আমেরিকা

প্রিন্সটন-হার্ভার্ড থেকে এমআইটি, যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৮:১০
যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা
যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্য প্রবাসজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরির পাশাপাশি তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সেরা সুযোগটি করে দেওয়া।

 

আর সেই সন্তান যখন প্রিন্সটন, এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ডিউক, জনস হপকিন্স, নর্থওয়েস্টার্ন কিংবা ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, তখন সেই আনন্দ শুধু শিক্ষার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই দশটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

 

এই বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল থাকলেই এখানে সুযোগ নিশ্চিত হয় না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার সামগ্রিক প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে থাকে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এদের নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড বা আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। প্রিন্সটন, হার্ভার্ড, এমআইটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে না, যাকে নিড-ব্লাইন্ড অ্যাডমিশন বলা হয়।

 

ভর্তি হতে পারা শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজনের শতভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অনুদান বা গ্র্যান্টের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো বাধ্যতামূলক ঋণ বা লোন নিতে হয় না। এমনকি পরিবারের আয়ের নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হতে পারে।

 

তবে ফিন্যান্সিয়াল এইড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা অভিবাসন মর্যাদাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সন্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হয়, তবে বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেশীয় আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করে নিড-ব্লাইন্ড সুবিধা দেওয়া হয়।

 

কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক, জনস হপকিন্স বা পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিন্যান্সিয়াল এইড চাওয়ার বিষয়টি ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ টিউশন ফি দেখে ভয় না পেয়ে, আবেদন করার আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নীতি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

 

সন্তানকে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতে হবে এমন কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, তার যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও, শূন্য থেকে জীবন শুরু করা একজন প্রবাসী বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের এমন সাফল্য কেবল একটি কলেজে সুযোগ পাওয়ার খবর থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বছরের পর বছর দেখা স্বপ্নের এক গৌরবময় বাস্তবায়ন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।   আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:   মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।   রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।   নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   র‍্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:   মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র‍্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:   আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।   প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:   আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।   স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:   এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।   আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৯:৯
ফ্লোরিডায় ছাত্রকে যৌ ন নিপীড়নের দায়ে শিক্ষিকার ৩০ মাসের কারাদণ্ড

ফ্লোরিডায় ছাত্রকে যৌ ন নিপীড়নের দায়ে শিক্ষিকার ৩০ মাসের কারাদণ্ড, স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা

যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা

প্রিন্সটন-হার্ভার্ড থেকে এমআইটি, যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির বিমা গ্রাহকদের ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির বিমা গ্রাহকদের ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম

যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের সরকারি ফর্ম পূরণ আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক অ্যানি লোওরে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই “দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম — অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট”-এ এই বিষয়টিকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের ওপর কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, নষ্ট হওয়া এই শ্রমঘণ্টার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির জন্য বছরে প্রায় ছয় দিন পূর্ণকালীন কাজের সমান।   আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হলেন জেফ মিলার নামের এক ব্যক্তি। ২০০১ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি মোটরযান কার্যালয়ে (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থানান্তর করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, সরকারি খাতায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী! আসলে একই দিনে ও একই রাজ্যে জন্ম নেওয়া জেফ মিলার নামের অন্য এক ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিলারকে তার জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড জোগাড় করতে হয়েছিল।   নিউজার্সি থেকে তাকে একটি চিঠিও সংগ্রহ করতে হয় প্রমাণ করার জন্য যে, তিনি সেই অপরাধী জেফ মিলার নন। কিন্তু তাতেও হয়রানির শেষ হয়নি; পরবর্তী সময়ে কানাডা ভ্রমণ শেষে তাকে সীমান্তে আটক করা হয় এবং অপরাধীদের বাড়ি ভাড়া দেয় না বলে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়।   বইটিতে দেখানো হয়েছে, এই ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের অপচয় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে দরিদ্র, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের। উটাহ রাজ্যের তিন সন্তানের একক মা মার্সেলা প্যাটিনোর সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ৩০০ ডলার এবং তিনি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।   কিন্তু বারবার কাগজপত্রের প্রমাণ দেওয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইটের জটিলতার কারণে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি মিশিগান রাজ্যে একসময় সরকারি সহায়তার আবেদনের ফর্মটি ছিল ৪০ পৃষ্ঠার এবং ১৮ হাজার শব্দ সংবলিত।   সেখানে আবেদনকারীদের ওজন, চুলের রঙের পাশাপাশি কোনো নারী গর্ভবতী হলে তার সন্তান ঠিক কোথায় এবং কবে মাতৃগর্ভে এসেছিল— এমন অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতো। লোওরে এই পরিস্থিতিকে ‘পেপারওয়ার্ক ভোর্টেক্স’ বা কাগজপত্রের ঘূর্ণিপাক বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার চেয়ে ফর্ম পূরণ করাই দরিদ্রদের মূল কাজে পরিণত হয়।   তবে পরিস্থিতি যে অপরিবর্তনযোগ্য, তা কিন্তু নয়। বইটিতে উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব সরকারি সেবা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। তাদের ‘অনলি ওয়ান্স’ বা ‘কেবল একবার’ নীতির ফলে এক সংস্থাকে তথ্য দিলে অন্য সংস্থাগুলো সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে।   ফলে এস্তোনিয়ার নাগরিকরা মাইক্রোওভেনে পপকর্ন ভাজতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমেরিকার মিশিগান রাজ্যও তাদের সেই বিশাল ফর্মটি ছোট করে ৮০ শতাংশ শব্দ কমিয়ে আনে, যার ফলে আবেদন সফল হওয়ার হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে দাঁড়ায়।   অ্যানি লোওরের মতে, নাগরিকদের অপেশাদার আমলা বানানো সরকারের কাজ হতে পারে না; বরং মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সরকারের উচিত নিজেদের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেরাই পালন করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৭:০
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা

মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা

নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান

নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অভিবাসীরা

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা

ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স নামের একটি ইহুদি শিক্ষকদের সংগঠনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অন্তত ২৫০টি ইহুদি বিদ্বেষী এবং ইসরায়েলবিরোধী ঘটনা ঘটেছে।   গত জানুয়ারিতে মেয়র জোহরান মামদানী এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের কাছে পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিটিতে সামগ্রিক ঘৃণাত্মক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ঘটনাই ইহুদি বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শত্রুতার একটি স্থায়ী প্রবণতা প্রকাশ করে।   নথিবদ্ধ ঘটনার বেশিরভাগ জুড়েই রয়েছে সরাসরি হয়রানি, ভাঙচুর ও হুমকি। এর পাশাপাশি পক্ষপাতদুষ্ট পাঠ্যক্রম, নির্দেশনামূলক উপকরণ এবং ওয়াকআউট বা বিক্ষোভের মতো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাজড়ে একটি প্রতিকূল শিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। যদিও সিটি স্কুলগুলো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণাত্মক ঘটনার আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না, তবে ধর্মভিত্তিক বুলিং, হয়রানি এবং বৈষম্যের সামগ্রিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   উপাত্ত অনুযায়ী, প্রি-কোভিড সময়কালের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমন ১৫১টি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৬৭টি, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৮টি এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩১৯টিতে দাঁড়ায়।   সংগঠনের সভাপতি মোশে স্পার্ন জানান, নথিভুক্ত ঘটনার প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ ছিল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষা, ১০ শতাংশ ওয়াকআউট এবং বাকিগুলো অনলাইন পোস্টসহ অন্যান্য স্টাফ অ্যাকশনের সাথে সম্পর্কিত। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, প্রতিবেদনের ৩৭ শতাংশ ঘটনা ব্রুকলিনের স্কুলগুলোতে, ২৭ শতাংশ কুইন্সে, ২৫ শতাংশ ম্যানহাটনে, ৯ শতাংশ ব্রংক্সে এবং ২ শতাংশ স্টেটান দ্বীপে সংঘটিত হয়েছে।   মৌখিক হয়রানির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইহুদিবিদ্বেষী ট্রপ, হলোকাস্টের প্রসঙ্গ এবং ইসরায়েলি ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুরের ঘটনায় স্বস্তিকা চিহ্ন ও অন্যান্য ঘৃণাত্মক প্রতীক অঙ্কনের পাশাপাশি শারীরিক হুমকি এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে।   অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ইহুদিদের ধর্মীয় সুবিধা এবং স্কুল জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত বা অস্বীকৃত হয়েছে। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স জানিয়েছে, স্কুল বা জেলা নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে প্রতিকূল পরিবেশ বহাল রয়েছে।   কুইন্সের টাউনসেন্ড হাই স্কুলে গ্র্যাজুয়েশনের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সে যোগদানের কারণে এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা এবং ব্রুকলিন টেক হাই স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে স্বস্তিকা খোদাই করার মতো ঘটনা এর কিছু উদাহরণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি শিক্ষা বিভাগের সমস্ত নিয়ম নীতি এবং পেশাদার প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ জোটের (IHRA) ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের 'শূন্য সহনশীলতা' (zero tolerance) নীতি রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো রিপোর্ট করা ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা বদ্ধপরিকর। ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে বুলিং ও পক্ষপাত প্রতিরোধে ডেডিকেটেড স্টাফ এবং অভিযোগ জানানোর নানা মাধ্যম চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:৭
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল

সংগীতশিল্পী শাকিরা

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

0 Comments