- প্রচ্ছদ
- Topic
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা। গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন। শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না। ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে। দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন। আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান। চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ? কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত। তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য যেকোনো দিন এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর ডারিও অ্যামোডেই এবং স্পেসএক্সএআই-এর ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরাও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। ডারিও অ্যামোডেই প্রস্তাব করেছেন যে 'ফ্রন্টিয়ার' বা শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোতে স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত এবং এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন। এছাড়া, অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে তাদের 'ক্লড' এআই মডেলটি ইতোমধ্যে সাইবার আক্রমণ, নজরদারি, প্রতারণা এবং অস্ত্র তৈরির মতো নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের ওয়েব সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডেম ওয়েন্ডি হলের মতে, এআই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তির মতো এআই-এর ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ বা 'গার্ডরেল' থাকা জরুরি। তিনি বলেন, এআই হয়তো পুরো মানবজাতিকে বিলুপ্ত করবে না, কিন্তু এর কারণে অনিচ্ছাকৃত বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মার্টিন রিস এই ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও গুরুতর বলে আখ্যায়িত করেছেন। স্কাই নিউজকে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরগতির হলেও এআই যেকোনো মুহূর্তে বড় শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড বা সাপ্লাই চেইন ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে একই সাথে ঘটলে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাব্য এই বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যদি একদিন গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি গণিতের কাজ ছেড়ে রোমান্টিক উপন্যাস লিখবেন। এমন রসিকতা করেছেন ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডালজয়ী ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেং লেখেন, এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি বাড়ি গিয়ে তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন। ইউরি জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা, যেখানে নারীদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়। দেং এই ধারার ভক্ত হিসেবে পরিচিত। দেংয়ের ওই পোস্ট পরে চীনের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি লেখেন, এআইয়ের অগ্রগতি গণিতবিদদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা ও অধৈর্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধাক্কা কিছুটা কেটে গেলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। দেং আরও বলেন, গণিত ধীরে ধীরে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং এ প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন একটি গবেষণা পরিবেশও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ এআইয়ের অগ্রগতিকে তিনি শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না, বরং গণিতের কাজের ধরন পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখছেন। তবে বুধবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেং স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছেন না। এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেললে উপন্যাস লেখার কথা বলা ছিল পুরোপুরি রসিকতা। তিনি আরও বলেন, এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন না যে এটি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে। দেংয়ের এই মন্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে গণিতে এআইয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থা নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে একটি সমাধান তৈরি করেছে। এটি গণিতের সাতটি মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যার একটি এবং প্রায় ৯০ বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কাজের জন্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে সমন্বয় করতে প্রায় ১০ হাজার এআই এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। তারা প্রায় ৮৮ ঘণ্টা কাজ করে সমাধান তৈরি করে। পরে সেটির আনুষ্ঠানিক যাচাইও করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ফলাফলের জন্য তারা মিলেনিয়াম পুরস্কারের অর্থ দাবি করবে না। নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত তরল পদার্থের প্রবাহ কীভাবে কাজ করে, তা বর্ণনা করা সমীকরণগুলোর আচরণ নিয়ে। সমস্যাটির সমাধান হলে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের একটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তবে ওপেনএআইয়ের দাবি প্রকাশের পরও গণিতবিদদের মধ্যে এর ফলাফল ও প্রমাণ নিয়ে আরও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় অমীমাংসিত প্রশ্নকে ‘মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যা’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে পয়েনকেয়ার কনজেকচার সমাধান করেছিলেন রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান। তবে তিনি ওই অর্থ এবং ফিল্ডস মেডাল গ্রহণ করেননি। নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে ওপেনএআইয়ের অগ্রগতিকে ঘিরে অবশ্য বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে একই ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের কাজ শুরু করার আগে ওই দুই গবেষকের অগ্রগতি নিয়ে একটি গুঞ্জন তারা শুনেছিল। ওপেনএআই বলেছে, তাদের গবেষক বা এআই এজেন্টরা প্রকাশ্যে আসার আগে বাকমাস্টার ও আলপোগের কাজ দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির তদন্তেও বলা হয়েছে, বাকমাস্টারের আগের কোডেক্স ব্যবহারের তথ্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে গবেষণার স্বীকৃতি, তথ্যের ব্যবহার এবং এআইয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণিতে এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতি তাই গবেষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন প্রশ্নও তুলেছে। জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, ততই মানুষের গবেষণার ভূমিকা কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দেং ইউয়ের রসিক মন্তব্যও সেই পরিবর্তন নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও কৌতূহলেরই একটি মজার প্রকাশ। তবে আপাতত গণিত ছেড়ে উপন্যাস লেখার কোনো পরিকল্পনা নেই দেংয়ের। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাই তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লেখার পরিকল্পনাটিও আপাতত গণিতজগতের চাপ ও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে করা একটি রসিকতা হিসেবেই থাকছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী, গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ বাড়লেও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ডালাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, এআই নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিটির কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হলেও তা মোকাবিলার উপায় থাকবে। ট্রাম্প একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুত্ব দেন এবং বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এমন আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে এআই খাতের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষকের বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর উন্নত এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর এআইয়ের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, উন্নত এআই একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কাই নয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও ভূমিকা রাখছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই ব্যবস্থা সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রুবিজেমসে আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় শত শত ক্ষতিকর প্যাকেজ আপলোড করা হয়েছিল। ওপেনএআই পরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানায়, অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থাগুলো প্রশিক্ষণের সময় ওই কার্যক্রম চালিয়েছিল। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থাও বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সেগুলোর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বিপজ্জনক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বা প্রকাশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করতে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত রূপ বা বাস্তবায়নের সময়সীমাও নিশ্চিত নয়। এআই নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরি করছে। এর পাশাপাশি এআই ব্যবস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়ছে। ফলে কিছু গবেষক মনে করছেন, প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও প্রযুক্তিটির উন্নয়ন থামানোর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে দেশটি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। একই সময়ে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের গতি কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো এসব উদ্বেগকে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখছেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড চারটি ঘটনায় পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা পেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। অ্যানথ্রপিকের নতুন এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল কনফিগারেশনের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা ছিল। সেই সুযোগে ক্লড এমন কিছু বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, যেগুলো পরীক্ষার অংশ ছিল না। ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ঘটনাগুলো সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ঘটেছে। ক্লডকে বলা হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ইন্টারনেটবিহীন কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করছে। কিন্তু পরীক্ষার অবকাঠামোর একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে মডেলগুলো বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যানথ্রপিক পরে প্রায় ৪৮ কোটি কথোপকথন বা পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করে এবং একই ধরনের চারটি ঘটনা শনাক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি ঘটনাতেই ক্লডকে সাইবার নিরাপত্তার ‘ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ’ ধরনের পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পরীক্ষায় মডেলকে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ব্যবস্থায় লুকানো তথ্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় খোঁজ করা যাবে, সে বিষয়ে পরীক্ষার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্লড কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার ব্যবস্থাকেও পরীক্ষার অংশ হিসেবে ধরে নেয়। অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, ঘটনাগুলোতে দুটি আচরণ বিশেষভাবে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো বাস্তব পরিবেশের প্রমাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো নির্ধারিত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে যথাক্রমে ‘বায়াসড রিজনিং’ এবং ‘রেকলেসনেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ক্লড মিথস ৫-এর ক্ষেত্রে। পরীক্ষার সময় মডেলটি একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্যাকেজ তৈরি করে তা পাইপিআইতে আপলোড করেছিল। পাইপিআই হলো পাইথন সফটওয়্যার প্যাকেজ বিতরণের একটি বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। প্যাকেজটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে সেটি ডাউনলোড করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ ঘটনায় মডেলটির কর্মকাণ্ড পরীক্ষার পরিবেশের বাইরেও প্রভাব ফেলেছিল। অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিথস ৫-এর ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মডেলটি নিজের যুক্তিতেই বুঝতে পেরেছিল যে এটি বাস্তব ইন্টারনেট হতে পারে। এমনকি বাস্তব হলে সফটওয়্যার প্রকাশের ফলে বাস্তব ক্ষতি হতে পারে বলেও মডেলটি বিবেচনা করেছিল। পরে কিছু ভুল অনুমানের ভিত্তিতে আবার ধরে নেয় যে সে একটি কৃত্রিম পরীক্ষার পরিবেশেই রয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যায়। আরেকটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৭ একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অবকাঠামোয় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার জন্য তৈরি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল থাকায় মডেলটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিকেই পরীক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়। পরে সেটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে তথ্য ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি পৃথক পরীক্ষায় একই বাস্তব প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এই ঘটনায় মডেলটি বাস্তব ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এমন কিছু লক্ষণও পেয়েছিল। কিন্তু সেটি গভীরভাবে যাচাই করেনি যে বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের অনুমতি আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না। অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে মডেলটি ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তথ্য সংগ্রহ করে, প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও দেখে। অন্য একটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৬-এর একটি পুরোনো সংস্করণ পরীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্য মেশিনে কাজ করতে গিয়ে সেটিকে অপ্রাপ্য করে ফেলে। এরপর মডেলটি আটবার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পরীক্ষার আরেকটি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় এবং সংরক্ষিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পায়। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, সেশন শেষ হওয়ার আগে মডেলটি ব্যক্তিগত তথ্যও দেখেছিল। চতুর্থ ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে পাশের কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সেটি বুঝতে পারে যে বাস্তব অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়েছে। এই পর্যায়ে মডেলটি কাজ থামিয়ে দেয় বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ঘটনাগুলোকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে ক্লড নিজে থেকে কোনো নতুন লক্ষ্য তৈরি করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারটি ঘটনাতেই মডেলগুলো তাদের দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। কোনো ঘটনায় একাধিক এআই মডেলের মধ্যে সমন্বয়, আলাদা কোনো গোপন লক্ষ্য বা নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পরীক্ষার অবকাঠামোর ভুল কনফিগারেশন। অর্থাৎ ক্লডকে ইন্টারনেটবিহীন পরিবেশে কাজ করতে বলা হলেও বাস্তবে সেই সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিক প্রথম তিনটি ঘটনার কথা প্রকাশ করার পর আরও বড় পরিসরে নথি পর্যালোচনা করে জানুয়ারির একটি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে তারা অবহিত করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য মূল্যায়ন সংস্থা এমইটিআর-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই তদন্তে অ্যানথ্রপিকের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বাইরের নথিও পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে। ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআই ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সফটওয়্যার লেখা, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে এআইকে নিজে থেকে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি মডেল কোনো নির্দেশনা ভুলভাবে বুঝলে বা পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা করলে তার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অ্যানথ্রপিক নিজেও বলেছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুলের সম্ভাব্য ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এখনো একটি অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই মডেলের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার অবকাঠামো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও জানিয়েছে, তাদের বর্তমান পরীক্ষায় এখন এই নির্দিষ্ট ধরনের পরিস্থিতি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক মনে করছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সূত্র: অ্যানথ্রপিক, নিউজউইক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত। তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক জ্যাকব কক্সন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমেই শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ‘ক্লড’-এর নির্মাতা অ্যানথ্রপিক এআই নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে কক্সন জানান, গত তিন বছর তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় প্রতিষ্ঠানে এআই প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে ছুটছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। কক্সনের মতে, ভবিষ্যতের অতিমানবীয় এআই যেকোনো কিছু হ্যাক করার পাশাপাশি বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনে সক্ষম হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে অনেক এআই নির্বাহী ও গবেষকের মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির সবাইকে হত্যা করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও প্রকাশ্যে কক্সনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, "কিছু গবেষক সত্যিই বিশ্বাস করেন যে উন্নত এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" হাবিঙ্গার নিজে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থার আবির্ভাব নিয়ে, যা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বারবার উন্নত করতে পারবে অর্থাৎ ‘রিকরসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে অ্যানথ্রপিকও এর আগে এআই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত আলোচনায় সতর্ক করেছে।
উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান। এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে। ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স
স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে সাফল্যের নজির তৈরি করেছেন বাংলাদেশের দুই ভাই। সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতানের সহপ্রতিষ্ঠিত এআইভিত্তিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম AgenticHire বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা, অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছে। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিক বিন সুলতান প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর বড় ভাই শাফি বিন সুলতান ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা। স্টার্টআপটির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের সঙ্গে এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাওইয়াং উ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোম্পানিটির বৃহত্তর প্রতিষ্ঠাতা দলে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সদস্যও রয়েছেন। AgenticHire-এর যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিঙ্গাপুরে একটি তরুণ উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাবিক ও হাওইয়াংয়ের মধ্যে পরিচয় হয়। সেখান থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেন তাঁরা। সাবিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় দিনের ওই কর্মসূচির মধ্যেই ধারণা, দল ও ব্যবসার দিকনির্দেশনা তৈরি হতে শুরু করে। তাদের নজরে আসে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই আলাদা মানবসম্পদ বা নিয়োগ দল থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদেরই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। যোগ্য প্রার্থী একজনকে কারিগরি সাক্ষাৎকারে নেওয়ার আগেই ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিতে হতে পারে বলে সাবিক জানিয়েছেন। এই সময় ও শ্রমের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই AgenticHire তৈরি করা হয়। প্ল্যাটফর্মটির মূল কাজ হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা। কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সাক্ষাৎকারের সংযোগ পাঠাতে পারে। প্রার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর AgenticHire প্রার্থীর দক্ষতা, দুর্বলতা ও কাজের উপযোগিতা নিয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে। চূড়ান্তভাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই নেয়। স্টার্টআপটি গড়ে তোলার আগে প্রতিষ্ঠাতারা বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটি যাচাই করেন। অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে পাওয়া অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেদের পরিচিত নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের কাছ থেকেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করে পরামর্শদাতাদের সহায়তায় সেটি উন্নত করা হয়। AgenticHire যে ৩০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে, তার পুরোটা প্রচলিত বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়া অর্থ নয়। প্রতিষ্ঠাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ এসেছে অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচির সহায়তা, প্রতিযোগিতার পুরস্কার, অনুদান এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থেকে। এর মধ্যে ইস্ট ভেঞ্চার্সের ‘মাই ফার্স্ট ১০০০’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সহায়তার বিনিময়ে এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছাড়তে হয়নি বলে সাবিক জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, পাওয়া অর্থ মূলত পণ্য উন্নয়ন, দলের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য চালুর প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রাহক বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মটি আরও উন্নত করা। ভবিষ্যতে নতুন বাজারে প্রবেশ ও দল সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দুই দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগটি শুরু হলেও এর পরিধি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক। দলটির সদস্যদের মধ্যে কাজাখস্তানের দানিয়া টোকসানোভা বিপণন বিভাগের দায়িত্বে, থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াত যোগাযোগ কার্যক্রমে, কম্বোডিয়ার মোখা সোখা পরিচালন সহযোগী হিসেবে এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু পণ্য বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন তরুণের উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি বহুজাতিক তরুণ উদ্যোক্তা দলের রূপ নিয়েছে। AgenticHire-এর প্রতিষ্ঠাতাদের গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের বয়স। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা সাবিক ও শাফি এখনো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একইভাবে প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে থাকা হাওইয়াং উও স্কুলের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার আগেই তাঁরা প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে পণ্য তৈরি, গ্রাহক যাচাই এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। সাবিকের সাম্প্রতিক এক পেশাগত পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা এমনকি পূর্ণাঙ্গ দলও ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে কাজ করে তাঁরা একটি পণ্য তৈরি করেন এবং জুনের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সেটি উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, ওই অভিজ্ঞতা শুধু অর্থ সংগ্রহের সুযোগই নয়, বরং বিনিয়োগকারীরা কীভাবে একটি স্টার্টআপকে মূল্যায়ন করেন, সেটি বোঝারও সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে AgenticHire নিজেদের একটি এআই-চালিত নিয়োগ বাছাই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের লক্ষ্য হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় ও কাজের চাপ কমানো, যাতে প্রতিষ্ঠাতা বা নিয়োগদাতারা বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে সময় না দিয়ে তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত প্রার্থীদের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গ্রাহক বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক দল গড়ে তুলেছে। এখন তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যকে টেকসই ব্যবসায় রূপ দেওয়া এবং বিভিন্ন দেশের নিয়োগ বাজারে এআইভিত্তিক এই সেবা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা প্রমাণ করা। সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়। ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না। পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন। উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে। ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত। মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি পাঠদানকে অগ্রাধিকার দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস। এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টু-কে (2-K) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই এবং এআই-চালিত চ্যাটবটগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার আগে এর ঝুঁকি, পক্ষপাতিত্ব এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের বছরে দুবার 'ক্রিটিকাল থিংকিং' বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিশেষ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। হাইস্কুলের সাধারণ শিক্ষার প্রায় ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল এআই-রেডি স্কুলস নামক পাঁচটি বাছাইকৃত এআই টুল শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, একাধিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থী এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব নিয়মে শিথিলতা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা তাঁদের পাঠপরিকল্পনা ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে আগের মতোই নিরাপদ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন। এই নীতিমালার প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য 'টেকনোলজি ইন স্কুলস কোয়ালিশন' নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রচারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করার বদলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্তটিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল। ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল। হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করা হলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং দরিদ্র হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ডাটা সেন্টার নির্মাণকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সম্প্রদায় ডাটা সেন্টার চায় না, তাদের এমন অবস্থানের কারণে তারা পিছিয়ে ও দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে। তার দাবি, এসব স্থাপনা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে কম কর এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে অন্য অনেক এলাকা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য আরও অনেক জায়গা প্রস্তুত রয়েছে। তাই কোনো সম্প্রদায় এসব প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করলে তার জায়গা অন্য কোনো এলাকা নিতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেই এর দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন চীনের জন্য আনন্দের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। বসন্তকালের জরিপে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাটদের ৬৯ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৫৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের ৫৩ শতাংশ নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন। ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ এবং শব্দদূষণ। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যানেনবার্গের জরিপে আরও দেখা গেছে, ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের অবস্থান বদলালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। জরিপে ৬৮ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কও বাড়ছে। একদিকে এসব স্থাপনা থেকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে। জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন। সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়। আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা। জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়। দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য। আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি। জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে। দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে। তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন। এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি। জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন। এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়। তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
চীনে রোবট নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মজা করছেন। কোনো রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কোনোটি ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু এসব দৃশ্যের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৬৬৬টি দল এবং ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নেয়। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে ছিল ৫১টি প্রতিযোগিতা এবং ১ হাজার ৩০১টি প্রতিযোগিতামূলক পর্ব। গত বছরের প্রথম আসরে যেখানে ২৮০টি দল অংশ নিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই আয়োজন শুধু রোবটের দৌড় বা খেলাধুলার প্রদর্শনী ছিল না। কারখানা, হোটেল ও বাড়ির মতো বাস্তব পরিবেশে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও দেখানো হয়েছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার করা, অফিস পরিষ্কার, দোকানের তাক সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল রোবটকে শুধু প্রদর্শনীর যন্ত্র হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের উৎপাদনশীল কর্মী হিসেবে তুলে ধরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১০০ মিটার দৌড়। প্রতিযোগিতার শুরুতেই একটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। সময়টি ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের করা ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত। পরে একই প্রতিযোগিতায় টিয়াংগং আল্ট্রা নামে আরেকটি রোবট ৮ দশমিক ৮৬ সেকেন্ডের সময় করে। শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সেটি আরও দ্রুত সময় গড়ে। তবে রোবটগুলোর এই গতি এখনো মানুষের মতো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষতার প্রমাণ নয়। দৌড় শেষ করার পর কিছু রোবট ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় বা সুরক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা খায়। অর্থাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারলেও হঠাৎ থামা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাই দেখাচ্ছে, হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা রোবটের হার্ডওয়্যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও বাস্তব কারখানার জটিল কাজে এগুলো এখনো মানুষের বিকল্প হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক রোবট নির্দিষ্ট প্রদর্শনী, নাচ, কুংফু বা পূর্বনির্ধারিত কাজ ভালোভাবে করতে পারলেও পরিবেশ পরিবর্তিত হলে তাদের সমস্যা হয়। তারপরও চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বয়স্ক জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর বিশাল উৎপাদন অবকাঠামো। রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বড় পরিসরে নতুন মডেল বাজারে আনার ক্ষেত্রে দেশটির শিল্পভিত্তি উদ্যোক্তাদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এজিআইবট, ইউনিট্রি রোবোটিকস, গ্যালবট, ইউবিটেকসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই শিল্পে বড় অংশ দখল করে আছে। চীনের রোবট প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। একটি হিউম্যানয়েড রোবট শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই বাস্তব কাজে খুব বেশি কার্যকর হবে না। তাকে পরিবেশ বুঝতে হবে, বস্তু শনাক্ত করতে হবে, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু রোবটের শরীর বা যন্ত্রাংশের মধ্যে নয়, বরং রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার নিয়েও হবে। এ জায়গায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে আরও এগিয়ে দিতে পারে। রোবটের হার্ডওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে উন্নত হলে একই যন্ত্র ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, হোটেল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। তবে চীনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা চীনে তৈরি নতুন রোবটের সঙ্গে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হারাতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো, চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চীনের রোবট শিল্পও অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রোবটের দাম, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, বাস্তব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা এবং বাজারে প্রকৃত চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভবিষ্যতে বাজারে একীভূত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বিশ্লেষকেরা বলছেন। তাই বেইজিংয়ের রোবট গেমসকে শুধু বিনোদন বা প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে যেমন রোবটের বর্তমান সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার বড় উন্নতিও দেখা গেছে। এক বছর আগে যে রোবট ১০০ মিটার দৌড়াতে ২১ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, এবার সেই সময় কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। আর প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডের সময় দেখিয়েছে, উন্নতির গতি কতটা দ্রুত হতে পারে। আজকের রোবট হয়তো দৌড় শেষ করে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত শিখতে পারবে এবং কতটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও দ্য আটলান্টিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।