‘ধর্মীয় পরিচয়ই আগে, পরীক্ষা নয়’: বাধা ডিঙিয়ে বোরকা পরেই কেন্দ্রে ঢুকলেন কুলসুম
ভারতের রাজস্থানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রকে ঘিরে এক পরীক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাক পরার অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির অজুহাতে বোরকা ও ওড়না খুলতে বলা হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন কুলসুম বানো নামের এক শিক্ষার্থী। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি বোরকা পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি পান।
রোববার রাজস্থানের আজমিরে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া পরীক্ষার পুনরায় আয়োজিত পর্বে অংশ নিতে বেওয়ার এলাকা থেকে আজমিরের একটি কেন্দ্রে আসেন কুলসুম।
পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বোরকা ও ওড়না খুলতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। কুলসুম এতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিনি একই ধরনের পোশাক পরে আগেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং পরীক্ষার নিয়মেও ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি রয়েছে।
কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের বিষয়টি তার কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি থাকে, তাহলে কেন্দ্রের কর্মীরা কেন তাকে বাধা দেবেন।
ঘটনার একপর্যায়ে তার বাবা মোহাম্মদ আলিমও মেয়ের পাশে দাঁড়ান। তিনি জানান, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে নারী কর্মীর মাধ্যমে আলাদা কক্ষে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও তারা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেন।
তার দাবি, শুরুতে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কেন্দ্রের বাইরে কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের নজরে আসে এবং সেখানে উপস্থিত অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আজমির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকা পর্যালোচনার পর কুলসুমকে বোরকা পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
পরে আজমিরের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী জানান, পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে কিছু কর্মীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, হিজাব, বোরকা, পাগড়ি বা অন্যান্য ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। তবে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তল্লাশি সম্পন্ন করতে হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে অধিকাংশ আলোচনায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো সংবেদনশীল দুই বিষয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে কুলসুম বানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব, ভারতীয় গণমাধ্যম
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। হাজারো পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রাকৃতিক ছিল না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি নাকচ করে বলেছেন, এত বড় ভূমিকম্প কৃত্রিমভাবে ঘটানো প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাস্তবিক দিক থেকে অবাস্তব। গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটের দিকে কুমামোতো অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তির ধরন ছিল ফল্টের স্বাভাবিক নড়াচড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় কুমামোতোর উকি সিটি ও হিকাওয়া এলাকায়। ভূমিকম্পের দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী দাবি করেন, রেকর্ড করা সিসমিক ওয়েভ বিস্ফোরণের মতো, ভূমিকম্পের মতো নয়। পোস্টটি কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখবার দেখা হয়। অনলাইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মেল্টওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, জাপানি ভাষায় ‘কৃত্রিম ভূমিকম্প’ উল্লেখ করা পোস্টের সংখ্যা ভূমিকম্পের দিন প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরের দিন তা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার হয়। এসব পোস্টের অনেকটিতে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ পুরোনো ভিডিও, অসম্পূর্ণ সিসমিক গ্রাফ এবং আগের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কহীন তথ্য ব্যবহার করে দাবি ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে বহু ব্যবহারকারী এসব দাবির বিরোধিতা করে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। জাপানের সিসমোলজিক্যাল সোসাইটি এ ধরনের দাবি মোকাবিলায় তাদের ওয়েবসাইটে আলাদা ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ছোট পরিসরে ভূগর্ভস্থ কাঠামো পরীক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ বা কম্পন তৈরি করা সম্ভব হলেও, বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পকে অস্ত্র হিসেবে ঘটানো বাস্তবসম্মত নয়। জাপান ফ্যাক্ট-চেক সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণ এবং প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের সিসমিক ওয়েভ এক নয়। বিস্ফোরণে সাধারণত পি ওয়েভ বেশি শক্তিশালী হয় এবং এস ওয়েভ তুলনামূলক দুর্বল থাকে। অন্যদিকে ফল্টের নড়াচড়ায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক ভূমিকম্পে ভিন্ন ধরনের তরঙ্গ দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন সিসমিক স্টেশন এসব তথ্য রেকর্ড করায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ গোপন করাও কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বড় ভূমিকম্পের শক্তি এত বেশি যে তা কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং ভূগর্ভের অনেক গভীরে পৌঁছানোর প্রযুক্তি লাগবে। বর্তমানে মানুষের খননক্ষমতা যে গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের তুলনায় অনেক কম। ফলে নির্দিষ্ট ফল্টে গোপনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কুমামোতো ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩৮ এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানানো হয়েছে। হাজারো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু পরিবার পানি ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। তবে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলমান থাকায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় একাধিক টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়। ২০১৬ সালেও কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুর্যোগের পর এ ধরনের ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কার্যক্রম, সরকারি নির্দেশনা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্প প্রস্তুতির ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি শেয়ার করার আগে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেশীর মামলায় ভেঙে ফেলতে হবে ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিলাসবহুল প্রাসাদ!
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা
হাসপাতালের ছাদে ‘মৃত্যুর ফেরেশতা’ সেজে আতঙ্ক! গ্রেফতার যুবক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসকে ‘স্বেচ্ছাচারী আটক’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির অভিযোগ, খানের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হয়নি এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বিচারব্যবস্থাকে অপব্যবহার করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের মূল্যায়নে বলেছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য পর্যালোচনার পর তারা ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব অনিয়মের ফলে তার স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটক রাখা হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডসও পাকিস্তান সরকারকে ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় একাকী কক্ষে রাখা, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ এবং আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি একাকী বন্দিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অমানবিক আচরণ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়েও পড়তে পারে। ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত বা বিচারাধীন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফও অভিযোগ করে আসছে যে, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার অতীতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নথিতে সরকার দাবি করেছিল, তিনি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ কারাগারে রয়েছেন এবং আইনজীবী, পরিবারের সদস্য ও দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার দল। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগের অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছে। ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের চাপ, দ্রুত কমছে অস্ত্রের মজুত, ট্রাম্প-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে তোলপাড়
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায়, পাঁচ ঘণ্টা পরই ভূমিকম্পে প্রাণ গেল প্রেমিকের
বিমানে ওভারহেড বিনে ব্যাগ রাখতেও লাগবে আলাদা টাকা! এয়ারলাইনে নতুন নিয়ম
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি পরিত্যক্ত ভবনে স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ সমাজকর্মী এলিজাবেথ জেন রস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলিজাবেথ জেন রস স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে শরণার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এথেন্সে যান। ১৫ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ১৮ জুলাই শহরের কিপসেলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে সবুজ রঙের একটি স্যুটকেসের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তে গ্রিক পুলিশ জানায়, ২৬ বছর বয়সী এক আফগান বংশোদ্ভূত পেশাদার বক্সারকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিসের গোপনীয়তা আইনের কারণে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে দাবি করেন তিনি রসকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিলেন এবং ভয় পেয়ে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া রসের মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ তার বাসা থেকে একটি ছুরি ও একটি নকল পিস্তল উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তে মরদেহে পচন ধরায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আদালত অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। এরপর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তে গ্রিক পুলিশ ছাড়াও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, পুলিশ স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা করছেন। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন, ঘুম ভাঙার পর আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নারী
গাজা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তার কড়া সমালোচক এল-সায়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে