দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে একটি নির্ভরযোগ্য ও মার্জিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটিং স্তম্ভ রাসি ফন ডার ডাসেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা না পাওয়ার পরপরই এই অভিজ্ঞ ব্যাটার নিজের প্যাডজোড়া তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে দেশের জার্সি তুলে রাখলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে লায়ন্সের হয়ে নিজের খেলা চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে কোচিং পেশায় যুক্ত হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের অবসরের বার্তায় ডাসেন বলেন, "অত্যন্ত গর্ব এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে দেওয়াটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। এই জার্সির মর্যাদা ধরে রাখতে যে ত্যাগ ও নিবেদনের প্রয়োজন হয়, তা আমাকে মানুষ হিসেবে অনেক কিছু শিখিয়েছে।"
২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেছিলেন ডাসেন। ২৯ বছর বয়সে অনেকটা দেরিতে অভিষেক হলেও নিজের মেধা ও একাগ্রতায় দ্রুতই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বমানের ব্যাটারদের তালিকায় স্থান করে দেয়।
একনজরে ডাসেনের বর্ণিল ক্যারিয়ার:
ওয়ানডে: ৭১ ম্যাচে ৫০.১৩ গড়ে করেছেন ২,৬৫৭ রান। ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ তার এই গড় দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
টি-টোয়েন্টি: ৫৭ ম্যাচে ১০টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ করেছেন ১,৪০৬ রান।
টেস্ট: ১৮ ম্যাচে ৩০.১৬ গড়ে করেছেন ৯০৫ রান।
২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ১৩৩ রানের ইনিংসটি ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবে। কেবল ব্যাটার হিসেবেই নয়, দলের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্বের গুরুভারও সামলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের সফলভাবে নেতৃত্ব দেন ডাসেন।
বিদায়বেলায় পরিবার, সতীর্থ এবং অগণিত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "আমার যাত্রা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। লায়ন্সের হয়ে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি আমি দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করতে চাই।"
ডাসেনের এই আকস্মিক বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট মহলে বইছে বিষাদের ছায়া। ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ডাসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও স্থিতধী ব্যাটারের শূন্যতা প্রোটিয়াদের জন্য পূরণ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে মিশরের জাতীয় ফুটবল দল। নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের এই অবিস্মরণীয় জয়কে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও সম্মানিত মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের প্রথম কোনো জয়ের রেকর্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে গড়ায়। এর আগে খেলার ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডারে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মোহামেদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার এবং লুকাস হ্যারিংটন পেনাল্টি মিস করলে মিশরের হোসাম আবদেলমাগুইদ ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে মিশর এখন আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, ঈশ্বর যেন ফিলিস্তিনের মানুষকে চূড়ান্ত বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অসাধারণ জয়টি তিনি একই সাথে মিশরের সাধারণ মানুষ এবং ফিলিস্তিনের সদয় ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছেন। ম্যাচ জয়ের পর মাঠের ভেতরেই কোচ হোসাম হাসান মিশরের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকাও ওড়ান এবং পুরো মিশরীয় দল একসঙ্গে মাঠে সেজদা দিয়ে এই জয় উদযাপন করে। মিশরের এই জয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের মাঝে এবং শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুর সামনে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের পর তারা গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। গাজার অনেক শিশু ও কিশোর তাদের গালে মিশরের জাতীয় পতাকা এঁকে আনন্দ প্রকাশ করে। গাজার বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ দশা ও কষ্টের মাঝে মিশরের এই জয় তাদের মুখে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও খুশির ঝিলিক এনে দিয়েছে। এদিকে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মিশরের ফুটবল দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মিশরীয় জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, শুক্রবার ডালাসের একটি হোটেলে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সেখানকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান এবং তারকা খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে ধাক্কা দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডালাস পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেয় এবং জানায় যে ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
চলমান ২০২৬ ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ এবং স্থানীয় ‘ডেকাটুর ওয়াচফেস্ট’ (WatchFest) কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা অঞ্চলে খেলাপ্রেমী ও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এর ফলে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেকাটুর শহরের স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বারগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ বেচাকেনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডেকাটুর স্কয়ারের ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য ব্রিক স্টোর পাব’ (The Brick Store Pub)-এর ম্যানেজার ও বারটেন্ডার লি ফেওয়েল জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদের এখানে তিল ধারণের জায়গা নেই। অতিরিক্ত ক্রেতা সামলাতে তারা রেস্তোরাঁর পেছনের বাগানে বাড়তি টেলিভিশনের ব্যবস্থা করেছেন, যা প্রতি মুহূর্তে কানায় কানায় পূর্ণ থাকছে। তিনি বলেন, “চলতি মাসেই আমাদের এই রেস্তোরাঁ চালুর ২৯ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু সাধারণত গ্রীষ্মকালে এখানে ব্যবসা কিছুটা মন্দা থাকে। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের সব কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে, বিশেষ করে মার্কিন জাতীয় দল যেদিন তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল, সেদিন আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়েছে।” স্কয়ারের ঠিক অপর পাশে অবস্থিত ‘সিয়াম থাই রেস্টুরেন্ট’ (Siam Thai Restaurant)-এর চিত্রও একই রকম। রেস্তোরাঁটির কর্মী নারিত নরাজিত-ম্যাকক্রারি জানান, ফুটবল ভক্তদের ভিড়ে তাদের মজুত থাকা সব বিয়ার নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে সোমবারের বাড়তি চাপ সামলাতে তাঁকে নিজে সুপারমার্কেটে গিয়ে নতুন করে মালপত্র কিনে আনতে হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই গ্রীষ্মে সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় করছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতির এই নজিরবিহীন চাঙ্গা ভাব ব্যবসায়ীদের মুখে বড় হাসি ফুটিয়েছে।
দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-১ গোলের জয় পেয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে একই দিনে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস—যাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ব্রাজিলের জন্য। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না লাতিন আমেরিকার দলটির জন্য। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। সেই লিড ধরে রেখে ম্যাচ জয়ের আশা জাগিয়েছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে এসে খেলার মোড় ঘুরে যায়। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়। এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় জাপানকে। এই জয়ের ফলে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পায় ব্রাজিল। গ্রুপে অবস্থানের ভিত্তিতে রানার্সআপ হলে তাদের খেলতে হতো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, আর তৃতীয় হলে পড়তে পারত জার্মানির মুখে। তবে নাটকীয়ভাবে এই দুই দলই নিজেদের ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতা ফেরায়। কিন্তু টাইব্রেকারে আর ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। নির্ধারিত সময়ে ৭২ মিনিটে কোডি খাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের গোলে সমতা ফেরায় মরক্কো। এরপর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। সব মিলিয়ে একদিনেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেখা গেছে একাধিক নাটকীয়তা। ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে স্বস্তিতে থাকলেও বিদায়ের বেদনাই সঙ্গী হয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের।