কানাডা

ছবি: সংগৃহীত
কানাডার অভিবাসন নীতির কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের, চরম সমালোচনায় সরকার

কানাডার বর্তমান সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনাকারীদের জোরপূর্বক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে সেখানে গিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে নিজ দেশে ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, বিভিন্ন আইনজীবী এবং শরণার্থী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো কানাডা সরকারের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রোববার (২১ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পাদিত ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ চুক্তি’ বা সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট (এসটিসিএ) মূলত অসহায় অভিবাসীদের একটি অনিরাপদ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ দেশ হতে পারে না। সেখানে শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী আটক রাখা এবং এমন সব দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে যেখানে গেলে তাদের জীবননাশের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতায় কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিস এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডা যৌথভাবে একটি আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে কানাডা সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মানবিক সুরক্ষাকবচগুলো তোয়াক্কা না করেই আশ্রয়প্রার্থীদের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হাতে তুলে দিচ্ছেন।   হন্ডুরাসের এক দম্পতি কার্লোস ও আন্তোনিয়ার বাস্তব জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনা এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে হন্ডুরাসের একটি অপরাধী চক্রের প্রাণনাশের হুমকি থেকে বাঁচতে নিজেদের ছোট সন্তানকে নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কিন্তু তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের কারণে সেখানে তারা আশ্রয় দাবি করতে ব্যর্থ হন। যেহেতু কার্লোসের কিছু আত্মীয় কানাডায় বসবাস করেন, তাই তারা প্রাণ বাঁচাতে আরও উত্তরে কানাডার ফোর্ট ইরি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছান। তবে কানাডা সীমান্ত কর্মকর্তা তাদের সাফ জানিয়ে দেন যে, শুধু কার্লোস ও তার সন্তান কানাডায় ঢুকতে পারবে, কিন্তু আন্তোনিয়ার কোনো আত্মীয় না থাকায় তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হবে।   সন্তান ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে এই পরিবারটি একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদের সরাসরি নিজ দেশ হন্ডুরাসে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ৬ বছর বয়সী সন্তানসহ ওই পরিবারটি অপরাধী চক্রের প্রতিশোধের ভয়ে হন্ডুরাসে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে জীবন কাটাচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ আশ্রয়প্রার্থীদের কোনো ধরণের আইনি সহায়তা বা মানবিক ছাড় পাওয়ার সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ও জীবন ধ্বংসকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক।   বিগত ২০০৪ সাল পর্যন্ত কানাডার যেকোনো আইনি সীমান্ত পয়েন্টে গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার নিয়ম ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কানাডা সরকারের বিশেষ লবিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, একজন অভিবাসী প্রথম যে দেশে পৌঁছাবেন, তাকে সেখানেই আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে। ২০২৩ সালে কানাডার সর্বোচ্চ আদালত এই চুক্তিটিকে সাংবিধানিক বলে রায় দিলেও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ বা 'সেফটি ভালভ' রাখতে হবে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাস্তবে এই মানবিক ছাড়ের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং শরণার্থীদের আকুতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে।   একই সময়ে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার নিজেদের শরণার্থী ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত ও কঠোর করতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই নতুন আইনের ফলে শরণার্থী হিসেবে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের নিয়মাবলী আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, যাকে সমালোচকেরা ট্রাম্পের স্টাইলের অভিবাসন নীতির সাথে তুলনা করছেন। যদিও কানাডার ফেডারেল সরকার এই নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ দেশ এবং চুক্তি অনুযায়ী সকল আইনি শর্ত পূরণ করেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে মামলাটি আদালতে ওঠার পর একজন বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে এই আইনি চ্যালেঞ্জটি পরবর্তী শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মসজিদের বাইরে ইমামের ওপর হামলা, চরম শঙ্কায় মুসলিমরা

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরে এক ইমামের ওপর ভয়াবহ ও ঘৃণ্য শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম শেখ ইব্রাহিম। দেশের মাটিতে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পর দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস' শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের বাইরে ঘটা এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনাটি পুরো কানাডাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।   প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজ শেষ করে শেখ ইব্রাহিম যখন ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর একা বসেছিলেন, ঠিক তখনই এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক তার গাড়ির লক করা দরজা খুলে ফেলে। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথেই ওই হিংস্র ব্যক্তি ইমামের ওপর অতর্কিত ও মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিক বিভিন্ন চরম আপত্তিকর গালিগালাজ করতে থাকে এবং ইমামকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুমি অবিলম্বে তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও।"   হৃদয়বিদারক এই নেতিবাচক ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কানাডার ওই শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িত মূল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মুসলিম কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে হামলার শিকার ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।   ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছে, আমাদের সমাজের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে টার্গেট করে আক্রমণ করা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অমানবিক ঘটনাটি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যে, কানাডায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা চরম ইসলামভীতি আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য প্রতিদিন কতটা বড় ধরণের সামাজিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন একটি জঘন্য ঘটনার পর আমরা কোনোভাবেই চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।   সংগঠনটি কানাডার সব স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রতি এই মুসলিম বিরোধী ঘৃণ্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানোর এবং সমাজে দিন দিন বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ চিরতরে দূর করতে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভিক্টোরিয়া এলাকার স্থানীয় সাধারণ মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: আনাদোলু 

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মে মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ, দাম কিছুটা কম

চলতি বছরের মে মাসে কানাডায় বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বসন্তকালে দেশটির আবাসন খাতে যে চাঙ্গা ভাব দেখা যায়, এবার শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও মে মাসে তা অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বাড়ির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।   সিআরইএ-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত মে মাসে বাড়ি বিক্রির হার এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে মৌসুমী সমন্বয় ছাড়া বার্ষিকভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার বাড়ি বিক্রি ৫.১ শতাংশ কম হয়েছে।   এদিকে মূল্যসূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েশনের 'হোম প্রাইস ইনডেক্স' বা বাড়ির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় মাত্র ০.১ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিকভিত্তিতে এই দাম কমার হার বেশ দৃশ্যমান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম।   সিআরইএ-এর চেয়ারম্যান গ্যারি ভাওরা এক বিবৃতিতে জানান, "চলতি বছর কানাডার বহু অঞ্চলের আবহাওয়ার মতোই দেশটির আবাসন খাতের বসন্তকালীন বাজারও যেন প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে মে মাসের এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানান দিচ্ছে যে, বাজারে এখন পুরোদমে গতি ফিরছে।"   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির (নিউ লিস্টিং) পরিমাণ এপ্রিলের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির বিপরীতে বিক্রির অনুপাত (সেলস-টু-নিউ লিস্টিং রেশিও) এপ্রিলের ৪৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৪৯.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য এই হার দেশটির দীর্ঘমেয়াদী গড় অনুপাত ৫৪.৮ শতাংশের চেয়ে এখনো কিছুটা নিচেই রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো | ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ম্যাচ রেখে প্রেমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখায় সমালোচনায় জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজ দেশের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখতে যাওয়ায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মূলত সেখানে প্রেমিকা ও জনপ্রিয় পপ তারকা কেটি পেরির লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানাতেই ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে হাজির হন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে কানাডিয়ান নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।   গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রুডো লেখেন, কখনো কখনো সাপোর্টিভ বয়ফ্রেন্ড বা সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্বও তো পালন করতে হয়। তবে আপনারা সবাই ভালো করেই জানেন যে, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য আমি আসলে কোন দলকে সমর্থন করছি। নিজের লেখার শেষ অংশে তিনি কানাডার জাতীয় পতাকার একটি ইমোজিও যুক্ত করে দেন।   একই দিনে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় একই সময়ে দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রুডো টরন্টোতে অনুষ্ঠিত কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচটি বর্জন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচটি উপভোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সেই ভেন্যুতে কেটি পেরি মঞ্চে পারফর্ম করার পর দৌড়ে এসে ট্রুডোকে চুমু খেয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।   পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দুজনকে একসাথে বিয়ার খেতে, আলিঙ্গন করতে এবং প্রেমে মগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তাদের এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কানাডিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশের ফুটবলপ্রেমী অনেক নাগরিক ট্রুডোর এই সিদ্ধান্তকে দেশের মুখে চড় মারার শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকে তাঁকে 'প্রতারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   টরন্টোর সেই উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডা ফুটবল দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুভসূচনা করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেটি পেরি তাঁর ২০২৪ সালের অ্যালবাম থেকে তুলনামূলক কম পরিচিত 'ওয়ান্ডার' গানটি পরিবেশন করেন।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ও কেটি পেরির প্রেমের সম্পর্কটি গত বছরের জুলাই মাস থেকে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ট্রুডোর আগের স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০২৩ সালে, যেখানে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা কানাডার

কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘প্যারিস কল ফর দ্য টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Anita Anand এ ঘোষণা দেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।   কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সহায়তা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি মানবিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।   এই অর্থের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পুষ্টি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এসব অঞ্চলে মানবিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে।   নতুন এ বরাদ্দের ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার মোট সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার সংকট বাড়তে থাকায় কানাডা ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়িয়ে আসছে।   এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যৌথভাবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।   ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ফান্ড’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা আগামী তিন বছরে প্রত্যেকে ১০ লাখ পাউন্ড করে অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও এই তহবিলে অবদান রাখার সুযোগ থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নও এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।   কানাডার নতুন সহায়তা ঘোষণা সেই দুই দিককেই সমর্থন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।   প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: বিবিসি বাংলা
বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন প্রতিবেশী, ফুটবলের উৎসবের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর টানাপোড়েন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন করছে। তবে এই আয়োজন কেবল ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তিন প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।   ১৬টি শহর ও তিনটি দেশের বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   গত ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তিন দেশের নেতাদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সহযোগিতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও ৩৯ দিনের দীর্ঘ টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং লাখো দর্শনার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত করা বাস্তবে আরও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর আমেরিকার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান তিন দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে।   মেক্সিকো ও কানাডা, উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি প্রথম ধাক্কা দেয় এই দুই দেশকেই। কানাডা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল ট্রাম্পের সেই মন্তব্যে, যেখানে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ দোকান থেকে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে কানাডীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালক কার্লো ডেডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ কানাডা ও মেক্সিকোর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগের প্রবেশপথ হিসেবে মেক্সিকোকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।   এই প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একদিকে মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথও খুঁজতে হচ্ছে। এর আগে কখনো বিশ্বকাপ একসঙ্গে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবহন, অভিবাসন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   বিশ্বকাপ চলাকালে লাখো সমর্থককে তিন দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য জটিলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতাও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্পোর্টের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর লিন্ডসে সারাহ ক্র্যাসনফ বলেন, কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর যৌথভাবে আয়োজন করা মানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।   তিনি ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে বলেন, বড় ক্রীড়া আয়োজন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে, তবে সব সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটায় না।   এদিকে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির রাজধানীতে বিমানবন্দর অবকাঠামো, যানজটপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং সংস্কারাধীন অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   এর পাশাপাশি দেশটিতে চলমান শিক্ষক আন্দোলন ও ধর্মঘট পরিস্থিতিও বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবম বিশ্বকাপকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   মেক্সিকান ক্রীড়া সাংবাদিক রাফায়েল পুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপের আগে দেশটির যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত হবে না। তার মতে, দর্শনার্থীদেরও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের বাইরেও তিন দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করতে পারে।   মেক্সিকো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে কানাডা নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ অনুসন্ধান করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে তা তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   তবে ফুটবলের মতোই এই আয়োজনের পরিণতিও এখনো অনিশ্চিত। আগামী এক মাসে মাঠের খেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকাজুড়ে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসরে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন তিনি।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার স্বাগতিক ম্যাচের আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে মঞ্চে উঠবেন নোরা ফাতেহি। তার সঙ্গে থাকবেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়।   নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ভিউ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফিফার পূর্ববর্তী কিছু থিম সংয়ের ভিউ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন বলেও জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গানের ভিউয়ের তুলনায় শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮.২ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। সেই হিসেবে ‘সির সির’ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নোরা ফাতেহি। তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি মরক্কান ও কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে একত্রিত করতে পেরেছেন। তার ভাষায়, এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করার একটি প্রয়াস।   টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরকে আরও বর্ণিল করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন আইনের ফলে কানাডার নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিকের জন্য খুলে গেল কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অভাবনীয় সুযোগ। কানাডার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের এক সংশোধনী আনার ফলে এখন থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করছেন, তাদের অনেকেই আইনিভাবে কানাডীয় হিসেবে গণ্য হবেন। মূল ঘটনা কী? ২০০৯ সাল থেকে কানাডায় একটি নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো কানাডীয় নাগরিকের সন্তান যদি দেশের বাইরেই জন্ম নেয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না। একে বলা হতো 'ফার্স্ট জেনারেশন লিমিট'। কিন্তু গত বছর ওন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই নিয়মটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নিয়মটি বৈষম্যমূলক। এরই প্রেক্ষিতে কানাডা সরকার 'বিল সি-৩' পাস করে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় যারা জন্মসূত্রে কানাডীয় কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারণে নাগরিকত্ব পাননি (যাদের 'লস্ট কানাডিয়ান্স' বলা হয়), তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। কয়েক প্রজন্ম আগে যাদের পূর্বপুরুষরা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছিলেন, তারা এখন সহজেই কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক আমেরিকান একটি 'প্ল্যান বি' বা বিকল্প নাগরিকত্ব হিসেবে কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। আবেদন প্রক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গেছে। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তার আগের কোনো প্রজন্মের সরাসরি রক্তসম্পর্কিত কেউ কানাডার নাগরিক ছিলেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর কানাডার সাথে একটি 'সুদৃঢ় সংযোগ' (Substantial Connection) থাকতে হবে, যার অর্থ হলো আবেদনকারীর অভিভাবককে কানাডায় নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা আবেদনের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। অনেকে কেবল পারিবারিক শেকড়ের টানে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কানাডীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পাসপোর্টের র‍্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কানাডা; নাগরিকত্বের সুযোগ পাচ্ছেন লাখো আমেরিকান

বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার বিচারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো উত্তর আমেরিকা। দীর্ঘ কয়েক দশকের আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নীল পাসপোর্টকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ (Henley Passport Index) অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভ্রমণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। র‍্যাঙ্কিংয়ের চিত্র: সর্বশেষ তথ্যমতে, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা বিশ্বের ১৮২টি গন্তব্যে কোনো পূর্ব ভিসা ছাড়াই (ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা) ভ্রমণ করতে পারছেন। অন্যদিকে, এক সময়ের শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন দশম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে ১৭৯টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মিলছে। কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে কানাডিয়ানদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান কানাডাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা এখনো অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য অধরা। আমেরিকানদের জন্য সুখবর: এই র‍্যাঙ্কিং পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিক চাইলেই শক্তিশালী কানাডিয়ান পাসপোর্টের মালিক হতে পারেন। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন (Bill C-3) অনুযায়ী, বংশসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পূর্বের ‘প্রথম প্রজন্ম’ বা ফার্স্ট জেনারেশন সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আমেরিকান নাগরিকের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা পূর্বপুরুষ কানাডিয়ান ছিলেন, তারা খুব সহজেই কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পরীক্ষা বা কানাডায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র বংশগত প্রমাণপত্রের মাধ্যমেই তারা এই শক্তিশালী পাসপোর্টটি পেতে পারেন। অতিরিক্ত সুবিধা: কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী হলে কেবল ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং 'ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা' (IEC) প্রোগ্রামের আওতায় তরুণরা বিশ্বের ৩৬টি দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যেখানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৬টি দেশে এই ধরণের সুবিধা পান।বিশ্বজুড়ে সীমান্ত নীতি যখন কঠোর হচ্ছে, তখন কানাডার এই অগ্রগতি দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা ও এর নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0