টেক্সাসে গরম গাড়িতে ১৫ মাসের শিশুপুত্রকে রেখে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার দায়ে মায়ের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ভ্যানেসা এসকিভেলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। কলিন কাউন্টির একটি জুরি তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়টি সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট। ওই দিন এসকিভেল ফ্রিসকোর একটি ম্যাসাজ ও ফেসিয়াল স্পায় কাজে যাওয়ার সময় তার ১৫ মাসের ছেলেকে এমন একটি গাড়িতে রেখে যান, যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সচল ছিল না। বাইরে তখন তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির ভেতরে ছিল।
প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়, কাজ শেষে গাড়িতে ফিরে এসেও এসকিভেল সরাসরি হাসপাতালে না গিয়ে পথে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় থেমেছিলেন। পরে তিনি শিশুটিকে প্লানোর মেডিকেল সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা তখন ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালে নেওয়ার পর এসকিভেল প্রথমে পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তবে কর্মস্থলের সময়সূচি, নজরদারি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিল। এরপর ফ্রিসকো পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
প্রায় এক বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর কলিন কাউন্টির জুরি তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আদালত ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী একটি আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মদ্যপ অবস্থায় এক নারী অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের পোশাক খুলে যৌন আচরণে লিপ্ত হন বলে এক সহযাত্রী অভিযোগ করেন। ঘটনাটি গত ১১ সেপ্টেম্বরের। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৬ বছর বয়সী কেটি ইনজারকে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিসের নথিতে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের এক যাত্রী বিষয়টি কেবিন ক্রুকে জানান। এরপর একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ওই নারীর কাছে গিয়ে তাকে আচরণ বন্ধ করতে বলেন। ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে সন্ধ্যার ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পরপরই ওই নারী তার প্যান্ট খুলে অশালীন যৌন আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তিনি অনুপযুক্ত শব্দ করছিলেন বলেও ওই সহযাত্রী অভিযোগ করেন। কেবিন ক্রু তার কাছে যাওয়ার পর ইনজার আচরণ বন্ধ করেন এবং আবার পোশাক পরেন। পরে তিনি পুরো ফ্লাইটজুড়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে শেরিফস অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ামিতে ফ্লাইট পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইনজারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং চোখ ছিল রক্তাভ। তিনি ঘটনার কথা মনে করতে পারছিলেন না এবং ঘুমিয়ে পড়ার কথা জানান। ইনজার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন বারটেন্ডার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিস তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমের অনুরোধে কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য স্মোকিং গান। পরে নিউইয়র্ক পোস্ট ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি কোন এলাকার আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিমানযাত্রায় এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর এক সপ্তাহ আগে রচেস্টার থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রীর পাশে বসা এক পুরুষ যাত্রী যৌন আচরণ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতির কারণে তাকে ওই আসনেই থাকতে হয়েছিল এবং পরে তাকে ১০০ ডলারের একটি ক্রেডিট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বিমানে যৌন হয়রানি বা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রত্যক্ষ করলে দ্রুত কেবিন ক্রু অথবা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের অপরাধের মাত্রা বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের ১০৪টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
বেসমেন্ট ফাঁকা পড়ে আছে? এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিয়ে হতে পারে বাড়তি আয়ের নতুন পথ
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন রেকর্ডের খুব কাছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাড়ির বাজারে ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অনেক অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি কমে এলেও এই তিন রাজ্য নিয়ে গঠিত মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে বাড়ির দাম এখনো দ্রুত বাড়ছে। ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাড়ির দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশের নয়টি আদমশুমারি অঞ্চলের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। শুধু এক বছরের হিসাবেই নয়, জুলাই মাসেও এই অঞ্চলের বাড়ির দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাজারে মাসিক দাম বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের প্রায় পাঁচ গুণ ছিল। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা যদি মনে করেন জাতীয়ভাবে বাড়ির বাজার কিছুটা ঠান্ডা হচ্ছে, তাহলে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে এসে তিনি সেই সুবিধা নাও পেতে পারেন। দেশের অন্য কিছু অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে মাউন্টেন অঞ্চলে জুলাই মাসে বাড়ির দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এক বছরে ওই অঞ্চলে দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ। এর বিপরীতে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক বছরের বৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রে এখন এক ধরনের অভিন্ন আবাসন বাজার নেই। কোন রাজ্য বা অঞ্চলে বাড়ি কিনছেন তার ওপর ক্রেতার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করছে।নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, উত্তর ও মধ্য নিউজার্সির অনেক এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যেই তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে বন্ধকের সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়িতে যেতে চান, তাদের জন্য ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে একই পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগের তুলনায় কম দামের বাড়ি বেছে নিতে হতে পারে। অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে বাড়ির মালিক, তাদের সম্পত্তির বাজারমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি মানেই হাতে নগদ অর্থ পাওয়া নয়। বাড়ি বিক্রি না করা পর্যন্ত সেই মূল্যবৃদ্ধি মূলত সম্পত্তির কাগুজে মূল্য হিসেবে থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঞ্চলিক গড় সব বাড়ির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল সূচকটি বৃহত্তর অঞ্চলের সামগ্রিক মূল্য পরিবর্তন দেখায়। নিউইয়র্কের একটি নির্দিষ্ট শহর বা নিউজার্সির একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাড়ির দাম ঠিক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। এ কারণে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় বাজারের তথ্য দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাজ্যের দুটি শহরের মধ্যেও বাড়ির দাম, কর, স্কুল ব্যবস্থা, যাতায়াত সুবিধা এবং বিক্রির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, সামনে বড় আইনি লড়াই
ফ্লোরিডায় স্কুলবাস দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত দুই, আহত আরও কয়েকজন
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলার, আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক
ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে। তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে। সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের। আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত
টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মত উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গোৎসব, প্রবাসে দুই দিনের আয়োজন