যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় ছবি পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ছবিতে দেখা যায়, একটি সোফায় বসে আছেন স্বর্ণকেশী এক নারী। তবে ছবির নারীটি কে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। বরং ছবির সঙ্গে লিখেছেন, “দারুণ মেয়ে, আমার গর্ব!”—এমন একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা।
ফাদার্স ডের ঠিক আগে শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই জানতে চান, ছবির নারীটি আসলে কে এবং ট্রাম্প কাকে উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দিয়েছেন।
ছবিটি দেখে অনেকে ধারণা করেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের সাবেক স্ত্রী এবং সংগীতশিল্পী Marla Maples-এর পুরোনো কোনো ছবি। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি ব্যবসায়ী ও ট্রাম্প-সমর্থক ধনকুবের John Catsimatidis-এর স্ত্রী Margo Catsimatidis-এর ছবি হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন ব্যবহারকারী দাবি করেন, ছবিটি মার্গো ক্যাটসিমাটিডিসের এবং ট্রাম্প সম্ভবত তার মেয়ে ও ম্যানহাটন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করেই মন্তব্যটি করেছেন। পরে একই ধরনের আরও অনেক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ছবির নারীটি আসলে কে কিংবা ‘দারুণ মেয়ে’ বলে ট্রাম্প কাকে উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব মেলেনি।
অস্পষ্ট এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে সাধারণ একটি শুভেচ্ছাবার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন পোস্টটির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিয়ে।
ট্রাম্পের সমালোচকদের একটি অংশ পোস্টটিকে কেন্দ্র করে তার মানসিক সতর্কতা ও স্মৃতিশক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বহু পোস্টে বিভিন্ন ধরনের অনুমান ও ব্যাখ্যা সামনে আসে, যার বেশিরভাগই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই জনমত ও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট বার্তা দিয়েও তিনি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেন। এবারের পোস্টও তার ব্যতিক্রম নয়।
উল্লেখ্য, ছবিটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ফাদার্স ডে উপলক্ষে আরেকটি বার্তা দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামরিক শক্তি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
তবে রহস্যময় ওই নারীর পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা এখনও থামেনি। ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক কিশোরকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কিশোর অনলাইনে উগ্রপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং হামলার সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল তার। বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটর লাশিয়া এল. ব্র্যাডশ এক বিবৃতিতে জানান, ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী ফাসিহুল্লাহ সাফার গত জানুয়ারিতে একাধিক অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল হত্যাচেষ্টা, গুরুতর হামলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ওপর হামলা এবং মোটরযান চুরির অভিযোগ। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২১ মার্চ নিউ জার্সির ফ্লোরেন্স টাউনশিপ এলাকায়। সেদিন বিকেলে একটি উল্টে যাওয়া গাড়ির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পথে অভিযুক্ত সাফার ইচ্ছাকৃতভাবে তার টহল গাড়িতে একাধিকবার ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পৌঁছালে সাফার হাতে থাকা ছুরি নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যান। প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন কর্মকর্তার বুকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। তবে ওই কর্মকর্তা বুলেটপ্রুফ ও সুরক্ষামূলক জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণঘাতী আঘাত থেকে রক্ষা পান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্যাকেটটি না থাকলে আহতের অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারত। হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। একজন কর্মকর্তার মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। আরও দুই কর্মকর্তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তের নিজের হাতের আঙুলে সামান্য কাটা ছাড়া বড় কোনো আঘাত ছিল না। তদন্তে পরে জানা যায়, পুলিশ যে উল্টে যাওয়া গাড়ির ঘটনার তদন্তে যাচ্ছিল, সেই দুর্ঘটনার সঙ্গেও সাফার জড়িত ছিল। অর্থাৎ একই দিন একাধিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল সে। মামলার তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার কয়েক মাস আগে থেকে সাফার উগ্রপন্থী সংগঠনের মতাদর্শ অনুসরণ করতে শুরু করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওই সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাফার জানান, তিনি হামলার সময় ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণ করেছিলেন এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য ছিল তার। এই বক্তব্য তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটর লাশিয়া ব্র্যাডশ বলেন, “একজন বিপজ্জনক ও উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত ব্যক্তি ফ্লোরেন্স টাউনশিপে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালিয়েছিল। যৌথ তদন্তের মাধ্যমে এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং বিচার নিশ্চিত হয়েছে।” মামলাটি শুরুতে কিশোর আদালতে বিচারাধীন ছিল। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। পরে মাউন্ট হলির সুপিরিয়র কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইনে উগ্রপন্থী প্রচারণা ও মতাদর্শের প্রভাব তরুণদের মধ্যে কীভাবে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে। সূত্র: বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বোওয়ি শহরের একটি আবাসিক এলাকার কাছে মাঝরাতে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) এবং মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ‘পাইপার পিএ-২৮’ মডেলের একক ইঞ্জিনের ওই বিমানটিতে একজন পাইলট ও দুজন যাত্রী ছিলেন, যারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। শনিবার মধ্যরাতের দিকে বিমানটি হঠাৎ করে ওই আবাসিক এলাকার কাছাকাছি একটি জঙ্গলে আছড়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই পাইলটসহ আরোহী তিনজনের মৃত্যু হয়। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের মুখপাত্র এলেনা রুশো রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিমানটি নিউজার্সির ওশান সিটি থেকে উড্ডয়ন করে মেরিল্যান্ডের গেইথার্সবার্গের মন্টগোমারি কাউন্টি বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। মাঝপথে বোওয়ির বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকার খুব কাছাকাছি থাকা একটি জঙ্গলে বিমানটি হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বিমানটি সম্ভবত মন্টগোমারি কাউন্টির একটি স্থানীয় ফ্লাইট স্কুলের মালিকানাধীন ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় এটি কোনো প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে অংশ নিচ্ছিল। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তবে রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা মূল ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং আরোহীদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ওই শহরের একটি খেলার মাঠের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার ছবি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা উদ্ঘাটনে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এবং এফএএ ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সোফাই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মাত্রই নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যারন এভারি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণ। কিন্তু সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্যান নেস অ্যাভিনিউ দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গাড়িচাপার শিকার হন এবং এর পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার দিনটি ছিল তার নতুন চাকরির মাত্র দ্বিতীয় দিন। এভারির অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তার খালা নরমা কুইন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। তবে এই শোকের মাঝেও শনিবার আজুসার 'ওয়ানলিগ্যাসি' হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশে স্বজনরা এভারির মরণোত্তর অঙ্গদানের মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। চিকিৎসকেরা যখন তার মরদেহ অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হাসপাতালের কর্মীরা দুপাশে দাঁড়িয়ে এই তরুণকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানা গেছে, এভারির হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, লিভার এবং কিডনি দান করা হয়েছে, যা অন্তত আটজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ওয়ানলিগ্যাসি কর্তৃপক্ষ। ওয়ানলিগ্যাসির কর্মকর্তা ব্লাঙ্কা কোহেন জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক লাখেরও বেশি এবং কেবল ক্যালিফোর্নিয়াতেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ জীবন রক্ষাকারী অঙ্গের জন্য অপেক্ষায় আছেন। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি প্রকট। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রোগীদের ২৭ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ, অথচ নিবন্ধিত দাতাদের মধ্যে তাদের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ঐতিহাসিক আস্থাহীনতাকেই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর চূড়ান্ত বেদনার মাঝেও তার অঙ্গ দিয়ে অন্য কারও জীবন বাঁচার সম্ভাবনায় কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছে এভারির পরিবার। কুইন ভারাক্রান্ত মনে মজা করে বলেন, গ্রহীতারা হয়তো এভারির অঙ্গ পেয়ে তার মতোই গেমার হয়ে উঠবেন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এভারিকে চাপা দেওয়া গাড়িচালককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং সে সম্ভবত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় (ডিইউআই) গাড়ি চালাচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহতের চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে বর্তমানে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে।