সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

সেউতা সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিত করল ইতালি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২৩:৫৯
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে।

 

তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ভিলা ভি ওডিসিতে দীর্ঘদিন বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে জাহাজে উঠেছিলেন জোয়েল গ্রেইফ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন

আজীবন সমুদ্রের বুকে ভাসমান একটি জাহাজে থাকার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সী জোয়েল গ্রেইফ। পরিকল্পনা ছিল ১০, ২০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় কাটাবেন ভিলা ভি ওডিসি নামের আবাসিক ক্রুজ জাহাজে। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরু হওয়ার মাত্র ২৬ দিনের মাথায় জাহাজটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলা হয় যাত্রীদের।   বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গ্রেইফ বলেন, জাহাজটিতে কাটানো অল্প সময় নিয়েও তিনি হতাশ নন। বরং সেখানে পাওয়া বন্ধু, পরিচিতজন এবং কর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘদিনের জন্য নতুন একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়ার যে আশা করেছিলেন, তা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।   ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম ভিলা ভি ওডিসি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পড়ে আগ্রহী হন গ্রেইফ। পরে কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা বিষয়ে খোঁজ নেন। ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের জন্য জাহাজটিতে থাকার সুযোগ পান তিনি। গ্রেইফের ভাষ্য, জাহাজে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মনে হয়েছিল, এটাই তাঁর নতুন বাড়ি, এখানকার বাসিন্দারাই হবেন নতুন প্রতিবেশী।   এরপর জাহাজের বাসিন্দাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন তিনি। তাঁদের কাছে জানতে চান, জাহাজে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট কি না। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে সিদ্ধান্ত আরও পোক্ত হয়। চলতি বছরের আগস্টে ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকক হয়ে এশিয়ায় পৌঁছে ১ অক্টোবর ওডিসিতে ওঠেন তিনি।   জাহাজে নিজের পরিচয় দিতেন ‘ফ্যান্টাস্টিক জোয়েল’ নামে। সেখানে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে সময় কাটত তাঁর। বাসিন্দাদের জন্য ছিল হাতের কাজ শেখা, নাটক, কারাওকে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য সেডার ডিনারের মতো অনুষ্ঠান। জাহাজের কর্মীদের প্রতিও তাঁর বিশেষ ভালো লাগা তৈরি হয়। গ্রেইফ বলেন, কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁদের প্রশংসা প্রাপ্য।   তবে জাহাজে ওঠার পরপরই আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে তাঁর। ২০২৫ সালের মে মাসে যে সেবা ও সুযোগ-সুবিধা দেখেছিলেন, অক্টোবরে সেগুলোর মান কমে গেছে বলে মনে হয়। কাপড় ধোয়ার কাজ আগের মতো নিয়মিত হচ্ছিল না। আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণে যাওয়ার আগে তাঁকে নিজের কাপড় নিজেকেই ধুতে হয়। ভ্রমণসূচিও বারবার বদলানো হচ্ছিল, কখনো কখনো কয়েক দিন সমুদ্রে অবস্থান করতে হচ্ছিল। এসব বিষয় নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না বলে জানান।   জাহাজের প্রধান নির্বাহী ও বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ‘সার্কেল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। সেখানেই ভ্রমণসূচি, ভিসা আবেদন এবং জাহাজের অন্যান্য বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। ২৬ অক্টোবর রোববার বাসিন্দাদের জানানো হয়, মঙ্গলবারের মধ্যে অর্থের ব্যবস্থা না হলে জাহাজের যাত্রা চালানো সম্ভব হবে না। পরদিনও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হয়।   ২৭ অক্টোবর সকালে আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণ শেষে বাসে করে জাহাজে ফিরছিলেন গ্রেইফ। কম্বোডিয়ার একটি বাসস্টেশনে ফোন চার্জ দিতে অপেক্ষা করার সময় সার্কেলে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশনা পান তিনি। সকাল ৭টার দিকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, দুপুর ২টার মধ্যে সবাইকে জাহাজ থেকে নেমে যেতে হবে। নিজের সব সম্পদ ছয়টি ব্যাগে গুছিয়ে এনেছিলেন গ্রেইফ। ফলে এক ঘণ্টার মধ্যেই জিনিসপত্র গোছাতে পেরেছিলেন। তবে যাঁরা দুই বছর ধরে জাহাজে বসবাস করছিলেন এবং ঘরের মতো করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন ছিল।   জাহাজ ছাড়ার পর প্রথমে কম্বোডিয়ার শান্ত শহর কামপটে চলে যান গ্রেইফ। সিহানুকভিলের কোলাহল, উঁচু ভবন ও ক্যাসিনোর পরিবেশ তাঁর ভালো লাগছিল না। পরে সেখানে এক মাসের জন্য তুলনামূলক কম ভাড়ায় দুই শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট নেন। তবে জাহাজে ফিরে অন্য বাসিন্দাদের মালপত্র সরানো, থাকার জায়গা খুঁজে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তা করছেন তিনি। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও বাসিন্দারা একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।   ওডিসিতে মাত্র ২৬ দিনের জন্য থাকার বিপরীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছিলেন গ্রেইফ। সেই অর্থ আর ফেরত পাবেন না বলেই মনে করছেন তিনি। তবে অর্থ হারানোর বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবার ও বন্ধু, নতুন জায়গা দেখা, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং অন্যদের পাশে দাঁড়ানো।   ভিলা ভি ওডিসির কার্যক্রম আবার চালু হলে তিনি জাহাজে ফিরতে আগ্রহী। আর তা সম্ভব না হলে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে বসবাসের কথা ভাবছেন। ফ্লোরিডা ছাড়ার সময় এটিকেই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে রেখেছিলেন তিনি।   জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের বিপরীতে মাসিক জ্বালানি ব্যয় আগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও সম্প্রতি তা বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে এই সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পুনর্গঠন ও নতুন অর্থায়নের পথ খোঁজার কথা জানালেও জাহাজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, ভিলা ভি রেসিডেন্সেস

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২৩:৪১
নকল মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি মদ পান করে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, গ্রেপ্তার ১১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করার পর কর্মস্থলে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন ডা. নাদিম ক্রো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা করে পোস্ট, সাময়িক বরখাস্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক

কানাডার ওন্টারিওতে আপত্তিকর পোশাক পরে বিতর্কে জড়ানো স্কুল বাসচালক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কানাডায় স্কুল বাসে আপত্তিকর পোশাক পরায় ট্রান্সজেন্ডার চালক বরখাস্ত

উটাহে প্রাচীন ডাইনোসরের জীবাশ্ম খনন
১৪ কোটি বছর আগের জীবাশ্মের সন্ধান, উটাহে নতুন ডাইনোসর প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে আর্চেস জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি একটি নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রে খননকাজ চালিয়ে সম্ভাব্য নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১৪ কোটি ১০ লাখ বছর আগের এই জীবাশ্মক্ষেত্রে এমন এক ধরনের সাঁজোয়া ডাইনোসরের দেহাবশেষ পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, যা আগে বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার পৃথিবীর প্রাচীন প্রাণিজগতের বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।   উটাহ জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউজিএস) জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের মোয়াব এলাকার কাছে নতুন এই খননক্ষেত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে খুলে দেওয়া হয়। গবেষকদের কাছে এটি উত্তর আমেরিকার প্রাচীনতম ক্রিটেশিয়াস যুগের ডাইনোসর জীবাশ্মক্ষেত্রগুলোর একটি হতে পারে। একই সময়ের আরেকটি পরিচিত জীবাশ্মক্ষেত্র ডোয়েলিংস বোলের সঙ্গে এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। নতুন স্থানটি ডোয়েলিংস বোল থেকে প্রায় ছয় মাইল পূর্বে অবস্থিত। গবেষকদের কাছে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু নতুন ডাইনোসরের সম্ভাব্য সন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের ধারণা, এই এলাকায় জুরাসিক যুগের শেষভাগে ঘটে যাওয়া ডাইনোসরদের ব্যাপক বিলুপ্তির পরবর্তী পরিস্থিতির প্রমাণও সংরক্ষিত রয়েছে। জুরাসিক যুগের শেষ এবং ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে পৃথিবীর প্রাণিজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল। ওই সময় স্টেগোসরাস, অ্যালোসরাস ও অ্যাপাটোসরাসের মতো পরিচিত ডাইনোসরদের অনেক বংশ বিলুপ্ত হয়ে যায়। নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রটি সেই পরিবর্তনের পর কীভাবে নতুন প্রাণীগোষ্ঠীর বিকাশ ঘটেছিল, তা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। এই খননকাজে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে সম্ভাব্য নতুন সাঁজোয়া ডাইনোসরের দেহাবশেষ। এ ধরনের ডাইনোসরের শরীরে হাড়ের তৈরি শক্ত আবরণ, পাত বা কাঁটার মতো প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো থাকত। উদ্ভিদভোজী এই প্রাণীরা শিকারি ডাইনোসরের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শরীরের বিশেষ গঠন ব্যবহার করত। স্টেগোসরাস ও অ্যানকাইলোসরাস এই ধরনের ডাইনোসরের পরিচিত উদাহরণ। নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রে পাওয়া দেহাবশেষকে প্রাথমিকভাবে অ্যানকাইলোসরাস গোত্রের কোনো প্রাচীন সদস্যের বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রজাতি কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। উটাহের রাজ্য জীবাশ্মবিদ জিম কার্কল্যান্ড বর্তমানে প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক বিবরণ তৈরি এবং নামকরণের কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনা, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সহকারী রাজ্য জীবাশ্মবিদ ডন ডেবলিয়ুর সম্মানে নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা। ইতোমধ্যে খননক্ষেত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন গবেষকেরা। প্রাথমিক হিসাবে সেখানে অন্তত চার ধরনের ডাইনোসরের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। তবে খননকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাটির নিচে আরও অনেক জীবাশ্ম অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারে। পুরো এলাকাটি অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই জীবাশ্মক্ষেত্রটি প্রথম খুঁজে পান ডন ডেবলিয়ু। দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হাঁটার সময় মাটির ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে কয়েকটি হাড় দেখতে পান তিনি। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে অ্যানকাইলোসরাসের দেহের অংশ বলে ধারণা করা হয়। এরপর উটাহ জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষকেরা এলাকাটিতে পরিকল্পিতভাবে খনন শুরু করেন। জীবাশ্মগুলো যেন উত্তোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সতর্কতার সঙ্গে মাটি ও পাথরের স্তর সরিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই গবেষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের গল্পও। জিম কার্কল্যান্ড ও ডন ডেবলিয়ু গত ২৫ বছর ধরে একসঙ্গে জীবাশ্ম অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণার কাজ করেছেন। উটাহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্মক্ষেত্রে তাঁদের যৌথ কাজ রয়েছে। কার্কল্যান্ড ১৯৯৯ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যটির রাজ্য জীবাশ্মবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ডেবলিয়ু দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে জীবাশ্ম অনুসন্ধান ও গবেষণাগারে নমুনা প্রস্তুতের কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে ডেবলিয়ুর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি খনন মৌসুমটি তাঁদের একসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করার শেষ মৌসুম হতে পারে। তবে অবসরের পরও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে ডেবলিয়ুর। গবেষণাগারে আগে সংগ্রহ করা জীবাশ্ম নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়েও কাজ করতে চান তিনি। উটাহের পূর্বাঞ্চল জীবাশ্ম অনুসন্ধানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এখানকার প্রাচীন পাথরের স্তর উন্মুক্ত হয়েছে। এসব স্তরে উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, সামুদ্রিক সরীসৃপ ও ডাইনোসরের জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। কাছাকাছি ডোয়েলিংস বোল এলাকায় আগের খননকাজে লম্বা গলার একটি তৃণভোজী ডাইনোসরের কঙ্কাল এবং ইগুয়ানোডন্ট গোত্রের একাধিক ডাইনোসরের হাড় পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা একটি দাঁতও উদ্ধার করা হয়, যা বড় আকারের কোনো মাংসাশী ডাইনোসরের নতুন প্রজাতির হতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন। নতুন আবিষ্কারের ফলে জুরাসিক যুগের শেষভাগ থেকে ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুর দিকে ডাইনোসরদের বিবর্তন, বিলুপ্তি এবং নতুন প্রজাতির বিকাশ সম্পর্কে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সম্ভাব্য নতুন সাঁজোয়া ডাইনোসরটির আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গবেষণার পর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হলেই এর প্রজাতিগত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৫:২৭
৩৮ জনকে হত্যার অভিযোগে মোজেস মুজুরিজিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা ও খেয়ে ফেলার অভিযোগে কথিত সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার

২০২৭ সালে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সরকারি কাজে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার

ফরাসি ভাষায় দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে কানাডা সরকার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফরাসি ভাষা শিখে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরা

নিলামে বিক্রি হওয়া ন্যানোটাইর‍্যানাসের কঙ্কাল ‘জোডি’
ক্ষুদ্রাকৃতির টি-রেক্সের আত্মীয় ডাইনোসরের কঙ্কাল নিলামে বিক্রি হলো ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে

নিউইয়র্কে নিলামে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে বিরল প্রজাতির ডাইনোসর ন্যানোটাইর‍্যানাসের একটি কঙ্কাল। ‘জোডি’ নামে পরিচিত এই জীবাশ্মটি দেখতে অনেকটা ছোট আকারের টি-রেক্সের মতো। মঙ্গলবারের নিলামে ছয়জন সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে প্রায় ১২ মিনিট ধরে দর-কষাকষি চলে। শেষ পর্যন্ত একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা কঙ্কালটি কিনে নেন।   নিলামের আগে কঙ্কালটির দাম ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ডলারের মধ্যে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য সেই অনুমানকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জোডি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ডাইনোসরের জীবাশ্মগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘গাস’ নামে পরিচিত একটি টি-রেক্সের কঙ্কাল ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সেটিই এখন পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি ডাইনোসরের জীবাশ্ম। ফলে জোডির বিক্রয়মূল্য সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের এই ডাইনোসর ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। সে সময় ন্যানোটাইর‍্যানাসের পাশাপাশি বাস করত তার সুপরিচিত আত্মীয় টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। তবে আকার ও শারীরিক গঠনে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল। পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের তুলনায় ন্যানোটাইর‍্যানাসের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় অর্ধেক। এর সামনের পা তুলনামূলক লম্বা, হাতের নখ বড় এবং দাঁত ছিল সরু ও ছুরির ফলার মতো। এসব বৈশিষ্ট্যই প্রাণীটিকে টি-রেক্সের কাছাকাছি হলেও আলাদা করে চেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জোডির কঙ্কালটি দাঁড় করানো অবস্থায় প্রায় ৯ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ২ দশমিক ৯ মিটার উঁচু। নাক থেকে লেজ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ফুট বা ৬ মিটার। কঙ্কালটি প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। ন্যানোটাইর‍্যানাসের এমন পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল পৃথিবীতে খুবই বিরল। এখন পর্যন্ত এ ধরনের মাত্র তিনটি কঙ্কালের অস্তিত্ব জানা গেছে। কঙ্কালটির নাম রাখা হয়েছে মন্টানার খামারি জোডি পিয়ারসনের নামে। ২০১৯ সালে নিজের জমিতে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। পরে জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঙ্কালটি খনন করে উদ্ধার করে। এই আবিষ্কার ও খননকাজ ২০২০ সালে প্রচারিত ‘ডাইনো হান্টার্স’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র সিরিজেও তুলে ধরা হয়েছিল। ন্যানোটাইর‍্যানাসের পরিচয় নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল। একসময় অনেক গবেষক মনে করতেন, এটি আসলে স্বতন্ত্র কোনো ডাইনোসর নয়; বরং কম বয়সী টি-রেক্স, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সে পরিণত হতো। কিন্তু গত বছর প্রকাশিত গবেষণায় ন্যানোটাইর‍্যানাসকে স্বতন্ত্র ডাইনোসরগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরা হয়। ফলে প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড় আসে। তবে নিলামে বিক্রি হওয়া জোডির কঙ্কালটিই ওই গবেষণায় সরাসরি পরীক্ষা করা হয়েছিল—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। গবেষণার ফলাফল ন্যানোটাইর‍্যানাসের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নির্দিষ্ট এই কঙ্কাল নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের প্রধান ক্যাসান্দ্রা হ্যাটন কঙ্কালটি আবিষ্কার ও সংরক্ষণে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের অবদানের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, জীবাশ্মটি সম্পর্কে জানার এবং সেটি সংরক্ষণের জন্য গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টা এই অর্জন সম্ভব করেছে। বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা বাড়াতে এ ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এত দামি জীবাশ্ম ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন কিছু বিজ্ঞানী। তাঁদের মতে, বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডাইনোসরের কঙ্কাল জাদুঘর বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা হলে গবেষকেরা তা পরীক্ষা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষও সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে গেলে ভবিষ্যতে এসব জীবাশ্মের নাগাল পাওয়া কঠিন হতে পারে। জোডির নতুন মালিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অনলাইনে ও টেলিফোনে দর হাঁকানো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে কঙ্কালটি কেনার পর তিনি সেটি কোথায় রাখবেন বা গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করবেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৯:৪
উচ্চতার ভিন্নতার জন্য পরিচিত দম্পতি শাও ইউ ও জিয়াও। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্বামীর সঙ্গে উচ্চতার ব্যবধান নিয়ে পরিচিতি ইনফ্লুয়েন্সার শাও ইউ ২৬ বছর বয়সে মারা গেলেন

রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন

আর্জেন্টিনার কিলমেস শহরে গাছ থেকে অ্যাভোকাডো পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর ১২ দিনের নবজাতক লুকাস গোমেজের মৃত্যু হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মায়ের কোলে থাকা নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

0 Comments