ইরান যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ‘ভুল’ ছিল: ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের তুলনায় নিরাপদ করেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না।   বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা ছিল এবং আলোচনাও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ছিল একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।   রিভস আরও বলেন, ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সঠিক পদ্ধতি কী। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইরান সরকারকে অপছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন।   ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মতে, যুদ্ধের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ওয়াশিংটনের মাটিতে দেওয়া রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কেও নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

ইরান–সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির মতে, চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র মুখে ফেলেছে—যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব হবে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।   সংস্থাটির প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে বহু বছর পেছনে ঠেলে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনকি যদি এখনই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তবুও এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজে পড়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে।   তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সার উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সারের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি এই সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; দারিদ্র্য মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় গত এক দশকে অতি দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
গত বুধবার লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত চিকিৎসাকর্মীর মরদেহের পাশে শোক প্রকাশ করছেন তাঁর মা।
এক মাস ১০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত ৪০ দিনে এসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।   যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে নিহতদের মধ্যে শিশু, সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।   ইরাকে সংঘাত শুরুর পর থেকে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ যুদ্ধে তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবেও পৃথক হামলা ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।   ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। উত্তর ইরাকে হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই যুদ্ধের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।   ৪০ দিনের এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
মানসিকভাবে অসুস্থ, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে ট্রাম্প

ইরানের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিষ্ফোরক হুমকিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।  ট্রাম্পের এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে ‘মানসিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) একজন চরম অসুস্থ ব্যক্তি। যেসব রিপাবলিকান এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকার করছেন, তারা এর প্রতিটি ভয়াবহ পরিণতির জন্য দায়ী থাকবেন।” অন্যদিকে হাউজ লিডার হাকিম জেফরিস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আগেই কংগ্রেসকে ইরানের বিরুদ্ধে এই বেপরোয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এখন সময় রিপাবলিকানদের দলপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়ার।” কংগ্রেসম্যান জেসন ক্রো ট্রাম্পের হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংসের ডাক দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেবল বৈধ নির্দেশই পালন করা উচিত। একইভাবে কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ‘শুদ্ধ শয়তানি’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘তেহরান টোল বুথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হলো জাপানি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন আশা’

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার ঘোষণা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই জাপানি শিপিং কোম্পানি মিৎসুই ওএসকে লাইনসের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘গ্রিন আশা’ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের পথে রয়েছে।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই প্রধান রুটটি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে। মিৎসুই ওএসকে লাইনসের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ‘গ্রিন আশা’র ক্রু সদস্য এবং জাহাজে থাকা পণ্য উভয়ই সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এটি ছিল জাপান-সংশ্লিষ্ট তৃতীয় জাহাজ, যা উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতেও সফলভাবে প্রণালি পার হতে সক্ষম হলো।   এর আগে গত শনিবার ভারত সরকার জানিয়েছিল যে, মিৎসুইয়ের মালিকানাধীন অপর একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’ নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। এছাড়া ১ মার্চের পর প্রথম এলএনজি ট্যাঙ্কার হিসেবে মিৎসুইয়ের ‘সোহার এলএনজি’ এই প্রণালি পার হওয়ার রেকর্ড গড়ে। শিপিং সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক জাহাজ এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করছে, তারা ইরানের অনুমোদিত একটি বিশেষ পথ ব্যবহার করছে যা লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে। এই পথটি আন্তর্জাতিক মহলে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির এই বিকল্প ও নিয়ন্ত্রিত রুটটি বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও মার্কিন হুমকির মুখে ইরান এই পথে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে, তবুও জাপানি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর এই নিরাপদ পারাপার আন্তর্জাতিক শিপিং বাণিজ্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।   সূত্র: এএফপি ও লয়েডস লিস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন বাহিনীর গোপন গতিবিধি ইরানের কাছে ‘বিক্রি’ করছে চীনা কোম্পানি!

ইরান যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও রণতরী চলাচলের অতি গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে তৈরি করা এসব গোয়েন্দা তথ্য বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতের এসব কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করে তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মিজারভিশন’ এবং ‘জিং’আন টেকনোলজি’র মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে যে, তাদের এআই প্রযুক্তি মার্কিন বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় মুভমেন্টও শনাক্ত করতে সক্ষম। এসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান এবং সৌদি আরব ও কাতারের ঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানের অবস্থান সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে। এমনকি মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেওয়ার দাবিও করেছে তারা।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA)-এর সঙ্গে যুক্ত। যদিও বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে গত কয়েক বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক জানান, এই প্রবণতা সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ক্ষমতা জোরদার করবে।   মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ এই দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, চীনের বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এখন সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে এই প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা যুদ্ধের ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। চীনের এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে, যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট     আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি সচলে ইরান-ওমান কূটনৈতিক বৈঠক পেন্টাগনের গোপন এআই প্রজেক্ট: যুদ্ধের রূপ বদলে দিচ্ছে ‘ম্যাভেন’

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হলো হরমুজ প্রণালি, চলছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ইরান সরকার তাদের বন্দরগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল।   একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, যেসব জাহাজ বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে এবং ইরানের বন্দরের অভিমুখে আসছে, তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে এই অনুমতির অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এবং নির্ধারিত কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে।   বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের জন্য পথ খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানির ধারা সচল রাখতেই তেহরান এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের মাঝেই ইরানের পক্ষ থেকে এই নতুন নির্দেশনা এলো। যদিও সাধারণ বাণিজ্যিক বা জ্বালানি তেলের জাহাজের জন্য এখনো পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতেই এই সীমিত জাহাজ চলাচল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার গোপন যুদ্ধনীতি বনাম ট্রাম্পের প্রচারণামূলক কৌশল: চরম অস্থিরতায় বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সুপ্ত ও গোপনীয় যুদ্ধনীতির বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উম্মুক্ত ও প্রচারণামূলক যুদ্ধকৌশল মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। ইরানের সঙ্গে ৩২ দিনের সংঘাতকে ঐতিহাসিক যুদ্ধের দীর্ঘ মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প একে নগণ্য দাবি করলেও, এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং সংঘাতের পেছনে ‘ইসরায়েল লবি’র প্রভাবের অভিযোগ তুলে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।   হোয়াইট হাউসের ভাষণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের ভিডিও প্রচারকে বিশ্লেষকরা প্রথাগত সংঘাতের চেয়ে বরং সস্তা ‘কনটেন্ট’ বা উপাদানের মতো দেখছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে জেমস পক বা ডোনাল্ড রামসফেল্ডের মতো সাম্রাজ্যবাদ এবং বাধাহীন বিমান যুদ্ধের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমআইটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডাম জে. বেরিনস্কির মতে, যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত আসলে যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনার চেয়ে রাজনীতিকদের দলীয় কাদা-ছোড়াছুড়ির ওপর বেশি নির্ভর করে।   ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ১৯ ও ২০ শতকের অধিকাংশ সময় কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়িত থাকলেও আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনের যুগে যুদ্ধের ঝুঁকি ও খরচ সাধারণ মানুষের আড়ালে চলে গেছে। রিচার্ড নিক্সন থেকে ওবামা প্রশাসন পর্যন্ত সবাই যুদ্ধের প্রাণহানি ও প্রকৃত ব্যয় গোপন করার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি ছাড়াই মৃত্যু ডেকে আনার সক্ষমতা যুদ্ধের নৈতিকতাকেই বদলে দিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘প্যালান্টির’-এর প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার কার্পের মতে, প্রযুক্তি নির্মাতা ও রাজনৈতিক এলিটরা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।   ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব মূলত নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধের বাস্তব সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার এক চরম রূপ। যখন যুদ্ধের খরচ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি সাধারণ মানুষের সরাসরি ওপর পড়ে না, তখন দেশ ও যুদ্ধ নিয়ে যেকোনো মনগড়া গল্প বিশ্বাস করানো সহজ হয়ে পড়ে। হোয়াইট হাউসের বানানো ইরান যুদ্ধের ভিডিওগুলো এখন কেবল ডিজিটাল প্রহসনে পরিণত হয়েছে, যা নাগরিকদের কাছে একটি ‘ক্লিক’ ছাড়া আর কিছুই দাবি করে না।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়তে পারে ৫০%

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।   ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।   উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ৪ শর্ত!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে চারটি প্রধান শর্তের রূপরেখা ঘোষণা করেছে ইরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। রাষ্ট্রদূত জানান, গঠনমূলক যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে এই শর্তগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।   ইরানের ঘোষিত চারটি শর্ত হলো: ১. দেশটিতে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতে হবে। ২. ভবিষ্যতে যেন পুনরায় যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দিতে হবে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ নিয়ে ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত এবং নৌ-চলাচল নিরাপদ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই অনুরোধ বিবেচনা করতে পারে। তবে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল।   আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।   ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: রযটার্স
ট্রাম্পের হাসিঠাট্টার জবাব দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরান-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ না নেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ম্যাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন।   স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটনের একটি মধ্যাহ্নভোজে ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণ অনুকরণ করে বলেন, “ম্যাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, আর ম্যাখোঁ এখনও তার চোয়ালে ঘুষির ধাক্কা সামলাচ্ছেন।” ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন ২০২৫ সালের একটি ভিডিও দেখার পর, যেখানে ভিয়েতনাম সফরের সময় ব্রিজিত ম্যাখোঁকে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে হালকা ধাক্কা দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ ও ‘মানসম্মত নয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হ্যানয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই। এ ধরনের মন্তব্য মার্জিত এবং সম্মানজনক নয়। আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।”   ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলও ট্রাম্পের এই আচরণকে সমালোচনা করেছে। সংসদের নিম্নকক্ষের সভাপতি ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, “এ সময় যখন বিশ্বের ভবিষ্যৎ ও ইরানের লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে, একজন রাষ্ট্রপতি হাসছে ও অন্যকে উপহাস করছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।” কট্টর-বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড-এর সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ডও ম্যাখোঁর সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।   রক্ষণশীল ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে সাহায্য পেলে খুশি হব, যদিও আমরা দুষ্কৃতকারী ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূলের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছি। যদি পারেন, অবিলম্বে জাহাজ পাঠান।” এরপর ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণে ম্যাখোঁর জবাব অনুকরণ করে বলেন, “না না না, আমরা তা করতে পারি না, যুদ্ধ জেতার পর করতে পারব।”   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প নিজেও ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি, বিপক্ষে চীন

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ এই বৈঠকে বসবে বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ী সদস্য চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে প্রস্তাবের ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে অন্তত নয়টি ভোটের প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কারো ভেটো থাকা চলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বেইজিং মনে করে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো বিশ্ব এখন শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরান যুদ্ধ চললে হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে না: চীনের সতর্কবার্তা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না বলে সতর্ক করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং ই এ মন্তব্য করেছেন।   সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সংঘাত চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিকতা ফেরানো সম্ভব হবে না।   চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেন। ছবি: রয়টার্স
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা

ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নিন্দনীয়’, ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। তবে চলমান যুদ্ধের অবসান কবে হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি তিনি।   এ অবস্থায় মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন।   একই সুরে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের কোটি কোটি মানুষকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে Council on American-Islamic Relations ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে বেড়েছে অস্থিরতা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ!

ইরানে আরও তীব্র আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।   গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা সতর্ক করেছেন যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তেলের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে কিছুটা পতন লক্ষ করা গেছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীতv
ট্রাম্পের ‘ইরান হুঙ্কার’ ও ফেড রিজার্ভের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন!

দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ কর্তৃক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ হঠাৎ করেই কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মাত্র এক দিনেই স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২২.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তা দ্রুত নিম্নমুখী হয়। এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসী হামলা চালিয়ে যাবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পথে রয়েছে। এই বক্তব্যে যুদ্ধ থামার আশা করা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করলে টানা চার দিনের দরবৃদ্ধির প্রবণতা থমকে যায়। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে।   স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মন্দা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৫.৪ শতাংশ কমে ৭১.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় ভারতের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও, চীনের ক্রেতারা দাম আরও কমার অপেক্ষায় থাকায় সেখানে কেনাবেচায় ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলত ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ৩৫ দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য

ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না।   বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য।   প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
' একঘরে ' পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠলো
' একঘরে ' পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠলো!

মাত্র এক বছর আগেও কূটনৈতিকভাবে একঘরে থাকা পাকিস্তান এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের নজিরবিহীন সমন্বয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং হোয়াইট হাউসে তার বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ পাকিস্তানের এই রূপান্তরের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ইতিমধ্যে আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সমর্থন এবং ওসামা বিন লাদেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই তিক্ততা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং ভারতের সাথে আকাশযুদ্ধে সংযম প্রদর্শনের বিষয়টিও ওয়াশিংটনের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। এদিকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের এই অগ্রযাত্রা প্রতিবেশী দেশ ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে খোদ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দেশটির সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তুরস্ক-মিশরের সাথে যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতা পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করেছে। তবে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ঘরের পাশের আফগান সীমান্ত সমস্যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে, যা সামাল দিতে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।   জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন।   বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।   বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।   দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।   এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0