- প্রচ্ছদ
- Topic
আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জামিনে মুক্তি পেলেও দেশটি ছাড়তে পারবেন না পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে দেওয়া জামিন আদেশ বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সেই আদেশ বাতিলের জন্য সরকারের নিযুক্ত ল’ ফার্ম ইতোমধ্যে আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামিন বাতিল করা সম্ভব হবে এবং এরপর দ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা যাবে। মন্ত্রী আরও জানান, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে জামিনে থাকলেও আদালতের শর্ত অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। ফলে দেশত্যাগে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং তিনি দুবাইয়ের বিচারিক কর্তৃপক্ষের নজরদারিতেই থাকবেন। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও আইনি উভয় প্রক্রিয়াই অব্যাহত রেখেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ক্রু বর্তমানে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হেফাজতে রয়েছেন। মীর্জা আদনান নামের ওই কেবিন ক্রুকে ঠিক কী অভিযোগে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও শারজাহ স্টেশনের সূত্রমতে, গত ২২ জুলাই বিজি-১৫১ ফ্লাইট নিয়ে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মীর্জা আদনান। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শারজাহ থেকে তাকে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনা প্রসঙ্গে সোমবার বিমানের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "ওই কেবিন ক্রু একটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ইমিগ্রেশন তাকে আটক করেছে।" আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, "ইমিগ্রেশন সাধারণত এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করে না। তারা নিজস্ব তদন্ত শেষে তাকে হয়তো ছেড়ে দেবে, নয়তো কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।" তবে এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিমানের ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বিমানের শারজাহ স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে শারজাহ সিআইডি তাকে আটক করে আবুধাবি শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে আবুধাবি পুলিশ বিমানের আবুধাবি স্টেশন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করেছে এবং দূতাবাস পুরো বিষয়টি অবগত রয়েছে।" বিমানের আবুধাবি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার উল ফিরদাউস জানিয়েছেন, বিমানের কর্মকর্তারা শারজাহ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিআইডি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও আটকের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তারা জানাননি। তারা শুধু বলেছেন, সময় হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। এর আগে বাহরাইনে চালানো ইরানের একটি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ঘাঁটির অন্যতম কেন্দ্রস্থল কুয়েত একে ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের (পঞ্চম নৌবহর) আবাসস্থল বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারেও অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির কিছুটা ক্ষতি হলেও এর ক্রুরা সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ দিয়ে মাত্র দশটি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পেরেছে। মূলত গত বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এম/ভি এভার লাভলি’-তে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ওই হামলার জবাবে শুক্রবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের স্থান এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা একটি মেরিটাইম বডি ওমান উপকূল বরাবর জাহাজের রুট সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে, যা তেহরানের প্রতি একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, এই প্রণালিটি ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত হুমকিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এমন অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এদিকে, গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে ইরানের সাথে এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা সেটির প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের কোনো দ্বিমত থাকলে তারা ফোনে কথা বলতে পারে।" তবে ইরানিদের এই আগ্রাসন চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সহিংসতার জবাব কেবল পাল্টা সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ এবং স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয় ব্যবস্থা ‘আকাশতীর’ কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউএই তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির উৎস বহুমুখী বা বৈচিত্র্যময় করার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আবুধাবির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আঞ্চলিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা ভারতের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নতুন করে আস্থা রাখছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকা ইউএই এখন কৌশলগতভাবে আরও স্বাধীন অবস্থান নিতে চাচ্ছে। ভারত থেকে আধুনিক এই সমরাস্ত্র কেনা তাদের জন্য ভূ-রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হবে, কারণ এটি ওয়াশিংটন বা পশ্চিমা মিত্রদের সাথে তাদের বিদ্যমান সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগে মস্কোর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আকাশতীর’ ব্যবস্থাটি যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন রাডার ও সেন্সর থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করে নিখুঁতভাবে শত্রু বিমান বা ড্রোন চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করতে পারে। ইউএই-র কাছে ইতিমধ্যে আমেরিকার উন্নত ‘প্যাট্রিয়ট’ ও ‘থাড’ ব্যবস্থা থাকলেও, আকাশতীরের মতো একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক তাদের পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক করবে। যদি এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে তা ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আবুধাবির সাথে রাশিয়ার বর্তমান সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো হওয়ায় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে মস্কোর অনুমোদন পেতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। অস্ত্রের সরবরাহকারী দেশগুলোর বৈচিত্র্য বাড়ালে ইউএই কৌশলগতভাবে আরও স্বাধীন অবস্থান নিতে পারবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলা দেশটির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধাও এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কঠোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানি নাগরিককে একযোগে বহিষ্কার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশটি। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'দ্য নেশন'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করা হয়। পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বা সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জাতীয় পরিষদে এই গণ-বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংসদকে জানান যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হঠাৎ বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফিরে আসা এই বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের অসহায় পরিবারের পাশে পাকিস্তান সরকার রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সংকট দূর করতে সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জাতীয় পরিষদের প্রভাবশালী নারী সদস্য বা এমএনএ সামিনা খালিদ ঘুরকির এক গুরুত্বপূর্ণ লিখিত প্রশ্নের জবাবে ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী আন্তর্জাতিক কারাগারে বন্দি পাকিস্তানিদের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমানে স্পেন, পর্তুগাল এবং যুক্তরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো পাকিস্তানি নাগরিক নেই। পশ্চিমা এসব দেশে বন্দি থাকা সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তার জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক চেষ্টা চালু রয়েছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসগুলোতে বন্দি নাগরিকদের সার্বিক সহায়তার জন্য পৃথক ও বিশেষ ‘লিগ্যাল সেল’ বা আইনি শাখা সক্রিয় রয়েছে। এই বিশেষ সেলগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়মিত স্থানীয় কারাগারগুলো পরিদর্শন করেন, বন্দিদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও আইনি সমস্যার সমাধান করেন এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দরিদ্র বন্দিদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকেন। এর আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দি স্থানান্তর চুক্তির বিশেষ আওতায় ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দুই দফায় মোট ৯ জন সাজাপ্রাপ্ত পাকিস্তানি বন্দিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আকস্মিক বহিষ্কৃত হওয়া ৩ হাজার ৫০০ পাকিস্তানির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর ফলে আগে থেকে জরিমানা মওকুফের সুবিধা পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও পর্যটকরা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক দণ্ড ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার অথবা ভিসার মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পাবেন। আমিরাত সরকারের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) এক ঘোষণায় এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ছাড় চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের ভিসা নিয়মিতকরণ অথবা দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে নতুন করে কোনো আবেদন বা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে না। তারা বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আমিরাতের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফলে যাদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়েছিল, যারা ভিজিট ভিসায় ছিলেন এবং যাদের প্রস্থানের অনুমতি ছিল—এমন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটিতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এসব আটকে পড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণজনিত ওভারস্টে জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিল। আইসিপি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে আসায় আগের সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই জরিমানা মওকুফ রাখার মতো জরুরি পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। আটকে পড়া বিদেশিদের মধ্যে যারা আমিরাতে বৈধভাবে থাকতে চান, তাদের এই এক মাসের মধ্যে রেসিডেন্সি বা ভিসার মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে হবে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা নবায়ন বা দেশত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা, জরিমানা এবং দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আমিরাতে কর্মরত ও আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
ইরানে কয়েক বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর বা অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসব প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবুধাবি তেহরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে চারজন কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তবে ইউএই সরকার বলছে, এমন কোনো অর্থ ছাড়, স্থানান্তর বা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের তথ্য সঠিক নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের কোনো অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় করা হয়নি, স্থানান্তর করা হয়নি এবং এমন কোনো উদ্যোগে সহায়তাও করা হয়নি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবেদনশীল আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্যের পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করা উচিত। যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থাটি দাবি করে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান-সম্পর্কিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে আমিরাত তার কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনার সঙ্গেও এই উদ্যোগের যোগসূত্র থাকতে পারে। রয়টার্সের বরাত অনুযায়ী, দুটি আঞ্চলিক সূত্র দাবি করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র বলেছে, এই সমঝোতার পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ওই অর্থের প্রকৃত উৎস নিয়ে তখনও স্পষ্টতা ছিল না। অর্থটি আমিরাতের নিজস্ব তহবিল, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির রাজস্ব, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের গোপন যোগাযোগ ও বৈঠক হয়েছে। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আবুধাবি সফর করেন এবং সেখানে ইউএইর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে আলোচনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিতে আমিরাতের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে বলেও দাবি করা হয়। যদিও এসব দাবির কোনো অংশই ইউএই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণের সঙ্গেও জড়িত। গত কয়েক বছরে ইরান ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের সম্পর্ক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দুবাইয়ের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন করলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরের প্রশ্নটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। এদিকে ওয়াশিংটনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, কেবল কোনো বৈঠক বা চুক্তির বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলে তা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে রয়টার্সের সূত্রভিত্তিক দাবির বিপরীতে ইউএই সরকারের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির পর পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকৃতির মধ্যে বাস্তবে কোনো অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। সূত্র: রয়টার্স, ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।