সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিজ্ঞান

ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:৩৯
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

চীনে রোবট নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মজা করছেন। কোনো রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কোনোটি ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু এসব দৃশ্যের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৬৬৬টি দল এবং ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নেয়। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে ছিল ৫১টি প্রতিযোগিতা এবং ১ হাজার ৩০১টি প্রতিযোগিতামূলক পর্ব। গত বছরের প্রথম আসরে যেখানে ২৮০টি দল অংশ নিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

এই আয়োজন শুধু রোবটের দৌড় বা খেলাধুলার প্রদর্শনী ছিল না। কারখানা, হোটেল ও বাড়ির মতো বাস্তব পরিবেশে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও দেখানো হয়েছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার করা, অফিস পরিষ্কার, দোকানের তাক সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল রোবটকে শুধু প্রদর্শনীর যন্ত্র হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের উৎপাদনশীল কর্মী হিসেবে তুলে ধরা।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১০০ মিটার দৌড়। প্রতিযোগিতার শুরুতেই একটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। সময়টি ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের করা ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত। পরে একই প্রতিযোগিতায় টিয়াংগং আল্ট্রা নামে আরেকটি রোবট ৮ দশমিক ৮৬ সেকেন্ডের সময় করে। শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সেটি আরও দ্রুত সময় গড়ে।

 

তবে রোবটগুলোর এই গতি এখনো মানুষের মতো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষতার প্রমাণ নয়। দৌড় শেষ করার পর কিছু রোবট ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় বা সুরক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা খায়। অর্থাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারলেও হঠাৎ থামা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এই সীমাবদ্ধতাই দেখাচ্ছে, হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা রোবটের হার্ডওয়্যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও বাস্তব কারখানার জটিল কাজে এগুলো এখনো মানুষের বিকল্প হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক রোবট নির্দিষ্ট প্রদর্শনী, নাচ, কুংফু বা পূর্বনির্ধারিত কাজ ভালোভাবে করতে পারলেও পরিবেশ পরিবর্তিত হলে তাদের সমস্যা হয়।

 

তারপরও চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বয়স্ক জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

চীনের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর বিশাল উৎপাদন অবকাঠামো। রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বড় পরিসরে নতুন মডেল বাজারে আনার ক্ষেত্রে দেশটির শিল্পভিত্তি উদ্যোক্তাদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে।

 

বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এজিআইবট, ইউনিট্রি রোবোটিকস, গ্যালবট, ইউবিটেকসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই শিল্পে বড় অংশ দখল করে আছে।

চীনের রোবট প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। একটি হিউম্যানয়েড রোবট শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই বাস্তব কাজে খুব বেশি কার্যকর হবে না। তাকে পরিবেশ বুঝতে হবে, বস্তু শনাক্ত করতে হবে, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু রোবটের শরীর বা যন্ত্রাংশের মধ্যে নয়, বরং রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার নিয়েও হবে।

 

এ জায়গায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে আরও এগিয়ে দিতে পারে। রোবটের হার্ডওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে উন্নত হলে একই যন্ত্র ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, হোটেল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। তবে চীনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।

 

এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা চীনে তৈরি নতুন রোবটের সঙ্গে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হারাতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো, চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনের রোবট শিল্পও অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রোবটের দাম, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, বাস্তব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা এবং বাজারে প্রকৃত চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভবিষ্যতে বাজারে একীভূত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বিশ্লেষকেরা বলছেন।

 

তাই বেইজিংয়ের রোবট গেমসকে শুধু বিনোদন বা প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে যেমন রোবটের বর্তমান সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার বড় উন্নতিও দেখা গেছে।

এক বছর আগে যে রোবট ১০০ মিটার দৌড়াতে ২১ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, এবার সেই সময় কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। আর প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডের সময় দেখিয়েছে, উন্নতির গতি কতটা দ্রুত হতে পারে।

 

আজকের রোবট হয়তো দৌড় শেষ করে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত শিখতে পারবে এবং কতটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও দ্য আটলান্টিক।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিজ্ঞান

View more
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন

চীনে রোবট নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মজা করছেন। কোনো রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কোনোটি ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু এসব দৃশ্যের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৬৬৬টি দল এবং ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নেয়। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে ছিল ৫১টি প্রতিযোগিতা এবং ১ হাজার ৩০১টি প্রতিযোগিতামূলক পর্ব। গত বছরের প্রথম আসরে যেখানে ২৮০টি দল অংশ নিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   এই আয়োজন শুধু রোবটের দৌড় বা খেলাধুলার প্রদর্শনী ছিল না। কারখানা, হোটেল ও বাড়ির মতো বাস্তব পরিবেশে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও দেখানো হয়েছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার করা, অফিস পরিষ্কার, দোকানের তাক সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল রোবটকে শুধু প্রদর্শনীর যন্ত্র হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের উৎপাদনশীল কর্মী হিসেবে তুলে ধরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১০০ মিটার দৌড়। প্রতিযোগিতার শুরুতেই একটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। সময়টি ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের করা ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত। পরে একই প্রতিযোগিতায় টিয়াংগং আল্ট্রা নামে আরেকটি রোবট ৮ দশমিক ৮৬ সেকেন্ডের সময় করে। শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সেটি আরও দ্রুত সময় গড়ে।   তবে রোবটগুলোর এই গতি এখনো মানুষের মতো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষতার প্রমাণ নয়। দৌড় শেষ করার পর কিছু রোবট ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় বা সুরক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা খায়। অর্থাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারলেও হঠাৎ থামা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাই দেখাচ্ছে, হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা রোবটের হার্ডওয়্যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও বাস্তব কারখানার জটিল কাজে এগুলো এখনো মানুষের বিকল্প হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক রোবট নির্দিষ্ট প্রদর্শনী, নাচ, কুংফু বা পূর্বনির্ধারিত কাজ ভালোভাবে করতে পারলেও পরিবেশ পরিবর্তিত হলে তাদের সমস্যা হয়।   তারপরও চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বয়স্ক জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর বিশাল উৎপাদন অবকাঠামো। রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বড় পরিসরে নতুন মডেল বাজারে আনার ক্ষেত্রে দেশটির শিল্পভিত্তি উদ্যোক্তাদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে।   বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এজিআইবট, ইউনিট্রি রোবোটিকস, গ্যালবট, ইউবিটেকসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই শিল্পে বড় অংশ দখল করে আছে। চীনের রোবট প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। একটি হিউম্যানয়েড রোবট শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই বাস্তব কাজে খুব বেশি কার্যকর হবে না। তাকে পরিবেশ বুঝতে হবে, বস্তু শনাক্ত করতে হবে, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু রোবটের শরীর বা যন্ত্রাংশের মধ্যে নয়, বরং রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার নিয়েও হবে।   এ জায়গায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে আরও এগিয়ে দিতে পারে। রোবটের হার্ডওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে উন্নত হলে একই যন্ত্র ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, হোটেল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। তবে চীনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।   এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা চীনে তৈরি নতুন রোবটের সঙ্গে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হারাতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো, চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চীনের রোবট শিল্পও অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রোবটের দাম, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, বাস্তব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা এবং বাজারে প্রকৃত চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভবিষ্যতে বাজারে একীভূত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বিশ্লেষকেরা বলছেন।   তাই বেইজিংয়ের রোবট গেমসকে শুধু বিনোদন বা প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে যেমন রোবটের বর্তমান সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার বড় উন্নতিও দেখা গেছে। এক বছর আগে যে রোবট ১০০ মিটার দৌড়াতে ২১ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, এবার সেই সময় কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। আর প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডের সময় দেখিয়েছে, উন্নতির গতি কতটা দ্রুত হতে পারে।   আজকের রোবট হয়তো দৌড় শেষ করে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত শিখতে পারবে এবং কতটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও দ্য আটলান্টিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:৩৯
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত

'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস

স্টেম সেল থেকে তৈরি মস্তিষ্কের অর্গানয়েড পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ল্যাবে জীবিত ও বিকশিত রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

0 Comments