ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হল্যান্ডেল বিচে বেবিসিটারের তত্ত্বাবধানে থাকা দুই বছর বয়সী এক শিশুর গরম গাড়ির ভেতরে থাকার পর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কীভাবে এবং কতক্ষণ শিশুটি গাড়ির ভেতরে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে একটি বাড়ি থেকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ামি থেকে প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত হল্যান্ডেল বিচ এলাকায়।
স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেদিন এলাকায় তাপমাত্রার অনুভূতি বা হিট ইনডেক্স ছিল প্রায় ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। তবে শিশুটি ঠিক কতক্ষণ গাড়ির ভেতরে ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এক বিবৃতিতে হল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগ জানায়, "এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে অভিভাবক, আইনগত অভিভাবক এবং শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আবারও অনুরোধ করছি, গাড়ি লক করে চলে যাওয়ার আগে অবশ্যই পেছনের আসন ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।"
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা KidsAndCars.org-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গরম গাড়ির ভেতরে থাকার কারণে এটি অন্তত দশম শিশুমৃত্যুর ঘটনা। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭টি শিশু একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল।
শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বন্ধ গাড়ির ভেতরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়িতে কখনোই শিশুদের একা রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে বসবাসরত ১৬ শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তারা এই ঘটনার সন্ধান পান। পরে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার গুরুতর অভিযোগে একই পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলকে "প্রায় বর্ণনাতীত" এবং "চরম অমানবিক" বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের জন্য এত খারাপ পরিবেশ খুব কমই দেখেছেন তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মে মাসে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনি বাড়ির বাইরে পরিবারের বাইরের লোকজনের সামনে অশোভন আচরণ করেন। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে ৩০ জুন ভিনটন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার বাড়িটিতে যান শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা। বাড়িতে প্রবেশের পর পুলিশ দেখতে পায়, সেখানে মোট ১৬ শিশু বসবাস করছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। ১৮ বছর বয়সী বড় মেয়েটির বিকাশজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি নিজের নামও লিখতে পারেন না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ভিনটন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগে তারা জানতেনই না যে ওই বাড়িতে ১৬টি শিশু রয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিবেশ এতটাই নোংরা ছিল যে, অনেক খামারের পশুও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, শিশুদের একটি প্রায় ১২ ফুট × ১২ ফুট আকারের ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো। কক্ষটিতে মানববর্জ্যের উপস্থিতি ছিল এবং পুরো বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় চার বছর ধরে শিশুদের অধিকাংশ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরা আরও জানান, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, পুরোনো আসবাব, টায়ার, কীটনাশকসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বাড়ির বাইরে শিশুদের খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীও অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর পুলিশ গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়, তার স্ত্রী এলিজাবেথ সাইডার্স (৩৩), গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭১) এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৬)-কে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, এলিজাবেথই ১৬ শিশুর মা। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়কে বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বিয়ের প্রায় দুই মাস পর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের কেউই স্কুলে ভর্তি ছিল না। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারটি বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও সম্প্রতি হ্যামডেনে আসে। তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে বাইরের মানুষের খুব কমই ধারণা ছিল। পরিবারটির কয়েকজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংবাদে ঘটনাটি জানার পর তারা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশু নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার (ফেলনি চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে থাকা পৃথক অশোভন আচরণের মামলারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সব দিক নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আগুনে পুড়তে থাকা নিজের বাড়িতে ১০ বছর বয়সী সন্তানকে খুঁজতে আবারও ভেতরে প্রবেশ করে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। পরে জানা যায়, শিশুটি নিরাপদেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এদিকে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের সময় ব্যবহৃত আতশবাজির অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ফায়ার মার্শাল জানিয়েছে, রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হলিউড শহরের একটি দ্বিতল বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি ফোন পেয়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে একটি শিশু আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানায়, আগুন লাগার পর শিশুটির বাবা তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবারও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০ বছর বয়সী শিশুটি আগেই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সে শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে। তদন্তকারীরা নিহত ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক এবং শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে মেরিল্যান্ড অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার। আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া স্পার্কলার আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটি বাড়ির বাইরে মাটিতে ব্যবহারযোগ্য স্পার্কলার আতশবাজি ব্যবহার করেছিল। পরে সেগুলো বাড়ির পেছনের ঢাকা বারান্দায় রাখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ফেলে দেওয়ার পরও আতশবাজিগুলোতে পর্যাপ্ত তাপ থেকে যেতে পারে। সেই তাপ ময়লার পাত্রে থাকা দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ফায়ার কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারের পর নিভে গেছে মনে হলেও আতশবাজি দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ব্যবহৃত আতশবাজি বা স্পার্কলার ফেলে দেওয়ার আগে ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো বাইরে আগুন-প্রতিরোধী পাত্রে কিছু সময় ঠান্ডা করে তারপর ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ভারপ্রাপ্ত স্টেট ফায়ার মার্শাল জেসন মাউব্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্ত চললেও সবাইকে মনে রাখতে হবে, আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হলেও এর ঝুঁকি শেষ হয় না। ব্যবহারের পর সঠিকভাবে আতশবাজি নিষ্পত্তি করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ভ্যানেসা এসকিভেলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। কলিন কাউন্টির একটি জুরি তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়টি সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট। ওই দিন এসকিভেল ফ্রিসকোর একটি ম্যাসাজ ও ফেসিয়াল স্পায় কাজে যাওয়ার সময় তার ১৫ মাসের ছেলেকে এমন একটি গাড়িতে রেখে যান, যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সচল ছিল না। বাইরে তখন তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির ভেতরে ছিল। প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়, কাজ শেষে গাড়িতে ফিরে এসেও এসকিভেল সরাসরি হাসপাতালে না গিয়ে পথে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় থেমেছিলেন। পরে তিনি শিশুটিকে প্লানোর মেডিকেল সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা তখন ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি ছিল। তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালে নেওয়ার পর এসকিভেল প্রথমে পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তবে কর্মস্থলের সময়সূচি, নজরদারি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিল। এরপর ফ্রিসকো পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় এক বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর কলিন কাউন্টির জুরি তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আদালত ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।