত পারাপারের সময় অভিবাসীদের উদ্ধার এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে।   বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি পরীক্ষা করার পর ভেতরে থাকা মানুষদের শনাক্ত করেন। তাদের আটকের পর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তাদের নাগরিকত্ব, বয়স বা তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোন পথ ব্যবহার করেছিলেন - এসব বিষয়ে প্রকাশ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।   সীমান্তে মানব পাচার ঠেকাতে যানবাহন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের নিয়মিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ। এর আগে টেক্সাসেও ট্রাকের গোপন অংশ থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনায় একসঙ্গে ৩১ জনকে একটি পরিবর্তিত ট্রাক থেকে আটকের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে।   সোর্স: নিউইয়র্ক পোস্ট, এন প্লাস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি নতুন প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে, যেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিলের কথা বলা হয়েছে।   এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।   ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরিচ্যুত বিদেশি কর্মীরা নতুন স্পন্সর বা নিয়োগদাতা খোঁজার সুযোগ পেতেন। দেশ ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টুকু তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই নিয়ম বাতিল হলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকরাই কাজ করার সুযোগ পাবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত করা অন্যতম।   তবে এই কড়াকড়ি কেবল এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্যই নয়; এর প্রভাব পড়বে অন্যান্য সাময়িক ওয়ার্ক ভিসার ওপরও। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, নির্বাহী, বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত ই-১, ই-২, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরাও এই নতুন প্রস্তাবনার আওতাভুক্ত হবেন।   এছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আপাতত দুই মাসের জন্য প্রস্তাবনাটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যার পরেই এটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০৩০ সালের জাতীয় আদমশুমারি বা সেনসাস থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদমশুমারিতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের (Permanent Residents) গণনা করা হবে।   এর মানে হলো, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন বা বৈধ উপায়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারা এই গণনার বাইরে থাকবেন। এছাড়া ১৭৯০ সাল থেকে আদমশুমারিতে চলে আসা জাতি বা বর্ণ (Race or Ethnicity) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশটিও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।   এই প্রস্তাবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং কেন্দ্রীয় তহবিলের বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গণনার বাইরে রাখা হয়, তবে অভিবাসী-অধ্যুষিত শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক আসন এবং কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে।   ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি চরম বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে দেশের একটি ভুল চিত্র তৈরি হবে। সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের লিডারশিপ কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিতা আনন্দ জানিয়েছেন, ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারিতে অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের আদমশুমারিতেও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগও এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যেসব অঙ্গরাজ্য তাদের অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ঠিকমতো রিপোর্ট করবে না, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলিয়ন ডলারের কল্যাণ তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে এই নতুন আদমশুমারি প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসন কর্মকর্তারা ঘরে প্রবেশ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে কী করবেন, আদালতের আদেশ ছাড়া ঘরে প্রবেশের নিয়ম কী

নিউইয়র্ক: মধ্যরাতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ছে পুলিশ বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলে দেওয়ার আগে কর্মকর্তাদের পরিচয়, আসার কারণ এবং তাদের কাছে ঘরে প্রবেশের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক পরোয়ানার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পার্থক্য।   আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের অধিকারবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ বা অভিবাসন কর্মকর্তারা দরজায় এলেই বাসিন্দাকে দরজা খুলতে হবে এমন নয়। দরজা বন্ধ রেখেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দেখাতে বলা যায়। কর্মকর্তারা কেন এসেছেন এবং তাদের কাছে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা আছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া যেতে পারে।    আইসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আইসের কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রশাসনিক পরোয়ানা সাধারণত আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা নয়। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত একটি নীতিগত নথিতেও বলা হয়েছে, আইসের প্রশাসনিক পরোয়ানা ব্যক্তিগত স্থানে সম্মতি ছাড়া প্রবেশের সাধারণ আইনগত অনুমতি দেয় না। বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা এর থেকে আলাদা।    নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের অভিবাসীবিষয়ক অধিকার নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, আইস কর্মকর্তারা বাড়িতে এলে বাসিন্দারা দরজা না খুলে ভেতর থেকে কথা বলতে পারেন। কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা তল্লাশি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা জানতে এবং থাকলে পরোয়ানাটি দরজার নিচ দিয়ে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন।    তবে পুলিশ এবং আইসের ক্ষেত্রে আইনগত নিয়ম পুরোপুরি এক নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের বৈধ পরোয়ানা নিয়ে এলে এবং সেই ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে আছেন বলে যুক্তিসংগত বিশ্বাস থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আবার জরুরি পরিস্থিতি, সম্মতি বা আইনে স্বীকৃত কিছু বিশেষ অবস্থাতেও পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের প্রবেশের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হয়। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক রায়গুলোতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমের কথা উঠে এসেছে।    বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি। বাসিন্দা নিজে দরজা খুলে কর্মকর্তাদের ভেতরে আসার অনুমতি দিলে পরবর্তী আইনগত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই কর্মকর্তারা দরজায় এলে না বুঝে বা আতঙ্কের কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াই নিরাপদ। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক একটি মামলাতেও ব্যক্তিগত বাসস্থানে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সম্মতি ও জরুরি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।    কর্মকর্তারা কোনো পরোয়ানা দেখালে সেটি ভালোভাবে দেখার সুযোগ চাওয়া যেতে পারে। সেখানে কার নাম রয়েছে, কোন ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের জন্য কী অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো কাগজ দেখানো হয়েছে বলেই সেটিকে আদালতের পরোয়ানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   আইসের কর্মকর্তারা জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করলে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে, প্রবেশে সম্মতি দেওয়া হয়নি তা স্পষ্টভাবে জানাতে এবং নিজের নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করতে। কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।    অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া উচিত নয়। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া নথি তৈরি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। আইসের হাতে কেউ আটক হলে তার আইনজীবী রাখার অধিকার রয়েছে, যদিও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির মতো সরকার থেকে বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার অভিবাসন আটকের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নেই।    সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে আইসের বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা নিয়েও আইনি লড়াই চলছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি সংগঠন এমন একটি নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যেখানে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রবেশের আইনগত সীমা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতেরও নজরে রয়েছে।    নিউইয়র্কে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে অভিবাসীরা নিজেদের পছন্দের ভাষায় আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। জরুরি পরিস্থিতিতে আগে থেকেই পরিবারের জন্য একজন আইনজীবী বা নির্ভরযোগ্য আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে, কেউ নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে দরজায় এলে প্রথমে পরিচয় জানতে চাওয়া যেতে পারে। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে কথা বলার পরিবর্তে দরজার ভেতর থেকেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা বৈধ আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি পরিস্থিতিকে একই নিয়মে দেখা ঠিক নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো সচেতনতামূলক কার্ডকে সরাসরি আইনি পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে প্রথমে শান্ত থাকতে হবে, কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে হবে, তারা কেন এসেছেন তা বুঝতে হবে এবং ঘরে প্রবেশের জন্য কী ধরনের আইনগত অনুমতি রয়েছে তা যাচাই করতে হবে।   বিশেষ করে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো জটিল পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে না জড়িয়ে দ্রুত একজন যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিজের অধিকার আগে থেকে জানা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পরিবারের সবাইকে প্রস্তুত রাখাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক স্টেটে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৮০০টির বেশি সরকারি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্য অভিবাসীরাও করতে পারবেন আবেদন

নিউইয়র্ক স্টেটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, আর্থিক সেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পদে আবেদন চলছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত চলমান নিয়োগ তালিকায় এসব পদ পাওয়া যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়োগ তালিকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নিবন্ধিত নার্স, তথ্য বিশ্লেষক, পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা, মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীসহ বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের ধরন এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা।   ১ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেই সহকারী ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, নিবন্ধিত নার্স, রক্তের নমুনা সংগ্রহকারী, মোটরযান পরিদর্শক, পার্ক ও বিনোদন বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদসহ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়।   পরদিনও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রযুক্তি বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার, তথ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক সহকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদ রয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের কিছু পদে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরির জন্য তৈরি নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্যপেজে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করে যোগ্য ও বৈচিত্র্যময় কর্মী দ্রুত নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।   অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিটি সরকারি পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো পদে নাগরিকত্ব বা নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে, আবার কিছু পদে যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই অভিবাসী আবেদনকারীদের প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করা উচিত।   চলমান নিয়োগ তালিকায় এমন অনেক পদও রয়েছে যেগুলোর আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। যেমন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অফিস সহকারী ও প্রশাসনিক সহকারী পদে সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কয়েকটি পদে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও বিভিন্ন পদে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের কর ও অর্থ বিভাগেও প্রশাসনিক সহকারী, করসংক্রান্ত তথ্য সহকারী এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদের আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে, আবার কিছু পদে আরও দীর্ঘ সময় আবেদন করা যাবে।   আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, সব সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদে কী ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।   নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে হাজারো চাকরির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সেপ্টেম্বরের নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট এককালীন নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকাশিত পৃথক শূন্যপদের সমষ্টি হিসেবে দেখা উচিত। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট StateJobsNY-তে গিয়ে চলমান পদগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পদ অনুযায়ী যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদন করার পদ্ধতি দেওয়া থাকে।   বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্ব ও কর্মসংস্থানের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু পদটি সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত দেখালেই প্রত্যেক অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট: StateJobsNY

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
আটক অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে শিশুদের খাবার কিনতে সপ্তাহে ১০ হাজার ডলার দিচ্ছেন এক মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন।  রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন।    রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়।   ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে।    অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।    তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি অভিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে চাকরি হারানোর পর তিন মাস ধরে রেন্ট পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল একটি অভিবাসী পরিবার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও হারায়। আর্থিক সংকট যখন চরমে, তখন দুই শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারটিকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তবে বিপদের সেই মুহূর্তে পরিবারটিকে একা থাকতে দেয়নি স্থানীয় কমিউনিটি।   গত শুক্রবার উচ্ছেদের পর পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালপত্র অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। সেদিন রাতে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। পরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ।   দ্রুত নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। ক্লার্কস্টনের ইংলিশ ওকস অ্যাপার্টমেন্টস পরিবারটির জন্য নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে। পরদিনই পরিবারের সদস্যদের নতুন বাসায় স্থানান্তর করা হয়।   তবে নতুন ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পাশে ছিল কমিউনিটি। পরিবারের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানও সরবরাহ করে আরিয়ানা হালাল স্টোর।   উচ্ছেদের পর প্রথম রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের উদ্যোগে একজন স্বেচ্ছাসেবক পরিবারটিকে সেই রাতের জন্য নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। একই সময়ে নতুন বাসার জামানত ও প্রথম মাসের রেন্টের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার সংগ্রহ করা হয়।   পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারটি জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি আফগান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি সুবিধা, হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে।   এই পরিবারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার রেফারেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে ৪৪টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই অভিবাসী, শরণার্থী অথবা সীমিত আয়ের পরিবার। সংগঠনটির মতে, একটি চাকরি হারানো, বড় কোনো জরুরি খরচ বা অন্য কোনো আকস্মিক সংকট অনেক পরিবারের জন্য বাসস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্লার্কস্টন এলাকায় অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। শহর কর্তৃপক্ষের স্থানীয় সম্পদ তালিকাতেও স্বল্পমূল্যের আবাসনের বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি আফগান পরিবারগুলোর জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সহায়তায় কাজ করছে জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোট।   এই পরিবারের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সহায়তা হারানো। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব কিছু অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারের ওপর পড়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিবারের খাদ্য সহায়তা ঠিক কোন বিধানের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   চাকরি হারানো, রেন্টের চাপ, খাদ্য সহায়তা হারানো এবং শেষ পর্যন্ত বাসস্থান হারানো—পরপর এসব সংকট পরিবারটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে দুই শিশু থাকা অবস্থায় এক রাতের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল।   তবে উচ্ছেদের পরের ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংকটে পড়া একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কেউ দিয়েছেন আশ্রয়, কেউ দিয়েছেন পরিবহনের ব্যবস্থা, কেউ সরিয়ে দিয়েছেন মালপত্র, আবার কেউ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।   প্রাথমিক সহায়তার পর এখন পরিবারটির সামনে মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এবং নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা পেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।   তবে সেই পথ এখনো সহজ নয়। পরিবারটির আগামী দুই মাসের রেন্ট পরিশোধে আরও ৩ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সহায়তাকারীরা। এই অর্থ সংগ্রহ করা গেলে পরিবারের হাতে নিয়মিত কাজ খোঁজা এবং আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা সময় থাকবে।   প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহে ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের এলি মায়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেক মানুষ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।   একটি পরিবারের জন্য এই সহায়তা হয়তো একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি হারানো থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ—সবকিছুর পর তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাই এখন কমিউনিটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের কার্যক্রমও মূলত সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এই পরিবারের ঘটনায় সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০