- প্রচ্ছদ
- Topic
আরব সাগর
আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযান উচ্চগতিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশলে চলার কারণে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানায়। তবে পাকিস্তানের বক্তব্য ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার সময় ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে খুব কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল চালানোর ফলে দুই নৌযানের সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ ঘটনায় ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। সংঘর্ষের স্থান নিয়েও দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ঘটনাটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার দায় কার - এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারি বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে এবারের নৌ সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ: সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য আলাদা। তাই কোনো পক্ষের অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর একটি বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরব সাগরে বিমানটির সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানায়, করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে পাইলট বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানোর মাত্র তিন মিনিট পর রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। এরপরই রাডার ও বেতার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় বিমানটি করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ, নৌবাহিনীর টহল বিমান এবং জাতীয় শিপিং করপোরেশনের জাহাজসহ একাধিক সংস্থা আরব সাগরে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি প্রথমে দ্রুত উচ্চতা হারায়, এরপর কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার আকস্মিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কেটু এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচ ক্রু সদস্যের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি প্রথমে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ২০১২ সালে এটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। ২০২৪ সালে এটি কেটু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটিই এয়ারলাইনটির একমাত্র উড়োজাহাজ। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলেও একটি উড়োজাহাজ কিছু সময় ভেসে চলতে পারে। কিন্তু এই উড়োজাহাজের হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উড়োজাহাজটির অবস্থান এবং পাঁচ আরোহীর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘এমএইচ-৬০এস সি হক’ হেলিকপ্টার। বুধবার ভোরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের তিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হলেও এক নৌসেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরীতে নিযুক্ত এই হেলিকপ্টারটি ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে হেলিকপ্টারটি সাগরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে এই জরুরি অবতরণ বা দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো আক্রমণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া তিন ক্রু সদস্যকে বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ রণতরীতে রাখা হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, নিখোঁজ থাকা ওই ক্রু সদস্যের সন্ধানে সাগরে জোর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। উল্লেখ্য, ইরানের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের আবহে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর এই নৌবহরটি অপারেশন পরিচালনা করছে। এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি একটি বিকাশমান সংবাদ হওয়ায় নতুন কোনো তথ্য আসার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তর আরব সাগরে বিপদগ্রস্ত একটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে Pakistan Navy। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপদে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘গোল্ড অটাম’ নামের জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠালে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। এরপর নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সব নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। উদ্ধারের পর নাবিকদের করাচিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান নৌবাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্রপথে চলাচলরত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে। ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ওমান উপকূলে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে কিছুটা দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথে এই অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলা ওমানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। ইরান সর্বদাই প্রতিবেশী দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে হামলায় মার্কিন জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা অভিযানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ওমান সংলগ্ন এই জলসীমা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির সাথে যুক্ত। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর আগে আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ারসহ ব্যাপক সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়। হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন থাকলেও কূলকিনারা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আরব সাগরে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে মাঝপথে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং লোহিত সাগর থেকে রণতরী ফিরে আসে। রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে ফেরার পথে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে গ্রিসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয় মেরামতের জন্য। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রণতরী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিল। ফেব্রুয়ারিতে গ্রিসে পৌঁছানোর আগে ১২ মার্চ রণতরী লন্ড্রিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হন। রণতরী তখন খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।