ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াল কংগ্রেস
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট।
মঙ্গলবার রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ভোটাভুটিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন, যা ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দলের মধ্যেই বাড়তে থাকা উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে জুন মাসে প্রতিনিধি পরিষদেও একই প্রস্তাব পাস হয়েছিল। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদনে সহায়তা করেন। প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের ফল ছিল ২১৫-২০৮।
তবে প্রস্তাবটি আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে না। কারণ এটি এমন একটি সমসাময়িক প্রস্তাব (কনকারেন্ট রেজুলেশন), যা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় না এবং আইনে পরিণত হওয়ার সুযোগও নেই। তবুও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কারণ, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সামরিক অভিযান বন্ধ বা সীমিত করার আহ্বান জানিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একই ধরনের প্রস্তাব অনুমোদন করল।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি নতুন করে সময় গণনার সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে আইনি সীমা লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠছে না।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তাই এমন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দুই রিপাবলিকান সিনেটর অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। অনুপস্থিত ছিলেন মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক।
সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, লিসা মারকাওস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে শুধু জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে মতপার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিরুদ্ধেও কিছু রিপাবলিকান সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমতও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ করার জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবারই পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে, যার বড় অংশ ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ব্যয় মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের সর্বশেষ এই ভোট আইনি পরিবর্তন না আনলেও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ যে বাড়ছে, এই ভোট তারই প্রতিফলন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, তাদের চলাচল মূলত জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নির্ধারিত কূটনৈতিক স্থাপনা, নির্দিষ্ট আবাসন এবং বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানি প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই চলাচল বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশ নিতে বিদেশি নেতাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজের বাইরে তাদের চলাচল সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। এবার ইরানি প্রতিনিধিদল আগের বছরের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে অবাধে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে বিলাসী পণ্য কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ নতুন নয়। ২০২৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের মিশন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সীমিত করা হয়েছিল। চলতি বছর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, এমন আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব কোনো ফলাফলের দিকে এগোতে পারে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর দেশ নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে। একই সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগও খুঁজছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যেও পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক নজর রয়েছে।
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পাঠানো হুইলচেয়ার, টয়লেট সিট, ত্রিপল ও বহনযোগ্য টয়লেটসহ কিছু বেসামরিক সামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রীর কিছু ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের বেসামরিক প্রশাসন সংস্থা কোগাত বলেছে, হুইলচেয়ারসহ চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। গিশার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নন-ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ, ফ্ল্যাশলাইট ও বহনযোগ্য টয়লেটের মতো কিছু পণ্য ডুয়াল-ইউজ পণ্যের আওতায় পড়েছে। এসব পণ্য গাজায় পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, কোন পণ্য কোন পরিস্থিতিতে এই শ্রেণিতে পড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতার ঘাটতি রয়েছে। হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তা গাজায় বিশেষভাবে বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মে ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আহত প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪৩ হাজারের এমন ধরনের গুরুতর আঘাত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জীবন পরিবর্তনকারী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু। একই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় পুনর্বাসন সরঞ্জাম ও সহায়ক ডিভাইসের সংকটও তীব্র। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন-সংক্রান্ত ১৮টি চালান গাজায় প্রবেশের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এসব চালানের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম ছিল। কিছু চালান ১৩০ থেকে ৫২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টয়লেট ও স্যানিটেশন সামগ্রী নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার বহু মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। ফলে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের টয়লেটের প্রয়োজন বেড়েছে। বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামও ডুয়াল-ইউজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তবে ‘সব হুইলচেয়ার গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন সরল ব্যাখ্যাও পুরো পরিস্থিতিকে তুলে ধরে না। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে গাজার শিশুদের জন্য পাঠানো শত শত হুইলচেয়ার জর্ডানে আটকে থাকার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে কোগাত জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে সহায়তা করে এবং হাজার হাজার হুইলচেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে। কোগাতের দাবি, ডুয়াল-ইউজ সরঞ্জামের প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, গিশা ও অন্যান্য মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা বলছে, ডুয়াল-ইউজ শ্রেণিবিন্যাসের বিস্তৃত প্রয়োগের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য গাজায় পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে আহত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকা রোগীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় পুনর্বাসন সেবা এখনো গুরুতরভাবে সীমিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ ও অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ না পেলে আহত ও প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রান্নাঘর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল ১ হাজার বছরের পুরোনো কঙ্কাল, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রাচীন রহস্য
বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি
সাগরের পানির নিচে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি বিশেষ সৌরকোষ দক্ষিণ চীন সাগরের পানির ১০ মিটার গভীরতায় সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। পরীক্ষায় এই সৌর মডিউল দিয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে। গবেষণাটি ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষকেরা পানির নিচে সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য প্রশস্ত ব্যান্ডগ্যাপের লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ব্যবহার করেন। গবেষকদের মতে, পানির নিচে বাস্তব পরিবেশে ১০ মিটার গভীরতায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা আগের পরীক্ষাগুলোর তুলনায় বড় অগ্রগতি। সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। একই সঙ্গে পানির কারণে আলোর বর্ণালিও বদলে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দ্রুত শোষিত হওয়ায় পানির গভীরে নীল ও সবুজ আলোর আধিক্য থাকে। এ কারণে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ পানির নিচে একইভাবে কার্যকর থাকে না। গবেষকেরা এই সমস্যার সমাধানে এমন পেরোভস্কাইট সৌরকোষ তৈরি করেছেন, যা পানির নিচে পৌঁছানো সীমিত আলোর বর্ণালির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, নতুন সৌরকোষের শক্তি রূপান্তর দক্ষতা ১০ মিটার গভীরতার আলো অনুকরণ করে পরীক্ষায় ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কৃত্রিমভাবে ১০ মিটার গভীরতার পানির নিচের আলোর পরিবেশ তৈরি করে ১ হাজার ১৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা চালানোর পরও কোষটির কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি। আর ত্বরিত বার্ধক্য পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, একই ধরনের পরিবেশে কোষটি প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত তার প্রাথমিক সক্ষমতার অন্তত ৮০ শতাংশ ধরে রাখতে পারে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষাটি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপপুঞ্জের কাছে পানির নিচে রোবটের সঙ্গে বড় আকারের সৌর মডিউল যুক্ত করে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়। ২, ৬ এবং ১০ মিটার গভীরতায় মডিউলগুলো পরীক্ষা করা হয়। ১০ মিটার গভীরতায় দুই ঘণ্টা সূর্যালোকের মধ্যে মডিউলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ এবং এলইডি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগে পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষণার অন্যতম লেখক ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেন, এত অল্প গভীরতার পরীক্ষা বাস্তব সমুদ্রভিত্তিক প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন পরীক্ষায় ১০ মিটার গভীরতায় বড় আকারের সৌর মডিউল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখানো হয়েছে, যা পানির নিচে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পানির নিচে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারও বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যন্ত্রে নিয়মিত ব্যাটারি বদলানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন কমাতে এটি ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধানের বাইরে থাকা সামুদ্রিক যন্ত্রের জন্য এমন একটি স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ১০ মিটার গভীরতায় সফলতা পাওয়া গেলেও আরও বেশি গভীরতায় এর কার্যকারিতা কেমন থাকবে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের প্রকৃত পরিবেশে কীভাবে কাজ করবে এবং সামুদ্রিক জীব ও আবর্জনা জমে সৌরকোষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেসব বিষয় নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকেরা পরবর্তী ধাপে আরও গভীর পানিতে এই প্রযুক্তির সীমা পরীক্ষা এবং পানির নিচের সৌরকোষের জন্য মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ, এটি এখনই প্রচলিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প নয়। তবে সমুদ্রের পানির নিচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রকে দীর্ঘ সময় নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, জুল, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়
জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন