আন্তর্জাতিক

সোশ্যাল মিডিয়ার আইন ভাঙায় সাড়ে ৩ হাজার পাকিস্তানিকে বের করে দিল আরব আমিরাত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কঠোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানি নাগরিককে একযোগে বহিষ্কার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশটি। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'দ্য নেশন'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করা হয়।

 

পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বা সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জাতীয় পরিষদে এই গণ-বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংসদকে জানান যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হঠাৎ বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফিরে আসা এই বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের অসহায় পরিবারের পাশে পাকিস্তান সরকার রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সংকট দূর করতে সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

জাতীয় পরিষদের প্রভাবশালী নারী সদস্য বা এমএনএ সামিনা খালিদ ঘুরকির এক গুরুত্বপূর্ণ লিখিত প্রশ্নের জবাবে ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী আন্তর্জাতিক কারাগারে বন্দি পাকিস্তানিদের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমানে স্পেন, পর্তুগাল এবং যুক্তরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো পাকিস্তানি নাগরিক নেই। পশ্চিমা এসব দেশে বন্দি থাকা সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তার জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক চেষ্টা চালু রয়েছে।

 

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসগুলোতে বন্দি নাগরিকদের সার্বিক সহায়তার জন্য পৃথক ও বিশেষ ‘লিগ্যাল সেল’ বা আইনি শাখা সক্রিয় রয়েছে। এই বিশেষ সেলগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়মিত স্থানীয় কারাগারগুলো পরিদর্শন করেন, বন্দিদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও আইনি সমস্যার সমাধান করেন এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দরিদ্র বন্দিদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকেন।

 

এর আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দি স্থানান্তর চুক্তির বিশেষ আওতায় ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দুই দফায় মোট ৯ জন সাজাপ্রাপ্ত পাকিস্তানি বন্দিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আকস্মিক বহিষ্কৃত হওয়া ৩ হাজার ৫০০ পাকিস্তানির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।   ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।   বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৩:৩০
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তীব্র ধস, রাজনীতি থেকে বিদায় চাইছেন ৫৯% ইসরাইলি

ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ, ধস নেমে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদীর মুখে নোয়াখালীর দাঙ্গা ও বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং দেশভাগের পূর্বে অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর। সফরের প্রথম দিনে তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন।   তারকেশ্বরের ওই জনসভা থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরাধীন থাকার সময় ভারতের এই বাংলা অঞ্চল কী পরিমাণ অত্যাচার ও রক্তপাত সহ্য করেছে, তা ইতিহাস সাক্ষী। দেশভাগের আগে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় যে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের নোয়াখালীতে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে কত শত নির্দোষ বাঙালিকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। বাংলা নিজের মানুষকে হারিয়েছে এবং নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে কখনো নষ্ট হতে দেয়নি।   সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, অতীতে পুরো বাংলা অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত করা হচ্ছিল। তবে তৎকালীন সময়ে ভারতের অংশ হিসেবে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৈরি করার মাধ্যমে সেই চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। হাজার বছরের পুরোনো বাঙালি সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং এখানকার মূল আস্থা ও পরম্পরা অনেক লড়াই-আন্দোলনের পর অবশেষে রক্ষা পেয়েছে।   এরপর ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ আগের রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরপরই সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে।   পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে আপনাদের শোষণ ও অত্যাচার করেছে, তারা নিজেরাই এখন এসে আপনাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া জনগণের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যের বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের একের পর এক জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা একসময় সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে এবং অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করা গুন্ডারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।   সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে তার এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যানজটের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতার এই রেড রোডে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেই একই রেড রোড আটকে এবার টানা ৭ দিন ধরে যোগ দিবস পালনের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার আইন ভাঙায় সাড়ে ৩ হাজার পাকিস্তানিকে বের করে দিল আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি রবিন হুডের স্মৃতিবিজড়িত ১,২০০ বছরের প্রাচীন ‘মেজর ওক’ গাছটির মৃত্যু

ছবি: এনডিটিভি

দিল্লিতে ভয়াবহ শিশু পাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস, হাসপাতালের মালিকসহ গ্রেফতার ৯

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের ও স্ত্রী বেগোনা গোমেজ | ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির মামলায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দ

স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর মামলায় প্রকাশ্য আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন বিচারক। একই সাথে আদালত সানচেজের স্ত্রীর দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার পাসপোর্ট অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে। আদালতের এই নতুন ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে স্পেনের বর্তমান বামপন্থী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরণের হুমকির মুখে ফেলেছে।   দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা গভীর ও নিবিড় তদন্তের পর ৫৫ বছর বয়সী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো, ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যাপক দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরণের অপরাধ ও অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। স্পেনের সুপরিচিত ডানপন্থী দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা 'ম্যানোস লিম্পিয়াস' (ক্লিন হ্যান্ডস) নামের একটি সুসংগঠিত ট্রেড ইউনিয়নের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই মূলত এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।   শনিবার প্রকাশিত আদালতের এক বিশেষ আদেশে মামলার প্রধান বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো নির্দেশ দিয়েছেন যে, বেগোনা গোমেজকে অবিলম্বে তার পাসপোর্ট রাষ্ট্রীয় হেফাজতে সমর্পণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তিনি স্পেনের বাইরে যেতে পারবেন না। এর পাশাপাশি তাকে প্রতি মাসে অন্তত দুই বার সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট তারিখে জুরির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।   can অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই পুরো মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কুৎসিত অপপ্রচার হিসেবে বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ইউরোপের অন্যতম স্পষ্টবাদী এই বামপন্থী নেতা তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তার পরিবারকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হেনস্থা করার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সানচেজ স্পেনের বিচার বিভাগের কিছু সদস্যের নিরপেক্ষতা ও সততা নিয়েও প্রকাশ্য জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর দল সোশ্যালিস্ট পার্টি আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছে, বেগোনা গোমেজ গত দুই বছর ধরে চরম বিচার বিভাগীয় ও কুৎসিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। আজকের এই আইনি সিদ্ধান্ত মূলত সেই পরিকল্পিত নিপীড়নমূলক প্রক্রিয়ারই আরও একটি নতুন ও নোংরা ধাপ মাত্র। দুর্নীতির এই মামলাটি মূলত সানচেজের রাজনৈতিক জীবনকে জর্জরিত করা ধারাবাহিক তদন্তগুলোর মধ্যে অন্যতম, যিনি ২০১৮ সালে স্পেনের রক্ষণশীল পিপলস পার্টির দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের নিজের পরিবার এবং তার পূর্ববর্তী শীর্ষ রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে চলা বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের দুর্নীতির তদন্ত এখন স্পেনের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য বড় ধরণের হুমকি সৃষ্টি করছে। যদিও সানচেজের নাম সরাসরি কোনো মামলায় আসেনি, তবে তার ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর এবং সাবেক পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারি চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে স্পেনের সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী জোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ায় সরকার আরও বিপাকে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৪
ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো নারীসহ ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

অবরোধ ও বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

0 Comments