নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবৈধ ও বিপজ্জনক ই-বাইক এবং স্কুটার বিক্রি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বুধবার সিটি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার প্রশাসন অবৈধভাবে উচ্চ গতির ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রির অভিযোগে ৪২টি অনলাইন খুচরা বিক্রেতাকে 'সিজ-অ্যান্ড-ডেসিস্ট' (cease-and-desist) বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ না মানলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য বিক্রেতাদের দুই হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। মেয়র স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের রাস্তায় এ ধরনের বিপজ্জনক যান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো— ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের বা ২০ মাইল বেগের বেশি চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধন নম্বরবিহীন মোপেডগুলোর ভবিষ্যৎ বিক্রি বন্ধ করা।
তবে মেয়রের এই পদক্ষেপকে 'অকার্যকর ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল ভবিষ্যতে বিক্রি হতে যাওয়া যানগুলো ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক ই-বাইকগুলো অপসারণের বিষয়ে মেয়র কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি এসব যানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার যে আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সমর্থন করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেয়রের দাবি, ই-বাইক ও স্কুটারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে রাস্তার নিরাপত্তা খুব একটা বাড়বে না এবং তিনি এই পথে হাঁটতে চান না।
মেয়রের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে 'এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স'। সংগঠনের একজন মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের রাস্তা থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবৈধ যানগুলো সরাতে মেয়র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে শহরে এই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকট চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
পরিসংখ্যানও এই ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটনার জন্যই অবৈধ যানগুলো দায়ী। এছাড়া, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সাইকেল ও স্কুটার দুর্ঘটনাজনিত ট্রমার হার ১০ শতাংশেরও কম থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির মোট ট্রমা রোগীর প্রায় ৭ শতাংশই মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনার শিকার।
সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ই-বাইকের কারণে বেশ কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোয়ার ম্যানহাটনে অবৈধ ই-বাইক চালাতে গিয়ে পার্ক করা এসইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগিংকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোমায় ছিলেন।
এসব কারণে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বর্তমান আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাস্তায় থাকা অবৈধ বাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কিছুক্ষণ পরই মেয়র নিজেই যখন প্রশ্ন তোলেন— "যে আইন প্রয়োগই হয় না, তার আসলে কী মূল্য আছে?", তখন তার এই স্ববিরোধী অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তোলে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ একটি বড় অর্থায়নের সুযোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। সিমন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্নাতক পড়াশোনার জন্য পূর্ণ টিউশন ও রুম-অ্যান্ড-বোর্ড সুবিধা পান। পাশাপাশি একাডেমিক কাজে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলারের সহায়তাও রয়েছে। বস্টন, ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ মূলত অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের গুণ, বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল এবং সৃজনশীলতার মতো যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি স্কলারশিপ এবং আলাদা আবেদন করতে হয়। স্কলারশিপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চার বছরের টিউশন এবং রুম-অ্যান্ড-বোর্ডের অর্থায়ন। এর সঙ্গে ৩ হাজার ডলারের অতিরিক্ত অর্থ গবেষণা, বিদেশে শিক্ষাভ্রমণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স কিংবা গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের টিউশনের মতো একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, কোটজেন স্কলারশিপ চার বছরের পূর্ণকালীন স্নাতক পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাধারণ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হলেও সেগুলো সাধারণত পুরো পড়াশোনার খরচ বহন করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক খরচ প্রায় ৭৪ হাজার ডলার। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হন। এসব সাধারণ স্কলারশিপের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি তথ্যপৃষ্ঠায় কিছু মেধাভিত্তিক পুরস্কারের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো কোটজেন স্কলারশিপের সমান নয় এবং পুরো খরচ মেটানোর নিশ্চয়তা দেয় না। কোটজেন স্কলারশিপের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারদের জন্য ৩.৩ জিপিএ বজায় রাখার শর্ত ছিল। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সব শর্ত ও সময়সীমা আবেদন করার আগে সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান নির্দেশনা থেকে যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন করার আগে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা বা নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড সিমন্স ইউনিভার্সিটি দেয় না। তাই কোটজেনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ ছাড়াও আবেদনকারীকে অন্যান্য সম্ভাব্য অর্থায়ন এবং নিজের অবশিষ্ট শিক্ষাব্যয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই করতে হবে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণকালীন আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ ডলার দেখানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবীমা, বই, ব্যক্তিগত খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ও শিক্ষার্থীর মোট বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ‘ফুল স্কলারশিপ’ বলা হলেও কোন কোন খরচ সরাসরি এর আওতায় রয়েছে, তা আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই কোটজেন স্কলারশিপের পাশাপাশি সিমন্স ইউনিভার্সিটির অন্যান্য মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, ভর্তি যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার নিয়মও দেখে আবেদন প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কলারশিপের আবেদনপত্রে একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা আবেদনকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কার্ডিওলজিস্ট ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ, টানা চতুর্থবার ‘টপ ডাক্তার’ স্বীকৃতি
প্রেমিক হতে চাইলে মানতে হবে একের পর এক শর্ত, টেক নারীর তালিকা ভাইরাল
নিউইয়র্কে চোখের পরীক্ষা কোথায় করবেন, খরচ কত! জানুন
মাত্র ২০ ডলারের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে শুরু। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গেমিং চ্যানেলের প্রচারে বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মাইটি মাইক প্লেজ’ চ্যানেলকে ঘিরে। তবে পুরো অর্থের খরচ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। শিশুটির নাম মাইক। সে মাইনক্রাফট ও রোবলক্সের গেমিং ভিডিও তৈরি করে। তার বাবা ডেভ জানান, ভিডিওগুলোতে দর্শক কম আসায় তিনি ছেলেকে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় একটি ছোট প্রচারণা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। ওই প্রথম প্রচারণার বাজেট ছিল প্রায় ২০ ডলার। পরে ছেলে নিজেই একই পদ্ধতিতে আরও বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে বলে বাবার দাবি। বড় সমস্যাটি তৈরি হয় পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকায়। বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য একটি গুগল অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তী বিজ্ঞাপন প্রচারণাগুলো চালানোর সময় একই পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক বুঝতে পারেনি যে প্রতিটি প্রচারণার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কেটে যাচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিষয়টি ধরা পড়ে। বাবাকে কোম্পানির ম্যানেজার, করপোরেট কর্মকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ডেকে বিজ্ঞাপন বাবদ হওয়া বিপুল খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ছেলের চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবশ্য ভিডিওগুলোর দর্শক বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি প্রচারিত ভিডিও প্রায় ২ লাখ করে ভিউ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে পাওয়া ভিউয়ের সঙ্গে প্রকৃত দর্শক বা দীর্ঘমেয়াদি চ্যানেল প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি। ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে বাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই চাকরি হারানো এবং পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়—দুটিকেই আপাতত বাবার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ঘটনাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো শিশুর ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে কোম্পানি বা পরিবারের বড় অঙ্কের পেমেন্ট পদ্ধতি সংরক্ষিত থাকলে ব্যয়ের সীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। পরিবারটি এখন সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য সরানো এবং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে, ইউওএল।
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট কড়াই কিচেনের নাম উঠল নিউইয়র্ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০-এ
পিকআপের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে ছিলেন চার অভিবাসী, মার্কিন নাগরিকসহ আ টক করল সীমান্তরক্ষী
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ, কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট
টেক্সাসে আইসিইর একটি অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থামার পর তাদের আ টক করা হয় এবং একজনকে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরানো হয়। আরেক কিশোরকে আইসিইর এক কর্মকর্তা আ ঘা ত করেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। দুই কিশোরের পরিবারের দাবি, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য রি ক্রু টিং অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের আলামো এলাকায়। লুইস ওচোয়া নামে এক কিশোরের ভাষ্য, তারা রাস্তার পাশে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে সেটি ভিডিও করার জন্য গাড়ি থামিয়েছিল। এরপর কর্মকর্তারা তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কিশোরকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরাতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে থাকা আরেক কিশোর নেমে আসার পর এক আইসিই কর্মকর্তা তাকে কয়েকবার আ ঘা ত করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে অ প্রা প্ত ব য় স্ক।’ পরে ওই কিশোরকেও মাটিতে ধরে রাখা হয় এবং হা ত ক ড়া পরানো হয়। লুইস ওচোয়া অ ভি যোগ করেছেন, তাকে ম রি চের স্প্রে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে আ টক করা হয়। তার দাবি, এ সময় তার কবজিতে আ ঘা ত লাগে। ওচোয়ার মা তেরেসা ওচোয়া জানান, ছেলের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, ছেলে অ প্রা প্ত ব য় স্ক হওয়ায় ঘটনাটি পরিবারের জন্য আরও উদ্বেগের ছিল। দুই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য একটি রি ক্রু টিং অফিসে যাচ্ছিল। পথে আইসিইর অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে তারা সেখানে থেমে ভিডিও করছিল। তবে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি দুই কিশোরকে আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বা ধা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএইচএসের দাবি, তাদের একজন আইসিইর গাড়ির জানালায় বারবার আ ঘা ত করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন। ডিএইচএসের ভাষ্য, পরে ওই কিশোরকে আ টক করতে গেলে তিনি মৌখিক ও শারীরিকভাবে প্র তি রোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব ল প্র য়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ঘটনায় দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আ হ ত হন এবং তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে কিশোরদের পক্ষ থেকে ডিএইচএসের এসব অ ভি যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পরিবারের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওর পুরো প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ঘটনার পর দুই কিশোর আলামো পুলিশের কাছে অ ভি যোগ করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইসিইর অ ভি যা নের সময় দুই কিশোরের আ টক এবং তাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য এখন তদন্তের আওতায় এসেছ
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ, ইরানি কর্মকর্তার কড়া বার্তা