ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পরদিন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর ট্রফি নিয়ে স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যান। আর এই ঘটনাকেই ‘ভারতীয় দলের জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ও বর্তমান তৃণমূল সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। বিতর্কের সূত্রপাত ও কীর্তি আজাদের কড়া সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কীর্তি আজাদ লিখেছেন, "শেম অন টিম ইন্ডিয়া। ১৯৮৩ সালে আমরা যখন কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, সেই দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের খেলোয়াড় ছিল। আমরা ট্রফি মাতৃভূমি ভারতে এনেছিলাম, কোনো মন্দিরে নয়।" তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকেও আক্রমণ করে বলেন, "দলটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, জয় শাহের পরিবারের নয়। সিরাজ কেন মসজিদে বা সঞ্জু কেন চার্চে ট্রফি নিয়ে যাননি? এই ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়র, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়।" এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পডকাস্টে মুখ খুলেছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, "এই ধরনের মন্তব্য আমাদের ছেলেদের সাফল্যের আনন্দকে ছোট করে দেয়। আমরা ট্রফি জিতেছি, উৎসব করছি—এটাই বড় কথা। এসব বিতর্ক দলের জন্য হিতকর নয়।" অন্যদিকে, ক্রিকেটার ঈশান কিষান সাংবাদিকদের জানান, মাঠের জয় নিয়ে প্রশ্ন করাই শ্রেয়, কে কী ব্যক্তিগত মন্তব্য করলেন তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। কীর্তি আজাদের সুরেই কথা বলেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য তারিক আনোয়ার। তিনি মনে করেন, ট্রফি নিয়ে ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কোনো পরম্পরা নেই এবং এটি ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। তবে পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, "ভারতের পরিচয় সনাতনী সংস্কৃতির সঙ্গেই যুক্ত।" শিবসেনা নেতা কৃষ্ণা হেগড়ে এবং আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য হরভজন সিংও কীর্তি আজাদের সমালোচনা করেছেন। হরভজনের মতে, "খেলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত। কে কোথায় আশীর্বাদ নিতে যাবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়।" প্রেক্ষাপট ও কীর্তি আজাদের পরিচয় কীর্তি আজাদ ভারতের হয়ে ৭টি টেস্ট ও ২৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই দিল্লি রঞ্জি ট্রফি জেতে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য থাকাকালীন এমএস ধোনি ও গৌতম গম্ভীরের মতো তারকারা সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য।
ফয়জুল ইসলাম : ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন একটাই প্রশ্নে—কার হাতে উঠবে এই ট্রফি? শুরু হয়ে গেলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন। দুই দলের তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে উন্মোচিত হলো সিরিজের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি, আর সেখান থেকেই শুরু শিরোপার লড়াইয়ের উত্তেজনা। মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল আর লড়াই—সবকিছুর সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে কে হবে শেষ হাসির মালিক। এখন দেখার বিষয়, টাইগারদের ঘরেই কি থাকবে ট্রফি, নাকি তা নিয়ে যাবে পাকিস্তান।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। সব শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে সোমবার সকালে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। পরে দুপুরে তার স্ত্রী জান্নাতুল কিফায়েত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিকের নিরাপদে বাসায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে গত শনিবার দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল মুশফিকের। কিন্তু মাঝ আকাশে তাদের বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবার জেদ্দায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রীর সঙ্গে আটকে পড়েন মুশফিক। বিষয়টি জানার পর যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগত তদারকি ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রোববার গভীর রাতে তাকে দেশের উদ্দেশে রওনা করান। মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফেরার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বস্তি প্রকাশ করেন তার স্ত্রী জান্নাতুল কিফায়েত। তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যাঁরা দুশ্চিন্তা করেছেন এবং মানসিকভাবে পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ।” পাশাপাশি বিশ্বের চলমান অস্থিরতা যেন দ্রুত শান্ত হয়, সেই প্রার্থণাও করেন তিনি।
ক্রিকেট সুপার এইটের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সেমি-ফাইনালে খেলার আশা এখনো জীবিত থাকলেও শ্রীলঙ্কাকে শুধু হারানোই যথেষ্ট নয়। রান রেটের হিসাবও রাখতে হবে। শুক্রবার কলম্বোয় ইংল্যান্ড শেষ তিন ওভারে ৪৩ রানের সমীকরণ পূর্ণ করে ৪ উইকেটে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার পাশাপাশি সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউ জিল্যান্ডের নেট রান রেটও +৩.০৪৫ থেকে ১.৩৯০-এ নেমে গেছে। পাকিস্তানের রান রেট -০.৪৬১। সাবধানতা অবলম্বন করে পাকিস্তানকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে আগে ব্যাট করলে অন্তত ৬৪ রানের ব্যবধান দিয়ে জিততে হবে। পরে ব্যাট করলে লক্ষ্য পূরণ করতে হবে ১৩.১ ওভারের মধ্যে। সেমি-ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কলম্বোয় খেলে, আর নিউ জিল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উঠলে ম্যাচ হবে কলকাতায়।
ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক-এর ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ২ উইকেটে পরাজিত করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করেন ব্রুক। ইনিংসের ১৭তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদি-এর বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ড জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ব্রুক আউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় এবং কিছু সময় ম্যাচে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ দিকে জয়ের জন্য মাত্র ৪ রান প্রয়োজন হলে জফরা আর্চার শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসে ব্রুকের ব্যাটিংই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। তার বাইরে মাত্র দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। স্যাম কারেন ১৫ বলে ১৬ রান এবং উইল জ্যাকস ২৮ রান করেন। ১০৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ব্রুক ও জ্যাকসের ৩১ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখান সাহিবজাদা ফারহান। তিনি ৪৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন। অধিনায়ক বাবর আজম করেন ২৫ রান, তবে তার ধীরগতির ব্যাটিং সমালোচনার মুখে পড়ে। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ইংল্যান্ড ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্পিনার লিয়াম ডসন। তিনি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ১৬৪/৯ (ফারহান ৬৩, বাবর আজম ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২) ইংল্যান্ড: ১৬৬/৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০, উসমান ২/৩১)। ফলাফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক এই জয়ের মাধ্যমে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।
বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান মহারণে আবারও একতরফা লড়াইয়ের দেখা মিলল। ৬ হাজার কোটি টাকার ‘হাই-ভোল্টেজ’ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে সুপার এইটে উঠেছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে দলকে চাপে ফেলে দেন যশপ্রীত বুমরা। দ্রুত ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজম ৩৪ রানে ফিরলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উসমান খান। তবে ৪৪ রান করে তিনিও বিদায় নিলে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় দলটি। ভারতের বোলিং আক্রমণে ছিলেন একাধিক নায়ক। হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরা দুইটি করে উইকেট নেন। স্পিনে অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীও দুটি করে উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ প্রহরে উসমান তারিককে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টানেন পান্ডিয়া। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন ঈশান কিষান। এছাড়া সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭ ও তিলক ২৫ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের হয়ে সাইম ৩ উইকেট নেন। এই জয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। অন্যদিকে সুপার এইটে উঠতে শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের। হারলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে দলটিকে। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)। পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯) ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ঈশান কিষান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ মাঠে গড়াচ্ছে। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং ভারত ব্যাট করতে নামছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক বিনিময় হয়নি। আগের ম্যাচগুলোর মতোই দুই অধিনায়ক সৌহার্দ্যবোধ দেখাননি। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শুরুতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আইসিসির উদ্যোগে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাজি হয়। পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ। ভারতীয় একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদিপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সবসময় হাইভোল্টেজ পরিবেশ তৈরি হয়। মাঠে খেলা শুরু হওয়ায় সারা বিশ্ব থেকে দর্শক ও সমর্থকদের নজর এখন পুরো ক্রিকেটের দিকে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়াটি আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ বোর্ড সভায় আলোচনার পর বিষয়টি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর নিশ্চিত করেছেন যে, সাকিবের ফেরার পথে বিদ্যমান আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন তাঁর আইনজীবীরা। আসিফ আকবর গণমাধ্যমকে জানান, সাকিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, চলমান মামলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেপারওয়ার্ক এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “সাকিবের আইনজীবী সকল কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন। আজই সেই ফাইলগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আমরা বোর্ড থেকে সরকারকে অনুরোধ করেছি যেন সাকিবের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচকরা যদি মনে করেন তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে আমরা তাঁকে অবশ্যই মাঠে চাই।” দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সাকিবের ফেরার পথ আরও সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন বিসিবির এই পরিচালক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকারের মনোভাব সম্পর্কে আসিফ আকবর বলেন, “বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সাকিবের বিরুদ্ধে যদি সরাসরি কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বা খুনের প্রমাণ না থাকে, তবে সরকার তাঁর প্রতি নমনীয় থাকবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময়ই খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলেছেন। সুতরাং বিষয়টি এখন অনেকটাই পরিষ্কার।” সাকিবের ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে নাগাদ আবার প্রিয় তারকাকে লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। দাপ্তরিক এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসতে এবার তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সংকট নিরসনে এবং ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র পথ খুঁজতে বর্তমানে লাহোরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত আইসিসি এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেই বিসিবি সভাপতির এই ঝটিকা লাহোর সফর। পরশু রাতে এক জরুরি বার্তা পেয়ে মধ্যরাতেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হন আমিনুল ইসলাম। গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। পরবর্তীতে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন তাঁরা। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি। পাকিস্তান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এখন আইসিসি চাইছে পাকিস্তানকে ওই ম্যাচ খেলতে রাজি করাতে, আর বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ না নিলেও আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা। আইসিসির পক্ষ থেকে এই আলোচনার সমন্বয় করছেন সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। পাকিস্তানের অনড় অবস্থান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সংকট উত্তরণে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিসিবি’র পক্ষ থেকে জুড়ে দেওয়া তিনটি শর্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে আইসিসির ক্রিকেটীয় রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের এই কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। শেষ পর্যন্ত কি পিসিবি তাদের ৩ শর্তে আইসিসিকে রাজি করাতে পারবে? নাকি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব—সেই উত্তর পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই।
বিশ্ব ক্রিকেটে চলমান ভারত-পাকিস্তান অস্থিরতা নিরসনে বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইসিসি-র সাবেক সভাপতি এহসান মানি। লন্ডন থেকে ডন পত্রিকাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেবল পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাথে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটকে বিশাল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে জয় শাহর উচিত ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফর করা। এহসান মানি মনে করেন, পাকিস্তান সরকারকে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে জয় শাহকে সরাসরি তাদের অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আইসিসি বর্তমানে যে আলোচনার জন্য ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তার সমালোচনা করে মানি বলেন, খাজা একজন অ্যাসোসিয়েট দেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই বড় সংকট সমাধানের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। এই বিষয়টি আইসিসি চেয়ারম্যানেরই সরাসরি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সাক্ষাৎকারে এহসান মানি আইসিসি-র অভ্যন্তরে ভারতের আধিপত্য এবং রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি আবারও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করে, তবে পাকিস্তানের উচিত হবে সুইজারল্যান্ডের বিশ্ব সালিশি আদালতে (CAS) যাওয়া। তিনি দাবি করেন, আইসিসি-র বিভিন্ন কার্যক্রমে রাজনীতির সম্পৃক্ততার অনেক প্রমাণ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করতে পারে। লভ্যাংশ বণ্টনের বৈষম্য তুলে ধরে মানি জানান, আইসিসি-র মোট আয়ের ৩৮.৫ শতাংশ পায় ভারত, আর পাকিস্তান পায় মাত্র ৫.৭৫ শতাংশ। ক্রিকেটের ‘ভদ্রতা’ নষ্ট করার জন্য ভারতকে দায়ী করে তিনি বলেন, এশিয়া কাপের সময় ভারত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে সৌজন্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেও আইসিসি নীরব ছিল। এমনকি পাকিস্তানি প্রতিনিধি হওয়ায় ভারত ট্রফি নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সবশেষে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তার প্রধান কারণ বিসিসিআই-এর অনমনীয় ও নেতিবাচক মনোভাব। এখন সময় এসেছে রাজপথের মতো ক্রিকেটের মাঠ থেকেও এই রাজনীতির অবসান ঘটানোর।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। বিশ্ব ক্রিকেটের হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেট নিয়ে কোনো রাজনীতি সহ্য করা হবে না। সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এই কঠিন অবস্থানের কথা জানান। আইসিসি অবশ্য এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই বয়কটের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম এবং আর্থিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। লক্ষ লক্ষ ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আয়োজকরা, যার আঁচ লাগবে খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপরও। বর্তমানে এই সংকট কাটাতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছে আইসিসি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক বিশাল ঝড় তুলেছিল পেসার জাহানারা আলমের সেই বিস্ফোরক অভিযোগ। সাবেক ম্যানেজার ও নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সেই গুরুতর অভিযোগের তদন্তে এবার বড় মোড় নিয়েছে। বিসিবির স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিসিবির স্বীকারোক্তি: জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটি। ঘটনার সূত্রপাত: ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে 'অশোভন আচরণ' ও 'শারীরিক স্পর্শের' অভিযোগ তোলেন জাহানারা। মঞ্জুরুলের অবস্থান: যদিও অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে দাবি করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতি: বিসিবি একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত ৩০শে জুন, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গেছে। একজন নারী ক্রিকেটার যখন সাহসের সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ তোলেন, তখন সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ঘটনায় বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতার মাঝে নতুন এক ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে হাজির হলেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি মনে করেন, আইসিসি’র চাপের মুখে এবং বিশাল আর্থিক লোকসানের ভয়ে পাকিস্তান তাদের ‘ভারত ম্যাচ বয়কট’ করার সিদ্ধান্ত থেকে খুব শীঘ্রই সরে আসবে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ নাটকীয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানালে আইসিসি তা গ্রহণ করেনি; বরং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বহিষ্কার করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইসিসি’র এই কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ঘোষণা দেয় যে, তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে মাঠে নামবে না। এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেন, "আমার মনে হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শতভাগ হবে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু হটবে। ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর বিশাল অংকের অর্থের ক্ষতি এড়াতে আইসিসি ও পিসিবি’র মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়া অনিবার্য।" অশ্বিন আরও যুক্তি দেখান যে, পাকিস্তান যদি এই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে তবে আইসিসি’র রাজস্ব ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এর ফলে সদস্য দেশগুলোর আয়ও কমবে, যা পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেবে। এমনকি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) না দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসি’র জরুরি সভার দিকে। সেখানে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কোনো সমাধান বের হয় কি না, নাকি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কথাই সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে ঝড়ের পূর্বাভাস। বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজই একটি ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে আইসিসি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার এবং ভারতের এনডিটিভি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি এই মিটিংয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র। গত রাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয় যে, পাকিস্তান দল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ঠিকই, কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটিতে তারা মাঠে নামবে না। পিসিবির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি জানিয়েছে, বেছে বেছে কিছু ম্যাচ বয়কট করা টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। সংস্থাটি পিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিলে পাকিস্তানের ওপর শুধু বর্তমান বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় আরও রয়েছে—পিসিবিকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা, শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা। এছাড়া সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির দায়ভার পিসিবিকেই নিতে হতে পারে। এখন সবার নজর আইসিসির জরুরি সভার দিকে, যেখান থেকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের সরকারের কাছ থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সবুজ সংকেত পেলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা গ্রুপ পর্বে ভারতের মুখোমুখি হবে না। দুই দেশের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও ক্রীড়াসুলভ পরিস্থিতির মধ্যে এবার নিজেদের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। রোববার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলাই ক্রিকেটের চিরাচরিত সৌন্দর্য। পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখালেও আইসিসি স্পষ্টভাবে বলেছে যে, এমন অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্য যেমন নেতিবাচক, তেমনি এটি বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক একটি সংবাদ। বিবৃতিতে পিসিবি-কে প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারি দিয়ে আইসিসি উল্লেখ করেছে, এই বয়কটের ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, পিসিবি বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর একজন নিয়মিত সদস্য এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বড় অংশীদার। ফলে তাদের এই ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত পুরো ক্রিকেট সংস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার খেসারত পাকিস্তানকেই দিতে হতে পারে। আইসিসির মতে, একটি বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা পিসিবিসহ সব সদস্য দেশের যৌথ নৈতিক দায়িত্ব। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এখন আশা করছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি সম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মর্যাদা রক্ষা করবে। অন্যথায় আইসিসি কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না। পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলের এই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ডন, জিও নিউজসহ দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।
সাত বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল পাকিস্তান। একদিন পর লাহোরে জয়ের ধারা ধরে রাখল স্বাগতিকরা। সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান জমা করে তারা। তারপর আবরার আহমেদ ও শাদাব খানের বোলিংয়ে একশ পার করে অলআউট অস্ট্রেলিয়া। আজ (শনিবার) দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে জিতেছে পাকিস্তান। আগে ব্যাটিং করে ১৯৮ রান করে তারা। তারপর ১০৮ রানে সফরকারীদের গুটিয়ে দিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। অজিদের বিপক্ষে ২০১৮ সালের পর এটি প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ১৭ রানে সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবের ওপেনিং জুটি ভাঙে। সাহিবজাদা ৫ রানে আউট হন। সালমান দ্বিতীয় উইকেটে ঝড় তোলেন। সাইমের সঙ্গে ২৫ বলে ৫৫ রান তোলার পথে একাই ১৯ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। সাইম ১১ বলে ২৩ রানে থামেন। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ বাবর আজম। ৫ বলে ২ রান করে আউট তিনি। পাঁচ রানের ব্যবধানে জোড়া আঘাতের পর উসমানের সঙ্গে সালমান ৪৯ রানের জুটি গড়েন। ১৩তম ওভারে তিনি আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৭৬ রান করেন, ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৪ ছয়। ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সালমান আগা ঝড়ো ইনিংস খেলেন তারপর শাদাব খান ও উসমানের ৩৯ বলে ৬৩ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ৩৫ বলে ৫০ রান করা উসমান থেমেছেন আরেকটি বল খেলে। ফিফটি করার পরের বলে ৫৩ রানে বিদায় নেন তিনি। শেষ দিকে শাদাব ও মোহাম্মদ নওয়াজের ৪ বলে ১০ রানে অপরাজিত জুটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ২০ বলে ২৮ রানে শাদাব ও নওয়াজ ৩ বলে ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বড় লক্ষ্যে নেমে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে। ৫৪ রান করতেই নেই অর্ধেক ব্যাটার। প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে কেবল মিচেল মার্শ (১৮) ও ক্যামেরন গ্রিন (৩৫) দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। অস্ট্রেলিয়া বাকি পাঁচ উইকেটও হারিয়েছে ৫৪ রান করতেই। গ্রিনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ম্যাথু শর্ট। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে রান তোলেন জাভিয়ের বার্টলেট (১০)। আবরার ৩ ওভারে ১৪ রান খরচায় তিন উইকেট নেন। ১৪তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানো শাদাব ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে সমান সংখ্যক উইকেট পান।
ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। দেশটিতে মরণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে তোলপাড়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিএনএন এইচডি জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি দেশ ভারতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করায় টুর্নামেন্টের ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে। অস্ট্রেলিয়ার সতর্কতা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ: নিপাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার জানিয়েছেন, তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধি পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন না থাকলেও দেশটিকে ‘উচ্চ সতর্কতা’ বা হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে নারাজ অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। নিপাহ: করোনার চেয়েও ভয়ংকর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস করোনার তুলনায় অনেক বেশি সংহারক হতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা বোঝা যায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এর সিদ্ধান্তে; তারা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিই, মাস্ক ও গগলস পরা বাধ্যতামূলক করেছে। এমন এক আতঙ্কের পরিবেশে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট আয়োজন করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে আইসিসি এখন চরম চাপে। ভেন্যু পরিবর্তনের জোরালো আলোচনা: পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টি ভারতে এবং ২০টি শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল। তবে লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক বিশালতার কারণে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসি-র জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, এর আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা এখন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তরের দিকে। খেলোয়াড়দের জীবন রক্ষা না কি টুর্নামেন্ট সচল রাখা—শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা?
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাঠানো না হলেও এবার ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশের শুটিং দল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য শুটিং দলকে অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা হয়নি বাংলাদেশের। তবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শুটিং দলের ভারত সফরে সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শুটিং দলের ভারত সফরের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতাটি ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহবুব-উল-আলম দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ দল খুবই ছোট—একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ। স্থানীয় আয়োজকেরা আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিযোগিতা ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা কম। সব দিক বিবেচনা করেই শুটিং দলকে ভারতের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। তার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৫ ফেব্রুয়ারি। কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে থাকবেন শারমিন আক্তার। নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্টের সুবিধায় রবিউল ইসলাম ভিসা ছাড়াই সাত দিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে কোচ শারমিন আক্তারকে ভিসা নিতে হবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁদের দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।
বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়েছে যুব টাইগাররা। ৩৮.১ ওভারেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন জাওয়াদ আবরার (৬)। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন রিফাত বেগ। ৩৬ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেললেও বড় স্কোরে রূপ দিতে পারেননি তিনি। দলীয় ৫৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পরই ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ৪৬ বল খেলে করেন মাত্র ২০ রান। তার মন্থর ইনিংস মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি আরও কমিয়ে দেয়। কালাম সিদ্দিকি আলীন (১০) ও রিজান হোসেন (৯) দ্রুত ফিরলে ব্যাটিং ধস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাঝের দিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি ৩৪ বলে ২৫ রান করেন। তবে অপরপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়ায় সেই প্রচেষ্টাও কাজে আসেনি। শেষদিকে শাহরিয়ার আহমেদ ৩২ বলে ১৮ রান করলেও স্কোর খুব বেশি দূর এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত মেহেদি ইমন ২ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের বোলাররা ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। সেবাস্টিয়ান মরগান ৩ উইকেট নেন ২৮ রানে। ম্যানি লামসডেন মাত্র ১৮ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। এছাড়া রালফি অ্যালবার্ট নেন ২টি উইকেট। জেমস মিন্টো ও অ্যালেক্স গ্রিনও গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন।
বিপিএলের ফাইনাল শুরু হচ্ছে। তার আগে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। তারা ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। আগে ব্যাটিং করবে রাজশাহী। মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালিস্ট দুটি দল চলতি আসরেই তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। লিগ পর্বে দুইবারের দেখায় রাজশাহী ও চট্টগ্রাম একটি করে ম্যাচ জিতেছে। শীর্ষে থেকে নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী এবং শেখ মেহেদীর চট্টগ্রাম প্লে-অফে নামে টেবিলের দুইয়ে থেকে। ফলে শীর্ষ দুই দলের আবারও দেখা হয় প্রথম কোয়ালিফায়ারে। সেখানে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল চট্টগ্রাম। আর শান্তরা ফাইনালে ওঠার দ্বিতীয় সুযোগ (কোয়ালিফায়ার) কাজে লাগিয়েছে সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে। রাজশাহী একাদশ- সাহিবজাদা ফারহান, তানজিদ হাসান, কেন উইলিয়ামসন, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, এসএম মেহরব, জেমস নিশাম, আব্দুল গাফফঅর সাকলাইন, তানজিম হাসান সাকিব, বিনুরা ফার্নান্ডো, হাসান মুরাদ। চট্টগ্রাম একাদশ- মির্জা বেগ, মোহাম্মদ নাঈম, হাসান নওয়াজ, আসিফ আলী, মেহেদী হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, আমির জামাল, তানভির ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম, জাহিদুজ্জামান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস