সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আলাবামা

আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় নার্স ও লাইসেন্স আবেদনকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু তথ্য সংগ্রহ ও ডাউনলোড করেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবার তথ্য আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি।    বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে গত আগস্টে তাদের প্রযুক্তিব্যবস্থায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থার কিছু অংশে ক্ষতিকর কার্যক্রমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ওই দিন থেকে বোর্ডের সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে।   ঘটনার পর আলাবামা অফিস অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করে বোর্ড। তদন্তে এফবিআই এবং আলাবামা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকেও সহযোগিতা করছে কর্তৃপক্ষ।   বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হামলার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আক্রান্ত সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে ধাপে ধাপে নিরাপদ সেবা চালুর কাজ চলছে। তবে র‍্যানসমওয়্যার হামলার কারণে তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ঠিক কার কোন তথ্য দেখা বা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ এবং পেশাগত লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে।    নার্স ও আবেদনকারীদের অপ্রত্যাশিত ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বোর্ড। লাইসেন্স নবায়ন, ফি, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে কেউ যোগাযোগ করলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা পাঠানো লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বোর্ডের পোর্টালে ব্যবহৃত একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট রিপোর্ট ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পরিচয় চুরির ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট ফ্রিজ বা ফ্রড অ্যালার্ট বিবেচনা করতেও বলা হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা নিজে থেকে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা অপ্রত্যাশিত ফোনকলের মাধ্যমে কারও পাসওয়ার্ড চাইবে না।    সেবা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্সদের লাইসেন্স নবায়নের কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নার্সদের বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সেবাসংক্রান্ত হালনাগাদ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এস্তেলা দিয়াজের সকাল শুরু হয় দুই বছর বয়সী শিশু ইবারের ডাকে। ইবার এস্তেলার নিজের সন্তান নয়। শিশুটির মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভেনেজুয়েলায় বিতাড়িত করার পর থেকে বাধ্য হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এস্তেলা।   শিশুটির মা মার্লিনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ রাখেনি। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করে অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নতুন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও অমানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মূলত সীমান্ত অতিক্রমের সময় শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোকেও দেশ থেকে তাড়ানোর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যমতে, সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যাদের ৭১ শতাংশই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থা ইবারের মতো, যাদের কাছে বর্তমানে বাবা বা মায়ের কেউই নেই।   কেবল সংখ্যা পূরণের নির্মম এক প্রতিযোগিতার কারণে এই শিশুদের তাদের অপরিচিত কিংবা অস্থায়ী অভিভাবকদের কাছে রেখে বাবা-মায়েদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   ইবারের মা মার্লিনকে মুদি দোকানে যাওয়ার পথে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কাজের অনুমতিপত্র ও আশ্রয়ের আবেদন ছিল। আটক অবস্থায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন যেন তাকে তার দুই সন্তানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।   কিন্তু টানা তিন মাস বন্দি রাখার পর তাকে একাই ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ইবার এবং তার সাত বছর বয়সী বড় ভাই আইজ্যাককে পরিচিতদের কাছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এস্তেলা নামের ওই মার্কিন নাগরিকের কাছে তাদের আশ্রয় মেলে।   অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের এই জটিল ফাঁদে পড়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। আইনি সহায়তার অভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিভাবকদের হাতে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   ইবারের মতো মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রে ভিসা বা পাসপোর্ট করে অন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো আরও বেশি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মা হারানো এই হাজারো অবুঝ শিশু।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চরম অবহেলায় ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃ ত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হ ত্যা মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চরম অবহেলায় ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃ ত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হ ত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গডসডেন এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী লেসলি ডেনিস উইলসনকে নিজের মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করে সোমবার এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ওই শিশুটিকে চরম পুষ্টিহীন ও পানিশূন্য অবস্থায় তার শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় শিশুটি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল এবং তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়।   তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেজর ক্রাইমস ডিভিশনের ডিটেকটিভ অ্যালেক বার্গেস এক শুনানিতে জানান, পুলিশ শুরুতে স্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায়। চরম অবহেলার শিকার ওই কিশোরীর ওজন কমে মাত্র ৩২ পাউন্ডে নেমে এসেছিল। তার ডায়াপার পরীক্ষা করে সেখানে জ্যান্ত পোকা (ম্যাগট) পাওয়া যায়।   অসুস্থ ওই কিশোরী মূলত ফিডিং টিউবের সাহায্যে খাবার গ্রহণ করত। পুলিশের অভিযোগ, বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার না থাকা সত্ত্বেও মা উইলসন মেয়েটির দেখভালের দায়িত্ব তার ছোট ভাই-বোনদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ।   ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে ১৭ জুনের মধ্যে উইলসন মেয়েটির ওপর নির্যাতন ও ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চরম মাত্রার চিকিৎসা ও শারীরিক অবহেলার কারণে শিশুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
আসক্ত করার অভিযোগে মামলা নিষ্পত্তিতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা

শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্ত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা, রাতের সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, কসমেটিক ফিল্টার বন্ধ এবং বয়স যাচাইসহ একাধিক নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। সমঝোতার ফলে সোমবার শুরু হওয়ার কথা থাকা বিচারও আর হচ্ছে না।   আলাবামা ২০২৫ সালে টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখার মতো নকশা ও সুপারিশব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটি আরও দাবি করেছিল, টিকটকের কিছু বৈশিষ্ট্য তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হলেও টিকটক কোনো অনিয়মের দায় স্বীকার করেনি।   সমঝোতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর একটি হলো কিশোরদের দৈনিক ব্যবহারসীমা। আলাবামায় কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টার একটি নির্ধারিত সীমা থাকবে। অভিভাবকেরা চাইলে এই সময় আরও কমিয়ে দিতে পারবেন। পাশাপাশি টিকটক ব্যবহারের সময় শিশুদের নিয়মিত বিরতি নিতে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যবহার বন্ধের বার্তাও দেখাবে। টানা ব্যবহারের ১৫, ৬০ ও ৯০ মিনিটের পর্যায়ে এ ধরনের বিরতির ব্যবস্থা থাকবে।   রাতের ব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আলাবামায় কিশোরদের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা গেলেও তখন বার্তা আদান-প্রদান ও বিজ্ঞপ্তির মতো কিছু সুবিধা সীমিত থাকবে। স্কুল চলাকালীন সময়েও বিজ্ঞপ্তি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে প্রভাব কমানো যায়।   শিশু ও কিশোরদের জন্য কসমেটিক বা সৌন্দর্যবর্ধক ফিল্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একই সঙ্গে বয়স অনুযায়ী উপযোগী বিষয়বস্তু দেখানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কিশোরদের জন্য ব্যক্তিগত পছন্দভিত্তিক সুপারিশের পরিবর্তে অ-ব্যক্তিগতকৃত বিষয়বস্তু দেখার সুযোগও রাখা হবে। এর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনুপযুক্ত যোগাযোগ ঠেকাতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করবে টিকটক।   অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় তারা সন্তানদের অ্যাকাউন্টে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখা যাবে, কতক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে এবং কোন সময়ে ব্যবহার বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। সন্তানদের টিকটক ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেখার সুযোগও থাকবে। কোনো কিশোরের সঙ্গে বয়সের দিক থেকে অনুপযুক্ত কোনো অ্যাকাউন্টের যোগাযোগ শনাক্ত হলে অভিভাবকদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও থাকবে।   বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার শর্ত রয়েছে। টিকটককে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু ব্যবহারসীমা নির্ধারণ নয়, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।   অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও সমঝোতায় একাধিক ধাপ রয়েছে। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, রাজ্যটি অন্তত ১০ কোটি ডলার পাবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে পুরো চুক্তির আর্থিক কাঠামো শুধু এই ১০ কোটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকটকের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতায় গেলে আলাবামা অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে। বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   আলাবামার মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল কারণ এটি টিকটকের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বিচার পর্যন্ত গড়ানো প্রথম মামলাগুলোর একটি ছিল। সোমবার থেকে মন্টগোমারি অঙ্গরাজ্য আদালতে বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারত। বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে টিকটকের অভ্যন্তরীণ নকশা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি আদালতে প্রকাশের সম্ভাবনাও আপাতত এড়ানো হলো।   আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, মামলার মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল টিকটকের আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য, তরুণদের ওপর সম্ভাব্য মানসিক ক্ষতি এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগেই সমঝোতার মাধ্যমে মামলা শেষ হয়েছে। টিকটকও কোনো দায় স্বীকার না করেই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।   টিকটকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোরদের নিরাপত্তা বাড়াতে তাদের বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা তাদের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।   আলাবামার সঙ্গে এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের বিরুদ্ধে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মামলা চলছে। ফলে আলাবামার চুক্তিতে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো ভবিষ্যতে অন্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে টিকটকের আলোচনাতেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম মেয়রকে গুয়ানতানামোতে পাঠানোর দাবি, মার্কিন সিনেটরের মন্তব্যে তোলপাড়
মুসলিম মেয়রকে গুয়ানতানামোতে পাঠানোর দাবি, মার্কিন সিনেটরের মন্তব্যে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মামদানিকে ‘গুণ্ডা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে সামরিক কারাগারে পাঠানো উচিত। এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের এক অনুষ্ঠানে টিউবারভিল দাবি করেন, জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন। তবে তিনি তার এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এর আগেও টিউবারভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংস হওয়া যমজ ভবনের ছবি এবং জোহরান মামদানির একটি ইফতার অনুষ্ঠানের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করেছিলেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “শত্রু এখন আমাদের ভেতরেই রয়েছে।” এই মন্তব্যকে ঘিরেও ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং অনেকেই এটিকে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জোহরান মামদানি টিউবারভিলের বক্তব্যের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দারিদ্র্য দূর করার পরিবর্তে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।   মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার টিউবারভিলের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও অপমানজনক। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো কখনোই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ডি'কেনড্রিক ক্রফোর্ড (মাঝে)। নিহত জ্যাজমিন অ্যালেক্সিস বেটস (বাঁয়ে) ও ফেলিক্স আলভারেজ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
আলাবামায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তার বন্ধু ও পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু এবং একটি পোষা কুকুরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBRC জানিয়েছে, গত ৬ জুলাই ব্রুকউড শহরের একটি বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়ার (ওয়েলফেয়ার চেক) জন্য পুলিশকে ডাকা হয়। বাড়ির মালিক সে সময় শহরের বাইরে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ৩১ বছর বয়সী হোসে ফেলিক্স আলভারেজ-দুয়েনাস বাড়িটি দেখাশোনা করছিলেন এবং একই সঙ্গে মালিকের পোষা কুকুরের দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন।   পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় আলভারেজ-দুয়েনাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ির মালিক নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করেন। সেখানে ৬ জুলাই ভোরে বাড়ির পেছনের বারান্দায় এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা দেখতে পান তিনি। এরপর বাড়ির মালিক তার বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বাড়িওয়ালা পুলিশকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান।   পুলিশ বাড়ির প্রধান দরজা খুলেই আলভারেজ-দুয়েনাসের মরদেহ দেখতে পায়। পরে একটি শোবার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে ২২ বছর বয়সী জ্যাজমিন অ্যালেক্সিস বেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির পোষা কুকুরটিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।   ঘটনাস্থলের ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ২৪ বছর বয়সী ডি'কেনড্রিক ক্রফোর্ডকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তদন্তকারীরা। এরপর তার বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই এক আত্মীয়ের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ক্রফোর্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি বাইরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনে প্রবেশ করে চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে।   তদন্তকারীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণ জানা যায়নি। টাসকালুসা ভায়োলেন্ট ক্রাইমস ইউনিটের ক্যাপ্টেন জ্যাক কেনেডি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় কেন তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।   তার ভাষায়, 'তারা কোনো ভুল করেননি। সন্দেহভাজনের পরিচিতদের কাছ থেকেও এমন কোনো তথ্য মেলেনি, যা এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে।' তিনি আরও জানান, তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্রফোর্ডের বিরুদ্ধে আগেই একটি গুরুতর অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি চুক্তিভিত্তিক চাকরি হারানোর পর তিনি সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় একটি ব্যবহৃত ভবনের দিকে একাধিকবার গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং এরপর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।   জ্যাজমিন বেটসের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় দুই শিশুসন্তানের জননীকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় কর্মক্ষেত্র থেকে কাজ শেষে পার্কিং লটে নিজের গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় এক নির্মম ও ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নার্স ও দুই সন্তানের জননী। আদাহ দস নামের ওই ডক্টরস হসপিটাল (DCH) রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারের নার্স ম্যানেজারকে এক বন্দুকধারী ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার সময় আদাহ তাঁর স্বামী অ্যান্ড্রুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।   ফলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক উপায়ে অ্যান্ড্রু তাঁর স্ত্রীর জীবনের শেষ মুহূর্তের আকুতি এবং এরপরই গুলির শব্দ নিজ কানে শুনতে পান।   আরও পড়ুন... টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে ম্যাথিউ টেইলর নামের এক যুবককে তাঁর কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য ওই হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়। তবে সে হাসপাতালের ভেতরে না ঢুকে কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো চত্বরে ওত পেতে লোটোখেলা বা ঘোরাঘুরি করতে থাকে। আদাহ তাঁর ডিউটি শেষ করে যখন পার্কিং লটে নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন ম্যাথিউ তাঁর পথ রোধ করে এবং পিস্তল উঁচিয়ে গাড়ির চাবি দাবি করে।   ফোনে তখন আদাহ তাঁর স্বামীর সাথে রাতের খাবারের পরিকল্পনা এবং তাঁদের ৬ মাস ও ২ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের রাতের ঘুমোনোর রুটিন নিয়ে কথা বলছিলেন।   আরও পড়ুন... টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   বন্দুকধারীকে দেখে আদাহ ভয় পেয়ে গাড়ির দিকে দ্রুত হেঁটে যেতে থাকলে ম্যাথিউ পিস্তল তাক করে তাঁর পিছু নেয়। গাড়ির কাছে পৌঁছামাত্রই যখন ম্যাথিউ গুলি করতে উদ্যত হয়, তখন ফোনের ওপাশে থাকা স্বামী শুনতে পান আদাহ অত্যন্ত ভয়ার্ত ও আর্তনাদ ভরা কণ্ঠে ঘাতকের উদ্দেশ্যে বলছেন, "দয়া করে এমনটা করো না।   আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে।" কিন্তু এই আকুতি ঘাতকের মন গলাতে পারেনি; সে আদাহকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। এদিকে শোকার্ত স্বামী অ্যান্ড্রু হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি এজেন্সির বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ এনে আদালতে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছেন।   সূত্রঃ  নিউইয়র্ক পোস্ট

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত ফুড ডেলিভারি চালক মনোজ চিট্টার
মদ সরবরাহের অভিযোগে ভারতীয় ফুড ডেলিভারি ড্রাইভার গ্রেপ্তার, আলাবামায় কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের প্র্যাটভিল শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় এক ফুড ডেলিভারি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরীদের কাছে অবৈধভাবে মদ সরবরাহের পর সুইমিং পুলে ডুবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।   প্র্যাটভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে একটি বাসাবাড়ির সুইমিং পুল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   তদন্তে জানা যায়, পুলে নামার আগে কয়েকজন কিশোর-কিশোরী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল পান করেছিল। সেই অ্যালকোহল সরবরাহের সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় মনোজ চিট্টা নামের এক ফুড ডেলিভারি চালকের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীর বয়স যাচাই না করেই তার কাছে অ্যালকোহল পৌঁছে দেন। এছাড়া এই লেনদেনটি ডেলিভারি অ্যাপের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় মনোজ চিট্টার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে অটোগা কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসএফএ এবং প্র্যাটভিল পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। কিশোর-কিশোরীদের কাছে অনলাইনে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে অ্যালকোহল সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহ কিশোরদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০