- প্রচ্ছদ
- Topic
উচ্চশিক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, ভালো চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালে ভারত থেকে শিকাগোতে এসেছিলেন অনন্যা জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স শেষ করে কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে বিজ্ঞানী হিসেবেও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু এইচ-১বি স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং তার অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি শেষ হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় তাকে। এখন জার্মানিতে নতুন করে ক্যারিয়ার ও জীবন গড়ছেন ২৬ বছর বয়সী এই ভারতীয় বিজ্ঞানী। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোশি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন একদিনে ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে অনেকটা খারাপ স্বপ্ন থেকে হঠাৎ জেগে ওঠার মতো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে পারেননি। নিউ দিল্লিতে বেড়ে ওঠা জোশির যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার স্বপ্নের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাও জড়িয়ে ছিল। তার বাবা নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক কারণে সেই সুযোগ পাননি। পরে মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে বছরের পর বছর অর্থ সঞ্চয় করেন তিনি। ভারতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর ২০২২ সালে ইলিনয়ে আসেন জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স করেন এবং ২০২৪ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি ল্যাবে তৈরি মাংস বা কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে ছয় মাসের গবেষণা প্রোগ্রামে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সেই সুযোগ ফুল টাইম চাকরিতে পরিণত হয়। সেখানে বায়োপ্রসেস বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি কাল্টিভেটেড মিটের উৎপাদন বড় পরিসরে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। বিজনেস ইনসাইডারের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। ইভানস্টনে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। চাকরি, বন্ধুদের সঙ্গে রোড ট্রিপ এবং শিকাগো এলাকার জীবন মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাই করেছিলেন জোশি। কিন্তু তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছিল এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত ওপিটি ওয়ার্ক অথরাইজেশনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য ওপিটি ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট স্টেম ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্টেম ওপিটি এক্সটেনশনের সুযোগ পান। জোশির ক্ষেত্রে সমস্যাটি তৈরি হয় তার নিয়োগকর্তাকে ঘিরে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে এইচ-১বি স্পনসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কোম্পানি জানায়, প্রয়োজনীয় ই-ভেরিফাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় তার ওপিটি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না এবং শেষ পর্যন্ত এইচ-১বি স্পনসরশিপ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি সরে আসে। তার ওপিটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় জোশি মে মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সময় প্রয়োজন এবং তিনি চাকরি ছাড়তে অথবা পার্ট টাইম কাজ করতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিনই তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার সুযোগ ধরে রাখতে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে শুরু করেন তিনি। একই সময়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। চাকরি হারানোর দিনই সেই সুযোগের বিষয়ে জানতে পারেন এবং জুলাইয়ে তার ওপিটি শেষ হওয়ার সময় জার্মানি থেকে চাকরির অফার পান। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্পনসর খোঁজার ঝুঁকিপূর্ণ পথের বদলে জার্মানির চাকরিটি গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি জার্মানির রস্টকে চলে যান। সেখানেও একই ধরনের কাল্টিভেটেড মিট শিল্পে কাজ করছেন তিনি। জোশির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত পার্থক্য রয়েছে। তার ওপিটি শেষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি নীতির ১ লাখ ডলারের পেমেন্ট ব্যবস্থা আসে এর প্রায় দুই মাস পরে। ফলে ওই ফি সরাসরি জোশির চাকরি হারানো বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কারণ ছিল না। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোক্লেমেশন সই করেন, যার অধীনে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি পিটিশনের সঙ্গে ১ লাখ ডলার পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যবস্থা কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। এটি আগে ইস্যু হওয়া এইচ-১বি ভিসা বা সাধারণ রিনিউয়ালের ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই ১ লাখ ডলারের ব্যবস্থা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখে। একই সঙ্গে এইচ-১বি আবেদন যাচাই, নিয়োগকর্তার সাম্প্রতিক ছাঁটাই এবং উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়েও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে ছোট স্টার্টআপ এবং সীমিত বাজেটের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি স্পনসর করার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত এক বছরে একাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন নাকি অন্য দেশে সুযোগ খুঁজবেন, সেই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করছেন। জোশিও এখন সেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন। জার্মানিতে স্থিতিশীল চাকরি পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ফেলে আসতে হয়েছে তার বন্ধু, সম্পর্ক এবং কয়েক বছরে গড়ে তোলা জীবন। তার প্রেমিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেননি জোশি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতে নিজের ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ডিগ্রি এবং ভালো চাকরি পাওয়াই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ এবং ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে প্রকৌশল শিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এবার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে (এডব্লিউএস) প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের এই অ্যালামনাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় পিএইচডি করছেন। একই সঙ্গে এডব্লিউএসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শুরু করেছেন পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়। রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান আকিব। সেখানে দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। দেশে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ এগিয়ে যায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে। মাস্টার্সে পড়াশোনার সময় একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও অবদানের জন্যও স্বীকৃতি পান আকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘দ্য এডওয়ার্ড এল. জুনিয়র অ্যান্ড রুথ এস. হেনেসি ডিস্টিংগুইশড স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘দ্য ভাইস অ্যাডমিরাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার যাত্রায় এই দুটি অর্জন তাঁর একাডেমিক ও নেতৃত্বের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। মাস্টার্স শেষ করেই উচ্চশিক্ষার পথ থামাননি আকিব। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন তিনি। উচ্চতর গবেষণার এই পর্যায়ে থাকার মধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে পেশাগত ক্যারিয়ারও শুরু করেছেন রুয়েটের সাবেক এই শিক্ষার্থী। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। এর মধ্য দিয়ে একদিকে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে পেশাগত অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে শুরু হওয়া আকিবের পথচলায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেশে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি তৈরি, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স, একাডেমিক ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি, পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা এবং সবশেষে এডব্লিউএসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ক্যারিয়ার। এই ধারাবাহিকতা তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অ্যালামনাই হিসেবে এডব্লিউএসে আকিবের যোগদান বিভাগের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। দেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পৌঁছানোর তাঁর এই পথচলা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনেও নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ তুলে ধরছে। আকিব জাবেদের বর্তমান যাত্রায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য একই জায়গায় এসে মিলেছে। রুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া সেই পথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের পেশাগত অঙ্গনে পৌঁছেছে। তাঁর এই পথচলা শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার অগ্রগতির গল্প নয়। রুয়েটসহ বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে হলে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কঠিন, এমন ধারণা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই রয়েছে। সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের গবেষণা ও একাডেমিক কাজ দিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রিপন। স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। সেই ফলাফল নিয়েই তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিপনের এই পথচলার বিস্তারিত উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষ করার সময় তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের আগে তিনি কোনো ভাষা দক্ষতা পরীক্ষাতেও অংশ নেননি। তারপরও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত কাজ তাঁর উচ্চশিক্ষার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের সুযোগ পান। রিপনের গল্প অবশ্য শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়ে হার্ভার্ডে পৌঁছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি গবেষণায় সক্রিয় হন। জনস্বাস্থ্য, রোগের বৈশ্বিক বোঝা, সামাজিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফেসবুক আসক্তি নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও তিনি গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তাঁর পরিচয় ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষক হিসেবে। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটেও প্রকাশিত গবেষণায় তাঁর নাম রয়েছে। ২০২১ সালে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডির অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রকোপ এবং এর কারণে মানুষ কত বছর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে, তা নিয়ে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি বড় আন্তর্জাতিক গবেষণায় রেজাউল করিম রিপন অবদান রাখেন। গবেষণাটিতে বিশ্বের বহু দেশের বিপুলসংখ্যক গবেষক অংশ নিয়েছিলেন। হার্ভার্ডে যাওয়ার পরও তাঁর গবেষণার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ের নাম যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে করা সেই গবেষণায় তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণাপত্র তৈরিসহ একাধিক ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও তাঁর গবেষণা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জ্যামা নেটওয়ার্ক ওপেনে নারীদের শরীরে পিএফএএস নামের রাসায়নিকের সংস্পর্শ ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণার প্রথম লেখক ছিলেন রিপন। সেখানে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজির গবেষক হিসেবে। গবেষণাটিতে তথ্যের যথার্থতা ও বিশ্লেষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। ২০২৬ সালেও তাঁর গবেষণার ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার কিশোরীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার, এইচপিভি এবং এইচপিভি ভ্যাকসিন সম্পর্কে জ্ঞান ও টিকা নেওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি প্রথম লেখক। ওই গবেষণাতেও তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বছর পরিবেশে থাকা পিএফএএস রাসায়নিক এবং হৃদরোগের সম্পর্ক নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও তিনি কাজ করেছেন। রিপনের পথচলা উচ্চশিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত কেবল একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কাজ এবং একটি শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইলও আবেদনকে আলাদা করে তুলতে পারে। তবে তাঁর সাফল্যকে কম সিজিপিএ থাকলেই হার্ভার্ড বা অন্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। রিপনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হলো স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে হার্ভার্ডের জনস্বাস্থ্য গবেষণায় পৌঁছানো রেজাউল করিম রিপনের পথচলা তাই শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএর গল্প নয়। এটি একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষতা ও ধারাবাহিক কাজ কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথকে শক্তিশালী করতে পারে, তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য পিএইচডি পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে এই গবেষণা সহকারী পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থী টেকসই ও অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার মূল বিষয় হবে অর্গানিক তরমুজ উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যানেরোবিক সয়েল ডিসইনফেস্টেশন বা অক্সিজেন সীমিত করে মাটিতে রোগজীবাণু ও আগাছা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে বায়োডিগ্রেডেবল মালচ ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পুষ্টিচক্র, মাটির জৈবিক কার্যক্রম, আগাছার উদ্ভব ও দমন, মাটির স্বাস্থ্য এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই গবেষণায় মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিভিত্তিক গবেষণাও থাকবে। ফলে আগাছাবিজ্ঞান, মাটির উর্বরতা, মাটির জীববিজ্ঞান, টেকসই কৃষি এবং অর্গানিক ফসল উৎপাদনের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, মাটি ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবেদনকারীদের এগ্রোনমি, উইড সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, হর্টিকালচার, ক্রপ সায়েন্স অথবা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পদটি টেক্সাসের লাবক শহরে অবস্থিত টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামের ২০২৭ স্প্রিং সেমিস্টারের আবেদন সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬। প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সে পিএইচডি প্রোগ্রামে মোট ৭২ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির পর ৬০ ক্রেডিট আওয়ার গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্ক এবং ১২ ক্রেডিট আওয়ার গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভের জন্য নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা ক্রপ প্রোটেকশন, ক্রপ সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স এবং ফাইবারস অ্যান্ড বায়োপলিমারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়নের সুযোগ পান। গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত, অনানুষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গবেষণার আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তিনজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট গবেষকের কাছে ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পদটিকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট মাসিক স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে অর্থায়নের পূর্ণ শর্ত, সহকারী পদের মেয়াদ এবং টিউশন সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের গবেষণা সহকারী পদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে শুধু গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামের একাডেমিক ভর্তি শর্তও পূরণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে যারা এগ্রোনমি, সয়েল সায়েন্স, ক্রপ সায়েন্স, হর্টিকালচার বা আগাছাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং টেকসই কৃষি, অর্গানিক উৎপাদন ব্যবস্থা বা মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সুযোগটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও গবেষণার আগ্রহের বিবরণ প্রস্তুতের সময় পূর্বের গবেষণার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে। ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত। শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি। খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়। এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মতো সব মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের কেন্দ্রীয় ‘ফুলি ফান্ডেড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ’ নেই। অর্থায়ন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রাম ফুলি ফান্ডেড। সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের নির্ধারিত অর্থায়ন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহন করে। অনেক প্রোগ্রামে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। তবে কোন প্রোগ্রামে কত বছর এবং কী ধরনের অর্থায়ন থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের ধরনও আলাদা। উদাহরণ হিসেবে পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের বায়োমেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং স্টাইপেন্ডসহ পূর্ণ অর্থায়ন পেয়ে থাকেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে বার্ষিক স্টাইপেন্ড ৪৯ হাজার ডলার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়নের আওতায় আসতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। অ্যানেনবার্গ স্কুল ফর কমিউনিকেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গবেষণা ও ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্ব সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ অর্থায়ন বা টিউশন মওকুফ পাওয়া যায় না। কিছু স্কুল ও বিভাগে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ প্রকাশ করা হয়। এসব পদে সাধারণত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন, কাজের ধরন ও মেয়াদ পদভেদে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অ্যাসিস্ট্যানশিপ নিশ্চিত নয়। এ কারণে ‘পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সবার জন্য ফুলি ফান্ডেড অ্যাসিস্ট্যানশিপ’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও মাস্টার্স পর্যায়ে সুযোগ অনেক বেশি প্রোগ্রাম ও পদের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে সব অ্যাসিস্ট্যানশিপের সঙ্গে টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স যুক্ত থাকে না। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরাসরি ঘণ্টাভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনের একটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পজিশনে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের সুবিধা ছিল না। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই প্রথমে নিজের পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রাম নির্বাচন করে সেই প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন ও ফান্ডিং তথ্য দেখা জরুরি। পিএইচডির ক্ষেত্রে আবেদন করার সময়ই সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নের কাঠামো জানানো থাকে। কোথাও ফেলোশিপ, কোথাও টিচিং বা রিসার্চের দায়িত্ব, আবার কোথাও একাধিক উৎস মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফান্ডিং প্যাকেজ তৈরি করা হয়। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অ্যাডমিশন পাওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যানশিপ পাওয়া নয়। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর আলাদাভাবে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করতে হয়। পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনও জানিয়েছে, তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপগুলো ফান্ডেড পার্টটাইম সুযোগ হলেও এগুলো বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অ্যাডমিশন শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে জিআরই, টোফেল বা আইইএলটিএসের নিয়ম সব প্রোগ্রামে এক নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, আবেদন কখন শুরু হবে, ফান্ডিং কত বছরের এবং আলাদা অ্যাসিস্ট্যানশিপের জন্য আবেদন করতে হবে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ফান্ডিং ও অ্যাডমিশন শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না। সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ। পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি। ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি। তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন। তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে। ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন। গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে। অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে। বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে। এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে। তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস
নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (CUNY) গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার কমেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হার ২০২২ সালের ৬২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি অর্জনের হারও একই সময়ে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের তথ্য উদ্ধৃত করে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যগুলো নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের মেয়রের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওই প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়ন করেছে। CUNY-এর কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি সাধারণত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের কর্মসূচি হলেও প্রতিবেদনে ব্যবহৃত স্নাতক হওয়ার হার ছয় বছরের হিসাবে পরিমাপ করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক কলেজগুলোর ক্ষেত্রে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হারও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ছয় বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করলেও ২০২৬ সালে তা ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে। CUNY-এর প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারেও স্নাতক হওয়ার হার, শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার ও ডিগ্রি অর্জনের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। আরও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে CUNY-এর ‘অ্যাক্সেলারেটেড স্টাডি ইন অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রামস’ বা ASAP-এ। কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহযোগী ডিগ্রি শেষ করতে সহায়তা করার জন্য তৈরি এই কর্মসূচিতে তিন বছরের মধ্যে স্নাতক হওয়ার হার ২০২২ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। ASAP কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরামর্শ, ব্যক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। CUNY বলছে, কর্মসূচিটির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার এখনো ASAP-এর বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে স্নাতকের হার কমার কারণ হিসেবে CUNY শুধু একটি বিষয়কে দায়ী করছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কিছু শিক্ষার্থী-গোষ্ঠীর ফলাফলে রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গঠনেও পরিবর্তন এসেছে। CUNY-এর বক্তব্য অনুযায়ী, মহামারির পর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক পরামর্শ বাড়ানো হয়েছে। দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি কলেজ থেকে চার বছর মেয়াদি কলেজে স্থানান্তরের সময় শিক্ষার্থীদের অর্জিত ক্রেডিট যাতে সহজে গণনা করা যায়, সেই ব্যবস্থাও সহজ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ দেখালে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। CUNY-এর সাবেক ট্রাস্টি জেফরি উইজেনফেল্ড অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, সমস্যাটি দুই দিক থেকে তৈরি হচ্ছে। তার মতে, নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান কমে যাওয়ার প্রভাব CUNY-তে পড়তে পারে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল থেকে আসে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কঠোর মানদণ্ড ছিল, পরবর্তী সময়ে তার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, CUNY-এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নয়। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে পূর্ণকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পড়ানো শিক্ষার্থীর হার ২০২৫ সালের ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে এই হার ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, CUNY-এর আরও বেশি শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন বা সহযোগী শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা পাচ্ছেন। তবে স্নাতকের হার কমলেও CUNY-এর কিছু ইতিবাচক সূচকও রয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০২৫ সালের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭১ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৩ হয়েছে, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। কমিউনিটি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৬ হাজার ৪৩২ থেকে ৮১ হাজার ৮৮৩ হয়েছে। প্রথমবারের মতো কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ১৬৭ থেকে ১৪ হাজার ৪৩৩ হয়েছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে এই সংখ্যা ২২ হাজার ৩২৩ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৫৪৩ হয়েছে। শুধু ভর্তি নয়, প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার হারও বেড়েছে। সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে প্রথমবারের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের এক বছর পর একই শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকার হার ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচিতে এই হার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। CUNY-এর দীর্ঘমেয়াদি তথ্যেও দেখা যায়, মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কমিউনিটি কলেজের পূর্ণকালীন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এক বছর পর ধরে রাখার হার ২০১৩ সালের ৬৫ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৫৯ শতাংশে নেমেছিল। একই সময়ে স্নাতক কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হার ৮৩ শতাংশ থেকে ৭৮ শতাংশে কমে। CUNY নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ২৬টি কলেজ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডিগ্রিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার ডিগ্রি দেওয়া হয়। স্নাতকের হার কমার মধ্যেও সামাজিক গতিশীলতা ও কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য CUNY-এর বিভিন্ন কলেজ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটন মান্থলির সাম্প্রতিক র্যাংকিংয়ে ছয়টি CUNY কলেজ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, CUNY-তে একদিকে স্নাতক সম্পন্ন করার হার কমেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার বেড়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন শিক্ষার্থী ধরে রাখা নয়, বরং তাদের শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু বড় অঙ্কের অর্থ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন শুরু করলে পরে আর্থিক ও একাডেমিক জটিলতায় পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। কারণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ থাকলেই সেটি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সব ডিগ্রি বা সব বিভাগের জন্য প্রযোজ্য হয় না। তাই আবেদন করার আগে স্কলারশিপের যোগ্যতা, মোট খরচ, ফান্ডিংয়ের ধরন এবং নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে এর মিল যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ-সমর্থিত এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ আগে থেকেই গবেষণা করার পরামর্শ দেয়। প্রথমেই দেখতে হবে, স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘স্কলারশিপ’ বা ‘ফিন্যান্সিয়াল এইড’ লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সহায়তা নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ডিগ্রি, বিভাগ, মেজর বা শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আবার কিছু স্কলারশিপ নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য, কিছু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য। এডুকেশনইউএসএর ফিন্যান্সিয়াল এইড তালিকাতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা সুযোগ, যোগ্যতা ও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা নির্দিষ্ট শ্রেণির যোগ্য ননসিটিজেনদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা অন্যান্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কলারশিপের অঙ্ক নয়, পুরো পড়াশোনার খরচ। ধরুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ২০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারসহ মোট খরচ যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে বাকি অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে নিজেকেই করতে হতে পারে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফান্ডিং পরিকল্পনায় টিউশন ও ফি ছাড়াও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাসস্থান ও খাবারের খরচও এক নয়। তাই আবেদন করার আগে বার্ষিক টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারের আনুমানিক খরচ লিখে মোট হিসাব করা উচিত। পাশাপাশি দেখতে হবে স্কলারশিপটি শুধু এক বছরের জন্য নাকি পুরো ডিগ্রি মেয়াদে দেওয়া হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এটি নবায়নযোগ্য কি না এবং নবায়নের জন্য ন্যূনতম জিপিএ বা অন্য কোনো শর্ত আছে কি না, সেটিও জানা দরকার। তৃতীয় বিষয় হলো ফান্ডিং পাওয়ার প্রক্রিয়া। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদন জমা দিলেই শিক্ষার্থী মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হতে পারেন। আবার কোনো কোনো স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন, প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র বা অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম পেজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল এইড পেজ এবং বিভাগের নির্দেশনাও দেখা জরুরি। মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে গবেষণা, শিক্ষাদান বা প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হতে পারে। তবে এসব সুযোগ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে এবং ফান্ডিংয়ের ধরন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। চতুর্থ বিষয় হলো নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মিল। মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, প্রতিভা বা সামগ্রিক অর্জন বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে গবেষণাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে গবেষণার আগ্রহ, আগের প্রকল্প, থিসিস, পদ্ধতিগত দক্ষতা বা ডেটা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষাদানভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তাই শুধু ‘আমার জিপিএ কত’ এই প্রশ্নের মধ্যে নিজের আবেদনকে সীমাবদ্ধ না রেখে দেখতে হবে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি। গবেষণা, শিক্ষাদান, নেতৃত্ব, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা কমিউনিটি কাজের কোন অংশটি নির্দিষ্ট ফান্ডিংয়ের যোগ্যতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে, সেটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন। পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের উৎস। ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও বা অন্য শিক্ষার্থীর তৈরি তালিকা প্রাথমিক ধারণার জন্য কাজে লাগতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বিভাগের পেজ, গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং পেজ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের তথ্য এবং অফিসিয়াল কস্ট অব অ্যাটেনডেন্স দেখে তথ্য যাচাই করা উচিত। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ খুঁজে দেখার ব্যবস্থা রেখেছে। সবশেষে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজা মানে শুধু ‘ফুলি ফান্ডেড’ লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় তালিকা তৈরি করা নয়। কার্যকর স্কলারশিপ সার্চের জন্য নিজের প্রোফাইল, নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও বিভাগের ফান্ডিং ব্যবস্থা, স্কলারশিপের যোগ্যতা এবং পুরো ডিগ্রির সম্ভাব্য খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আবেদন করার আগে এসব তথ্য যাচাই করলে অপ্রাসঙ্গিক অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পড়াশোনার পুরো সময়ের আর্থিক পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মতভাবে করা সম্ভব। সূত্র: আসিফ মুক্তাদির
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এফ-১, জে-১ এবং আই ভিসা পদ্ধতির নিয়মে ব্যাপক রদবদল আনতে যাচ্ছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেঁধে দেওয়া হবে, যা কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। প্রস্তাবিত এই নিয়মটি বর্তমানে অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন বা কোর্স চলাকালীন সময়ে শর্তসাপেক্ষে যতদিন খুশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পেতেন। একজন শিক্ষার্থী চাইলে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে পিএইচডি প্রোগ্রামে কোনো জটিলতা ছাড়াই অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকছে না। অভিবাসন আইনজীবী রাহুল রেড্ডির মতে, নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পুরো ক্ষমতা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর হাতে চলে যাবে। যেসব কোর্সের মেয়াদ চার বছরের বেশি, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে, যা আগের মতো আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে না। নতুন এই নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে পারেন দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীরা। কারণ, পিএইচডি বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম শেষ করতে সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় কোর্স চলাকালীন সময়ে বারবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। নিয়মটি প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নিয়ম বাতিলের দাবিতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আতঙ্কিত না হয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়ে সতর্ক ও প্রস্তুত হওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা ডব্লিউইউএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রচারণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য এই সুযোগ নির্ধারিত ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রোগ্রামে প্রযোজ্য এবং পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য হাইস্কুলে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ জিপিএ বা সমমানের ফল প্রয়োজন। আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ডব্লিউইউএসটির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে যেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে না পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক ডিগ্রি, হাতে কলমে শেখার সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউইউএসটির নিয়মিত টিউশন সহায়তা ব্যবস্থাতেও মেধাভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে টিউশন সহায়তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমতে, আর্থিক সহায়তা সাধারণত টিউশন ক্রেডিট হিসেবে দেওয়া হয় এবং সব ধরনের সহায়তা মিলিয়ে কোনো টার্মে টিউশনের ১০০ শতাংশের বেশি দেওয়া হয় না। ডব্লিউইউএসটির বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ একাডেমিক ক্যাটালগে আবুবকর হানিপকে নতুন মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তার মালিকানায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়। আবুবকর হানিপের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে তিনি পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও চাকরিমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। পিপলএনটেকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৮০০ এর বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন চাকরিতে প্লেসমেন্ট পেয়েছেন। পিপলএনটেকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ওপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এই দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ডব্লিউইউএসটির শিক্ষাদর্শনেও ডিগ্রির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলরের বার্তায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য, যাতে গ্র্যাজুয়েশনের পর তারা নিজেদের ক্ষেত্রে চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন। ডব্লিউইউএসটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৯০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন তথ্যপ্রযুক্তি এবং ১০৭ জন ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এদিকে, ডব্লিউইউএসটির আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বাসিন্দা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি আমেরিকা বাংলাকে বলেন, তার ছোট ভাই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং তিনি একজন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। ওই বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তিনি তার ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপের বিষয়ে সরাসরি আবুবকর হানিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, বিষয়টি জানার পর আবুবকর হানিপ তাৎক্ষণিকভাবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, পুরো মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের ওপর পড়াশোনার খরচের চাপ অনেকটাই কমেছে। ওই বাংলাদেশি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য এই স্কলারশিপ বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা। এর ফলে ভবিষ্যৎ পড়াশোনার খরচ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগও অনেকটা কমেছে। তিনি আবুবকর হানিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত টিউশন সহায়তা নীতিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ট্রান্সফার শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাভিত্তিক সহায়তার সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সহায়তার পরিমাণ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষিত নতুন কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যাচেলর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন সহায়তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবার পেছনে ফেলে যাওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে বিশ্বের এমন ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দেশভেদে এই ভিসার নিয়মকানুন এবং কাজের অনুমতিতে রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার দিলেও অন্য দেশগুলোতে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেসব দেশে পরিবারের জন্য নিয়মকানুন অপেক্ষাকৃত সহজ, তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দেশ দুটিতে শিক্ষার্থীরা মূল ভিসা আবেদনের সময়ই পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারেন কিংবা পরবর্তীতে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ পান। তবে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা সাধারণত প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কানাডায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীকে মূল ভিসার মেয়াদের সমান সময়ের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়। জার্মানিতে অন্তত এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত বাসস্থান, বিবাহ সনদ, সঙ্গীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জার্মান ভাষা জানার প্রমাণ দেখাতে হয়। জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য সঙ্গীরা কাজেরও অনুমতি পান। ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডও পরিবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। ডেনিশ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন বা সিরি এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বসবাসের অনুমতি পেলে সঙ্গীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। এছাড়া সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ডেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য বসবাসের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা বসবাসের অনুমতি পেলেও সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান না। অন্যদিকে কিছু দেশ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নীতিমালা কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে কেবল পিএইচডি, অন্যান্য ডক্টরেট ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কিছু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহনকারী সরকারি বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের কোর্স ছয় মাসের বেশি, তারাও এই সুবিধা পান। এই সুবিধার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা অন্তত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসকারী অবিবাহিত সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এদিকে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসার আবেদন করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংস্থা ইউকেভিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদনে দেরি হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এবং ক্যাস বা কনফার্মেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ সহ ছয়টি মূল বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এফ ১ ভিসা নিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ ২ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এফ ২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজের অনুমতি নেই। সিঙ্গাপুরে এই নিয়ম বেশ কঠোর। স্নাতক বা অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্টুডেন্ট পাসের মাধ্যমে পরিবার নেওয়ার সুযোগ পান না। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য লং টার্ম ভিজিট পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হতে পারে। মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট পাসের আবেদন করতে পারেন। হংকংয়ে স্থানীয় পূর্ণকালীন ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আলাদা অনুমতি ছাড়া তারা কাজ করতে পারেন না। চীনে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য এস ১ ভিসা এবং স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য এস ২ ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন। শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদেশে পড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। সূত্র: লেজিট ডট এনজি ও ভ্যানগার্ড
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন, জীবিকা কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো অন্তত আটজন বাংলাদেশি গত ১৬ মাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কেউ কর্মস্থলে, কেউ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, আবার কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে একের পর এক এমন মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রাণহানির শুরুটা হয়েছিল ফ্লোরিডায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাউন্ট ডোরায় ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাশুর শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া খুনের অভিযোগে তাদের সাবেক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, গত এপ্রিলে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মরত ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী নিলুফা ইয়াসমিন এক দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন। নিউইয়র্কেও একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাহসী অফিসার দিদারুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান। এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। একই ঘটনায় রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এর আগে জুলাই মাসে ব্রুকলিনেই ছোটখাটো এক সড়ক দুর্ঘটনার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ট্যাক্সিচালক রুহুল আমিন নাসির। পেনসিলভানিয়া ও টেনেসিতেও বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় 'ডোরড্যাশ' অ্যাপে খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে নিহত হন মো. মাহফুজুল হক। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন। অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট টেনেসির বেলস এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি ও হত্যার শিকার হন বাংলাদেশি অভিবাসী শাহেদ রানা মোহসিন। এই আটটি মৃত্যুর পেছনে কোনো অভিন্ন কারণ নেই। পারিবারিক বিরোধ, কর্মস্থলে ডাকাতি বা আকস্মিক বন্দুক হামলার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাই একে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক হামলা বলার সুযোগ নেই। তবে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন, খাবার ডেলিভারি বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই আটটি মৃত্যু শুধু আটটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই নয়, বরং স্বপ্নের দেশে নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পারিবারিক সংকট, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বারবার ব্যর্থতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেরিয়ে কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া পর্যন্ত তার পথচলাটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি সোহাগের। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। চার বছরের অনার্স শেষ করতে তার সময় লাগে সাত বছর। ফলাফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়তেন বলে একসময় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করতেন তিনি। এর অন্যতম কারণ ছিল তার বড় ভাইয়ের সিলেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা। ২০১৩ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজিতে এমএস শুরু করেন সোহাগ। কিন্তু পরিবারের ক্লিনিকসংক্রান্ত সংকটের কারণে আবারও পড়াশোনা থেমে যায়। পরে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন। সেখানে ৩ দশমিক ৪২ সিজিপিএ নিয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও যুক্ত হন সোহাগ। তার গবেষণার ফল নিয়ে প্রকাশিত হয় নয়টি গবেষণাপত্র, যার মধ্যে দুটি এলসেভিয়ারে প্রকাশিত হয়েছে বলে তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়। এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি। ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি দুর্বল থাকায় জিআরই পরীক্ষাকে শুরু থেকেই কঠিন মনে হতো তার কাছে। এমনকি প্রথমবার পরীক্ষায় বসার আগেও কয়েকবার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জিআরইতে ৩০৫ এবং আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানেও দ্রুত সাফল্য আসেনি। একের পর এক আবেদন, ফান্ডিং না পাওয়া, করোনা মহামারির প্রভাব এবং পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পথ আরও দীর্ঘ হয়। ২০২১ সালে আটটি পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি তিনি। তবুও থেমে থাকেননি সোহাগ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে ফুল ফান্ডিংসহ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে সেই ডিগ্রি শেষ করার পর এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। যে তরুণ একসময় পারিবারিক সংকটের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই নিতে পারেননি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়ার কারণে নিজের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন, সময়ের ব্যবধানে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। সোহাগের এই যাত্রা দেখিয়েছে, শিক্ষাজীবনে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধারাবাহিক চেষ্টা, গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ব্যর্থতার পরও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা একজন শিক্ষার্থীর পথ বদলে দিতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়েন, তাঁদের সেই জটিলতা কমাতেই এই ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে না। টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা হিসেবে অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীকেই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই ঋণ সুবিধা সেই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবা দিয়ে থাকে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে। এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ। ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা। সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য। নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্য প্রবাসজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরির পাশাপাশি তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সেরা সুযোগটি করে দেওয়া। আর সেই সন্তান যখন প্রিন্সটন, এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ডিউক, জনস হপকিন্স, নর্থওয়েস্টার্ন কিংবা ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, তখন সেই আনন্দ শুধু শিক্ষার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই দশটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এই বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল থাকলেই এখানে সুযোগ নিশ্চিত হয় না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার সামগ্রিক প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এদের নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড বা আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। প্রিন্সটন, হার্ভার্ড, এমআইটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে না, যাকে নিড-ব্লাইন্ড অ্যাডমিশন বলা হয়। ভর্তি হতে পারা শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজনের শতভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অনুদান বা গ্র্যান্টের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো বাধ্যতামূলক ঋণ বা লোন নিতে হয় না। এমনকি পরিবারের আয়ের নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হতে পারে। তবে ফিন্যান্সিয়াল এইড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা অভিবাসন মর্যাদাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সন্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হয়, তবে বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেশীয় আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করে নিড-ব্লাইন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক, জনস হপকিন্স বা পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিন্যান্সিয়াল এইড চাওয়ার বিষয়টি ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ টিউশন ফি দেখে ভয় না পেয়ে, আবেদন করার আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নীতি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। সন্তানকে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতে হবে এমন কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, তার যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও, শূন্য থেকে জীবন শুরু করা একজন প্রবাসী বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের এমন সাফল্য কেবল একটি কলেজে সুযোগ পাওয়ার খবর থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বছরের পর বছর দেখা স্বপ্নের এক গৌরবময় বাস্তবায়ন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।