আইআরজিসি

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি তেহরানের
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি তেহরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এই হামলায় আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।   আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে আল-আজরাক ঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গারে এই হামলা চালানো হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, জর্ডানে তাদের ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   চলমান এই সংঘাতের রেশ ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জর্ডান জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে যে ইরানের হামলায় সেখানে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে কনফিগারেশন অনুযায়ী কেবল বিমানগুলোর আর্থিক ক্ষতিই ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।   বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক প্রেক্ষাপটে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমান। রাডার ফাঁকি দেওয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
১৫ দিনের সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে ১৫ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান ও ১৭ ড্রোন ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার এবং ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত এসব যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, যার মধ্যে ৮টি ছিল এখনো মোতায়েন না করা নতুন ড্রোন। এছাড়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ৮টি ট্যাংকার বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব সরঞ্জাম কোথায় এবং কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, ড্রোন হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।   এদিকে সংঘাতের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত হলেও, আইআরজিসির সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির দাবির সঙ্গে মিলিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ইরানের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মতো বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরকারি বক্তব্যের পাশাপাশি স্বাধীন উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়ার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে হামলায় শক্তিশালী ‘বি-১’ লং-রেঞ্জ বোমারু বিমান ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী ‘বি-১’ বোমারু বিমান হামলা, সংঘাত আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা

ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একাধিক কৌশলগত ঘাটিতে প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার বিধ্বংসী ‘বি-১’ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর ১২ দিনের মাথায় ওয়াশিংটনের এই ভারী বি-১ মিশন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।   মঙ্গলবার সংঘটিত এই বিশেষ অপারেশনে অংশ নেওয়া সুবিশাল ‘বি-১’ বিমানটি একযোগেই ২৪টি দুই হাজার পাউন্ড ওজনের মারাত্মক বোমা কিংবা ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা এই যুদ্ধবিমানটির অবস্থান ও গতিবিধি ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও চিহ্নিত হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির মিলিটারি অপারেশন সেন্টার, ড্রোন পার্কিং, এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার, নৌ-ঘাঁটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নেটওয়ার্ককে মূল লক্ষ্য বানিয়ে এ হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল রুট হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় ইরানের তৈরি করা ঝুঁকি নস্যাৎ করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি ওয়াশিংটনের।   সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম হুঁশিয়ারিতে জানান, হরমুজ প্রণালীতে তেহরান যদি কোনো হামলা চালায়, তবে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির মূল অবকাঠামোতে আরও বড় আঘাত হানা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুঙ্কারের বিপরীতে কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ এখনো কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
সামরিক অভিযানে মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করল আইআরজিসি। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
আইআরজিসির দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানের আল-রুকবান এলাকায় মার্কিন সেনা আবাসনে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বহু সেনা নিহতের দাবি

জর্ডানের উত্তরপূর্বাঞ্চলের আল-রুকবান এলাকায় মার্কিন সেনাদের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে আল-রুকবান এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর আবাসিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।   আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে তাদের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা জর্ডানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে আইআরজিসির দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।   মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে আসছে তেহরান। এর আগে জর্ডানে পৃথক হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছিল, যা দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করে তোলে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ঘটনাস্থল থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা আনুষ্ঠানিক মার্কিন প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আইআরজিসির বিবৃতি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ডেটা সেন্টার ধ্বংস করলো ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন নৌযানের ঘাঁটি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।   শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন নাসর-২’–এর ১৭তম ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা ড্রোন নৌযানের একটি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বাহরাইনের একটি প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এআই অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করত।   আইআরজিসি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশের সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে—এমন শিল্প, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি–সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোও ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।   এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোরই স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক কিছু দাবি "সত্য নয়"। তবে বাহরাইনের কথিত এআই কেন্দ্র বা ড্রোন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।   চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের সামরিক দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই না করে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ চলমান সংঘাতের মধ্যে তথ্যযুদ্ধও সমানভাবে তীব্র হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে নিয়মিত দাবি ও পাল্টা দাবি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের মিসাইল হামলায় বাহরাইনে মার্কিন নৌ-ড্রোন ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা ড্রোন নৌযানের একটি ঘাঁটি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সামরিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।   শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের চলমান ‘অপারেশন নাসর-২’–এর ১৭তম ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইউএসভি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে থাকা বিপুলসংখ্যক ড্রোন নৌযানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করা হয়। একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এমন একটি এআই কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করত বলে আইআরজিসির দাবি।   আইআরজিসি দাবি করেছে, আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায় এর জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পরিবহন অবকাঠামো ও সেতুগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে—এমন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে আইআরজিসি দাবি করেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তারা এসব সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবে।   তবে আইআরজিসির এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও উল্লেখ করেছে যে, ইরানের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন
ইরানের বুশেহরে ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের পরপরই ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে বাহিনীটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূপাতিত করা ড্রোনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক 'এমকিউ-৯' (MQ-9) মডেলের ড্রোন। ড্রোনটিকে আটকাতে ইরান তাদের নিজস্ব সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই ড্রোনটিকে সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।   তবে ড্রোনটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে বুশেহরের আকাশে প্রবেশ করেছিল এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর আগে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন ডিপো ধ্বংসের দাবির পরপরই নতুন করে এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা প্রকাশ্যে এল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ঘাঁটি ও এআই কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি আইআরজিসির

শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ডিপো এবং প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রে সফলভাবে হামলা চালিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। আইআরজিসির দাবি, এই এআই কেন্দ্রটি ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নিজেদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত এবং এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ধরনের 'যুদ্ধাপরাধ' সংঘটিত করে আসছিল।   ইরানে সম্প্রতি চালানো মার্কিন হামলার কড়া জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।   বিবৃতিতে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা জানিয়েছে, এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে অবস্থানরত মার্কিন শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পদগুলো ধ্বংস করা হবে। এছাড়া যেসব দেশ নিজেদের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আতিথেয়তা দিচ্ছে, সেখানে থাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোও ধূলিসাৎ করার সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইরানের এই বিশেষ সশস্ত্র বাহিনী।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা, বড় সংঘাতে যেতে ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ইরানের

ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে শত্রুপক্ষের আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ লঙ্ঘনের পর আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই ঘোষণার পর থেকে ইরানি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে তাদের প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, তেহরানের সমন্বিত সামরিক শক্তির কাছে মাথা নত করে বৃহত্তর সংঘাতে জড়াতে ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।   মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি বর্তমানে একটি একীভূত কমান্ড কাঠামোর অধীনে কাজ করছে। ফলে পশ্চিমা প্রতিপক্ষকে এখন আর আলাদা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে না, বরং একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত সামরিক শক্তির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।   দ্রুতগতির নৌযান, সাবমেরিন, ড্রোন এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে একটি বহুমুখী ও দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তেহরান। সম্প্রতি সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির মুখপাত্রদের এক যৌথ বৈঠকে এই সমন্বিত শক্তি প্রদর্শনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৈঠকে আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশের স্বার্থ রক্ষায় শত্রুপক্ষের যেকোনো অপপ্রচার ও সামরিক পদক্ষেপ একযোগে মোকাবিলার অঙ্গীকার করেন তারা।   এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই হুমকি নিছক কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০১১-১২ সালেই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে এবং আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারদের উপস্থিতিতে প্রণালিটি বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনই শতভাগ সফল হয়, যখন প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে যে হামলার সম্ভাব্য লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।   বিশ্লেষকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘকাল ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর ভর করে দেশটির প্রতিরক্ষা খাত আরও শক্তিশালী হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর সংঘাতে জড়ালে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে জেনেই তারা ইরানে বড় ধরনের কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকছে। তবে এই দাবিগুলো সম্পূর্ণভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
শত্রুদের শায়েস্তা না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের আরোপ করা অবরোধ বহাল থাকবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত তৈরি করাই ওই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।   আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেনি। তাদের ভাষ্য, কোনো জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে অবরোধ অমান্য করার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে জাহাজে হামলা চালানোর মতো কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও আইআরজিসির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
কুয়েতে মার্কিন হিমার্স লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস ও ৩ মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা একটি 'নির্ভুল ড্রোন অভিযান' চালিয়ে কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র পড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। বাহিনীটি আরও জানায়, অভিযানে তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের তথ্যের ভিত্তি হিসেবে তারা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হিমার্স ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।   তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিনটি স্থল সীমান্ত চৌকি এবং কুয়েত অয়েল কোম্পানি (কেওসি) পরিচালিত একটি অফশোর তেল প্ল্যাটফর্মে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি কুয়েত।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তবে সংঘাতের সময় উভয় পক্ষের বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবি প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ফার্স নিউজ এজেন্সি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মধ্যরাতে ২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলা চালায়। এতে দুটি জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজে থাকা নাবিকদের কেউ হতাহত হননি। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, মঙ্গলবার ভোরে ওমানের লিমা উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী একটি তেলবাহী জাহাজের বাম পাশে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি ছিল কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত এলএনজি কোম্পানি নাকিলাত-এর মালিকানাধীন ও পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার আল রেকায়াত। প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত করলে সেখানে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে জাহাজের ডান পাশে অবস্থান নেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ দিয়ে চলাচল করছিল। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে আইআরজিসি সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। বার্তায় বলা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলার দায় বা ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’, কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার বিপরীতে 'চূর্ণবিচূর্ণ' জবাব দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর নতুন এক কড়া বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির এই নতুন হুমকির বিষয়টি উঠে এসেছে।   বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী এক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের নিরঙ্কুশ দায়িত্ব তেহরানের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। বাহিনীটি কঠোর ভাষায় জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালিতে নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন—বিশেষ করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার মতো ঘটনা ঘটলে—তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এর জন্য চরম ও চূর্ণবিচূর্ণ জবাব দেওয়া হবে।   আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, এ ধরনের হামলা বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলমান সব প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও তেহরান প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে এর জবাব হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের বিপরীতে ইরানের এমন কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নরকে পরিণত করার ঘোষণা আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার চরম প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নরকে পরিণত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইতিমধ্যে তেহরানের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন হামলা হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু করা আগ্রাসনের 'চূড়ান্ত জবাব'।   সাম্প্রতিক এই সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চরমে পৌঁছেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসির নৌ কমান্ড থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, সিরিক শহরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রণালিটিতে আধিপত্য বিস্তারের যে 'রহস্য', তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অধরাই থেকে যাবে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে এই অঞ্চলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।   বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সরাসরি ও ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর হিসাব সম্পূর্ণ আলাদাভাবে নেওয়া হবে এবং আগামী দিনগুলোতে এসব ঘাঁটিকে চরম নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসী পদক্ষেপের বিপরীতে ইরানের এই বহুমুখী ও জোরালো প্রতিক্রিয়া গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতের অশনিসংকেত দিচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা আইআরজিসির, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।   আইআরজিসির দাবি, অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সিরিক শহর, কেশম দ্বীপ এবং কয়েকটি উপকূলীয় সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। সেই হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ তদারকি নিয়ে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং এখন পর্যন্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরই পাল্টা আঘাত ইরানের, আইআরজিসির নিশানায় মার্কিন বাহিনী

ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার কড়া জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং আইআরএনএ-তে প্রকাশিত আইআরজিসির মিডিয়া অফিসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বা বিস্তারিত আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।   ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বরাবরের মতোই নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে।   আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে একটি সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে হরমোজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা চুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে, যার ফলশ্রুতিতে ইরান প্রয়োজনীয় জবাব দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।   প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো।   তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে।   রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।   ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।   রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।   তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।   রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।   শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।   গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত।   শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।   ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।   শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

Unknown জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ইচ্ছাকৃত নয়’, বললেন ট্রাম্প

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ঘটায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভুল হয়ে থাকে।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কাজ করেনি। যুদ্ধে ভুল হয়েই থাকে। যুদ্ধ খুবই নিষ্ঠুর। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মিনাবের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।   এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। তদন্তের পরিধি ইতোমধ্যে বাড়িয়েছে পেন্টাগন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ বা স্বীকার করেনি।   হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন।   গত মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতরে অবস্থিত। তবে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বিদ্যালয়টির সংরক্ষিত ওয়েবসাইট তথ্য অনুযায়ী, এটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনার পাশেই অবস্থিত ছিল। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
রোববারেই ইরান চুক্তি স্বাক্ষর—ট্রাম্পের দাবি; ‘চূড়ান্ত নয়’ বলে নাকচ আইআরজিসি
রোববারেই ইরান চুক্তি স্বাক্ষর—ট্রাম্পের দাবি; ‘চূড়ান্ত নয়’ বলে নাকচ আইআরজিসি

ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যারা বলছে—চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়, ফলে ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই।   শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত।” তার মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে, তেহরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে।   মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কার্যকর করার আগে আরও অন্তত ৬০ দিনের আলোচনা প্রয়োজন হবে। এই সময়ে চুক্তির বাস্তবায়ন কাঠামো ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।   আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অকাল’ ও ‘বাস্তবতাবর্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আলোচক দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে—সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং রোববার কোনো স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই ধরনের ঘোষণা আলোচনার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।   আইআরজিসির টেলিগ্রাম বার্তায় আরও বলা হয়, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে এই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই সময়সূচি সামনে এনেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়ে গেছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা এই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই চুক্তি সফল হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   সব মিলিয়ে, চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও স্বাক্ষরের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০