আদালতের রায়

ছবি: টেক্সাসে শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত ভ্যানেসা এসকিভেল (সংগৃহীত)
টেক্সাসে গরম গাড়িতে ১৫ মাসের শিশুপুত্রকে রেখে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার দায়ে মায়ের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ভ্যানেসা এসকিভেলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। কলিন কাউন্টির একটি জুরি তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়টি সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়।     আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট। ওই দিন এসকিভেল ফ্রিসকোর একটি ম্যাসাজ ও ফেসিয়াল স্পায় কাজে যাওয়ার সময় তার ১৫ মাসের ছেলেকে এমন একটি গাড়িতে রেখে যান, যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সচল ছিল না। বাইরে তখন তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির ভেতরে ছিল।     প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়, কাজ শেষে গাড়িতে ফিরে এসেও এসকিভেল সরাসরি হাসপাতালে না গিয়ে পথে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় থেমেছিলেন। পরে তিনি শিশুটিকে প্লানোর মেডিকেল সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা তখন ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি ছিল।     তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালে নেওয়ার পর এসকিভেল প্রথমে পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তবে কর্মস্থলের সময়সূচি, নজরদারি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিল। এরপর ফ্রিসকো পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।     প্রায় এক বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর কলিন কাউন্টির জুরি তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আদালত ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর দেশব্যাপী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক।   মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতি প্রশাসনিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং অভিবাসন পর্যালোচনা বিষয়ক নির্বাহী দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যৌক্তিক ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া একটি নীতির ফলে অভিবাসন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের আদালত চত্বর থেকেই আটক করার সুযোগ পেতেন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন আদালতের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিবাসী অধিকারকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সাহস দেখানো ব্যক্তিদেরই পরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   বিচারক পিটস রায়ে বলেন, আইসিই যেসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে, তারা আদালতে অন্য কোনো অপরাধে নয়, বরং একই অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের শুনানিতে হাজির হচ্ছিলেন। ফলে এই নীতির ভিত্তি এবং যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসন পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। আদালতের মতে, অভিবাসন আদালত এলাকায় বেসামরিক আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিচারক দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতিকেও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় আইসিই আটক ব্যক্তিদের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেফাজতে রাখতে পারত। তবে বিচারক বলেন, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।   রায়ে উল্লেখ করা হয়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে অনেককে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনো কখনো পুরো রাত বা কয়েক দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছে। বিচারকের মতে, ধারণক্ষমতার সংকট মোকাবিলায় বিকল্প কোনো উপায় বিবেচনা না করেই প্রশাসন এই নীতি কার্যকর করেছে। তাই তিনি নীতিটি বাতিল করে দেশব্যাপী কার্যকারিতা স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন উপদেষ্টা জেমস পারসিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারক যখন সাজা দেন, তখন আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। একইভাবে কোনো অভিবাসন বিচারক যদি কাউকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন।   এদিকে, গত মাসে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তার অভিযান সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলার বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেলও মন্তব্য করেছিলেন যে, অভিবাসন আদালতে আইন প্রয়োগসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘খামখেয়ালি এবং যথাযথ বিবেচনাহীন’।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে অভিবাসন আদালতকে গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন আদালতে আনা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে । ছবি: সংগৃহীত
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে এসে রায় পাঠ শুরু করেন। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি রায় ঘোষণা করেন।   রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশের সাক্ষ্যেও সেই তথ্যের সমর্থন পাওয়া গেছে।   আদালত আরও বলেন, মামলার ১ নম্বর থেকে ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে উঠে এসেছে যে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর আসামি সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলের ওই ফ্ল্যাটেই অবস্থান করছিলেন। অপরাধ সংঘটনে বাধা না দিয়ে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই অপরাধে দায়ী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।   রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। আদালত তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করেন। ওই জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন।   রায় ঘোষণার আগে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রিজন ভ্যান থেকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাজতখানায় নেওয়া হয়।   মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। গত ১৯ মে শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর দায়ের হওয়া মামলার রায় ১৯ দিনের মাথায় ঘোষণা করা হলো।   মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়।   পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।   পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এরপর ১ জুন ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।   চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক বৈধ—আপিল আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার আইন বৈধ বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করার পক্ষে থাকা রক্ষণশীল মহলের বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রায়ে বলা হয়েছে, টেক্সাসের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে না। এই সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইতিমধ্যে আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের আইন পাস হয়েছে, যেগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও সম্প্রতি অনুরূপ একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন।   টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই রায়কে “টেক্সাস ও আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য বড় বিজয়” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দশ আদেশ আমাদের জাতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তা থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”   অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মাহালেরিস এই আইনকে “সাধারণ বুদ্ধির প্রতিফলন” এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   তবে আইনটির বিরোধিতা করা পরিবারগুলোর পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো, যার মধ্যে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও রয়েছে, রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করে।   তারা আরও বলেছে, সংবিধান পরিবারগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে—তারা কখন, কীভাবে এবং আদৌ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। এই রায় সেই অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   এর আগে একটি জেলা আদালত স্কুলগুলোতে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন স্থগিত করেছিল। তবে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী বিশ্বাস করতে হবে বা কীভাবে উপাসনা করতে হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।   এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে ‘দশ আদেশ’ আবৃত্তি করতে, তা বিশ্বাস করতে বা এর ঐশ্বরিক উৎস স্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টেক্সাসে এই আইন কার্যকর হয়, যা দেশজুড়ে সরকারি স্কুলে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   যদিও কিছু স্কুল জেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনেক শ্রেণিকক্ষে এটি টাঙানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নেয় আপিল আদালত। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে লুইজিয়ানার আইনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।   লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের আইন সবসময়ই সংবিধানসম্মত ছিল, এবং আপিল আদালত সেটি নিশ্চিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।” অন্যদিকে, আরকানসাসেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলেও সেখানে একটি ফেডারেল আদালত সম্প্রতি সেটি স্থগিত করেছে।

Unknown এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্ট। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রায়: খনির রয়্যালটির ভাগ দিতে হবে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী রাইনহার্টকে

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্টকে খনির রয়্যালটির অংশ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।   রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়াত খনি উদ্যোক্তা পিটার রাইটের উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘রাইট প্রসপেক্টিং’ পিলবারা অঞ্চলের হোপ ডাউনস খনি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির একটি অংশ পাওয়ার অধিকারী। এই খনি পরিচালনায় রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিনটোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   মামলার সূত্রপাত কয়েক দশক আগে করা একটি অংশীদারত্ব চুক্তিকে ঘিরে। রাইনহার্টের বাবা ল্যাং হ্যানকক এবং পিটার রাইট যৌথভাবে ‘হ্যানরাইট’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লৌহ আকরিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রাইট পরিবারের পক্ষ থেকে রয়্যালটির দাবি করা হয়।   আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হোপ ডাউনস প্রকল্প থেকে ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ রয়্যালটি পায়, তার অর্ধেক ‘রাইট প্রসপেক্টিং’-এর প্রাপ্য। গত বছর এই খনি থেকে রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল প্রায় ৮৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।   তবে খনির মালিকানা নিয়ে রাইট পরিবারের দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খনিগুলোর পূর্ণ মালিকানা রাইনহার্টের কাছেই বহাল থাকছে। বিচারক বলেন, মামলার বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষই আংশিকভাবে জয়ী ও পরাজিত হয়েছে। এ ছাড়া খনি অনুসন্ধানকারী ডন রোডসের উত্তরাধিকারীদের একটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক রয়্যালটি দাবিও আদালত মঞ্জুর করেছেন।   অন্যদিকে, রাইনহার্টের দুই সন্তান জন হ্যানকক ও বিয়ানকা রাইনহার্ট পারিবারিক ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ তুললেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। ৭১ বছর বয়সী রাইনহার্ট তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে আসেন।   বিশেষ করে চীনে শিল্পায়নের ফলে লৌহ আকরিকের চাহিদা বৃদ্ধির সময় তাঁর সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ নথি উপস্থাপন করা হয়। রায়ের পর উভয় পক্ষই আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুইন্সের একটি পাবলিক স্কুল I ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

নিউইয়র্কে গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধ স্কুলে তীব্র দুর্গন্ধ, খোঁজ নিতেই মিলল মানুষের মৃতদেহ

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০