- প্রচ্ছদ
- Topic
এফডিএ
যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে। এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম। সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য। নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আলঝেইমার রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমবারের মতো এমন একটি রক্ত পরীক্ষার অনুমোদন দেয়, যা আলঝেইমার রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। আগে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অ্যামাইলয়েড প্লাক শনাক্ত করতে সাধারণত মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষা অথবা ব্যয়বহুল পিইটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন হতো। নতুন পরীক্ষায় সাধারণ রক্তের নমুনা ব্যবহার করা হয়, ফলে রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর হতে পারে। আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষাটি রক্তের নমুনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এই প্লাক আলঝেইমার রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তবে পরীক্ষাটি একাই রোগ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়নি; রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে চিকিৎসকদের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। এই অগ্রগতিকে ঘিরে আশার কথা জানিয়েছেন আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবক জোলিন ডি ব্র্যাঙ্গো। তাঁর শ্বশুর এই রোগে মারা গেছেন। রোগী, পরিবারের সদস্য, পরিচর্যাকারী এবং ভবিষ্যতে নিজেরাও আক্রান্ত হতে পারেন—এমন মানুষের জন্য নতুন পরীক্ষাটি আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। ডি ব্র্যাঙ্গোর ভাষায়, আলঝেইমার শুধু কারও নাম ভুলে যাওয়া কিংবা নিজের পরিচয় মনে করতে না পারার বিষয় নয়। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। একসময় মস্তিষ্ক শরীরের অন্যান্য অংশকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও হারাতে থাকে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা রোগটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং রোগী ও পরিবারের ওপর এর মানসিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে। নতুন পরীক্ষাটি তৈরি করেছে ফুজিরেবিও ডায়াগনস্টিকস। এর নাম লুমিপালস জি পিটাউ২১৭/বিটা-অ্যামাইলয়েড ১-৪২ প্লাজমা রেশিও। এটি রক্তের প্লাজমায় থাকা দুটি প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করে এবং তাদের অনুপাত হিসাব করে। এই অনুপাতের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল সংগ্রহের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন কমতে পারে। এফডিএর মূল্যায়নে ৪৯৯ জনের রক্তের নমুনা নিয়ে করা একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষায় যাঁদের ফল পজিটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯১ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষায় অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে, যাঁদের ফল নেগেটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক পরীক্ষাগুলোতেও প্লাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু রোগীর ফল অনিশ্চিত ছিল। এ কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া শুধু এই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। আলঝেইমার রোগের এখনো কোনো নিরাময় নেই। তবে কিছু ওষুধ রোগের অগ্রগতি ধীর করতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত রোগীরা আগেভাগে চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন। ডি ব্র্যাঙ্গোর মতে, রোগের অগ্রগতি ধীর করার চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। প্রিয়জন যেন পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারেন এবং পছন্দের কাজগুলো করতে পারেন—সেই সময়টুকুও পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এফডিএর তৎকালীন কমিশনার মার্টিন এ. মাকারি বলেন, আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের নতুন প্রযুক্তি রোগীদের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আলঝেইমার স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়ের সঙ্গে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন, আর বিশ্বজুড়েও বহু মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। এটি ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরন। তবে নতুন রক্ত পরীক্ষা সবার জন্য সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নয়। এটি মূলত ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং আলঝেইমার বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে—এমন রোগীদের মূল্যায়নে চিকিৎসকদের সহায়তার জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। ভুল পজিটিভ বা ভুল নেগেটিভ ফলের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়েই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
হারপিসের সংক্রমণে আক্রান্ত যেসব রোগীর শরীর প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না, তাঁদের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘প্রিটেলিভির’ নামের মুখে খাওয়ার এই ওষুধটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাঁদের হারপিসের ঘা প্রচলিত চিকিৎসায় সারছে না। গত ৯ অক্টোবর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাণিজ্যিক নাম হোভিলপ্রি। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আসাহি কাসেই ওষুধটি বাজারজাত করবে। তবে ওষুধটি সব ধরনের হারপিস সংক্রমণের জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না করলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত ঠোঁট, নাক, চোখ, যৌনাঙ্গ কিংবা ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির অন্যান্য স্থানে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে যায়। বর্তমানে এর সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির ও ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ হারপিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাও তৈরি করে। ফলে ঘা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মতো একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। প্রিটেলিভির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এর ফলে ভাইরাস নিজের জিনগত উপাদানের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রচলিত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করার আগে ভাইরাসের একটি এনজাইমের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। প্রিটেলিভিরের কাজ করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে রয়েছে ১০১ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। এতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা প্রিটেলিভির পেয়েছিলেন, তাঁদের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশের ঘা ২৮ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। অন্য চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষায় প্রিটেলিভিরের সঙ্গে চিকিৎসকদের বেছে নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসার ফল তুলনা করা হয়। এসব চিকিৎসার মধ্যে ছিল শিরায় প্রয়োগ করা ফসকারনেট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে প্রয়োগ করা সিডোফোভির ও ইমিকুইমড। ফসকারনেট এমন রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, যাঁদের প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষায় প্রিটেলিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। নতুন ওষুধ অনুমোদিত হওয়া মানেই এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত—এমন নয়। ওষুধটির সম্ভাব্য বাজার নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আসাহি কাসেইয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জন্য প্রিটেলিভির কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে ওষুধটির বার্ষিক বিক্রি ৪০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অনুমান, নিশ্চিত বিক্রির হিসাব নয়। প্রিটেলিভিরের অনুমোদন এমন রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করেছে, যাঁদের হারপিসের সংক্রমণ প্রচলিত ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় যাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে। তবে এর ব্যবহার নির্দিষ্ট রোগীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে। রোগীর অবস্থা, আগের চিকিৎসার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে। টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত। তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অগ্রসর ও ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ করে স্টেজ-৪ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় এফডিএ জানায়, ইমলুনেস্ট্র্যান্ট (ব্র্যান্ড নাম ইনলুরিও) ও অ্যাবেমাসিক্লিব (ব্র্যান্ড নাম ভারজেনিও) একসঙ্গে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যাদের ক্যানসার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর-পজিটিভ, এইচইআর২-নেগেটিভ এবং ইএসআর১ জিনে পরিবর্তন রয়েছে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনলুরিও ও ভারজেনিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার বাড়া বা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখার সময় গড়ে ১১ দশমিক ১ মাস হয়েছে। শুধু ইনলুরিও ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৫ দশমিক ৫ মাস। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রধান তদন্তকারী কোমল ঝাভেরি বলেন, প্রথম দিকের চিকিৎসা বা সহায়ক চিকিৎসার পরও রোগের অগ্রগতি দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ক্যানসার বৃদ্ধির দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধের সমন্বিত ব্যবহার চিকিৎসায় প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এফডিএ জানিয়েছে, ইনলুরিও ব্যবহারে ভ্রূণের ক্ষ তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারজেনিওর ক্ষেত্রে গুরুতর ডায়রিয়া, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ বা ক্ষ তি, লিভারের সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা এবং ভ্রূণের ক্ষ তির মতো ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। দুই ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় রোগীদের মধ্যে সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এফডিএর সুপারিশ অনুযায়ী, ইনলুরিও প্রতিদিন একবার ৪০০ মিলিগ্রাম খালি পেটে সেবন করতে হবে। খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারজেনিওর ক্ষেত্রে ইনলুরিওর সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার ১৫০ মিলিগ্রাম করে সেবনের সুপারিশ করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও এটি গ্রহণ করা যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে। গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে। এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল। জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস। প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দেশের প্রথম এমআরএনএ প্রযুক্তির ফ্লু ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভ্যাকসিনটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানিয়েছে। কোভিড-১৯ টিকায় ব্যবহৃত একই মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ভ্যাকসিনটি ২০২৬-২০২৭ ফ্লু মৌসুমের আগেই ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ভ্যাকসিনটি ত্বরান্বিত বা 'অ্যাকসেলারেটেড' অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে প্রবীণদের ওপর এর কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে মডার্না তাদের অতিরিক্ত গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এটি মানুষের ওপর প্রয়োগও করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমআরএনএ প্রযুক্তির ভ্যাকসিনগুলো দ্রুত আপডেট করা সম্ভব, যা প্রতিনিয়ত রূপ পরিবর্তনশীল ফ্লু ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করবে। প্রায় ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত একটি ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্রচলিত ফ্লু ভ্যাকসিনের তুলনায় নতুন এই ভ্যাকসিনটি ফ্লু আক্রান্তের হার ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। মডার্না জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে গুরুতর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবে প্রচলিত ফ্লু শটের তুলনায় এই টিকায় কিছু স্বল্পমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে হাতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং জ্বর। যদিও এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু এবং সাময়িক ছিল। ফক্স নিউজের সিনিয়র মেডিকেল অ্যানালিস্ট ডা. মার্ক সিগেল জানান, এটি কোনো সার্বজনীন ভ্যাকসিন নয়, বরং নির্দিষ্ট ফ্লু স্ট্রেন শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত উৎপাদনের লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে এবং এটি মূলত বয়স্কদের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রবীণরা সাধারণত ফ্লুতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্যমতে, ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লু-জনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ এবং মারা যাওয়াদের মধ্যে ৭১ শতাংশেরই বয়স ছিল ৬৫ বা তার বেশি। ওই মৌসুমে আনুমানিক ৫ কোটি ১০ লাখ আমেরিকান ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৭ লাখ ১০ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এর আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ডিজাইনে ত্রুটির কারণ দেখিয়ে এফডিএ প্রথমে মডার্নার আবেদনটি পর্যালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানালে এই নতুন এমআরএনএ ভ্যাকসিনটি বাধার মুখে পড়ে। তবে মডার্না এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে পরবর্তীতে এফডিএ পর্যালোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়। গত জুনে এফডিএ-এর একটি স্বাধীন উপদেষ্টা কমিটি একমত হয় যে, ভ্যাকসিনটির ঝুঁকির চেয়ে এর উপকারিতাই বেশি, যা শেষ পর্যন্ত এর চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ প্রশস্ত করে। মডার্নার মতে, এই যুগান্তকারী অনুমোদন ভবিষ্যতে এমন সমন্বিত বা 'কম্বিনেশন' ভ্যাকসিনের পথ খুলে দেবে, যা একসাথে একাধিক শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ফ্লু এবং কোভিড-১৯-এর একটি সমন্বিত ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে মানুষ এক শটেই পুরো সিজনাল বা মৌসুমী সুরক্ষা পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।