সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্যালিফোর্নিয়ার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আল-একরাম এলাহী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়র ভূগোল থেকে স্পেসএক্স-এ যোগ দিলেন হৃদয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী আল-একরাম এলাহী হৃদয় যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে যুক্ত হয়েছেন মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআইয়ে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে তিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে কর্মরত।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে হৃদয় স্পেসএক্সএআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি উন্নত কোডিং মডেল এবং জ্ঞানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরির মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রকল্পে কাজ করছেন।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে তাঁর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন গড়ে তোলেন তিনি। এরপর মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান।   স্পেসএক্সএআইয়ের মাধ্যমে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, কোডিং মডেল এবং জ্ঞানভিত্তিক এআই ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে। এই খাতে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে তাঁর পেশাগত অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরেছে।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি খাতে কাজ করার এই সুযোগ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনাও তাঁর পথচলায় ফুটে উঠেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
শহরের বাড়ির দৃশ্য আমেরিকার। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়ার চড়া খরচ ছেড়ে কম দামে বাড়ি, সাশ্রয়ী জীবনে নতুন গন্তব্য আইওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয়বহুল রাজ্যে বাড়ির দাম ও রেন্টের কারণে নতুন করে থিতু হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা, কম রেন্টে থাকা এবং স্থিতিশীল চাকরির সুযোগের কারণে আইওয়া অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   মার্কিন মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যটি বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আইওয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ ডলার। গত এক বছরে বাড়ির মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ১৫০ ডলার।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আবাসন খরচ। আইওয়ার রাজধানী ডেস মইনসে ২০২৬ সালের জুনে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ৮৫ ডলার।ডেভেনপোর্টে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ ডলার এবং ওয়াটারলুতে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ বড় শহরের তুলনায় কম বাজেটে বাড়ি কেনার সুযোগ কিছু এলাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে।   তবে শুধু বাড়ির দাম কম হলেই হবে না, মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। আবাসন ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, ইউটিলিটি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় তুলনামূলক কম।   আরেকটি বিশ্লেষণে আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম এবং আবাসন ব্যয় ২৬ শতাংশ কম বলে হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার যদি বড় শহরের উচ্চ রেন্ট বা মর্টগেজ থেকে বেরিয়ে তুলনামূলক ছোট শহরে যেতে চায়, তাহলে মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও আইওয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের একটি আবাসন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়ের তুলনায় বাড়ি কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে আইওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনবাজার। শুধু নতুন মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করলে রাজ্যটি অষ্টম এবং মর্টগেজের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স ধরলে নবম সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্যের অবস্থানে ছিল।   তবে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেও আইওয়ায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা একেবারে কম নয়। ২০২৬ সালের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট মাসিক মালিকানা ব্যয়ের গড়ে ১৯ শতাংশই প্রপার্টি ট্যাক্সের অংশ ছিল। তাই শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিসাব করা দরকার।   চাকরির বাজারের দিক থেকেও আইওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। আইওয়া ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুন মাসে আইওয়ার নিয়োগকর্তারা আরও ৬০০টি চাকরি যোগ করেছেন।   অর্থাৎ আইওয়া শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যারা কম খরচের এলাকায় থেকে স্থিতিশীল আয় করতে চান, তাদের জন্য রাজ্যটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে।   ছোট শহরগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধাও আলাদা। ডেস মইনসের মতো বড় শহরে কাজ ও ব্যবসার সুযোগ বেশি হলেও আশপাশের ছোট শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ও রেন্ট আরও কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াটারলুতে ২০২৬ সালের মধ্যম রেন্ট ছিল প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শহরভেদে রেন্ট, চাকরি এবং জীবনযাত্রার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই আইওয়া বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয় কত, চাকরি কোথায়, সন্তানের স্কুল কোথায়, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আছে কি না এবং প্রতিদিন কতটা যাতায়াত করতে হবে, এসব হিসাব করেই শহর নির্বাচন করা উচিত।   যারা রিমোট জব করেন, তাদের জন্য আইওয়ার ছোট শহরগুলো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। বড় শহরের তুলনায় কম রেন্ট বা বাড়ির দামে তুলনামূলক বড় জায়গা পাওয়া গেলে একই আয়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের মান, স্থানীয় সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা আগে যাচাই করা জরুরি।   আইওয়ার জীবন অবশ্য সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শীত এখানে কঠিন হতে পারে, ছোট শহরে বড় মেট্রোপলিটন এলাকার মতো বিনোদন ও গণপরিবহনের সুবিধা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি কমিউনিটির আকারও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোর মতো নয়।   তারপরও যারা উচ্চ রেন্ট, বাড়ির চড়া দাম ও প্রতিদিনের ব্যয়ের চাপ থেকে বের হয়ে তুলনামূলক কম খরচে পরিবার নিয়ে স্থিতিশীল জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য আইওয়া এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি রাজ্য। ২০২৬ সালের আবাসন ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এখানে কম খরচের সঙ্গে তুলনামূলক শক্তিশালী চাকরির বাজারও রয়েছে।   তবে কম খরচ মানেই সবার জন্য বেশি সঞ্চয় নয়। কোন শহরে থাকছেন, কত আয় করছেন, বাড়ি কিনছেন নাকি রেন্টে থাকছেন এবং প্রপার্টি ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ কত, তার ওপর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আইওয়ায় যাওয়ার আগে স্থানীয় বাড়ির দাম, রেন্ট, চাকরি, স্কুল ও ট্যাক্সের হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Unknown আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া–নেভাদা সীমান্তবর্তী লেক তাহোর স্যান্ড হারবার এলাকা। এখানেই সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে টেক্সাস থেকে বেড়াতে আসা ৩২ বছর বয়সী এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত।
ক্যালিফোর্নিয়ার লেক তাহোতে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদা সীমান্তবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহোতে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতের নাম ইয়াদেসা আগা (৩২)। তিনি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের বাসিন্দা ছিলেন এবং বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।   ওয়াশো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় লেক তাহোর পূর্ব তীরের স্যান্ড হারবার এলাকায় পানিতে উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই উপস্থিত লোকজন অচেতন অবস্থায় আগাকে তীরে তুলে আনেন। পরে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগা সন্ধ্যার দিকে তীর থেকে দূরের পাথুরে অংশের দিকে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যান। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হবে।   লেক তাহোর পানি গ্রীষ্মকালেও অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলে শরীরের পেশির নিয়ন্ত্রণ হারানো, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শীতঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা প্রতি বছর এ অঞ্চলে কয়েকটি দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০