খেলাধুলা

বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়ে কোরআনের হাফেজ হতে চান মরক্কোর তারকা ফুটবলার

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২১:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পেশাদার ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে থাকা একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সাধারণত নতুন চুক্তি, বড় কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া কিংবা আরও শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা শোনা যায়। কিন্তু মরক্কোর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ির ভাবনা একেবারেই ভিন্ন। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ধর্মীয় জীবনে আরও বেশি সময় দিতে চান তিনি। এমনকি বিশ্বকাপের পর অবসরের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এই তারকা ফুটবলার।

 

সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি পডকাস্টে দেওয়া মাজরাউয়ির সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানান, ভবিষ্যতে পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে একজন হাফেজ হতে চান। শুধু তাই নয়, একদিন মসজিদে ইমামতিও করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

মাজরাউয়ি বলেন, “হয়তো বিশ্বকাপের পর আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্থ করতে চাই এবং একদিন মসজিদে ইমাম হতে চাই।”

 

তার এই বক্তব্য বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ বর্তমানে তিনি মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাব Manchester United-এর নিয়মিত খেলোয়াড়। ফলে অনেকের কাছেই এমন পরিকল্পনা বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

মাজরাউয়ি জানান, কোরআন মুখস্থ করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় রমজান মাসে। ওই সময় তিনি নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন যে তার জানা সূরার সংখ্যা খুবই সীমিত।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নামাজে আমি কয়েকটি নির্দিষ্ট সূরা পড়তাম। পরে উপলব্ধি করি, আমি আসলে খুব কম সূরা জানি। বিষয়টি আমাকে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিই।”

মরক্কোর এই ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার জীবনে ধর্মই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুটবল, খ্যাতি কিংবা পেশাগত সাফল্যের আগে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্থান দেন।

 

তার ভাষায়, “আমার জীবনের এক নম্বর বিষয় হলো আমার ধর্ম। জীবনে যখন কিছু পরিকল্পনামতো হয় না, তখন ধর্ম আমাকে শক্তি দেয়। এটি আমাকে পথ দেখায় এবং কঠিন সময়ে স্থির থাকতে সাহায্য করে।”

বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম নায়ক মাজরাউয়ি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই অভিযানে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

 

চলমান বিশ্বকাপেও নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে তাকে। ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর দুটি ম্যাচে মোট ১৭০ মিনিট খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল।

নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া মাজরাউয়ি ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খেলেছেন AFC Ajax-এ। পরে যোগ দেন FC Bayern Munich-এ। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

 

তবে পেশাদার ফুটবলে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ থাকলেও মাজরাউয়ির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপের পর তিনি সত্যিই অবসরের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন মুখস্থ করার স্বপ্ন যে তার জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়ে কোরআনের হাফেজ হতে চান মরক্কোর তারকা ফুটবলার

পেশাদার ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে থাকা একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সাধারণত নতুন চুক্তি, বড় কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া কিংবা আরও শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা শোনা যায়। কিন্তু মরক্কোর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ির ভাবনা একেবারেই ভিন্ন। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ধর্মীয় জীবনে আরও বেশি সময় দিতে চান তিনি। এমনকি বিশ্বকাপের পর অবসরের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এই তারকা ফুটবলার।   সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি পডকাস্টে দেওয়া মাজরাউয়ির সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানান, ভবিষ্যতে পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে একজন হাফেজ হতে চান। শুধু তাই নয়, একদিন মসজিদে ইমামতিও করার ইচ্ছা রয়েছে তার। মাজরাউয়ি বলেন, “হয়তো বিশ্বকাপের পর আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্থ করতে চাই এবং একদিন মসজিদে ইমাম হতে চাই।”   তার এই বক্তব্য বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ বর্তমানে তিনি মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাব Manchester United-এর নিয়মিত খেলোয়াড়। ফলে অনেকের কাছেই এমন পরিকল্পনা বিস্ময়কর মনে হয়েছে। মাজরাউয়ি জানান, কোরআন মুখস্থ করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় রমজান মাসে। ওই সময় তিনি নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন যে তার জানা সূরার সংখ্যা খুবই সীমিত।   এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নামাজে আমি কয়েকটি নির্দিষ্ট সূরা পড়তাম। পরে উপলব্ধি করি, আমি আসলে খুব কম সূরা জানি। বিষয়টি আমাকে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিই।” মরক্কোর এই ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার জীবনে ধর্মই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুটবল, খ্যাতি কিংবা পেশাগত সাফল্যের আগে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্থান দেন।   তার ভাষায়, “আমার জীবনের এক নম্বর বিষয় হলো আমার ধর্ম। জীবনে যখন কিছু পরিকল্পনামতো হয় না, তখন ধর্ম আমাকে শক্তি দেয়। এটি আমাকে পথ দেখায় এবং কঠিন সময়ে স্থির থাকতে সাহায্য করে।” বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম নায়ক মাজরাউয়ি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই অভিযানে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।   চলমান বিশ্বকাপেও নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে তাকে। ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর দুটি ম্যাচে মোট ১৭০ মিনিট খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া মাজরাউয়ি ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খেলেছেন AFC Ajax-এ। পরে যোগ দেন FC Bayern Munich-এ। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।   তবে পেশাদার ফুটবলে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ থাকলেও মাজরাউয়ির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপের পর তিনি সত্যিই অবসরের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন মুখস্থ করার স্বপ্ন যে তার জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২১:৪৯
মরক্কো জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার নুসাইর মাজরাউই l ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের ইমাম হতে মরক্কো দল থেকে অবসর নেবেন তারকা ফুটবলার, হবেন কোরানের হাফেজ!

স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে স্পেনের ম্যাচের গ্যালারিতে আলো ছড়ালেন লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে জাপান। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের ৪-০ গোলের দাপুটে জয়, তিউনিসিয়ার বিদায়

ছবি: সংগৃহীত
ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওকে নিয়ে খুব বেশি আশা ছিল না কারও। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে এমন একটি হতাশাজনক শুরুর পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, পরের ম্যাচগুলোতেও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির জন্য।   কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করল কুরাসাও। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তারা। রোববার (২১ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি দলটি।   ইকুয়েডরের গোল না পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন তিনি। ম্যাচে মোট ১৫টি সেভ করেন রুম, যা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দূরপাল্লার শট, কাছ থেকে নেওয়া ফিনিশিং কিংবা হেড, সব ধরনের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।   দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেও তারা কুরাসাওয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এলয় রুম। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের রেকর্ড এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে সেই রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রুম।   ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে তাদের অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। তবে কুরাসাও মাঠে নেমে ভিন্ন এক গল্প লিখেছে। দলটির খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন।   এই ড্র কুরাসাওয়ের জন্য শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল অর্জন করল তারা। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া কুরাসাও ফুটবলের জন্যও একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।   অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন্য এটি বড় ধাক্কা। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়েছে দলটি। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও গোল করতে না পারার হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। শেষ বাঁশি বাজার পর কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, এই ড্র তাদের কাছে কতটা মূল্যবান। জয়ের সমান আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।   আর সেই ঐতিহাসিক ফলের নায়ক একজনই, গোলরক্ষক এলয় রুম। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নাম স্মরণীয় করে রাখল কুরাসাও।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২২:২৬
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে বকশিশ থেকেই দিনে ১ হাজার ডলার আয় করছেন এক তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচসেরার পুরস্কারে বিয়ার পেয়ে ভিনিসিয়ুস বললেন, ‘আমরা ভাত খাই’

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রথমার্ধের দুই গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

টানা দ্বিতীয় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল (ইউএসএমএনটি)। 'গ্রুপ ডি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের জোড়া গোলের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কেটেছে তারা।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। খেলার মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার (সকারুজ) ক্যামেরন বার্গেস। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই লিড পেয়ে যায় আমেরিকা। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩ মিনিটের মাথায় অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি।   পুরো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এই নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় 'ক্লিন শিট' বা জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড গড়লেন ফ্রিজ। তার এই দৃঢ়তায় ভর করেই গ্রুপ টেবিল থেকে আরও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।   নকআউট পর্বের টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে বেশ নির্ভার হয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচে স্কোয়াড নিয়ে বেশ কিছু বিকল্প পরখ করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৭:২৯
ছবি: সংগৃহীত

ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে ভোজিনহার মা

মরক্কোর হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। এরই মাঝে এই খবর পেলেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মরক্কোর ফুটবলার আশরাফ হাকিমি

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান সস বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ধুম, বিমানবন্দরে সতর্কতা

0 Comments