সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্যারিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের মধ্যে ক্যারিয়ারে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পেশার পাশাপাশি আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মতো ক্ষেত্রও তরুণদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিউনিটির কয়েকটি পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতায়ও দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনা বা কর্মজীবনের মাঝপথে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছেন।   টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণীর গল্প তার একটি উদাহরণ। মিডল স্কুল থেকেই তিনি হেলথ কেয়ার ও মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। হাই স্কুল পেরিয়ে কলেজেও সেই লক্ষ্য ধরে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি কলেজ শেষ করার পরও অবশ্য সেই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি হেলথ কেয়ারের পরিবর্তে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ল স্কুলে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।   অর্থাৎ যে ক্যারিয়ারের জন্য একজন শিক্ষার্থী কৈশোর থেকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেই পথ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করছেন না।   জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের একটি পরিবর্তন। এক বাংলাদেশি পরিবারের তরুণীর শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আইটি ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন।   আইটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আইটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং আইটির ভেতরেই ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নেওয়া।   এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারও ভূমিকা রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়বে। এআই ও বিগ ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবও দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির কারণে আইটি খাতের সব চাকরি কমে যাচ্ছে এমন নয়। বরং কিছু পেশায় কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ডেটা সায়েন্টিস্টের চাকরি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।    তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু আইটি পড়বে কি না, তা নয়; বরং আইটির কোন শাখায় গেলে ভবিষ্যতে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আইটি পেশায় কাজ করা কিছু বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবীও চাকরির বাজারের পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তাদের কেউ নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ আইটির অন্য শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ চাকরির পরিবর্তে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।   জর্জিয়ার এমনই এক তরুণ বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, দীর্ঘদিন আইটি খাতে কাজ করার পর এখন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। তার কাছে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তন এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আইটি ক্যারিয়ারকে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। ফলে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির আকারও দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার।    অর্থাৎ কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দ আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পেশাগত পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইটি পেশার বাইরে নতুন প্রজন্ম কতটা যাচ্ছে?   একজন তরুণী হেলথ কেয়ার থেকে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরেকজন আইটি থেকে এআইভিত্তিক ক্যারিয়ারের দিকে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে একজন অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন।   এই তিনটি ঘটনা হয়তো পুরো কমিউনিটির চিত্র নয়। কিন্তু এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু বাবা-মায়ের পছন্দের পেশা নয়, বরং নিজের আগ্রহ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার বেছে নিতে চাইছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরনো প্রশ্নটি হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। প্রশ্নটি আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নাকি আইটি—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কোন পেশায় ভবিষ্যতের সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে এবং সন্তানের নিজের আগ্রহ কোথায়—সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   আর সেই পরিবর্তনের গল্পই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন ক্যারিয়ার মানচিত্র তৈরি করবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে
কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ৬ অঙ্কের বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ভালো বেতনের চাকরি করতে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন নয় বলে জানিয়েছেন লো’জের প্রধান নির্বাহী মারভিন এলিসন। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিতে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব। প্লাম্বিং, ইলেকট্রিকের কাজ, ওয়েল্ডিং ও এইচভিএসির মতো পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব পেশাকে জনপ্রিয় করতেই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লো’জ ফাউন্ডেশন।   লো’জ ফাউন্ডেশন ‘বিল্ডিং ফিউচার্স স্কিলড ট্রেডস কোয়ালিশন’ নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে দক্ষ পেশার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুত করা।প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব কর্মীকে চাকরির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশজুড়ে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এলিসন বলেন, চার বছরের কলেজ ডিগ্রিই সফল ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ—এই ধারণা বদলানো দরকার। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিই ভালো বেতন ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের সুযোগ দিতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই তরুণদের এসব পেশার দিকেও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লো’জ ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশটির দক্ষ কর্মীর ঘাটতির তুলনায় এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই বিভিন্ন বড় কোম্পানিকে যুক্ত করে নতুন জোট তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করা হবে। এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ দেওয়ার কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে। কমিউনিটি কলেজ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও এর আওতায় থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীদের উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতেও সহায়তা করা হবে। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে এলিসন বলেন, তার বাবা হাইস্কুলও শেষ করতে পারেননি। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে তিনি দুটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সফল হওয়ার জন্য শুধু প্রচলিত শিক্ষার পথ অনুসরণ করা জরুরি নয়। এলিসন আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি সমাধান করা না গেলে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তার হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২১ লাখ দক্ষ কর্মীর পদ খালি থাকতে পারে। এই ঘাটতির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। তাই দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরও জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কর্মস্থলের তালিকায়। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ

চাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে।   ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।   বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো।   তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।   তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য।   তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে।   অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।   ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।   এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে।   ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।   ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে:   ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র‌্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা।   তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সঠিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিবাসী পেশাজীবীদের সফল কর্মসংস্থান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি

বাংলাদেশে বছরের পর বছর চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অনেকেই মনে করেন, আগের কাজের অভিজ্ঞতার আর কোনো মূল্য নেই। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশের চাকরির অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দল পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বিভিন্ন পেশায় কাজে লাগানো সম্ভব।   তবে শুধু রেজুমেতে বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই হবে না। আমেরিকান নিয়োগকর্তারা যেন আপনার কাজের দায়িত্ব, দক্ষতা ও অর্জন সহজে বুঝতে পারেন, সেভাবেই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতে হবে।   রেজুমে সাজাতে হবে আমেরিকান ধাঁচে বাংলাদেশে প্রচলিত দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্তের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট পদের জন্য তৈরি রেজুমে বেশি কার্যকর। পেশাগত অভিজ্ঞতা লেখার সময় শুধু কী দায়িত্ব পালন করেছেন তা না লিখে, সেই কাজের মাধ্যমে কী ফলাফল অর্জন করেছেন সেটি তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।   উদাহরণ হিসেবে, শুধু ‘২০ জনের দল পরিচালনা করেছি’ না লিখে, সেই দলের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করা বেশি কার্যকর। যেমন, ২০ সদস্যের একটি দল পরিচালনা করে ছয় মাসে বিক্রি ৩০ শতাংশ বাড়ানোর মতো সুনির্দিষ্ট অর্জন থাকলে সেটি রেজুমেতে তুলে ধরা যেতে পারে।   চাকরির পদবি হতে হবে সহজবোধ্য বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত পদবি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার কাছে সবসময় পরিচিত নাও হতে পারে। তাই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ও সহজবোধ্য পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে।   একইভাবে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত না হলে রেজুমেতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধরন ও পরিধি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন, আপনি কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে এবং কতটা বড় পরিসরে কাজ করেছেন।   স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা আলাদাভাবে তুলে ধরুন বাংলাদেশে শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বিপণন কিংবা প্রশাসনিক কাজে অর্জিত অনেক দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চাকরিতে কাজে লাগতে পারে।   একজন শিক্ষক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা ও নিয়মনীতি মেনে কাজ করার দক্ষতা তুলে ধরা যায়। এসব দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা, অফিস প্রশাসন বা কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতেও কাজে লাগতে পারে।   পেশাভেদে লাইসেন্স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করুন ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত পেশায় বিদেশি ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতা সরাসরি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের কাজে বিভিন্ন স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে থাকে। তবে কোন মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, তা পেশা ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পেশায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতার শর্ত যাচাই করা উচিত।   সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতিভিত্তিক উত্তর দিন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির সাক্ষাৎকারে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ চাওয়া খুবই সাধারণ। ‘কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন’ বা ‘কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কর্মজীবনের বাস্তব ঘটনা ব্যবহার করা যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, দায়িত্ব, পদক্ষেপ ও ফলাফল এই চার ধাপে উত্তর দেওয়া কার্যকর। প্রথমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে, এরপর নিজের দায়িত্ব কী ছিল তা বলতে হবে। তারপর সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল হয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। এতে বিদেশে অর্জিত কর্মঅভিজ্ঞতাও নিয়োগকর্তার কাছে স্পষ্ট ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।   দেশের অভিজ্ঞতা লুকিয়ে রাখবেন না বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা রেজুমে থেকে বাদ দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় কর্মজীবন গ্যাপ তৈরি করা অনেক সময় উল্টো প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বরং আগের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি, কর্মকাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা ভালো।   তবে বাংলাদেশের কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একই পেশায় কাজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, আইন, শিক্ষা ও অন্যান্য লাইসেন্সনির্ভর পেশায় স্থানীয় নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার অর্থ শূন্য থেকে শুরু করা নয়। বাংলাদেশের কর্মজীবনে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সাফল্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সেগুলোই আমেরিকায় নতুন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেও নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে কোনো একটি দক্ষতা শিখলেই ছয় মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বেতন, প্রশিক্ষণের সময়, লাইসেন্স এবং চাকরির চাহিদা অঙ্গরাজ্য, শহর, নিয়োগদাতা ও ব্যক্তির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   নতুনদের জন্য তাই এমন দক্ষতা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ বা সনদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নত করা যায়।   ১. ফর্কলিফট পরিচালনা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ওয়্যারহাউস ও পণ্য বিতরণকেন্দ্রে ফর্কলিফট পরিচালনার দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। পণ্য ওঠানো, নামানো ও সরানোর পাশাপাশি নিরাপদভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে শুধু অনলাইনে ভিডিও দেখে ফর্কলিফট চালানো শেখা যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই লাগতে পারে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ফর্কলিফট অপারেটরদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।   ২. বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রস্তুতি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল অর্জন করতে পারলে ট্রাক ড্রাইভিংসহ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সিডিএল পারমিট পেলেই সব ধরনের ট্রাক চালানো যায় না। পূর্ণ সিডিএল পেতে লিখিত পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রযোজ্য দক্ষতা পরীক্ষার ধাপ রয়েছে।   যারা দীর্ঘমেয়াদে ড্রাইভিং পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য সিডিএল প্রস্তুতি একটি বাস্তব ক্যারিয়ার দক্ষতা হতে পারে। কোন ধরনের সিডিএল বা অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে, তা কাঙ্ক্ষিত কাজের ওপর নির্ভর করে।   ৩. তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা বা আইটি সাপোর্ট একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ। কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান, সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, ব্যবহারকারীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নেটওয়ার্কের মৌলিক বিষয় শেখা এই দক্ষতার অংশ।   তবে আইটি সাপোর্ট শিখলেই সরাসরি উচ্চ বেতনের চাকরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৬০ হাজার ৩৪০ ডলার। কিছু ক্ষেত্রে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রযুক্তি সনদ থাকলেও চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।   ৪. স্বাস্থ্যসেবা সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করতে চাইলে নার্সিং সহকারী বা অন্যান্য সহায়ক পেশার প্রশিক্ষণ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের চাকরিতে অঙ্গরাজ্যভেদে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক পেশাগুলোর ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ৫. ওয়েল্ডিং কারিগরি পেশায় যেতে চাইলে ওয়েল্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। বিশেষ করে মিগ ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েল্ডিং শেখার মাধ্যমে উৎপাদন, নির্মাণ ও অন্যান্য শিল্প খাতে কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়।   তবে ওয়েল্ডিং শিখলেই নির্দিষ্ট ঘণ্টাপ্রতি বেতন নিশ্চিত নয়। বেতন নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, সনদ, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগদাতা এবং এলাকার ওপর। ট্রেড স্কুল, কমিউনিটি কলেজ বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া বেশি কার্যকর।   ৬. রিয়েল এস্টেট রিয়েল এস্টেট পেশায় যেতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্সের নিয়ম জানতে হবে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্স, পরীক্ষা এবং লাইসেন্সের নিয়ম এক নয়।   এই পেশায় সাধারণ চাকরির মতো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন নাও থাকতে পারে। আয় অনেক ক্ষেত্রে কমিশনভিত্তিক হয়। একটি বাড়ি বিক্রি করলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই লাইসেন্স নেওয়ার পাশাপাশি বিপণন, গ্রাহকসেবা এবং স্থানীয় আবাসন বাজার সম্পর্কে জ্ঞান প্রয়োজন।   ৭. হিসাবরক্ষণ ও কুইকবুকস ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালনার জন্য হিসাবরক্ষণ বা বুককিপিং দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, চালান, পেমেন্ট এবং আর্থিক রেকর্ড ব্যবস্থাপনার মতো কাজ এই দক্ষতার মধ্যে পড়ে।   কুইকবুকসের মতো হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার শেখা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞান এবং নির্ভুলভাবে হিসাব পরিচালনার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।   ৮. এইচভিএসি হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং বা এইচভিএসি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ক্ষেত্র। ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের কাজে এই দক্ষতা ব্যবহার হয়।   এইচভিএসি পেশায় যেতে হলে শুধু কয়েকটি অনলাইন ভিডিও দেখার চেয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচি বেশি কার্যকর। কিছু কাজে অতিরিক্ত লাইসেন্স বা সনদেরও প্রয়োজন হতে পারে।   ৯. বাণিজ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবনের মেঝে পরিচর্যা, কার্পেট পরিষ্কার এবং বিভিন্ন যন্ত্র পরিচালনার মতো বিশেষ দক্ষতা অর্জন করলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এই কাজে ব্যবহৃত মেশিন ও রাসায়নিক নিরাপদভাবে পরিচালনা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও বাস্তব প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাদারভাবে কাজ শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিজের ব্যবসা শুরু করতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স, বীমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিয়মও যাচাই করতে হবে।   ১০. ডিজিটাল বিপণন ও ভিডিও সম্পাদনা ছোট ব্যবসার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট, ভিডিও, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডিজিটাল বিপণনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ক্যানভা, ক্যাপকাট বা অন্যান্য সফটওয়্যার দিয়ে প্রাথমিক কাজ শেখা তুলনামূলক সহজ হলেও পেশাদার পর্যায়ে যেতে হলে কনটেন্ট কৌশল, বিজ্ঞাপন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের মতো দক্ষতাও প্রয়োজন।   অনলাইনে বিনামূল্যে বা কম খরচের কোর্স দিয়ে শুরু করা যায়। পরে নিজের কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও তৈরি করে স্থানীয় ব্যবসা কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক খোঁজা যেতে পারে।   কীভাবে শুরু করবেন? একসঙ্গে ১০টি দক্ষতা শেখার চেষ্টা না করে নিজের বর্তমান অভিজ্ঞতা, সময়, অর্থ এবং আগ্রহ অনুযায়ী একটি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিদিন নিয়মিত সময় দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন ও ছোট প্রকল্প তৈরি করলে দক্ষতা দ্রুত বাড়তে পারে।   যারা শারীরিক ও কারিগরি কাজে আগ্রহী, তারা এইচভিএসি, ওয়েল্ডিং বা ফর্কলিফট পরিচালনা বিবেচনা করতে পারেন। ড্রাইভিংয়ে আগ্রহ থাকলে সিডিএল একটি দীর্ঘমেয়াদি পথ হতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করতে চাইলে আইটি সাপোর্ট, বুককিপিং বা ডিজিটাল বিপণন শেখা যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যসেবায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম যাচাই করে নার্সিং সহকারীর মতো পেশা বিবেচনা করা যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দক্ষতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একটি অনলাইন কোর্স শেষ করলেই নির্দিষ্ট বেতন বা চাকরি নিশ্চিত হয় না। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে বায়ু টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী, নার্স প্র্যাকটিশনার, তথ্যবিজ্ঞানী এবং তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতো পেশা রয়েছে। এসব পেশার অনেকগুলোর জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।   তাই নতুন দক্ষতা শেখার সময় শুধু দ্রুত বেশি বেতনের আশ্বাসের দিকে না তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট পেশার যোগ্যতা, লাইসেন্স, প্রশিক্ষণের খরচ, স্থানীয় চাকরির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা জরুরি। সঠিক দক্ষতা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারলে বর্তমান চাকরি থেকে আরও ভালো ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখনো আইটি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে চাকরির বাজারে বেড়েছে দক্ষতার গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত
তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন

কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে।   তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।   তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন।   প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।   জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে।   জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন।   তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে।   এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম।   তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে কাজ করা ব্রিটিশ মেকআপ শিল্পী আভা গিলিস।ছবি:সংগৃহীত
‘বার্বি’ ও ‘ব্রিজারটন’-এর মেকআপ আর্টিস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত! ২৬ বছরেই থেমে গেল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার

‘বার্বি’, ‘ব্রিজারটন’, ‘দ্য ক্রাউন’ ও ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে কাজ করা ব্রিটিশ মেকআপ শিল্পী আভা গিলিস সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ২৬ বছর।    নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই ইংল্যান্ডের রেলটন এলাকায় আভা গিলিসের চালানো সাদা ভক্সওয়াগেন পোলো গাড়ির সঙ্গে একটি কালো অডি এ৪-এর সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী বা ড্যাশক্যাম ফুটেজ থাকলে তা পুলিশের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।    মাত্র পাঁচ বছরের কিছু বেশি সময়ের ক্যারিয়ারেই আভা গিলিস চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তার কাজের তালিকায় রয়েছে ‘বার্বি’, ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’, ‘স্নো হোয়াইট’, ‘দ্য ক্রাউন’, ‘ব্রিজারটন’ এবং ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য অ্যাকোলাইট’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রযোজনা। ২০২৩ সালে তিনি উদীয়মান সৃজনশীল প্রতিভাদের জন্য ব্রিটিশ একাডেমির, বাফটা কর্মসূচির সদস্যও নির্বাচিত হন।    পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আভার পরিবার জানায়, তার মৃত্যু তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তারা তাকে একজন প্রতিভাবান, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন, যার কাজ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিল।    আভা গিলিসের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের সহকর্মীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার শেষকৃত্যের সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

Unknown আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা

যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০