- প্রচ্ছদ
- Topic
উচ্চশিক্ষা
পারিবারিক সংকট, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বারবার ব্যর্থতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেরিয়ে কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া পর্যন্ত তার পথচলাটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি সোহাগের। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। চার বছরের অনার্স শেষ করতে তার সময় লাগে সাত বছর। ফলাফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়তেন বলে একসময় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করতেন তিনি। এর অন্যতম কারণ ছিল তার বড় ভাইয়ের সিলেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা। ২০১৩ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজিতে এমএস শুরু করেন সোহাগ। কিন্তু পরিবারের ক্লিনিকসংক্রান্ত সংকটের কারণে আবারও পড়াশোনা থেমে যায়। পরে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন। সেখানে ৩ দশমিক ৪২ সিজিপিএ নিয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও যুক্ত হন সোহাগ। তার গবেষণার ফল নিয়ে প্রকাশিত হয় নয়টি গবেষণাপত্র, যার মধ্যে দুটি এলসেভিয়ারে প্রকাশিত হয়েছে বলে তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়। এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি। ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি দুর্বল থাকায় জিআরই পরীক্ষাকে শুরু থেকেই কঠিন মনে হতো তার কাছে। এমনকি প্রথমবার পরীক্ষায় বসার আগেও কয়েকবার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জিআরইতে ৩০৫ এবং আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানেও দ্রুত সাফল্য আসেনি। একের পর এক আবেদন, ফান্ডিং না পাওয়া, করোনা মহামারির প্রভাব এবং পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পথ আরও দীর্ঘ হয়। ২০২১ সালে আটটি পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি তিনি। তবুও থেমে থাকেননি সোহাগ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে ফুল ফান্ডিংসহ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে সেই ডিগ্রি শেষ করার পর এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। যে তরুণ একসময় পারিবারিক সংকটের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই নিতে পারেননি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়ার কারণে নিজের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন, সময়ের ব্যবধানে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। সোহাগের এই যাত্রা দেখিয়েছে, শিক্ষাজীবনে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধারাবাহিক চেষ্টা, গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ব্যর্থতার পরও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা একজন শিক্ষার্থীর পথ বদলে দিতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়েন, তাঁদের সেই জটিলতা কমাতেই এই ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে না। টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা হিসেবে অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীকেই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই ঋণ সুবিধা সেই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবা দিয়ে থাকে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে। এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ। ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা। সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য। নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্য প্রবাসজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরির পাশাপাশি তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সেরা সুযোগটি করে দেওয়া। আর সেই সন্তান যখন প্রিন্সটন, এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ডিউক, জনস হপকিন্স, নর্থওয়েস্টার্ন কিংবা ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, তখন সেই আনন্দ শুধু শিক্ষার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই দশটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এই বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল থাকলেই এখানে সুযোগ নিশ্চিত হয় না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার সামগ্রিক প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এদের নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড বা আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। প্রিন্সটন, হার্ভার্ড, এমআইটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে না, যাকে নিড-ব্লাইন্ড অ্যাডমিশন বলা হয়। ভর্তি হতে পারা শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজনের শতভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অনুদান বা গ্র্যান্টের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো বাধ্যতামূলক ঋণ বা লোন নিতে হয় না। এমনকি পরিবারের আয়ের নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হতে পারে। তবে ফিন্যান্সিয়াল এইড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা অভিবাসন মর্যাদাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সন্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হয়, তবে বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেশীয় আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করে নিড-ব্লাইন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক, জনস হপকিন্স বা পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিন্যান্সিয়াল এইড চাওয়ার বিষয়টি ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ টিউশন ফি দেখে ভয় না পেয়ে, আবেদন করার আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নীতি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। সন্তানকে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতে হবে এমন কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, তার যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও, শূন্য থেকে জীবন শুরু করা একজন প্রবাসী বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের এমন সাফল্য কেবল একটি কলেজে সুযোগ পাওয়ার খবর থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বছরের পর বছর দেখা স্বপ্নের এক গৌরবময় বাস্তবায়ন।
কানাডায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন ফ্রেঞ্চভাষী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে ২ হাজার ৯৭০টি স্টাডি পারমিট আবেদন গ্রহণের কোটা শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ আগস্ট। কানাডার ফ্রাঙ্কোফোন মাইনরিটি কমিউনিটিজ স্টুডেন্ট পাইলট বা এফএমসিএসপির আওতায় এই কোটা কার্যকর থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসির সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইআরসিসির ২৫ জুন স্বাক্ষরিত এবং ২১ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০টি নতুন স্টাডি পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণ না করে আবেদনকারীর কাছে ফেরত দেওয়া হবে। আগের ২০২৫-২৬ মেয়াদেও কোটা ছিল ২ হাজার ৯৭০। সুযোগ ৩৩ দেশের নাগরিকদের এই বিশেষ কর্মসূচি বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা অঞ্চলের নির্ধারিত ৩৩টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। আফ্রিকার ২৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, কোমোরোস, আইভরি কোস্ট, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, গিনি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মরক্কো, নাইজার, রুয়ান্ডা, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সেশেলস, টোগো ও তিউনিসিয়া। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মিসর ও লেবানন এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে হাইতি, ডমিনিকা ও সেন্ট লুসিয়ার নাগরিকরা সুযোগটি পাবেন। তবে শুধু এসব দেশের নাগরিক হলেই আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারীকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখার প্রতিটি দক্ষতায় কানাডিয়ান ভাষা মানদণ্ড এনসিএলসি-তে কমপক্ষে লেভেল ৫ অর্জন করতে হবে। অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার ফলও আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নয় নতুন আবেদন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। নতুন আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির আওতায় স্টাডি পারমিটের আবেদন কানাডায় প্রবেশের আগেই করতে হবে। অর্থাৎ ইতোমধ্যে কানাডায় অবস্থানকারী কেউ সাধারণভাবে এই পাইলটের নতুন মূল আবেদনকারী হিসেবে ভেতর থেকে আবেদন করতে পারবেন না। তবে আগে থেকেই এফএমসিএসপির স্টাডি পারমিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডার ভেতর থেকে সেই পারমিট নবায়নের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আইআরসিসির বর্তমান তালিকায় কুইবেকের বাইরে ১৭টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফএমসিএসপিতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লেনডন ক্যাম্পাস, ইউনিভার্সিটি দ্য মঙ্কটন, কলেজ লা সিতে এবং কলেজ বোরিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইআরসিসি। আবেদনকারীর কাছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রহণপত্র থাকতে হবে এবং সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে শিক্ষার্থী এফএমসিএসপির অধীনে আবেদন করছেন। শিক্ষা কার্যক্রমটি অবশ্যই পোস্ট-সেকেন্ডারি পর্যায়ের, পূর্ণকালীন এবং কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। কোর্স শেষ করলে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোর্সের ৫০ শতাংশের বেশি ক্লাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় পরিচালিত হতে হবে। সাধারণ স্টাডি পারমিটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা এফএমসিএসপির একটি বড় সুবিধা হলো, এই কর্মসূচির আবেদনকারীদের প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় কানাডায় সেটেলমেন্ট সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগও পান। আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথম বছরের টিউশন ফি ও যাতায়াত খরচ বহনের সামর্থ্য দেখানোর পাশাপাশি যে শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত, সেই এলাকার জন্য নির্ধারিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ শহরের জনসংখ্যা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পরের আবেদনের বর্তমান হিসাবে পাঁচ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহরে একক শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার জন্য বছরে ২২ হাজার ৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার দেখাতে হয়। গ্রামীণ এলাকায় একই হিসাব ১৫ হাজার ৭৬১ কানাডিয়ান ডলার। এর বাইরে প্রথম বছরের টিউশন ও যাতায়াতের অর্থ থাকতে হবে। স্টাডি পারমিট আবেদনের সরকারি ফি বর্তমানে ১৫০ কানাডিয়ান ডলার। পরিবারও যেতে পারবে যোগ্য শিক্ষার্থী তার স্বামী বা স্ত্রী, কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিজিটর ভিসা, স্টাডি পারমিট কিংবা ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাদের আবেদনে মূল শিক্ষার্থী যে এফএমসিএসপির আওতায় আবেদন করছেন বা অনুমোদন পেয়েছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। পড়াশোনা শেষেই খুলতে পারে স্থায়ী বসবাসের পথ এই পাইলটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু স্টাডি পারমিট নয়। সফলভাবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় স্থায়ী বসবাসের বিশেষ পথও রাখা হয়েছে। আইআরসিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এফএমসিএসপির স্থায়ী বসবাসের আবেদন ব্যবস্থা ২০২৭ সালের শীতকালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। এটিকে সরাসরি ‘পড়াশোনা করলেই পিআর নিশ্চিত’ বলা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির অধীনে স্টাডি পারমিট পেতে হবে, নির্ধারিত কমপক্ষে দুই বছরের কোর্স সফলভাবে শেষ করতে হবে, আবেদন করার সময় কুইবেকের বাইরে কানাডায় বসবাস করতে হবে এবং বৈধ অস্থায়ী স্ট্যাটাসসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে প্রচলিত অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মতো আলাদা কোনো চাকরির প্রস্তাব বা এক্সপ্রেস এন্ট্রির সিআরএস স্কোরকে এই বিশেষ নীতিতে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি। মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগ্য পরিবারের সদস্যদেরও স্থায়ী বসবাসের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট সর্বোচ্চ তিন বছরের ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্যও ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো - বাংলাদেশ এই ৩৩ দেশের তালিকায় নেই। ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ২৬ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এফএমসিএসপির ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটায় আবেদন করতে পারবেন না। ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষ হলেও নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ না হলে এই বিশেষ পাইলটের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশিদের জন্য কানাডার স্টাডি পারমিট বন্ধ। এফএমসিএসপি সাধারণ স্টাডি পারমিট ব্যবস্থা থেকে আলাদা একটি বিশেষ পাইলট। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ করলে কানাডার প্রচলিত স্টাডি পারমিট ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটা মূলত নির্দিষ্ট ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনা থেকে স্থায়ী বসবাস পর্যন্ত একটি বিশেষ পথ। তবে সীমিত কোটা, নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ফ্রেঞ্চ ভাষায় এনসিএলসি ৫, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং আর্থিক সক্ষমতাসহ প্রতিটি শর্ত পূরণ করেই আবেদন করতে হবে। আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বার্তা - এই ২ হাজার ৯৭০টি সুযোগ বাংলাদেশের জন্য নয়; কানাডায় পড়তে চাইলে তাদের নিয়মিত স্টাডি পারমিটের পথেই আবেদন করতে হবে।
দেশের মেয়েদের স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পুরস্কার ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনেও তিনি একই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করে অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। তারেক রহমান বলেন, সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের যেভাবে উপবৃত্তি দেওয়া হয়, উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মেয়েদেরও সেভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর আগে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নারীশিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বেশ কিছু নতুন সুবিধা রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া স্কুলের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালুর কাজও করছে সরকার। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক, কুইজ ও স্কাউটিংয়ের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে, কী ধরনের ফি সরকার বহন করবে এবং বৃত্তির জন্য ফলাফলের মানদণ্ড কী হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উচ্চমাধ্যমিকের পরও মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়বে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনে সমস্যায় থাকা পরিবারের মেয়েদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারে দেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নাফসা। নাফসা এবং জেবি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শরতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কমে যেতে পারে। এই হ্রাসের সরাসরি প্রভাব পড়বে টিউশন ফি, বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় ব্যবসায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের ওপর। নাফসার হিসাবে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান ৩.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এর সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবদান থেকে সমর্থিত চাকরির সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৮ হাজার। তারা দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৪২.৯ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছিলেন এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি চাকরিকে সমর্থন করেছিলেন। নাফসার মধ্যম পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে প্রায় ১১ লাখ ৫ হাজারে নেমে আসতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৫৭ হাজারে নামার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে। নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় কারণ। কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডক্টরাল প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক আবেদন ২১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিশন কমেছে ১৭ শতাংশ। কমন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ৯ শতাংশ কমেছে। ভারতের শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে ১৪ শতাংশ। নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ এবং ঘানার ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় পতন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ২৩০ জনে, যা গত ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ মাস ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এই সময়ে মোট পতন প্রায় ১২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের পতন ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৮.৬ শতাংশ কমেছে। পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পতন আরও বেশি। এই পর্যায়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরে ১১.৩ শতাংশ কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এই শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন আয় এবং গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছে নাফসা। এর মধ্যে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংকট, ভিসা প্রসেসিংয়ে বিলম্ব, নতুন ইমিগ্রেশন নীতি, কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারত ও চীনের মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সীমিত বা বিলম্বিত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় উৎস দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীন শীর্ষে থাকায় এই দুই দেশের পরিস্থিতি সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক থাকার নিয়ম চালুর সিদ্ধান্তও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাশাপাশি অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দিয়েই অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না। তারা বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, বিনোদন এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকেও সচল রাখেন। ফলে শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও ব্যবসা ও চাকরির বাজারে প্রভাব পড়ে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক অবদান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার করে এবং টেক্সাসে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ক্ষতি হতে পারে। তবে নাফসা স্পষ্ট করেছে, এগুলো চূড়ান্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা নয়, বরং বর্তমান আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যাশা এবং বিদ্যমান প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাস। ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারের পূর্ণাঙ্গ এনরোলমেন্ট তথ্য প্রকাশের পর প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে দীর্ঘদিন বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আবেদন ও এনরোলমেন্টের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক অবস্থায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। তার পিএইচডি পর্যায়ের মোট ফান্ডিংয়ের আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পুত্রবধূ ইভার এই অর্জন ইতোমধ্যে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামের ব্যবসায়ী জুলমত খাঁনের ছেলে চিকিৎসক রোমান খাঁনের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ইভার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে ফান্ডিং নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও নিজেকে যুক্ত করেন তিনি। ইভার গবেষণায় সক্রিয় থাকার তথ্যেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড রিসার্চ এনডেভার্স এক্সিবিশনে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘মোসাম্মৎ ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা’ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় তার এই অর্জনের তথ্য উঠে আসে। মাস্টার্স শেষ করার পর এবার তার সামনে খুলেছে পিএইচডির দরজা। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স বিভাগে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ও নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ একাধিক ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ গ্র্যাজুয়েট বুলেটিন অনুযায়ী, বিভাগটিতে ফিজিক্সে পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি শিক্ষার্থীর একজন অনুমোদিত ফ্যাকাল্টি মেন্টর এবং টিচিং অথবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত থাকতে হয়। ফিজিক্স বিভাগের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে প্রতিযোগিতামূলক স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ ধরনের ফান্ডিং শুধু টিউশন খরচে সীমাবদ্ধ নয়, গবেষণা ও একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়। তবে ইভার ব্যক্তিগত ফান্ডিং অফারের সুনির্দিষ্ট ডলার মূল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবার ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামে তার পাওয়া ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগে এক্সপেরিমেন্টাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাটমিক অ্যান্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও স্বাধীন গবেষণায় দক্ষ করে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইভার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন বাবা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন ইভা। বিয়ের পরও তার উচ্চশিক্ষার পথ থেমে যায়নি। ইভার স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁনও তার পড়াশোনা ও গবেষণার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। সংসার ও ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক লক্ষ্য ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নিজের অর্জন সম্পর্কে ইভা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে আরও ভালো গবেষণা করার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’ স্ত্রীর অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক রোমান খাঁন। তিনি বলেন, ‘ইভার নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য সম্পর্কে শুরু থেকেই আমি জানতাম। সে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই চেয়েছি। তার এই অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার পর্যন্ত ইভার এই যাত্রা এখন নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ব্যাচেলর পর্যায়ে কম জিপিএ থাকলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ থেকে ২.৭৫ জিপিএ নিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপার্টমেন্ট ও প্রোগ্রামভেদে অ্যাডমিশনের শর্ত আলাদা হওয়ায় শুধু একটি সাধারণ জিপিএ তালিকার ওপর নির্ভর করে আবেদন করা ঠিক নয়। বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ জিপিএ অথবা ব্যাচেলর পর্যায়ের শেষ ৬০ ক্রেডিট আওয়ারে ২.৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি জিপিএ চাইতে পারে। আরকানসাস টেক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট কলেজে সাধারণ আনকন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য ব্যাচেলর পর্যায়ে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ অথবা শেষ ৩০ ক্রেডিট আওয়ারে ৩.০০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একই সঙ্গে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চাইলে এর চেয়ে বেশি জিপিএ নির্ধারণ করতে পারে। জিপিএর শর্ত পূরণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় স্প্রিংফিল্ডে পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের জন্য সাধারণভাবে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে এখানেও প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে এবং কিছু প্রোগ্রামে এর চেয়ে বেশি জিপিএ দরকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএ থাকা আবেদনকারীকেও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৭৫-এর নিচে জিপিএ থাকলে অতিরিক্ত একাডেমিক যোগ্যতা বা জিআরইসহ অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন নীতি বোঝানো ঠিক নয়। বর্তমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন তথ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে ২.৭৫ থেকে ৩.০০ জিপিএর মানদণ্ড দেখা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন বিবেচনা করা হয়। যেমন সাইকোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। ডিপল ইউনিভার্সিটিতেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ৩.০০ জিপিএকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। ফলে ডিপল ইউনিভার্সিটিকে সামগ্রিকভাবে ‘২.৫০ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এনজেআইটির কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২.৮০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। যেমন এমএস ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সাধারণত ন্যূনতম ২.৮০ জিপিএ প্রত্যাশা করা হয়। তবে এটিও সব প্রোগ্রামের জন্য একই নিয়ম নয়। লামার ইউনিভার্সিটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ ২.৫০ হলে জিআরই ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে ২.৫০-এর নিচে গেলে ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে সরাসরি অ্যাডমিশন দেওয়া হয় না। কম জিপিএ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু জিপিএ দিয়েই অ্যাডমিশনের সিদ্ধান্ত হয় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ ৬০ ক্রেডিটের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোর্সওয়ার্ক, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, জিআরই বা জিম্যাট স্কোর এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টোফেল, আইইএলটিএস, ডুয়োলিঙ্গো বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার শর্তও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার মান পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘২.০০ থেকে ২.৯৯ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সরাসরি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করলেও আরেকটি প্রোগ্রামে ৩.০০ বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে। কোথাও আবার কম জিপিএর আবেদনকারীকে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন বা আলাদা একাডেমিক রিভিউয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন না করে প্রথমে নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার স্কোর, ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান, জিআরই বা জিম্যাটের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে স্ট্যাম্পস স্কলারশিপে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ধরনের বড় স্কলারশিপের সুযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সমৃদ্ধি তহবিল বা এনরিচমেন্ট ফান্ডের সুবিধা দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার খরচ বহনে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা পান। স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ মূলত অত্যন্ত মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক একটি সুযোগ। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন আবেদনকারীর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ রয়েছে। এসব স্কলারশিপের পরিমাণ কয়েক হাজার ডলার থেকে শুরু করে পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের সমপরিমাণ পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রতিটি স্কলারশিপের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা আলাদা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কলারশিপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা করেন। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি আবেদনকারীর একাডেমিক ও অন্যান্য যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বছরের বিশ্ববিদ্যালয় নীতির ওপর নির্ভর করে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম দেখে আবেদন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ মানেই সব ধরনের ব্যক্তিগত খরচ সবসময় পুরোপুরি বহন করা হবে এমন নয়। স্কলারশিপের আওতায় ঠিক কোন কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই আবেদন করার আগে টিউশন, ফি, আবাসন, খাবার, বই, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই শুধু আবেদন করাই নয়, ভালো একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের আবেদন ও সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কিউবার ভিলা ক্লারা প্রদেশের সান্তো দোমিঙ্গোর বাসিন্দা ইয়াসমানি ফিগুয়েরোয়া চাভিয়ানোর দেয়ালে ঝুলছে তিনটি উচ্চশিক্ষার সনদ। অপটোমেট্রিতে ডিগ্রি, পেডিয়াট্রিক অপটোমেট্রিতে স্নাতকোত্তর এবং ভিশন সায়েন্সে ডক্টরেট অর্জন করেও এখন পরিবারের দৈনন্দিন খাবার জোগাতে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি। ইয়াসমানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিজের বিশেষায়িত পেশায় নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। সংসার চালাতে তাই পেশার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিভিন্ন সৎ কাজ করতে হচ্ছে তাকে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পরিবারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে নিজের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে হয়েছে। এমনকি পোশাকও বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন তিনি। খাদ্যসংকট তার নিজের শরীরেও প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করেছেন ইয়াসমানি। তার ভাষ্য, এক মাসেরও কম সময়ে তার ওজন প্রায় ৪৫ পাউন্ড কমেছে। তবে এই ব্যক্তিগত দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের একাধিক সদস্যের চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। ইয়াসমানির দাবি, তার ৯৩ বছর বয়সী দাদা প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যথার ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মা মৃগী রোগ ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের আরেক সদস্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের দামও তাদের সামর্থ্যের বাইরে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিডিওতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান জীবনের বৈপরীত্য। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও সেই যোগ্যতা দিয়ে পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে না পারার কথা বলতে গিয়ে তিনি সাহায্য চেয়েছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কিউবা এবং দেশটির বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে ভিডিওটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। ইয়াসমানির ব্যক্তিগত পরিস্থিতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও কিউবায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট যে গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও উঠে এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের কিউবা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহু পরিবারের পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার ঘাটতির কারণে দেশীয় ও আমদানি করা খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমেছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনও জানিয়েছে, কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির চাপে রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আগস্টের শুরুতেই কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা একাধিকবার ভেঙে পড়ে। দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দায় নির্ধারণের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। কিউবা সরকার মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনারও সমালোচনা করে। এই বৃহত্তর সংকটের মধ্যেই ইয়াসমানির ভিডিওটি কিউবার বহু সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রামের একটি ব্যক্তিগত চিত্র হিসেবে সামনে এসেছে। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও খাবার ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তার আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ কাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে চলমান আলোচনায় প্রায় পাঁচ দশক আগের একটি হিসাব আবারও সামনে এসেছে। ১৯৭৮ সালে ফেডারেল মিনিমাম ওয়েজে একটি পূর্ণকালীন সামার জব করে একজন শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ ডলার আয় করতে পারতেন। অথচ সেই সময় চার বছর মেয়াদি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে নিজ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের গড় বার্ষিক টিউশন ও বাধ্যতামূলক ফি ছিল প্রায় ৬৮৮ ডলার। অর্থাৎ গড় হিসাবে এক গ্রীষ্মের উপার্জন দিয়েই পুরো বছরের টিউশন মিটিয়ে কিছু অর্থ হাতে রাখা সম্ভব ছিল। ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল মিনিমাম ওয়েজ ঘণ্টায় ২ দশমিক ৬৫ ডলারে উন্নীত হয়েছিল। একজন শিক্ষার্থী যদি গ্রীষ্মে ১৩ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতেন, তাহলে কর কাটার আগে তার মোট আয় দাঁড়াত প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ ডলার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকসের ঐতিহাসিক তথ্য ব্যবহার করে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের গড় টিউশন ও প্রয়োজনীয় ফি ছিল প্রায় ৬৮৮ ডলার। ফলে গড় হিসাবে সামারের উপার্জন টিউশন ও ফি-এর প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে এই তুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ওই ৬৮৮ ডলারের হিসাবের মধ্যে বাসস্থান, খাবার, বই, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই সময় টিউশন, ফি এবং রুম ও বোর্ড মিলিয়ে গড় ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১৪৫ ডলার। ফলে শুধু একটি সামার জবের আয় দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সব খরচ মেটানো সম্ভব ছিল, এমন দাবি সঠিক নয়। আরেকটি বিষয় হলো, ৬৮৮ ডলার ছিল জাতীয় গড় এবং তা নিজ অঙ্গরাজ্যের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও অঙ্গরাজ্যভেদে টিউশনের অঙ্ক আলাদা ছিল। অন্য অঙ্গরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে একজন শিক্ষার্থীকে বেশি টিউশন দিতে হতে পারত। তারপরও ঐতিহাসিক এই তুলনা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পরিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। ১৯৭৮ সালে মিনামাম ওয়েজে কয়েক মাসের পূর্ণকালীন কাজের আয় এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক টিউশনের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, পরবর্তী কয়েক দশকে সেটি ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু টিউশন নয়, বাসস্থান, খাবার, বই, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচও উচ্চশিক্ষার মোট ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে কলেজের খরচ মেটাতে স্কলারশিপ, ফিন্যান্সিয়াল এইড, শিক্ষাঋণ, পার্টটাইম চাকরি কিংবা পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। ১৯৭৮ সালের হিসাব তাই শুধু পুরোনো দিনের একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান নয়। এটি দেখায়, একসময় সামারের একটি মিনামাম ওয়েজ চাকরির আয় দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো বছরের গড় টিউশন মেটানো সম্ভব ছিল, যে বাস্তবতা আজকের অনেক মার্কিন শিক্ষার্থীর কাছে অনেকটাই দূরের স্মৃতি।
বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের স্নাতক মিফতাহুল জান্নাত একই সঙ্গে বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড, থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিফতাহুল জানান, কেবল একাডেমিক ফল নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই তার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বস্তি এলাকার শিশুদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সে শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচি এবং হংকংয়ে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা তার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের শিক্ষাবিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য মিফতাহুলের পরামর্শ, আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করা। তার মতে, বাস্তব সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং শিক্ষকদের শক্তিশালী সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন মিফতাহুল। তিনি চান, বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। চট্টগ্রামভিত্তিক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব ধরনের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে চীনের কিছু বেসরকারি সামার ক্যাম্প। সেখানে সম্ভাব্য অপহরণ, ঘৃণাজনিত হামলা, অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর আকস্মিক অভিযানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়াও করানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এসব প্রশিক্ষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশে বিভিন্ন জরুরি অবস্থার মুখোমুখি করা হয়। কোথাও ‘অপহরণ’ পরিস্থিতির অভিনয়, কোথাও আবার আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযানের অনুকরণে মহড়া দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের দাবি, এসব অনুশীলনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা নয়; বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থাকতে হবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা শেখানো। দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগে তিনি এমন একটি ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে তাকে অপহরণের কৃত্রিম পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয় এবং পরে প্রশিক্ষকরা ব্যাখ্যা করেন, সংকটময় মুহূর্তে কীভাবে আচরণ করলে ঝুঁকি কমানো যায়। ক্যাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে হয়রানি, প্রতারণা, বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা এবং আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত কিছু ঝুঁকির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, কিছু মহড়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় অতিরঞ্জিত হতে পারে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতি, অবস্থানের মেয়াদ এবং অভিবাসন প্রয়োগে কঠোরতার কারণে চীনা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় ইউরোপকে পেছনে ফেলে শীর্ষ দুটি স্থান দখল করে নিয়েছে এশিয়ার দুই প্রধান নগরী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যবিশ্লেষক সংস্থা ‘কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস’ (কিউএস)-এর প্রকাশিত ‘বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ ২০২৭’ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল। আর তালিকার দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। বিশ্বের ১৫০টি শহরের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সাশ্রয়ী খরচের মতো ৬টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শহরের এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের ক্ষেত্রে ১০০-তে ১০০ স্কোর করে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে সিউল। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা এই শহরটিকে অত্যন্ত উচ্চ রেটিং দিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে টোকিও ১০০ স্কোর অর্জন করেছে। পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, চমৎকার পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিশ্বের প্রধানতম আর্থিক কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় পড়ালেখা শেষে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধার জন্য টোকিও শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ইউরোপের ৬টি শহর স্থান পেলেও সামগ্রিক তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু শহরের অবস্থান আগের তুলনায় পিছিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেবল বোস্টন (১৮তম) শহরই শীর্ষ ২০-এর মধ্যে জায়গা পেতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শহরগুলোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে; যেখানে চীনের বেইজিং ১৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থানে উন্নীত হয়েছে এবং সিঙ্গাপুর, তাইপে ও কুয়ালালামপুরের অবস্থানও আগের চেয়ে বেশ মজবুত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় বৈচিত্র্যের একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে। জর্জিয়ার অন্যতম বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি তাদের কম্পিউটিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে হিজাব পরা এক তরুণীকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে কম্পিউটারের সামনে ওই তরুণীর ছবি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের তাদের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানাচ্ছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিতে লেখা হয়েছে, “Explore KSU’s Master’s Degrees in Computing।” সেখানে অনলাইন, সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস করার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটিংয়ের মাস্টার্স পর্যায়ে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আটলান্টার উত্তরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির এসব প্রোগ্রাম প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিতে হিজাব পরা একজন নারীকে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রচারণার দৃশ্যমান মুখ হিসেবে ব্যবহার করায় বিষয়টি মুসলিম কমিউনিটির জন্যও ইতিবাচক প্রতিনিধিত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় হিজাবি নারীর উপস্থিতি দেশটির উচ্চশিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দৃশ্যমানতার একটি প্রতিফলন। তবে ছবিতে থাকা তরুণীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞাপনে কোনো তথ্য দেয়নি। তিনি হিজাব পরিহিত একজন তরুণী এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রচারণায় তাকে সেভাবেই দেখা যাচ্ছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি ছোট কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফল সেমিস্টারে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৫১ হাজার ৩৭৫ জন। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ৫ হাজার ৩০৬ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে এটি জর্জিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। মেট্রো আটলান্টার কেনেসো ও মেরিয়েটায় বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। ১১টি কলেজের মাধ্যমে ১৯০টির বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স, ডক্টরাল ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্নেগি শ্রেণিবিন্যাসে কেনেসো স্টেট একটি আরটু ডক্টরাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে মোট শিক্ষার্থী বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচারণায় বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা নতুন নয়। তবে প্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাব পরা একজন নারীকে সামনে আনা মুসলিম নারীদের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি শিক্ষাঙ্গনের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের অংশ।
রাশিয়ায় বিদ্যালয়ভিত্তিক সাধারণ পড়াশোনা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ঐতিহাসিক ধস নেমেছে। সম্পতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে নবম শ্রেণি শেষ করে মাত্র ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ১০ম শ্রেণিতে পদার্পণ করছে, যা আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ পড়াশোনার পরিবর্তে দ্রুত কারিগরি কলেজে ভর্তি করা এবং কারিগরি পেশায় যুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় কৌশল দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ফলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ের মতো সাধারণ শিক্ষার বাইরে ছিটকে পড়ার যে ভয় অভিভাবকদের মনে ছিল, তা ফের চেপে বসেছে দেশটির সমাজে। বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পথ থেকে সরিয়ে কারিগরি শিক্ষার দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে ক্রেমলিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বেশ কয়েকটি হিসাব কাজ করছে। প্রথমত, একটি সন্তানকে ১১ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষা দেওয়ার খরচ ৯ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা খাতের পেছনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ রাখতে চাইছে না মস্কো। দ্বিতীয়ত, সাধারণ শিক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর সময় পার করা শিক্ষার্থীদের চেয়ে কারিগরি কলেজ থেকে বের হওয়া তরুণরা যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে দ্রুত ভূমিকা রাখতে পারে। তারা সরাসরি কারখানাগুলোতে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হতে পারবে এবং ট্যাক্স দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে অবদান রাখতে পারবে। গবেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়ার বর্তমান শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক মনোভাব দিন দিন চরম সোশ্যাল ডারউইনবাদী ও অমানবিক রূপ নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্হতা ও জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমের বদলে কেবল যুদ্ধকালীন শ্রমশক্তি এবং সামরিক বাহিনীর জোগানদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের যোগ্য করার চেষ্টা না করে তাদেরকে সস্তা শ্রমশক্তি কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্তরে নীতি-নির্ধারকদের এই কঠোর সিদ্ধান্ত রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দেশটির শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইউরোপ উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে ইউরোপের সব দেশে পড়াশোনা বিনা খরচে করা যায় কিংবা তালিকাভুক্ত সব বৃত্তিই সম্পূর্ণ অর্থায়িত—এমন ধারণা ঠিক নয়। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী টিউশন ফি এবং বৃত্তির সুবিধা ভিন্ন হয়। কোনো বৃত্তিতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমা—সবকিছু দেওয়া হয়। আবার কোনো কর্মসূচি কেবল টিউশন ফি মওকুফ বা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা থাকলেও প্রতিটির যোগ্যতা ও সুযোগ আলাদা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো। ১. ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তিগুলোর একটি ইরাসমাস মুন্ডাস। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক ইউরোপীয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়ার সুযোগ পান। বৃত্তিতে শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা, প্রাথমিকভাবে বসবাস শুরু করার খরচ এবং মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে ২৪ মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদন করতে হয় পছন্দের কোর্স পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা কনসোর্টিয়ামের কাছে। ২. যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। মাস্টার্স, পিএইচডি, শেয়ার্ড মাস্টার্স, দূরশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমে আলাদা সুযোগ রয়েছে। সাধারণত টিউশন ফি, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় দেওয়া হয়। তবে সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো বিভাগে মনোনয়নকারী সংস্থার মাধ্যমে এবং কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। ৩. শেভেনিং স্কলারশিপ শেভেনিং যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স বৃত্তি। এটি সাধারণত এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দেওয়া হয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশি নাগরিকেরা এই বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বছরের আবেদনকাল আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয়। ৪. সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ সাধারণত যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে। এই বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমা এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুইডেনের নির্ধারিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয়, এরপর আলাদাভাবে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। সুইডেনের সব বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি অবশ্য পূর্ণ অর্থায়িত নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টিউশন ফির একটি অংশ বা পুরোটা মওকুফ করে। ৫. জার্মানির ডিএএডি বৃত্তি জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি বৃত্তি পরিচালনা করে। উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মজীবীদের জন্য ইপোস কর্মসূচি বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বৃত্তিভেদে মাসিক ভাতা, বিমা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে। সব ডিএএডি কর্মসূচি পূর্ণ অর্থায়িত নয় এবং সব কোর্সে চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলকও নয়। ৬. অস্ট্রিয়ার ওএএডি বৃত্তি অস্ট্রিয়ার শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকীকরণ সংস্থা ওএএডি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য এবং আবেদনব্যবস্থা পরিচালনা করে। স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে ‘ওএএডি’ একটি একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির নাম নয়; এটি বিভিন্ন বৃত্তি ও অনুদানের প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি কর্মসূচির সুবিধা, বয়সসীমা ও যোগ্যতা আলাদা। ৭. সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ সুইজারল্যান্ড সরকারের এই বৃত্তি মূলত বিদেশি গবেষক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কিছু ক্ষেত্রে শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের জন্য। এটি সাধারণ ব্যাচেলর বা সব ধরনের মাস্টার্স কোর্সের বৃত্তি নয়। গবেষণা প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুইজারল্যান্ডের কোনো অধ্যাপক বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ৮. ইটিএইচ জুরিখ বৃত্তি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল প্রয়োজন। ইটিএইচ জুরিখের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তি পান না। ৯. নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি নেদারল্যান্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একাধিক বৃত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মাস্ট্রিখ ইউনিভার্সিটি, টিইউ ডেলফট, লেইডেন ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মসূচি পূর্ণ বা বড় অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তবে ‘স্টাডি ইন হল্যান্ড’ নিজে কোনো একক পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। নেদারল্যান্ডস স্কলারশিপসহ অনেক কর্মসূচি আংশিক অনুদান দেয়। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নের পরিমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ১০. ফিনল্যান্ডের বৃত্তি ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক টিউশন ফি এবং বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ বৃত্তি টিউশন ফি আংশিক বা পুরো মওকুফ করে; জীবনযাত্রার সব খরচ সবসময় বহন করে না। এডুফি ফেলোশিপ মূলত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে সবার জন্য সাধারণ ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের পূর্ণ বৃত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ১১. ডেনমার্কের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ডেনমার্কের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের উচ্চমেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে টিউশন মওকুফ এবং কখনো জীবনযাত্রার অনুদান দেয়। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সে এই সুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হয়। ১২. বেলজিয়ামের ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি ভিএলআইআর-ইউওএস নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বৃত্তি দেয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা প্রতি বছরের দেশতালিকা ও কোর্স অনুযায়ী যাচাই করতে হয়। নির্বাচিতদের টিউশন, ভ্রমণ, বিমা এবং জীবনযাত্রার খরচ দেওয়া হতে পারে। ১৩. মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে অনুদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে এটি সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত ফ্লেমিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে মনোনয়ন দেয়। ১৪. ফ্রান্সের আইফেল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ফরাসি সরকারের আইফেল বৃত্তি নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে মাসিক ভাতা, ভ্রমণ, বিমা এবং কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকতে পারে। তবে আইফেল কর্মসূচি সাধারণভাবে টিউশন ফি সরাসরি বহন করে না। শিক্ষার্থী নিজে সরাসরি আবেদনও করতে পারেন না; ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। ১৫. এমিল বুতমি স্কলারশিপ ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি বৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেওয়া হয়। এটি ‘শুধু বিজ্ঞান বিভাগের’ বৃত্তি নয় এবং সবসময় পূর্ণ অর্থায়নও দেয় না। অর্থের পরিমাণ শিক্ষার স্তর ও নির্বাচিত বৃত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ১৬. ইতালিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের এমএইসিআই বৃত্তি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স, উচ্চতর শিল্প ও সংগীত শিক্ষা, পিএইচডি, গবেষণা এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কোর্সে সহায়তা দেয়। সাধারণত মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবিমা থাকে। টিউশন মওকুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি এবং কোর্সের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ইতালির বিভিন্ন আঞ্চলিক বৃত্তি—যেমন ডিএসইউ বা ইআর-জিও—পারিবারিক আয় ও মেধার ভিত্তিতে টিউশন মওকুফ, আবাসন, খাবার এবং নগদ ভাতা দিতে পারে। ১৭. নরওয়েতে পড়াশোনা নরওয়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিনা টিউশন ফিতে হয়, এই পুরোনো তথ্য এখন আর সাধারণভাবে সঠিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে টিউশন ফি দিতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন মওকুফ দিতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ তথ্যেও বলা হয়েছে, নরওয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। ১৮. হাঙ্গেরির স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত সরকারি বৃত্তিগুলোর একটি স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, সমন্বিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে সুযোগ থাকে। সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং চিকিৎসাবিমা দেওয়া হয়। তবে আবাসন ও মাসিক ভাতা সব জীবনযাত্রার ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। বাংলাদেশের মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং হাঙ্গেরির অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনসংক্রান্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ১৯. এস্তোনিয়ার সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি এস্তোনিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, বিনিময়, গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং গবেষণার জন্য বিভিন্ন অনুদান দেয়। কিছু বৃত্তি মাসিক ভাতা দেয়, আবার কিছু কেবল নির্দিষ্ট খরচ বহন করে। এস্তোনিয়ার সব বৃত্তিকে পূর্ণ অর্থায়িত বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে সুযোগ যাচাই করতে হবে। ২০. চেক সরকারের বৃত্তি চেক প্রজাতন্ত্র নির্বাচিত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি বৃত্তি দেয়। তবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে তালিকাভুক্ত কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করতে হবে। চেক ভাষা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য যোগ্যতা ও প্রস্তুতিমূলক কোর্সের নিয়মও আলাদা হতে পারে। ২১. পোল্যান্ডের বৃত্তি পোল্যান্ডে ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা নাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। ‘অল অ্যাবাউট পোল্যান্ড স্কলারশিপ’ নামে একক কোনো প্রধান সরকারি পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে নাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা যাচাই করা উচিত। ২২. লিথুয়ানিয়ান স্টেট স্কলারশিপ লিথুয়ানিয়া নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন মাস্টার্স, স্বল্পমেয়াদি অধ্যয়ন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির কোর্সে সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিবছর সব বিভাগে যোগ্য নাও থাকতে পারে। বৃত্তিতে টিউশন ও মাসিক ভাতার পরিমাণ কর্মসূচিভেদে আলাদা। ২৩. লাটভিয়ার সরকারি বৃত্তি লাটভিয়ায় কোনো বৃত্তি নেই—এ দাবি সঠিক নয়। দেশটির সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক এবং গ্রীষ্মকালীন স্কুলের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে। তবে যোগ্য দেশের তালিকা, অর্থের পরিমাণ ও শিক্ষার স্তর প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। এই অনুদান সব ব্যয় পূরণ নাও করতে পারে। ২৪. মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন মওকুফ বা বৃত্তি দিতে পারে। এটি মাল্টায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্বয়ংক্রিয় পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা নয়। বিভাগ, গবেষণা প্রকল্প ও তহবিলের প্রাপ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। ২৫. রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ রাশিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কোটার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তি দেয়। এতে সাধারণত টিউশন ফি এবং সীমিত মাসিক ভাতা থাকতে পারে। আবাসন, যাতায়াত, বিমা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কতটা শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে, তা আগে যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনাও বিবেচনায় নিতে হবে। ২৬. তুর্কিয়ে বুরসলারি তুরস্ক সরকারের তুর্কিয়ে বুরসলারি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের বহুল পরিচিত পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান নির্ধারণ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, তুর্কি ভাষা শিক্ষা এবং একবারের যাতায়াত টিকিট অন্তর্ভুক্ত থাকে। বয়স, ফলাফল এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ২৭. মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস মারি স্ক্লোদোভস্কা-কুরি অ্যাকশনস কেবল প্রচলিত অর্থে পিএইচডি বৃত্তি নয়। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা ও গবেষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ডক্টরাল নেটওয়ার্কের অর্থায়িত পিএইচডি পদ ছাড়াও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষক বিনিময় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রকল্প রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তির আবেদন না করে প্রকাশিত গবেষণা পদে চাকরিপ্রার্থীর মতো আবেদন করেন। শুধু আইইএলটিএস ও চাকরি থাকলেই কি আবেদন করা যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বৃত্তিতে শুধু আইইএলটিএস এবং বর্তমানে চাকরির প্রমাণ দিলেই আবেদন করা যায়—এ তথ্য সঠিক নয়। প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে থাকতে পারে শিক্ষাগত সনদ, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, মোটিভেশন লেটার, জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, কাজ বা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রস্তাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ। সব বৃত্তিতে চাকরি বাধ্যতামূলক নয়। আবার শেভেনিং, সুইডিশ ইনস্টিটিউট, ডিএএডির কিছু কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে সব বৃত্তিতে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টোয়েফল, পিটিই, কেমব্রিজ পরীক্ষা কিংবা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে শুধু ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ সনদ সব প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না। আবেদনের আগে যা যাচাই করতে হবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের শিক্ষার স্তর, বিষয়, ফলাফল, ভাষা দক্ষতা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বৃত্তি বাছাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ঘোষণায় আবেদনকাল, যোগ্য দেশ, বয়সসীমা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি। কোনো ফেসবুক পোস্ট, ব্যক্তিগত ব্লগ বা এজেন্সির তালিকা দেখে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনও শিক্ষার্থীদের দেশভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ভিসা ও জীবনযাত্রার তথ্য সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেয়। বৃত্তির সময়সীমা ও নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। ফলে পুরোনো তালিকা অনুসরণ না করে আবেদন করার শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও এবার যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রিসার্চ) বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ EPSRC Doctoral Landscape Award (DLA) লাভ করেছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণাকালীন জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক স্টাইপেন্ডও পাবেন, যা পুরো গবেষণা মেয়াদজুড়ে প্রদান করা হবে। আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত তার তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি Q1, একটি Q2 এবং একটি Q4 মানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়া স্প্রিংগার থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের অধ্যায়, দুটি IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং স্প্রিংগারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি গবেষণাপত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধারাবাহিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত একাডেমিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি গবেষণার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। যুক্তরাজ্যের Engineering and Physical Sciences Research Council (EPSRC) দেশটির প্রকৌশল ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী সংস্থা। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত Doctoral Landscape Award-এর মাধ্যমে প্রতিবছর নির্বাচিত গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনও পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলেও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মনে করেন, বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া, শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি করা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়াও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কুয়েটের একজন তরুণ শিক্ষক থেকে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জনের এই সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত গবেষণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
একসময় যে পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেই পরিবার থেকেই উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন গোলাম আজম। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই পথচলা এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেই বেড়ে ওঠা গোলাম আজম পড়াশোনা থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও ধাপে ধাপে তিনি স্কুল ও কলেজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ভর্তি হন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে উচ্চশিক্ষা শেষ করে গবেষণার পথে এগিয়ে যান। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করে তিনি ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ অর্জন করেন। এতে তার টিউশন ফি ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোলাম আজমের এই সাফল্য দেখিয়ে দেয়, প্রতিকূল পরিবেশ সবসময় স্বপ্নপূরণের পথে শেষ কথা নয়। যোগ্যতা, ধারাবাহিক পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব। উল্লেখ্য, গোলাম আজমের পারিবারিক অবস্থা ও শিক্ষাজীবনের তথ্য তার পরিচিতজনদের দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে জানা গেছে। তার ফুল ফান্ডেড পিএইচডির তথ্য প্রকাশিত বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।