সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কানাডা

ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ

ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন।   সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।    কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না।    এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি।    বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান।    এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে।    ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়

কানাডার নাগরিক জ্যাকুলিন মুসা, যিনি জ্যাকি নামেই বেশি পরিচিত, একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উপলব্ধির পর ২০১১ সালে তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার এই ধর্মান্তরিত হওয়ার গল্পটি বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে 'দ্য রিলিজিয়ন অব ইসলাম'-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্কাইভে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনযাত্রা সংরক্ষিত রয়েছে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি বক্তব্য বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ইসলামে 'ব্যাপক সম্মান' পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে অন্যান্য ধর্মান্তরিত নারীদের মতো তিনিও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।   জ্যাকুলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম তার ব্যক্তিগত যুক্তি, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসা অনেক নারীই প্রায়শই এমন সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, এই ধর্মটি তাদের যে সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের স্বচ্ছতা প্রদান করেছে, তা সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয়।   জ্যাকুলিনের এই ধর্মান্তরের কাহিনি ও প্রাসঙ্গিক ভিডিওগুলো বর্তমানে ইউটিউবে '#thequranmotivation' হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা ও তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ভিডিওর কিছু ছবিতে সামান্য সম্পাদনা বা এডিটিং করা হলেও জ্যাকুলিনের মূল বক্তব্য এবং তার ইসলাম গ্রহণের পুরো কাহিনিটি সম্পূর্ণ খাঁটি ও প্রামাণিক।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের জেরে কানাডায় প্রায় ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কে কানাডায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকলে কানাডায় ৯০ হাজারের কাছাকাছি চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির অর্থনীতির অধ্যাপক ট্রেভর টম্বে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুল্কের সরাসরি আওতায় থাকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তাদের সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও কর্মসংস্থান কমতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত চাকরি হারানোর সংখ্যা নয়; শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে এবং ব্যবসাগুলো কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তার ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।   টম্বের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মধ্যে ৫২ হাজারের বেশি সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারী খাতের আরও প্রায় ৩৫ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির সংখ্যা ৮৭ হাজারের কিছু বেশি, যাকে প্রায় ৯০ হাজার হিসেবে ধরা হচ্ছে।   এই হিসাব একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। টম্বে ধরে নিয়েছেন, শুল্ক দীর্ঘ সময় বহাল থাকবে এবং শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুল্কের হারের সমান অনুপাতে কমবে। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, বাস্তবে ব্যবসা ও ভোক্তাদের আচরণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে প্রকৃত চাকরি ক্ষতির পরিমাণ তার অনুমানের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে।   শুল্কের প্রভাব সব খাতে সমান হবে না। টম্বের বিশ্লেষণে যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক ও রাবার, আসবাবপত্র, খেলনা, কাঠজাত পণ্য, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও পোশাক খাতকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরাসরি রপ্তানি কমে গেলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পাইকারি ব্যবসা এবং পেশাগত ও কারিগরি সেবার মতো খাতেও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান কমতে পারে।   প্রদেশভেদেও সম্ভাব্য প্রভাবের পার্থক্য রয়েছে। টম্বের হিসাবে অন্টারিওতে প্রায় ৩৬ হাজার, কুইবেকে ১৮ হাজার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ১১ হাজার এবং আলবার্টায় প্রায় ৯ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আলবার্টার নিজস্ব রপ্তানি নতুন শুল্কে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হলেও অন্য প্রদেশের রপ্তানিকারকদের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেখানে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্সের আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট রক্সান ব্রাউন বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব উভয় দেশের শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। সংগঠনটি দুই দেশের সরকারকে দ্রুত বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।   টম্বে বলেন, শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে সেটিই কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্পমেয়াদে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচ নিজেরা বহন করতে পারে বা কর্মীদের কাজের সময় কমাতে পারে। কিন্তু শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে চাকরি কমানোর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসাগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ ও নতুন পদ তৈরির গতিও কমিয়ে দিতে পারে।   তবে সম্ভাব্য ৯০ হাজার চাকরি ক্ষতির হিসাবকে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না টম্বে। তার হিসাবে, এই শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তা দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে অথবা দুই দেশ দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছালেও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।   কানাডার শ্রমবাজারে শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব তাই শুধু সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রপ্তানি কমে গেলে তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন, সরবরাহ ও বিভিন্ন সেবা খাতেও কর্মসংস্থানের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বাণিজ্য বিরোধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং দুই দেশের আলোচনায় কী ধরনের সমাধান আসে, তার ওপর সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে।   সূত্র: দ্য হাব

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর।   ১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর।   ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।   তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।   ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।   ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।   কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে।   তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে।   কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।   এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন।   কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ দাবি নির্মাতাদের

কানাডাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি প্রগতিশীল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন একটি ডকুমেন্টারি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামের এই ডকুমেন্টারির নির্মাতারা পুরো কানাডা ঘুরে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি কানাডীয় এবং ৭০ জনের বেশি নীতি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাদকনীতি, ইমিগ্রেশন, অপরাধ ও সরকারি ব্যয় - এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারিটি।   ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তির ঘটনাও। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফের ওপর পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সার্জনের দেখা পেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন।   ডকুমেন্টারির পরিচালক মিরা মেটার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে অপেক্ষা করার সময় ব্যথা কমাতে একাধিকবার মরফিন দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জনের কাছে পৌঁছানোর সময় কোমরের নিচের অংশে তিনি আর অনুভূতি পাচ্ছিলেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ক্ষতি হয়।    নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, আঘাতের এক ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি করা সম্ভব হলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। তবে এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।   ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে থাকেন। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য পেইন ক্লিনিকে চিকিৎসা পেতে তাঁর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে ব্যথার মাত্রা ১০-এর মধ্যে ১০ বলার পর তাঁকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং বা এমএআইডি-এর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তখন প্রশ্ন তোলেন, তিনি মৃত্যুর সমাধান চাননি - তিনি শুধু ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন।    ডকুমেন্টারির নির্মাতারা বলছেন, এই ঘটনা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সংকটের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা আবাসন ব্যয়, ইমিগ্রেশন, মাদকনীতি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বক্তব্য মূলত ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিশ্লেষণ ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে - এগুলোকে কানাডার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।    পরিচালক মিরা মেটার বলেন, দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তারা একই ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন - বাড়ি কেনার সামর্থ্য, মাসের খরচ চালানো, প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ফ্যামিলি ডক্টর পাওয়া যাচ্ছে কি না।   ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ ডকুমেন্টারিটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ সেপ্টেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পরে ২৬ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে গরুর মাংসের বারবিকিউ নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওতে বাড়ির মালিক রাজ টিওয়ানা-র সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরবর্তী কয়েকটি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়।    ঘটনার শুরু হয় ভাড়াটিয়া এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির বাগানে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময়। ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গ্রিল ব্যবহারের কারণে তাঁর বাড়ির ক্ষতি হতে পারে। ভাড়াটিয়া অবশ্য দেয়ালে থাকা দাগকে পোড়া দাগ নয়, মরিচা বলে দাবি করেন।    এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে গ্রিল থেকে খাবার সরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া তখন গরুর মাংস রান্না করছিলেন। টিওয়ানা তাঁকে বারবিকিউ বন্ধ করতে বলেন এবং প্রয়োজনে পুলিশে ফোন করার কথা জানান।    এরপর ভাড়াটিয়া ‘টিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়া নেওয়া ইউনিটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেছেন, তালা পরিবর্তন করেছেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কয়েকটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার শারীরিক সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়।    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশকে রাজ টিওয়ানাকে আটক করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা চার্জ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাম্প্রদায়িক বিরোধের ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সারে পুলিশ সার্ভিস এই ব্যাখ্যা নাকচ করেছে।   পুলিশের মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এটি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার চলমান বিরোধের অংশ এবং পুলিশ একাধিকবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, মাংস, ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্ত চলায় বাড়ির মালিকের পরিচয় বা অনুমোদিত চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকান পণ্য বয়কটে কানাডার সুপারমার্কেটে বদলে যাচ্ছে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা
আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই কানাডায় আমেরিকান পণ্য বয়কটের প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির অনেক ক্রেতা এখন সম্ভব হলে আমেরিকান পণ্য না কিনে কানাডার স্থানীয় পণ্য বেছে নিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দোকানগুলো কানাডার পণ্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কানাডার অন্টারিওর স্বাধীন মুদি দোকান প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, আমেরিকান পণ্য রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা তাদের কাছে ই-মেইল ও মন্তব্য পাঠিয়েছেন। এর জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের দোকানের বেশিরভাগ কৃষিপণ্যই কানাডায় উৎপাদিত। ত্রিমার্কির চারটি দোকানে এখন প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিপণ্যই কানাডার। আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা স্ট্রবেরির পরিবর্তে তারা এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন। তবে স্থানীয় পণ্য সংগ্রহের কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে দোকানগুলোকে পণ্যের মান ও দামের মধ্যে ভারসাম্য করতে হতো। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পণ্যটি কোন দেশের—সেই বিষয়টিও। কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে কানাডিয়ান পণ্য চিহ্নিত করতে ম্যাপল পাতার বড় সাইন আবার চালু করেছে। পাশাপাশি শুল্কের আওতায় পড়া পণ্য চিহ্নিত করতে ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কানাডার স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেবে। কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্যারি স্যান্ডস বলেন, কানাডার মানুষের চিন্তাভাবনায় স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের পর গত বছরের শুরু থেকেই ‘বাই কানাডিয়ান’ বা কানাডিয়ান পণ্য কেনার আন্দোলন শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। কানাডা বিশ্বের অন্যতম বড় তাজা সবজি আমদানিকারক দেশ। দেশটির তাজা সবজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে কানাডার মোট সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ জুলাইয়ে কমে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। কানাডার ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। তবে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডার ব্যবসায়ীরা এখন বিকল্প উৎস খুঁজছেন। টরন্টোর সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ড বলেন, তিনি যতটা সম্ভব আমেরিকান পণ্য এড়িয়ে চলছেন এবং কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডকে সমর্থন করছেন। কোনো পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখছেন এবং সেটি কানাডায় তৈরি কি না, তা জানতে অনলাইনেও খোঁজ করছেন। কানাডার শীতকাল দীর্ঘ ও কঠিন হওয়ায় সারা বছর স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কৃষিপণ্য উৎপাদন করা সহজ নয়। এ কারণে এতদিন দেশটির সুপারমার্কেটগুলো শীতের সময়ে গ্রিনহাউসের পণ্য, সংরক্ষিত সবজি কিংবা আমদানির ওপর বেশি নির্ভর করত। আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি। তবে আমেরিকান পণ্য বয়কটের কারণে এখন স্পেন, ব্রাজিল ও হন্ডুরাসের মতো দেশ থেকেও বেশি পণ্য আনছে কিছু কানাডিয়ান দোকান। মাইক ডিন লোকাল গ্রোসারের মালিক গর্ডন ডিন বলেন, নতুন সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আবার সহজে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সরবরাহব্যবস্থায় ফিরে যাবেন—এমনটা মনে হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের ফলে সরবরাহব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ হয়েছে। কানাডা সরকারও স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে শীতের সময়ে উৎপাদন বাড়াতে গ্রিনহাউস তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কমাতে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের আলাদা নিয়মকানুন এবং খাদ্য পরিবহনের কিছু বিধিনিষেধের কারণে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অব গেলফের অধ্যাপক মাইক ভন ম্যাসো বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। কারণ অনেক আমেরিকান পণ্য এখনো অন্যান্য দেশের বিকল্পের তুলনায় সস্তা। তবে তার মতে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে গেলেও কানাডিয়ানদের আমেরিকান পণ্যের প্রতি আগের নির্ভরতা আর নাও ফিরতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার মিল্টনে স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হওয়া ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইএস হামলার পরিকল্পনাকারীর মা কানাডায় স্কুল বোর্ড নির্বাচনে প্রার্থী

কানাডার অন্টারিওর মিল্টনে হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। তিনি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি ২০১৬ সালে আইএসের হয়ে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই হামলা পরিকল্পনায় টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় বোমা বিস্ফোরণ এবং কনসার্টে গুলি চালানোর পরিকল্পনা ছিল।   মেটওয়ালির প্রার্থিতার বিষয়টি ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে। টাউন অব মিল্টনের সরকারি তালিকায় তার নাম হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি, ওয়ার্ড ১ ও ২-এর প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। সেখানে তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। একই পদে অ্যান্ড্রু জে. উডও প্রার্থী হয়েছেন।   মেটওয়ালির ছেলে আবদুর রহমান এল বাহনাসাওয়ি কানাডার নাগরিক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আইএসের সমর্থনে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং টাইমস স্কয়ার ও নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়েতে বিস্ফোরক ব্যবহার করার পাশাপাশি কনসার্টে বেসামরিক মানুষকে গুলি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি হামলার সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে সাবওয়ের মানচিত্রও ব্যবহার করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, এল বাহনাসাওয়ি অন্য কয়েকজনের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের রমজান মাসে নিউইয়র্কের জনবহুল এলাকায় বোমা হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তের সময় এফবিআইয়ের একজন গোপন এজেন্ট ওই চক্রে প্রবেশ করেন। কানাডা থেকে নিউইয়র্ক এলাকায় যাওয়ার পর ২০১৬ সালের মে মাসে এল বাহনাসাওয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এল বাহনাসাওয়ি পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি হামলার পরিকল্পনা করতে গিয়ে নিজের ভাষায় ‘পরবর্তী ৯/১১’ ঘটানোর আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা সফল হলে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল বলে প্রসিকিউটররা আদালতে তুলে ধরেন।   কারাগারে যাওয়ার পরও এল বাহনাসাওয়ির বিরুদ্ধে নতুন সহিংসতার ঘটনা সামনে আসে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল কারাগারে তিনি দুই কারা কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে তার ডান চোখ হারানোর কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই কারাগার-সংক্রান্ত হামলার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় আরও সাজা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   মেটওয়ালি অবশ্য ছেলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে আলাদা করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি সব ধরনের সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ছেলের কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডকে কখনো সমর্থন করেননি। নিজের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ভোটারদের তার শিক্ষা, মানব উন্নয়ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং মিল্টনের শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পনার ভিত্তিতে তাকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।   মিল্টনটুডের প্রার্থী পরিচিতিতেও মেটওয়ালিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কানাডিয়ান সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু উডও একই ওয়ার্ডের প্রার্থী।   মিল্টনের স্থানীয় নির্বাচন ২৬ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, মেটওয়ালি ওয়ার্ড ১ ও ২-এর হ্যালটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তার প্রার্থিতা সামনে আসার পর ছেলে এল বাহনাসাওয়ির পুরোনো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাসাইলাম বাতিল: ৮ বছর পর কানাডা ছাড়তে হলো এক ভারতীয় পরিবারকে!

কানাডার ক্যুবেক প্রদেশে আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক কারণে কানাডায় থাকার আবেদন এবং আদালতে পর্যালোচনার উদ্যোগের পর ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারটি ভারতগামী ফ্লাইটে ওঠে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানাডায় আসার পর পরিবারটি ক্যুবেকেই নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল।    হরিশ কুমার, তার স্ত্রী সোনিকা এবং তাদের দুই সন্তান গৌরেশ ও জাপেশ ২০১৮ সালে কানাডায় আসার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করেন। হরিশের দাবি ছিল, ভারতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে মানবিক ও সহানুভূতিশীল কারণে কানাডায় থাকার আবেদনও ব্যর্থ হয়।   পরিবারটির বিরুদ্ধে কানাডা ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর তাদের ভারত ফেরার কথা ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট পরিবারটিকে জানানো হয় যে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। পরে হরিশের স্ত্রী সোনিকাকে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ হেফাজতে নেয় বলে হরিশ জানিয়েছেন।    পরিবারটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের দুই সন্তানকে ঘিরে। ১৪ বছর বয়সী জাপেশ ও ১২ বছর বয়সী গৌরেশের শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ক্যুবেকে। তারা কানাডার স্কুলে পড়েছে, ফরাসি ভাষা শিখেছে এবং সেখানেই বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ গড়ে তুলেছে।   বিদায়ের আগে ১৪ বছর বয়সী জাপেশ গণমাধ্যমকে জানায়, সে ক্যুবেকেই বড় হয়েছে এবং সেখানে তার বন্ধুরা রয়েছে। ভারতের জীবন সম্পর্কে তার খুব কম ধারণা। তার ১২ বছর বয়সী ভাই গৌরেশও জীবনের বড় অংশ কানাডায় কাটিয়েছে। ফলে ভারত ফিরে গিয়ে তাদের নতুন পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।    কানাডায় থাকার সময় হরিশ কুমার ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই পেশায় ছিলেন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও পণ্য পরিবহনের কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়ে ট্রাকিং ও পরিবহন খাতকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তার স্ত্রী সোনিকাও পরিবারের ব্যয় চালাতে কাজ করেছেন।    কুমার পরিবারকে সহায়তা করা ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার তাদের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পরিবারটি আট বছর ধরে কানাডায় বসবাস, কাজ ও স্থানীয় কমিউনিটিতে অবদান রাখার পরও তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ হয়নি।   অন্যদিকে, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আপিল, ফেডারেল কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ বা প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের মতো আইনি সুযোগ পেতে পারেন। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের ৪৮ নম্বর ধারায় কার্যকর রিমুভাল অর্ডার থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে।    কুমার পরিবার ইতোমধ্যে ভারত পৌঁছালেও তাদের আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরিবারটি ফেডারেল কোর্টে তাদের মামলাটি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আট বছর পর ভারতে ফিরে এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবারটি। বিশেষ করে দুই সন্তানের জন্য এটি শুধু একটি দেশ পরিবর্তন নয়, বরং শৈশব থেকে পরিচিত ক্যুবেকের জীবন ছেড়ে এমন একটি দেশে নতুন করে শুরু করা, যাকে তারা নিজেদের ভাষায় খুব কমই চেনে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস ও গুরুতর আহত তাঁর ছেলে মারিফ বর্তমানে বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে

কানাডার মিসিসাগায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্টের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একের পর এক অস্ত্রোপচার করছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনই বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন।   গত ১১ আগস্ট বিকেলে টরন্টো বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরছিলেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে। হাইওয়ে ৪০৩-এর মিসিসাগা এলাকায় তাঁদের গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর মাসুদ ও অপর গাড়ির চালক নিজেদের গাড়ি হাইওয়ের ডান পাশের শোল্ডারে থামিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছিলেন এবং ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   এর মধ্যেই একটি তৃতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শোল্ডারে থাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ওই গাড়িটি ছিটকে এসে মাসুদ ও মারিফকে আঘাত করে। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গাড়ির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।   মাসুদের দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাফেলোর ইসিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।   অন্যদিকে, অ্যামহার্স্ট মিডল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একাধিক অস্ত্রোপচার করেছেন। তাকে বাফেলোর গোলিসানো চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর পা রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।   দুর্ঘটনার পর মাসুদের পরিবার আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে মাসুদ এখন কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ছেলের একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ম্যাট হিগিন্স ও তাঁর পরিবার। তাঁরা মাসুদ ও মারিফের চিকিৎসা এবং পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য একটি GoFundMe ক্যাম্পেইন চালু করেছেন।   ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। GoFundMe-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ দীর্ঘ হতে পারে এবং মারিফের আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট কমিউনিটিতেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই কঠিন সময়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলাতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।    গো ফান্ড লিংক: https://gofund.me/57fbf9c15

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার পাল্টা শুল্কে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, হুমকিতে আমেরিকান ব্যবসা ও চাকরি
আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন পাল্টা ট্যারিফ কার্যকর করেছে কানাডা। পণ্যভেদে এই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। কানাডার সরকারি তালিকায় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম, ডেইরি, অ্যাপ্লায়েন্স, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও পেপার, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।    তবে এই ট্যারিফ সরাসরি আমেরিকান ভোক্তার ওপর বসানো হয়নি। কানাডায় এসব মার্কিন পণ্য আমদানি করার সময় কানাডার ব্যবসায়ীদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে।   ফলে প্রথম চাপ পড়বে কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যারিফের কারণে কানাডায় মার্কিন পণ্যের দাম বাড়লে কিছু পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং এতে মার্কিন ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    বিশেষ করে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, ফার্নিচার, পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের মতো খাত এখন নজরে রয়েছে। কিছু পণ্যে ট্যারিফ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ায় কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।    এর প্রভাব কি আমেরিকান চাকরিতেও পড়তে পারে?   এখনই বড় ধরনের চাকরি হারানোর কোনো প্রমাণ নেই। তবে কানাডার বাজারে কোনো মার্কিন কোম্পানির বিক্রি দীর্ঘদিন কমে গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কানাডার বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।   এর মধ্যেই বাণিজ্য উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, যদি কোম্পানিটি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে না নেয়।   জবাবে বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তাদের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মী ও উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে।    অর্থাৎ কানাডার পাল্টা ট্যারিফের প্রভাব শুধু দুই দেশের সীমান্তের ওপারে পণ্যের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘ হলে আমেরিকান কোম্পানির বিক্রি, উৎপাদন এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে এই মুহূর্তে আমেরিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই দেশ আবার আলোচনায় ফিরবে, নাকি পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরও বাড়বে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই বাণিজ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন
অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, জেনে নিন

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ফারিহা জেরিন রাবিতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি দেন। বিদেশে পড়াশোনার খরচ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকলেও স্কলারশিপ, ক্যাম্পাসে কাজ এবং একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত টরন্টোতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।    বাংলাদেশের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাবিতার শুরুতে লক্ষ্য ছিল বুয়েটে পড়া। করোনার কারণে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা করে শেষ পর্যন্ত কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। চার বছরে ৪৪ হাজার ৪০০ কানাডিয়ান ডলারের Seymour Schulich Scholarship তার বিদেশে পড়ার পথটি সহজ করে দেয়।    কানাডায় গিয়ে পড়াশোনার খরচ সামলাতে শুরুতে একটি স্টেডিয়ামে পার্টটাইম কাজ নেন রাবিতা। তবে কাজটি তার পড়াশোনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছিল। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন কাজ করবেন যা একই সঙ্গে আয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে।   পরবর্তী চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ১৫টি ভিন্ন পদে কাজ করেন। এর মধ্যে ছিল রেসিডেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যাকাল্টি অ্যাম্বাসাডর, কো-অপ অ্যাম্বাসাডর ও আইটি সার্ভিসেসের বিভিন্ন দায়িত্ব। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে টানা চার সেমিস্টারে ১৫০টির বেশি শিক্ষার্থীর ল্যাব পরিচালনাও করেন তিনি। এসব কাজ তাকে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়।    এরপর আসে তিনটি কো-অপের সুযোগ, তিনটি ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে। টরন্টোর Munich Re-তে প্রথম কো-অপে কাজ করার আগে কানাডায় তার কোনো ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্তত ১০০টি কোম্পানিতে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত প্রথম করপোরেট চাকরির সুযোগ পান তিনি।   দ্বিতীয় কো-অপে হ্যালিফ্যাক্সের Ubisoft-এ জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলায় গেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া রাবিতার জন্য এটি ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিতে চান না।   তৃতীয় কো-অপে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি Arctic Wolf-এ ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। সেখানে স্বয়ংক্রিয় সিকিউরিটি রিপোর্ট তৈরির একটি সিস্টেম উন্নত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। আগে যেখানে রিপোর্ট তৈরি হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগত, নতুন মাইক্রোসার্ভিস চালুর পর সময় নেমে আসে প্রায় তিন ঘণ্টায়। অর্থাৎ রিপোর্ট তৈরির সময় ৮৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।    স্নাতক হওয়ার আগে থেকেই রাবিতার লক্ষ্য ছিল অ্যামাজনে কাজ করা। ২০২৫ সালের সামার সেমিস্টারে, গ্র্যাজুয়েশনের প্রায় দুই মাস আগে তিনি অ্যামাজনের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। নিজের সিভিতে শুধু কী কাজ করেছেন তা নয়, সেই কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তুলে ধরেন। অ্যামাজনের Leadership Principles-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কভার লেটারও তৈরি করেন তিনি।   আবেদন বাছাই হওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টার অনলাইন অ্যাসেসমেন্টে দুটি কোডিং প্রশ্ন ও একটি আচরণগত অংশ ছিল। এরপর তিন দফা এক ঘণ্টার ইন্টারভিউ দেন তিনি। প্রথম দুটি ছিল কারিগরি, যেখানে কোডিং, সমস্যা সমাধান, জটিলতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। শেষ ইন্টারভিউতে অ্যামাজনের Leadership Principles অনুযায়ী তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব নেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।    আবেদন থেকে চাকরির অফার পেতে রাবিতার প্রায় দুই মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনে কাজ শুরু করেন তিনি। একই বছরের অক্টোবরে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়।   বর্তমানে তার কর্মদিবসে কোডিং, কোড রিভিউ, মিটিং, প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা, সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং ও ডিবাগিংয়ের মতো কাজ থাকে। কখনো কখনো অন-কল দায়িত্বে ভোর ৪টার সময়ও সমস্যার সমাধানে সাড়া দিতে হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাবিতার টরন্টোর জীবন ও অ্যামাজনে কাজের অভিজ্ঞতার ভিডিও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও তিনি জানান, বাস্তব চাকরিজীবনে চাপ, ডেডলাইন ও বার্নআউটও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিটির কঠিন দিকের তুলনায় ভালো লাগার দিকই বেশি, তাই তিনি এই পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাবিতার পরামর্শ, চাকরিযোগ্য হওয়ার জন্য শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ভালো ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও কিছু তৈরি করা এবং কী তৈরি করেছেন, কোন সমস্যার সমাধান করেছেন ও কী শিখেছেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। সূত্র: The business standard

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন
আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন

কানাডায় বেড়ে ওঠা ইয়াসমিন মোহাম্মদ দাবি করেছেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাকে আল-কায়েদার সদস্য এসাম মারজুককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিয়ের পর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত মেয়েকে নিয়ে সেই সম্পর্ক থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উগ্রবাদ ও জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তিনি।    ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসমিন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে তার জীবনের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, তার মা ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে স্বামীর নির্যাতনকে সমর্থন করতেন এবং তাকে বোঝানো হতো যে স্বামী হিসেবে ওই ব্যক্তির ওপর তার অধিকার রয়েছে।   ইয়াসমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরে তার স্বামী মেয়েকে মিশরে নিয়ে গিয়ে নারী যৌনাঙ্গ বিকৃত করার প্রথার মধ্যে ফেলতে চাচ্ছিলেন বলে তিনি জানতে পারেন। মেয়েকে রক্ষা করতেই তখন তিনি পালানোর সিদ্ধান্ত নেন।    ইয়াসমিন কানাডার একটি ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম পরিবারে বড় হয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তার মা আরও কট্টর ধর্মীয় অবস্থানে চলে যান এবং তার জীবনযাপনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। কিশোরী বয়স থেকেই তাকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয় এবং পরে নিকাবও পরতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।   বিয়ের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। ইয়াসমিনের দাবি, স্বামীর নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে বাড়ির বাইরে যাওয়া ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হতো। তিনি তার বই ‘আনভেইলড’-এও এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।   সম্পর্ক থেকে পালানোর পর নিজের মেয়েকে নিরাপদে রাখতে ইয়াসমিনকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হয়। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পড়াশোনা করেন। সেখানে ধর্মের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনার সময় তিনি নিজের বিশ্বাস ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।    বর্তমানে ইয়াসমিন মোহাম্মদ ক্ল্যারিটি কোয়ালিশনের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদ, জোরপূর্বক বিয়ে এবং চরমপন্থী মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষকে উগ্রবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা।    সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও উগ্র মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে চরমপন্থী ধারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া।    ইয়াসমিনের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে, নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই এবং পরে সেই অভিজ্ঞতাকে জনসচেতনতার কাজে ব্যবহার করা। তিনি এখন নিজের অতীতকে আড়াল না করে জোরপূর্বক বিয়ে ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার মুদ্রা বিনিময়ের ভারসাম্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না।   ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা ট্রাম্পের এই পোস্টটি দু’দেশের মধ্যে প্রসারিত হতে থাকা অর্থনৈতিক সংঘাতের সর্বশেষ বার্তা। এই বিরোধের কারণে ইতিমধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে গেছে এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত কোটি ডলারের সীমান্তে উভয় দেশই ভারী শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ডলারের ভারসাম্যহীনতা অগ্রহণযোগ্য। বছরের পর বছর ধরে এমনটি হয়ে আসছে কিন্তু আর নয়।’   কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা যে অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করে বছরে শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্য আবর্তিত হয়, তা এখন তীব্র চাপে পড়েছে। ফলে শক্তি (জ্বালানি), অটোমোবাইল, কৃষি এবং উৎপাদন খাতের মতো সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।   ট্রাম্পের দাবি, এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা চরমভাবে অটোয়ার (কানাডা) পক্ষে যাচ্ছে, যা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের নীতি কানাডার অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে। এই বিরোধ এখন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন লেক অন্টারিও এর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার একটি প্রস্তাব সমর্থন করে। পরবর্তীতে গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপসের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আপডেট করলে প্রতীকী এই সিদ্ধান্তটি আরও বড় আকার ধারণ করে। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   রোববারের পোস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো নতুন নীতিগত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার এবং গত কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরেই এই হুঁশিয়ারি এলো।   ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের পর হোয়াইট হাউস বা কানাডীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, প্রশাসন এখনো কানাডার বাণিজ্য অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনা স্থবির থাকলে অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।   এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কানাডার পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থায় তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন বাণিজ্য পদক্ষেপের সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে । ওয়াশিংটন নতুন কোনো শাস্তি আরোপ করলে কানাডাও যে আরও কড়া পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৩৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎপাদন খাতে ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিনিয়োগকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।   কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ৩১৩টি রেলগাড়ি তৈরি করা হবে। দেশটির রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অন্টারিওর থান্ডার বে এলাকায় এসব রেলগাড়ি তৈরি করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, প্রকল্পটিতে কানাডার শ্রমিক ও দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে কানাডায় উৎপাদিত ইস্পাতও থাকবে। তিনি বলেন, যেসব রেলগাড়ি আগে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হতো, সেগুলো এখন কানাডাতেই তৈরি করা হবে। কার্নির ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার প্রয়োজনের সময় কানাডার শ্রমিক ও উপকরণ ব্যবহার করেই এই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার বাণিজ্যিক নির্ভরতা অনেক বেশি। দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৪০০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, যা কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কানাডা এখন নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা গত সপ্তাহে ভেঙে যায়। প্রধানমন্ত্রী কার্নি ওয়াশিংটন থেকে কানাডার আলোচকদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ছাড় চেয়েছিল, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর মধ্যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে কানাডা বাণিজ্য চুক্তি করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এমন শর্তও ছিল বলে জানান তিনি।   এদিকে আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর কানাডায় একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নিতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ ট্রিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে।   প্রশ্নোত্তর পর্বে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন কার্নি। লুটনিক অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে দিয়েছেন। জবাবে কার্নি বলেন, তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত নন এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন না। তিনি আরও বলেন, লুটনিক কানাডার রাজনীতি বোঝেন না।   এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কার্নির মত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনের আয়োজক দেশ যাকে ইচ্ছা আমন্ত্রণ জানাতে পারে। তবে পুতিনের প্রতি কানাডার বার্তা কী হবে, সে বিষয়ে কার্নি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ইউক্রেন থেকে রাশিয়াকে সরে যেতে হবে।   কানাডার নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলারের এই প্রকল্পকে তাই দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, এবার ৮৬ টন সোনা সরাল নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত নিজেদের সোনার মজুতের প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত।   ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর করা হয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ কানাডার অটোয়ায় ছিল। স্থানান্তরের পর দুই জায়গাতেই রয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে সঞ্চিত সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।   ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সোনা রাখলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত তা লেনদেন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সোনা ছড়িয়ে রাখায় ঝুঁকিও কমে।    তবে নেদারল্যান্ডসই প্রথম নয়। ফ্রান্স ও জার্মানিও অতীতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে নিজেদের সোনা সরিয়েছে। ফ্রান্স ২০২৫-২৬ সময়ে নিউইয়র্কে থাকা ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে ইউরোপে সমপরিমাণ নতুন সোনা কিনেছে। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ওই সোনা আন্তর্জাতিক মানে না থাকায় বিক্রি করে ইউরোপে নতুন সোনা কেনা হয়েছিল।    জার্মানি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন এবং প্যারিস থেকে ৩৭৪ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে স্থানান্তর করে। ২০১৭ সালের আগস্টে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দেশটির মোট সোনার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ তখন জার্মানিতেই সংরক্ষিত ছিল।    তবে এসব স্থানান্তরকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থার প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। দেশগুলো মূলত সোনার নিরাপত্তা, ঝুঁকি বণ্টন এবং সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন।   তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল।   ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল।   হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।   মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।   প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়।   তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।   এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন

কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানো এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নেই অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   তিন দিন ধরে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো জরিপে ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, কানাডীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।   কানাডা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প।   যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।   ‘লেক আমেরিকা’ নিয়েও আপত্তি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ একমত নন।   গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে এই নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নাম ব্যবহারে বাধ্য করার ক্ষমতা এই সিদ্ধান্তে নেই।   রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে মাত্র ১৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।   লেক অন্টারিও নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত।   এর আগে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথাও বিভিন্ন সময় বলেছেন তিনি।   নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করবে। ফলে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।   রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ৪ শতাংশ পয়েন্ট। আমেরিকাবাংলা/অলি

তাবাস্সুম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে, তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম আমেরিকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আহ্বান জানান।   ট্রাম্প বলেন, কানাডীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করলে নতুন করে আরোপিত শুল্ক এড়াতে পারবে। তার প্রশাসনের নতুন শুল্ক ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করছে। ট্রাম্প কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য ও কাঠও রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।  ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে সুবিধা নিয়েছে। তবে বাস্তবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয় বলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্য উল্লেখ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।    ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বিশেষভাবে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো কানাডাসহ অন্যান্য দেশের ওপর যন্ত্রাংশ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। ফলে নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন গাড়ি শিল্পেও বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন, এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।    কানাডার পাল্টা শুল্কের পর যুক্তরাষ্ট্রও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সীমান্তবর্তী ব্যবসা, গাড়ি শিল্প এবং দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০